দিনযাপন । ২১০৬২০১৭

মাঝখানে একদিন দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম, ১০/১২ তারিখের দিকে … কিন্তু তারপর অর্ধেক অংশে গিয়ে কেন যেন খেই হারিয়ে ফেললাম … দেখলাম আর লেখা আগাচ্ছে না … কিছু একটা নিয়ে লিখবো বলে আগেই ভেবে রেখেছিলাম, কিন্তু লিখতে বসে আর ওই প্রসঙ্গটার কথা মাথাতেই আসলো না … পরে দিনযাপন অর্ধেক অবস্থাতেই রেখে দিয়েছিলাম … দুই-তিন দিন পরে অবশ্য মনে পড়েছে যে পাঠশালার এক সিনিয়র ব্যাচের স্টুডেন্ট, হান -কে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলাম … ওই সময়েই ৩/৪ দিন আগে ওর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম। ক্যানসার হয়েছিলো, বছরখানেক আগে মনে হয় ধরা পড়েছে এরকম কিছু … তো আলটিমেটলি সারভাইভ করে নাই। তো পাঠাশালায় যারা ওড় ব্যাচমেট ছিলো বা কাছের মানুষ ছিলো তারা ওর ছবি-টবি দিয়ে ওর ব্যাপারে বেশ স্মৃতিচারণ করছিলো ফেসবুকে। তখন আমি ভাবতে গিয়ে দেখলাম যে আমার আসলে হান-এর সাথে মনে রাখার মতো পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই! শুধু এইটুকুই যে হান-কে পাঠাশালাতে দেখতাম, আমার থেকে ২/৩ ব্যাচ সিনিয়র ছিলো, ওকে দেখলে বাংলাদেশি মনে হইতো না, মনে হইতো সিঙ্গাপুর-থাইল্যান্ড টাইপের কোনো দেশ থেকে আসছে… ও চাকমা, মারমা বা রাখাইন বা কি ছিলো তাও জানি না!… তখন মনে মনে একটা তালিকা করার চেষ্টা করতেসিলাম যে আমার আশেপাশের সার্কেলে এরকম কে কে আছে যাদের ব্যাপারে আমার শুধুমাত্র পরিচিতিটুকু ছাড়া আর পারটিকুলার কোনো স্মৃতি নাই … কিংবা, আশেপাশের সার্কেলে যারা যারা আছে তাদের কার সাথে কি পারটিকুলার ইন্টারঅ্যাকশনের কথা আমি মনে করতে পারি? … তো ওই ভাবনাগুলা নিয়েই ওইদিন দিনযাপনে লিখতে চাইসিলাম, কিন্তু দিনযাপন লিখতে বসছি যখন তখন পুরা ভাবনাটাই মাথা থেকে গায়েব হয়ে গেছে!

যাই হোক, আজকে আবার বেশ উদ্যম নিয়ে লিখতে বসলাম … ওয়েল, যদি নেট-এর স্পিড বেশি স্লো না হতো, আর পিট’স ড্রাগন নামে যে মুভিটা ছেড়েছিলাম অনলাইন চ্যানেলে দেখবো বলে, সেটা যদি বার বার আটকে না যেতো তাহলে হয়তো এখন মুভিই দেখতে থাকতাম … আর তারপর মুভি শেষ হতে হতে প্রায় রাত ১০টা পার হয়ে গেলে চরম আলসেমি ভর করতো, তারপর আর দিনযাপন লিখতে ইচ্ছা করতো না! … সো, থ্যাংকস টু স্লো স্পিড অভ ইন্টারনেট যা কিনা মুভির অনলাইন স্ট্রিমিং-কে ব্যাহত করলো আর আমিও কাজ না পেয়ে দিনযাপন লিখতে বসে গেলাম …

আসলে ছুটি মানেই আমার এমন আলসেমি করার মুড আসে যে লিটেরেলি মাথা খাটায় কিছু করতে হবে এমন কাজ করতেই মন চায় না … সিনেমা দেখা কিংবা বই পড়াতে তো সেভাবে মাথা খাটানোর কিছু নাই … তাই ওই দুইটা কাজেই এখন সবচেয়ে স্বস্তি! … এখন যেটা হয় যে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে সকাল প্রায় ১০টা পার হয়, তারপর শুরু হয় ম্যারাথন মুভি দেখা … এমনকি একটা ‘মুভিজ টু ওয়াচ’ লিস্ট-ও বানিয়ে ফেলেছি … হাল্কা-পাতলা এন্টারটেইনমেন্ট মুভি, হাই-থট এর সিরিয়াস মুভি, অস্কার নমিনেটেড মুভি এইরকম তিনটা স্টিকি প্যাডে লেখা লিস্ট টেবিলে সেঁটে রেখেছি … একটা করে মুভি দেখি আর নাম কাটি! … সেই প্ল্যান! … এর মধ্যে একটা বই-ও পড়ে শেষ করলাম – ড্যান ব্রাউন-এর ‘ইনফারনো’… বিদুষী নামের আমার এক স্টুডেন্ট বইটা আমাকে দিয়েছিলো পড়ার জন্য … তাও প্রায় মাস দেড়েক আগে … কিন্তু তখন কাজের চাপে আর বইটা বেশিদূর আগায় নাই … আর এই ১১ তারিখের পর যে স্কুল বন্ধ হলো, এর মাঝে পড়ে শেষ করলাম … শেষ ১৫০ পৃষ্ঠা তো মনে হয় দুইদিনে পড়েছি! ক্লাসে পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আমি প্রসঙ্গক্রমে বা প্রসঙ্গ ছাড়াই অনেক বই কিংবা মুভি’র রেফারেন্স দেই স্টুডেন্ট-দের … তো বিদুষী, সুহায়মাহ্‌, ইউশার মতো কয়েকজন স্টুডেন্ট আছে যারা প্রচুর বই পড়ে। তো তাদের সাথেই বই পড়ার আলাপের সূত্র ধরে বিদুষী একদিন ৪৬১ পৃষ্ঠার ‘ইনফারনো’ নিয়ে এসে দাবিই করে বসলো এইটা আমার পড়া লাগবে! … ড্যান ব্রাউনের ‘দি দ্য ভিঞ্চি কোড’ ছাড়া আর কিছুই পড়া হয়নাই আমার … মোটা মোটা বই পড়তে ধৈর্য্যে কুলায়না বলেই হয়তো! … অবশ্য ড্যান ব্রাউনের লেখার মজা হচ্ছে তার রেফারেন্স-এর ব্যবহার … আর যেহেতু টাড় লেখার মুল থিম-ই আর্ট হিস্ট্রি ফলে আমার মনে হয় আমার অন্তত আর্ট হিস্ট্রির প্রতি আগ্রহ থেকে হলেও তার লেখা সব বই ধৈর্য্য ধরে পড়া উচিৎ … আরেকজন লেখকের লেখা আমার পড়ার ইচ্ছা হয়, এবং মনেও হয় যে আমি এখনো এর কোনো লেখাই না পড়ে বেশ অপরাধই করেছি; সে হচ্ছে হারাকি মুরাকামি … একবার একজনের কাছে একটা বই, খুব সম্ভবত নরওয়েজিয়ান উড, সেটা দুই পাতার মতো পড়েছিলাম … কিন্তু সেটা জাপানিজ থেকে অনুবাদ বলে আদৌ কনভিন্সড হতে পারছিলাম না যে বর্ণণার যে সুন্দর দ্যোতনা সেটা লেখকের না অনুবাদকের অবদান! … যাই হোক, হারাকি মুরাকামির এক-দুইটা বই কিনে পড়া শুরু করা যেতে পারে আগামী মাসে …

17156034_1847505172155838_8679005771943606975_n

যাই হোক, আজকের দিনের কথাতেই চলে আসি সরাসরি … নইলে এভাবে লেখার ডালপালা গজায় প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গ পাল্টাতেই থাকবে … আজকে বের হলাম মূলত আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এ যাবো বলে … আজকে ওয়ার্ল্ড মিউজিক ডে … আর ফরাসিদের কাছ থেকে শুরু হয়ে এখন ইউরোপের অনেক দেশেই এই দিনে ‘ফেত দো লা মুজিক’ বা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল হয় … সেখানে দিনব্যাপী গান-বাজনা হয়, প্রফেশনাল-অ্যামেচার সব ধরণের মিউজিশিয়ানই সেই ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে পারে … তো আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-ও প্রতি বছর এই মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-এর আদলেই তাদের গ্যালারিতেই ছোটোখাটো মিউজিক ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে … এইটা নাকি প্রতিবছরই হয় … এইবার এইখানে স্টুডেন্ট হবার বদৌলতে এইরকম আয়োজনের কথা জানলাম … সে যাই হোক, সকালে বের হলাম পৌনে ১২টার দিকে … ভাগ্যক্রমে রাস্তা ফাঁকাই ছিলো, মোটামুটি ঘন্টাখানেকের মধ্যেই ধানমন্ডি ৭ নাম্বার পৌঁছে গেছি … সেখানে আগে কিউ বেলা-তে গিয়ে চুল ট্রিম করলাম … তারপর একটু সামনেই লাইফস্টাইল নামের লজাঁরি’র দোকানে গিয়ে আন্ডারগার্মেন্টস কিনলাম … মোটামুটি আগামী ৬ মাসের জন্য নিশ্চিত … তো এইগুলা করেও দেখি মাত্র ২টা বাজে! … মিউজিক ফেস্টিভ্যাল যদিও বেলা ১২টা সময়ই শুরু হয়ে গেছে, আমার তাও এত তাড়াতাড়ি যাবার ইচ্ছা করছিলো না … ধানমন্ডি ৪ নাম্বারে গিয়ে প্রাইডের দোকানে ঢুকে একটু উইন্ডো শপিং করলাম, জ্ঞানকোষে গিয়ে বাংলাদেশ স্টাডিজ-এর দুইটা বই কিনলাম … তারপর আলিয়ঁস ফ্রসেঁস ঢুকতে ঢুকতে যখন ভাবছি যে নায়ীমীকে ফোন দিবো ও আসবে কি না, দেখি ব্যাগ রাখি যেখানে সেখানে ওর ব্যাগও রাখা … লা গ্যালারিতে গিয়ে দেখি কনক দা’র ছেলে ধিয়ান-এর ব্যান্ড-এর পারফর্মেন্স … নায়ীমীকে খুঁজে পেলাম … ও বললো কিছুক্ষণ আগেই পৌঁছেছে … তো মোটামুটি ৪টা পর্যন্ত থেকে দুইজনেই বের হয়ে গেলাম … নায়ীমী এলিফ্যান্ট রোডের দিকে চলে গেলো আর আমি সিএনজি পাওয়ার অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়ায়ই থাকলাম … মিরপুর নামটা শোনার সাথেই সাথেই খুব দ্রুত না বোধক মাথা নাড়ায় সিএনজিওয়ালারা চলে যেতে থাকলো … একজন রাজি হইলো যাবে বলে … ভাড়া চাইলো ৪০০ টাকা! … ৪০০ টাকা ভাড়া আমি সিএনজিওয়ালাকে দিবো কেন? তাইলে তো উবার ডেকে যাওয়াই ভালো … তো এই চিন্তা করতে করতে দেখি আলিয়ঁস ফ্রসেঁস-এর এক দারোয়ান বের হয়ে এসে বলে, ‘আপনাকে অনেকক্ষণ ধরে দেখতেসি সিএনজি খুঁজতেসেন… কই যাবেন ? আমি দেখি পাই কি না ‘ … তো তারপর ডেসটিনেশন এবং এস্টিমেটেড ভাড়া জেনে সে মোটামুটি সামনে হ্যাপি আর্কেড মার্কেট পর্যন্ত আগায় গেলো সিএনজি খোঁজার জন্য … কিন্তু সেও ব্যর্থ মনোরথে ফিরে আসলো কিছুক্ষণ পর। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম তাইলে ইফতারের সময়টায় বের হবো … অবশ্য তখন মাত্র ৫টা বাজে … আরও প্রায় দেড় ঘণ্টা বাকি ইফতারের … তো যাই হোক, ক্যাফেতে ঢুকে দেখি পিয়ানোর স্টুডেন্ট-দের পারফরমেন্স হচ্ছে … পিয়ানো শুনতে শুনতে নিজের কথা ভাবলাম … এই নিয়ে দুই/তিন বার ডিআইএমএস-এ পিয়ানো লেসন শুরু করে একবারও লেভেল ওয়ান-এর পরে কন্টিনিউ করিনাই … একবার তাও লেভেল টু কিছুটা গিয়েছিলাম, কিন্তু যখনই লেফট হ্যান্ড -রাইট হ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের এক্সারসাইজ আসলো তখনই কি কি সব গিট্টু লাগলো, আর তারপর কন্টিনিউ করা হলো না … পিয়ানো প্র্যাকটিস করার জন্য একটা মিডি কিবোর্ড কিনেছিলাম … ওইটা সেন্ট্রাল রোডের বাসায় ইলেক্ট্রিসিটির ভোল্টেজের ঝামেলার জন্য বাজাতে পারতাম না … তারপর সেটা ৫ তলায় নোবেল ভাইয়ের হেফাজতে অনেক দিন পড়ে ছিলো, শরীফ ভাই মাঝে মাঝেই ব্যবহার করতো … এখনো সেটা নোবেল ভাইয়ের মোহাম্মদপুরের বাসায় তার হেফাজতেই আছে … মাঝে মাঝেই ভাবি এখন এইটা মিরপুরের বাসায় নিয়ে এসে সেট করে নিজে নিজেই প্র্যাকটিস করি … কিন্তু চরম আলসেমির কারণে সেটাও করা হয় না … একটু আগে পিয়ানো লেসন কমপ্লিট করতে না পারার দুঃখ নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখেছিলাম ফেসবুকে … নোবেল ভাই নিজেই কমেন্ট করলো কিবোর্ড-টা নিয়ে এসে আবার শুরু করতে … কিন্তু সেইটা করতে গিয়ে আলসেমিতেই হয়তো আরও ৬ মাস কি এক বছর কাটিয়ে দেবো!

যাই হোক, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল সোয়া ৫টার দিকেই শেষ হয়ে গেলো … এর মধ্যে সানিডেল-এর সময়কার কলিগ সোনিয়া আপুর সাথে দেখা হলো … তারপর নদীর সাথে … এই নদী মেয়েটার সাথে আমার যোগাযোগ খুব অদ্ভুত … সামনাসামনি মনে হয় আজকেই প্রথম দেখা হলো নাকি এর আগেও আরেকদিন হয়েছে মনে করতে পারলাম না … কিন্তু একে অপরকে চিনি মনে হয় প্রায় ৮ বছর হবে! সেই অরকাট, হাই ফাইভ-এর যুগে ওর সাথে কিভাবে কিভাবে অনলাইনে পরিচয় … তারপর থেকে বিভিন্ন কমন ইন্টারেস্ট এবং ইন্টারঅ্যাকশনের সূত্রতায় ওর সাথে কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েই আসছে … অনেকক্ষেত্রেই ও আমার লেখালেখি, ক্রিয়েটিভ কাজ-কর্ম এইসবের বেশ সক্রিয় অ্যাপ্রিশিয়েটর … ইদানীং ও অবশ্য ফেসবুক থেকে ডিঅ্যাকটিভেটেড … তারপরও এই যে, কিভাবে কিভাবে যোগাযোগ হয়েই যায়!

তো, ওই সময় যখন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শেষই হয়ে গেলো, তো চিন্তা করলাম দেড় ঘণ্টার মতো সময় আমি এইখানে বসে বসে কি করবো? এর চেয়ে আবার বাড়ি ফেরার পথ ধরি … একবার ভাবলাম রিকশা নিয়ে ২৭ নাম্বার মিনা বাজার পর্যন্ত যাই … এই চান্সে আর্টিসানে একটা ঢুঁ মারবো … তারপর মিনা বাজারের পাশ থেকে সিএনজি নিয়ে লালমাটিয়ার ভেতর দিয়ে বের হয়ে চলে যাবো সিএনজি দিয়ে … তাতে সময়ও বাঁচবে, ভাড়াও কম লাগবে … এক রিকশাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বলে ৮০ টাকা ভাড়া দিতে হবে! … এর মধ্যে এক দুইটা সিএনজিও খালি পেলাম … একজন ৩০০ টাকায় রাজি হইলো আসতে … তো আর কি? মনের আনন্দে বাসায় চলে আসলাম …

এদিকে সকালে যখন বের হই তখন বিবি তার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে বেশ অভিমানের সাথে কথা বললো … আমি যাই না কেন … আমার কি চারতলা থেকে নেমে একটুর জন্যও দুইতলায় আসতে ইচ্ছা করেনা নাকি এইসব এইসব … তো বিকালে যখন ফিরলাম … তখনও সিএনজি থেকে নেমে দেখি আবারো বিবি বারান্দায় দাঁড়ানো … মনে হইলো যে এখন সরাসরি চারতলায় উঠে গেলে বিষয়টা অন্যায় হবে… তো সকালের কনভারসেশনের প্রেক্ষিতেই দুইতলায় বিবির বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে, নিজের ব্যস্ততার জাস্টিফিকেশন দিয়ে-টিয়ে তারপর আসলাম … মানুষটার আসলে একা থাকতে ভালো লাগে না … স্বভাবতই সে খুব আড্ডাবাজ … গল্পগুজব করতে পছন্দ করে … একা একা থাকাটা এইরকম মানুষের জন্য খুব বোরিং … আমার অবশ্য মাঝে মাঝে একটা কাজ করতে ইচ্ছা করে … এই ইচ্ছাটা অনেক বছর আগে থেকেই আছে … তো এখন আমার কাজটা করার সুযোগ আছে কিন্তু সময় কুলায় না … সেটা হলো বিবির সাথে কথা বলে বলে আমাদের পারিবারিক ইতিহাসের একটা রেকর্ড নেয়া … বিবিরা এমন একটা জেনারেশন যারা ৪৭ এর দেশবিভাগ আর ৭১ এর যুদ্ধ দুইটারই প্রত্যক্ষদর্শী … ফলে তাদের অভিজ্ঞতায় এই সময়গুলোর ইতিহাস কিংবা এই ইতিহাসের সময়গুলোর প্রেক্ষিতে তাদের জীবনের গল্পগুলো এক একটা হিস্টোরিকাল ডকুমেন্ট হতে পারে! … আজকেই কথায় কথায় বিবি-কে বলছিলাম তার গল্পগুলো লেখার জন্য … বললো লেখার ধৈর্য্য নাই … কিন্তু মুখে বলতে ভালো লাগে … তো তখনই মনে হইলো যে পাঠশালায় যখন নিজের জীবনের গল্প বলে ফাটায় ফেলবো ক্রেজ চলতেসে, তখন আমিও ভাবতে শুরু করেছিলাম যে আমি যদি নিজের জীবন নিয়ে ডকুমেন্টারি স্টোরি করি, তাহলে নিজের ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে করবো … মানিকগঞ্জ, জলপাইগুড়ি এইসব রুটগুলা খুঁজে বের করবো আর সেগুলোর কানেকশনগুলা জোড়া লাগাবো … তারপর ছবি আর গল্প মিলায় একটা বই বের করবো … আত্মজীবনীমূলক ছবির বই … তো আজকে বিবির সাথে কথা বলতে গিয়ে আবারো সেই ফ্যামিলি হিস্ট্রি নিয়ে কাজ করার ঘুমিয়ে থাকা বীজটা একটু নড়েচড়ে উঠলো … যেটা করতে পারি যে আপাতত আমি একটা রেকর্ডার কিনে বিবির সাথে গল্পের চলে তার গল্পগুলো রেকর্ড করতে পারি … বিবির যদি লেখার ধৈর্য্য না হয় তাইলে এই রেকর্ড করা গল্পগুলো থেকেই তার গল্পটা বের করবো …

আচ্ছা … বাই দ্য ওয়ে … আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে … দুপুরে লাঞ্চ হয় নাই … বাসায় এসেও হাল্কা পাতলা খাবার খেয়েছি … সো, আপাতত আমি মুড়িঘণ্ট দিয়ে ভাত খেতে গেলাম … অবশ্য, আজকে আর কি-ই বা লিখবো? অনেক কিছু লিখে ফেলসি আজকে … প্রাসঙ্গিক, অপ্রাসঙ্গিক … আজকের মতো না হয় শেষই করি … কালকে মুড থাকলে আবার হয়তো লিখতে বসে যাবো …

           

দিনযাপন । ২৭০৫২০১৭

আজকে মোটের ওপর একটা আলসেমি করা দিন গেলো … বলা যায় যে একেবারে স্বেচ্ছায়ই এই আলসেমিপনা বেছে নিয়েছি আজকে! … না জানি কতদিন পরে আজকে এমন একটা দিন গেলো যে পরেরদিনের জন্য কোনো কাজ তৈরি করার নেই। সকালে ঘুম ভেঙ্গে গেছে সাড়ে ৫টার দিকে, কিন্তু তারপর আবার জোর করে ঘুমিয়েছি প্রায় বেলা সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। শুয়ে থেকে থেকে পিঠ-কোমর ব্যথা করতে শুরু না করলে হয়তো আরও ঘুমাতাম।

আর আজকে সারাটাদিন আসলে বিছানায় গড়াগড়ি করেই কাটালাম। শুয়ে শুয়ে , আধশোয়া হয়ে, বসে থেকে সিনেমা দেখেছি একের পর এক। সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখতে দেখতে। এবং মজার ব্যাপার হচ্ছে সেই স্বপ্নের যেটুকু সকালবেলা শুয়ে শুয়ে রিকল করেছি, সারাদিনে তার এক লাইনও ভুলিনাই! মনে হচ্ছে এখন লিখতে শুরু করলে একেবারে ডিটেইল কি কি ঘটেছে লিখে ফেলতে পারবো!

স্বপ্নটার প্রথম অংশটুকু কেমন ছাড়াছাড়া মনে আছে। আমি কোথায় কোথায় জানি রাস্তায় ঘুরলাম … একবার মনে হলো জায়গাটা উত্তরার দিকে কোথাও, নাকি মিরপুর … এর মধ্যে এইটুকুই মনে আছে যে আমি এইরকম ঘুরতে ঘুরতে একটা জায়গায় এসে পৌঁছালাম। সম্ভবত ওই জায়গাটাই খুঁজছিলাম। তো আমি যেখানে যাবো, সেই বিল্ডিং-এ উঠবার সিঁড়ি ভয়ঙ্কর রকমের খাঁড়া বা এরকম কিছু একটা সমস্যা … পাশের বিল্ডিং-এর ভেতর দিয়ে একটা শর্টকাট আছে … তো ওই বিল্ডিং-এ ঢুকে দেখি ওইটা সাইকায়াট্রিস্ট ফুটা ভাইয়ের অফিস, আর সেটার ভেতর দিয়ে, একটা দুইটা সিঁড়ি দিয়ে নেমে, আবার কই কই ঢুকে শেষমেশ যেখানে গেলাম, সেখানে গিয়েছিলাম অন্য কোনো কাজে, কিন্তু তারপর আবিষ্কার করলাম যে ওখানে যেই ঘরটায় আমি দাঁড়িয়ে আছি সেটাতে টুটুল থাকে! আমি আবার ওকে বলছিলাম যে ‘জোশ জায়গায় থাকিস তো তুই!’ … সেটা বলছিলাম সম্ভবত এই কারণে যে ওর ঘরটা অনেক উঁচু তলায় আর ওর বারান্দা দিয়ে প্রায় দিয়ে পুরো ঢাকা শহর দেখা যায়! আবার একতলা বিল্ডিং-এ ঢুকে কীভাবে এত উঁচুতলায় এসে থামলাম, কিছুই বুঝলাম না! … তো যাই হোক, স্বপ্নের পরবর্তী অংশটুকু বেশ ভালোই মনে আছে। ওই টুটুলের বাসা থেকেই কীভাবে কীভাবে ধানমন্ডির রাস্তায় পৌঁছে গেলাম। রিকশা দিয়ে কোথাও যাচ্ছি। অনেক জ্যামে বসে আছি। এর মধ্যেই শুনতে পাচ্ছি কোথাও একটা লোককে কেউ খুব মারছে, আর সে যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পর দেখতে পেলাম যে একটা বিশাল লম্বা লোক, প্রায় ৭ ফুট বা তার বেশি হবে, তাকে কেউ খুব চাবুক পেটা করছে। যেহেতু লোকটা অনেক লম্বা তাই অনেক দূর থেকেই তার রক্তাক্ত শরীরটা দেখা যাচ্ছিলো। এদিকে আমার মনে হলো যে সে যেখানে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা একটা কোনো স্কুলের প্রেমেসিস। এর মধ্যেই হঠাৎ করে খেয়াল করলাম যে নোবেল ভাই রাস্তার অপর সাইড থেকে রিকশায় আমার রিকশাকে ক্রস করছে, সাথে অর্চি, ক্লাস এইটের স্টুডেন্ট। তারই একটু আগে নোবেল ভাইকে আরেকজনের সাথে দেখেছি, নাকি অর্চিকে আর কারো সাথে দেখেছি কিছুতেই মনে করতে পারলাম না! সেটাও কিন্তু স্বপ্নের মধ্যেই! আবার এটাও হিসাব মেলাতে পারলাম না যে অর্চি কিভাবে নোবেল ভাইয়ের সাথে এক রিকশায় যায়! কেউ তো কাঊকে চেনারই কথা না! পরে দেখলাম যে অর্চি আসলে একা না, পেছনের রিকশায় অর্চির ক্লাসের তাহমিদ, সিদরাত আর সম্ভবত ইফাজও আছে। ওরা সবাই নাকি নোবেল ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছে! আমিও নোবেল ভাইয়ের বাসায় হাজির হলাম। দেখি যে সব ক্লাস সেভেন আর এইটের স্টুডেন্টগুলা! এমনকি সেভেনের উজমা আবার ওর মা-কেও নিয়ে এসেছে! এদিকে নোবেল ভাইয়ের বাসায় সন্ধি নাই, ও নাকি ওর মা’র বাসায়! তাতেও অবাক হলাম! এত মানুষ নোবেল ভাইয়ের বাসায় আসছে, অথচ সন্ধি নাই! আবার এটাও ভাবছিলাম যে নোবেল ভাইয়ের বাসা তো শুনেছি সাত তলার ওপরে, অথচ এটা তো এক তলা বাসা! স্বপ্ন দেখছি আর স্বপ্নের মধ্যেই এটা-সেটা হিসাব মিলিয়ে যাবার চেষ্টা করছি … একটা পর্যায়ে গিয়ে ব্যাপারটা লেজিটিমেট করার চেষ্টা করলাম যে আসলে এটা বোধহয় আরিফিন স্যার হবার কথা, আমি কোনো কারণে আরিফিন স্যারের জায়গায় নোবেল ভাইয়ের চেহারা দেখছি! … এরকম হাবিজাবি কি কি ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে ঘুমও ভেঙ্গে গেলো! …

ঘুম ভেঙ্গে নিজেই নিজের এই রেফারেন্সহীন আজিব টাইপের স্বপ্ন দেখার কারণ ভাবার চেষ্টা করছিলাম। পরে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্তে আসলাম যে গতকালকে সেই সকালে গোসল করেছিলাম, তারপর আর গোসল করা হয়নি … সেকারণেই হয়তো মাথা জ্যাম হয়ে যাচ্ছে! আমার আবার চুল ঠিকঠাকভাবে না ভেজালে এই একটা অদ্ভুত মাথা ব্যথা করতে থাকে, যেটার ফলাফল হয় এইসব অদ্ভুত স্বপ্ন! … ফলে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই আজকে প্রথম কাজ করলাম গোসল!

গোসল-টোসল করে, হাতমুখ ধুয়ে বের হয়ে এসে দেখি মা ঘুমিয়ে আছে। নিজেই নিজের নাস্তা এটা-সেটা মিলায় রেডি করে খেয়ে নিলাম। চা বানানোর উপায় পেলাম না। ঘুম কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা কোকই ভরসা ভেবে নিলাম। এরপর শুরু হলো ম্যারাথন সিনেমা। কি সিনেমা দেখবো ভাবতে গিয়ে প্রথমেই মনে হয়েছে ‘দি শাইনিং’ এর কথা। না জানি কত বছর ধরে খালি চিন্তাই করে আসছি যে এটা একটা মাস্ট ওয়াচ সিনেমা, দেখতেই হবে, অথচ দেখা আর হয়নাই! … গত কয়েকদিন ধরেই মাথায় ঘুরছে যে স্ট্যানলি কুবরিক-এর যত সিনেমা আছে এখনো দেখি নাই, সব একটা একটা করে দেখয়ে শেষ করবো … তারই সূত্রে ‘দি শাইনিং’-এর কথা মাথায় ঘুরছিলো … তো, ‘দি শাইনিং’ দেখার পর মনে হইলো ‘মুলাঁ হুজ” দেখি! গতকালকে ফেসবুকে নাবিল-এর স্ট্যাটাসে দেখছিলাম যে ও ‘মুলাঁ হুজ’ আর ‘শিকাগো’ দেখেছে অনেকদিন পর, তো তখন থেকেই আমার মাথায় ঘুরছিলো যে আমি দুইটার একটাও এখনো দেখিই নাই! … ‘মুলাঁ হুজ’ শেষ হতে হতে প্রায় ৪টা বেজে গেলো … মার শরীর ভালো না বলেই হয়তো আজকে সারাদিনে আর আমার ঘরের দিকে আসেই নাই … সো, আমার খাওয়া-দাওয়া কি হলো না হলো তারও আসলে কোনো খোঁজ-খবর ছিলো না … ৪টার দিকে ভাত খেয়ে ভাবলাম যে একটু ঘুমিয়ে নিবো … সকালে চা খাই নাই, পরপর সিনেমা দেখেছি, ফলে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছিলো। কিন্তু ঘুম আসলো না সাথে সাথেই … আবার আরেকটা সিনেমা ছেড়ে দেখতে শুরু করলাম – ‘লো ভি দো কোহজেত’ … একটা ফ্রেঞ্চ অ্যানিমেশন সিনেমা। ওইটা শেষ হতে হতে বেশ ঘুম ঘুম ভাব চলে আসলো … ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বেশ একচোট ঘুমায় নিলাম। ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা খেয়ে আবার আলসেমি করতে শুরু করলাম … একবার মনে হলো যে একটু ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সের পড়ালেখা নিয়ে ঘাটাঘাটি করি, নয়তো কিনু কাহারের থেটারের সাবটাইটেলের কাজটা একটু আগাই … কিসের কি! এমনেই বসে বসে আলসেমি করতে অনেকটা সময় পার করে দিলাম। তারপর আবার মাঝখানে গোসলও করলাম … অতঃপর আর কিছু করার কোনো তাগিদ না পেয়ে দিনযাপনের লেখা নিয়েই বসলাম …

আগামী আরও দুই-চারটা দিন এরকম আলসেমি করে কাটায় দিতে পারলে মনে হয় ভালো হইতো। হাতে কোনো এক্সট্রা টাকা-পয়সাই নাই! কালকে হয়তো কোনোমতে স্কুলে যেতে আর বাসায় ফিরতে পারবো, কিন্তু পরশুদিন থেকে কিভাবে কি করবো জানি না! নাকি কালকের চলাফেরার টাকাটাও নাই? … স্কুলে যেতে পারবো হয়তো, কিন্তু ফেরার টাকা আছে কি না দেখে নিতে হবে! … কি যে অবস্থা গত দুইমাস ধরে! মাসের শেষ মানেই হাত খালি! …

যাই হোক, আজকের মতো লেখা শেষ করি …      

দিনযাপন । ২৫০৫২০১৭

গতকালকে একটা চরম বাজে দিন কাটানোর পর আজকের দিনটাকে তুলনামূলকভাবে ভালোই বলা যায়। কালকেই ভেবেছিলাম যে শরীরের যেটুকু শক্তি আছে তাই দিয়েই কালকের গরম গরম দিনযাপন লিখে ঘুমাবো। কিন্তু যা ভেবেছি তা মোটেই করতে পারিনি। বাসায় ফিরেছি এমনই হাত-পা ফোলা আর ব্যথা নিয়ে যে কোনোভাবেই আর শুয়ে থাকা ছাড়া অন্যথা করার কোনো তাগিদ পেলাম না! অবশ্য শুয়ে থেকে যে ঘুমিয়েছি এমনও না! পা ফোলার কারণে কেমন চিনচিন করে ব্যথা করছিলো, আর সারা গা-হাত-পা চুল্কাচ্ছিলো … সারারাত খালি অস্বস্তিতে এপাশ-ওপাশ করেছি আর গা-হাত-পা চুলকিয়েছি! … ফলাফল আজকে সারাদিন মাথাব্যথা!

যাই হোক, কালকে মোটামুটি সারাদিনই যত রকমের বিরক্তিকর অনুভূতি নিয়ে পার করলাম। কালকে থেকে স্কুলের টাইমিং পাল্টেছে। যেহেতু পরীক্ষা শেষ এখন টিচারদের ৯টায় গেলেই হবে। এদিকে আমি যেই সিএনজি-তে যাই, সেই লোক আমার সাড়ে সাতটা/ আটটায় বের হবার জন্য অপেক্ষা করলে তার লস। ফলে সে ওই সাড়ে ৬টা সময় যখন সিএনজি বের করে, তখনই যেই ট্রিপ পায় সেটা নিয়ে নেয়। এখন তাকে তো আর আমি বলতে পারবো না যে আমি যেদিন দেরি করে বের হবো, আপনিও সেদিন দেরি করেই ট্রিপ শুরু করবেন! ফলে, আমার দেরি করে বের হবার দিনগুলোতে এই স্যাক্রিফাইসটুকু আমাকেই করতে হয়। যাই হোক, কালকে শাড়ি পরেছিলাম, স্কুলের ক্লাস পার্টি আছে দেখে। বিল্লাল ভাই-কে যেহেতু পাওয়া যাবে না, ভাবলাম যে উবার ডাকি, একটু আরাম করে যাই। কিসের কি! পিক আওয়ার দেখে ওইসময় ক্রমাগতই দেখাতে থাকলো ‘অল কারস ইন ইউজ’ … তো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর উবারের ভরসায় না থেকে বের হয়ে গেলাম। সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখি পরিচিত সিএনজিওয়ালারা কেউ নাই। একটা সিএনজি পাইলাম, সে কতক্ষণ গাই-গুই করে তারপর রাজি হইলো। প্রচণ্ড গরমে শাড়ি পরে প্রায় আধাসেদ্ধ হয়ে স্কুলে পৌঁছালাম।

এদিকে ক্লাস পার্টি মানেই বাচ্চাকাচ্চাদের হাউ-কাউ … আমি অবশ্য খুব বেশি অ্যাটেন্ড করারই চেষ্টা করলাম না… একদিনই তো ! করুক একটু হাউকাউ! … একবার খালি ক্লাস টিচার হিসেবে যেটুকু চেহারা দেখায় আসা যায়, দেখায় এসে বসে থাকলাম টিচার্স রুমে। টিচার্স রুমের হাউকাউগুলোই বরং ভালো লাগছিলো না। কে কি শাড়ি পরে এসেছে, কাকে কেমন লাগছে এই নিয়ে আজাইরা তেলানি, মন্তব্য, হাহা-হিহি এইগুলা ভালো লাগে না শুনতে। আর স্কুলে তো শাড়ি পরা মানেই কিছু টিচারের একেবারে নিজেদের ওয়্যারড্রবের এক্সিবিশন শুরু হয়ে যায়! তো যাই হোক, এই সবকিছুর মধ্যে একটাই ভাল লাগার ব্যাপার ঘটলো। ক্লাস এইটের দুই-তিনজন স্টুডেন্ট এসে আমাদের তিন টিচারকে ডেকে নিয়ে গেলো, কি একটা সারপ্রাইজ আছে বলে। তো লাকি আপা, ফারাহাত আপা আর আমি গেলাম ওদের সাথে। অরিফিন স্যারকেও খুঁজছিল ওরা, কিন্তু স্যার কালকে যায়ই নাই স্কুলে। তো যাই হোক, আমরা ওদের সাথে হলরুমে গিয়ে দেখি ওরা আমাদের চারজনের নাম করে চার কেক নিয়ে এসেছে! আমরা যেহেতু ক্লাস নাইনে আর ওদের ক্লাস নিচ্ছি না, ফলে ওরা আমাদের জন্য এভাবে একটা ছোটোখাটো ট্রিবিউট দেবার প্ল্যান করেছে! কেক-টেক কেটে আমি আমার কেক বগলদাবা করে নিচে নেমে গেলাম। ভাবলাম যে আমার জন্য কেক, এইটা অর্ধেকটা টিচার্স রুমে দিয়ে বাকিটা আমি বাক্সে করে বাসায় নিয়ে যাবো। কিসের কি! ফারাহাত আপা এসে বলে উনি নাকি উনার আর লাকি আপার কেক বাচ্চাদের দিয়ে আসছে ওরা নিজেরা মিলে খাওয়ার জন্য, আর আমি যেহেতু আমারটা নিয়ে এসেছি তাইলে এইটাই টিচার্সরুমে সবাই মিলে ভাগাভাগি করে খাবো! আমার নাম করে আনা কেক-এর একটা টুকরাও আমি নিজেই আর ভালোমতো খেতে পারলাম না! চুপচাপ ব্যাপারটা হজম করে গেলাম। কারণ নইলে আবার সবাই জ্ঞান দেয়া শুরু করতো যে এইসব বাচ্চামি করা ঠিক না, স্কুলে কাজ করতে হলে অনেক কিছু বাদ দিয়েই থাকতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি! …

ক্লাস পার্টি শেষ হলো ১১টার দিকে। ১২টার দিকেই কালকে টিচারদের ছুটি হয়ে গেলো। আমি এক উবার ডাকলাম। সেই ড্রাইভার টাইম দেখালো ২০ মিনিট লাগবে পৌঁছাতে, কারণ সে একটা ট্রিপ শেষ করে আসছে। ২০ মিনিট পর যখন ফোন দিয়ে খোঁজ নিলাম সে কই, বলে যে মিরপুর ১২ নাম্বারে গ্যাস নেয়! আমি ধান্মন্ডি থেকে মিরপুর যাবো, আর তাইলে উবারের ড্রাইভার কেন মিরপুরে থাকা অবস্থায় কল নিবে আমার মাথাতেই ঢুকলো না! সে বলতে থাকলো যে আমার লোকেশন নাকি মিরপুর দেখিয়েছে সেজন্য সে কল নিয়েছে! মেজাজটা এমন খারাপ হলো! ২০ মিনিট হুদাই নষ্ট হইলো আমার, তারমধ্যে উবারের ট্রিপ ক্যান্সেল করার কারণে ৫০টাকাও কাটলো! আরেকটা উবার কল করলাম, সেই ড্রাইভারও প্রায় মিনিট ১৫ বসিয়ে রেখে তারপর পৌঁছালো।

বাসায় ফিরে গোসল করে, খাওয়া দাওয়া করে উঠতে উঠতেই সাড়ে ৩টা বেজে গেলো। এদিকে আবারো বের হবো। স্কুলে গতকাল প্লেগ্রুপের বাচ্চাদের পারফরমেন্স ছিলো, সন্ধ্যা ৭টায়। তো এই গরমে স্কুল থেকে বের হয়ে কার বাসায় যাবো, ওইখানে আবার শাড়ি পরবো এইসব চিন্তা করে নিজের বাসাতেই চলে এসেছি। তাসলিমা আপা আগের দিনই প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিলেন যে আমি চাইলে উনার বাসাতেও যেতে পারি। আমি একবার ভেবেছিলামও যে শাড়ি- কাপড় নিয়ে উনার বাসায় চলে যাবো। কিন্তু পরে মনে হলো যে শাড়ি পরলে নিজের বাসাতেই পরতে আরাম! তো বের হবার সময় এক উবার ডাকলাম। সেইটাও আসলো প্রায় ২০মিনিট বসায় রেখে। ফলে যেখানে প্ল্যান ছিলো পৌনে পাঁচটার দিকে রওয়ানা দিয়ে দেবো, সেখানে বেরই হলাম সোয়া ৫টার কাছাকাছি সময়। ৬টার মধ্যে পৌঁছে যাবো ভেবেছিলাম, সেটা তো হলোই না, বরং জ্যামে বসে বসে আরও মাথাই ব্যথা হয়ে গেলো। স্কুলে যখন পৌছালাম, তখন অলরেডি ৭টা বাজে। তাও ভালো যে প্রোগ্রাম আর মিনিট ১০/১৫ দেরি করে শুরু হলো।

এদিকে বাসায় ফেরার সময় আরেক হুজ্জত! উবারে কল দিলাম পৌনে ৯টার দিকে। এক ড্রাইভার কল নিলো। দেখলাম যে টাইম দেখাচ্ছে ১৫ মিনিট। তো ১৫ মিনিট পরে যখন ফোন দিলাম তখন সেই ড্রাইভার বলে যে সে স্কয়ার হসপিটালের সামনে আছে, কলাবাগান না কোথায় একটা ট্রিপ নামাবে, তারপর তার গাড়ির ইঞ্জিনের কি সমস্যা হয়েছে সেটা ঠিক করবে, তারপর আসবে … এর মধ্যে স্কুলের প্রায় সবাই-ই চলে গেছে, খালি দারোয়ান ভাই আর খালারা কাজ সব গুছাচ্ছে আর লিভা মিস তার সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছে। তো আমি রেগেমেগে ট্রিপ ক্যান্সেল করে দিয়ে আরেকবার উবারে কল দিলাম। এইবার আরেক ড্রাউভার কল নিলো, তার সাথে তখনই কথা বললাম, সে বললো যে বসুন্ধরা সিটির সামনে আসছে, ৮ নাম্বারে একটা ট্রিপ নামাবে। তো সেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে করতে প্রায় ১০টা বেজে গলো। এদিকে স্কুলে আমি একা দেখে খালারাও কেউ বের হয় না, দারোয়ান ভাই-ও যায় না! … আমি খালাদেরকে বারবার রিকোয়েস্ট করছিলাম যে উনারা যেন চলে যায়, কারণ এম্নিতেই জ্যামের রাস্তা, তার মধ্যে রাত সাড়ে ৯টা পার হয়ে গেছে, উনারা যাবে সেই রায়েরবাজার! … কিন্তু উনারা কেউ আমি না যাওয়া পর্যন্ত যাবে না। তো অবশেষে ১০টার দিকে সেই ড্রাইভার অবশেষে জানালো উনি মডার্ন হসপিটালের সামনে আছে। আমি তাকে ওখানেই থাকতে বলে হাঁটা দিলাম। স্কুলের সামনে আসবে, তারপর আবার ঘুরায় মিরপুর রোডে উঠবে, দরকার কি? …

কালকে রাস্তার এই জ্যামের দশা দেখে গত বছরের এই সময়টার কথা খুব মনে পড়তেসিলো। ইউনিভার্সিটি থেকে ক্লাস শেষ করে লিটেরেলি দুইদিন অর্ধেক পথ হেঁটে হেঁটে, অর্ধেক পথ রিকশা দিয়ে বাসায় ফিরেছিলাম। কালকেও মনে হইলো ওইরকমই সাফারিং-এর মধ্য দিয়েই গেলাম। শুধুমাত্র জ্যামের কারণে যদি মানুষের এতগুলা সময় নষ্ট হয়ে যায়, তাইলে কিভাবে কি হবে? … কালকে বসে বসে ভাবছিলাম যে, এই যে আমি গতকাল সারাদিন খালি একটা গাড়ি আসার জন্যই ২০ মিনিট/ আধাঘণ্টা/ এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলাম, অথচ রাস্তায় বের হয়ে একটা সিএনজি নেয়ার কথা চিন্তা করলাম না, সেটা কেন? সারাদিনে উবারে যাওয়া আসার পেছনে কালকে আমার যে ১৫০০ টাকা খরচ হলো, এবং মাসের শেষে এসে এখন যে ১৫০ টাকা খরচ হলেও গায়ে লাগে, তাও এতগুলা টাকা খরচ করলাম, সেটাই বা কেন? … মনে মনে উত্তর গুছাবার চেষ্টা করলাম এভাবে যে, একটা কারণ অবশ্যই গত বছরের রোজার আগের এই সময়টায় বাসায় ফেরার যেই সাফারিং, সেইটার ট্রমা। আর দ্বিতীয়ত, এখন আসলে অনেক বেশিই আরামপ্রিয় হয়ে গেছি, যেটা শরীরে পোষায় না, মনে তাগিদ পাইনা সেইটা করিই  না! … কালকে স্কুল থেকে ওই সন্ধ্যার পরে বের হয়ে মডার্নের সামনে গিয়ে যদ সিএনজি খুঁজতাম, মোটামুটি ১৫/২০ মিনিট দাঁড়ায় একটা সিএনজি হয়তো পেতাম, কিন্তু তারপর যে জ্যামে বসে গরমে সেদ্ধ হতাম, তারপর সেটার প্রভাবে মেজাজ প্রচণ্ড তিরিক্ষি হয়ে থাকতো, সেটার চাইতে এক ঘণ্টা বসে থাকার পরে উবারের গাড়িতে করে যে ডাবল ভাড়া দিয়ে, এসির বাতাস খেতে খেতে আসলাম, তাতে একটু হলেও এতদূরের পথের জার্নির সাফারিং-টা তো কমলো!

তারপরেও তো কালকে যেই শরীরের অবস্থা নিয়ে বাসায় ফিরছি, সিএনজিতে করে যাওয়া-আসা করতে গেলে মনে হয় আজকে আর স্কুলেও যেতে পারতাম না! সকালে তো আজকে একবার মনেও হচ্ছিলো যে আদৌ যদি আজকে স্কুলে না যাই তাহলে কি হবে? যেহেতু ৯টা টাইমিং, বের হলাম একটু দেরি করে, ৮টার দিকে। যদি ইউজুয়াল টাইমে বের হতে হতো, তাহলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিয়েই নিতাম যে স্কুলে যাবো না! আর গেলেও এরকম দেরি করেই যাবো! …

আজকে যেমন কিনু কাহারের থেটার-এর শো ছিলো শিল্পকলায়। কিন্তু গতকালকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করে আজকে আর যাওয়ার সাহসই করলাম না। স্কুলের পরে না হয় তাসলিমা আপার বাসায় গিয়ে গোসল করে, খেয়েদেয়ে ধীরে-সুস্থে বিকালে ওইদিকে যেতে পারতাম, কিন্তু ফেরার পথে কি হবে, আদৌ উবার পাবো কি না এইসব চিন্তা করলাম, তারমধ্যে ভাবলাম যে গতকালকে রাতে তো একদমই ঘুম হয় নাই, আর সারাদিন মাথাব্যথা নিয়ে এভাবে না ঘুরে বরং বাসায় যদি বিকাল-সন্ধ্যা সময়টা একটু ঘুমাই তাহলেও বোধহয় ভালো লাগবে। তো সেটাই করলাম আর কি!

আজকে আর লিখবো না। এখন আবার একটু গোসল করে ঠাণ্ডা হবো। দুপুরের গোসলের ইফেক্ট চলে গেছে অনেকক্ষণ আগেই। আবার গা চুলকাচ্ছে এখন। আর কেমন জানি একটা জ্বর জ্বর ভাব। গরমের কারণে দুই/তিনদিন ধরে ক্রমাগত ঠাণ্ডা পানি, কোক, আইসক্রিম খাচ্ছি … আর সেই সাথে ঘামছিও। সব মিলায়ই মনে হয় জ্বর আসি আসি করছে! …

বাই দ্য ওয়ে, গতকালকে একটা বিশেষ ডেটলাইন ছিল। একটা হাইপোথেটিক্যাল ডেটলাইন, তবুও, ডেটলাইন তো! কিছু একটা তো হতে পারতো এই তারিখে, বা তার আগে পরের কোনো এক সময়! নিজের হাতেই তো সেই সম্ভাবনা শেষ করেছি! … গতকালকে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, ইডিডি ২৪ মে, ২০১৫ লিখে … আনিতা আবার ইডিডি’র অর্থসহ এক মন্তব্য করে বসেছে! পারসোনালি ইনবক্সে লিখলে হয়তো আমি একরকম উত্তর দিতাম। কিন্তু কমেন্ট বক্সে লেখায় আমিও আবার ‘এইটা একটা কোড’ লিখে ব্যাপারটা কাটিয়ে দিয়েছি। যে যা খুশি বুঝে নিক! …

যাই হোক, শেষ করি তাইলে আজকের মতো!             

দিনযাপন । ২১০৫২০১৭

আজকে একটু দেরি হয়ে গেলো, তাও দিনযাপন লিখতে বসলাম। এত গরম দুইদিন যাবত! গতকালকে তো মনে হয় এই গ্রীষ্মের হায়েস্ট টেম্পেরেচার ছিলো … আজকেও যে তাপমাত্রা খুব কম তা না … মনে হচ্ছে একটু পরে বাথরুমে গিয়ে গায়ে পানি দিয়ে আসা লাগবে। আজকে বিকালে ঘুমাইনাই, তাই ঘুম ঘুমও লাগছে … ঘুম কাটানোর জন্য ঠাণ্ডা আইসক্রিম খাবো কি না ভাবছি … অবশ্য ঠাণ্ডা কিছু খেলে সাথে সাথেই মনে হয় যেন গরম বেশি লাগতেসে …

ঘরের মধ্যে একটা মাকড়সা দুই/তিন ধরে ঘুরঘুর করতেসে। কিভাবে ঢুকেছে কে জানে! মাকড়সাতে এমনিতে আমার সমস্যা নাই, কিন্তু তারপরও, রুমমেট হিসেবে মাকড়সা আসলে খুব আকাঙ্ক্ষিত না আমার কাছেও। আরেকদিন এক বিশাল সাইজের লাল রঙের সেন্টিপেড ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলো। সম্ভবত বাথরুমের পাইপলাইন দিয়ে ঢুকেছে! কার্পেটের ভেতরে ঢুকে যাবার জাস্ট আগের মুহুর্তে খেয়াল করে ওইটাকে জুতা দিয়ে চাপা দিয়ে আটকে ফেলেছিলাম। নইলে এই জিনিস যদি বেয়ে বেয়ে বিছানায় উঠে যেতো কি ভয়ঙ্কর অবস্থা হইতো!

আজকে স্কুলেও কোথা থেকে এক মেটে সাপের বাচ্চা বাথরুমে ঢুকে গেছে। প্রথমে ওটাকে কেঁচো ভেবে সবাই উসখুস করছিলো, কিন্তু মেরে ফেলার সাহস করতে পারছিলো না কেউ। এদিকে ওইটার রঙ দেখে আবার কেউ শিওর-ও হতে পারছিলো না যে ওইটা আদৌ কেঁচো কি না … কারণ কেঁচো তো ছাই রঙের হয় না! … আর যেভাবে কিলবিল করছিলো, সেটাও কেঁচোর মুভমেন্টের সাথে বেমানান। এদিকে আমি একটু সাহস করে ওইটাকে মারতে গেলাম। জুতা দিয়ে বাড়ি মেরে মারবো ভেবেছিলাম, কিন্তু দেখলাম যে এর চেয়ে চাপা দিয়ে মারাটাই সহজ। আমি জুতাটা ওই সাপের বাচ্চার ওপর রেখে চাপ দিবো কি দিবো না সেঁতা নিয়ে ইতস্তত করছিলাম। জিশা পাশ থেকে ‘মিস, দেন! চাপ দেন! … এই তো! আরেকটু জোরে … ‘ বলতে থাকায় আমারও একটু উৎসাহ আসলো। সাপ মারাটা আসলে বেশ অ্যাডভেঞ্চারাস ব্যাপার টাইপের একটা অ্যাটিচুড নিয়ে ওইটাকে মারতে থাকলাম। এইদিকে দেখি যে এইটার রক্ত বের হচ্ছে। শিওর হওয়া গেলো যে এইটা আড় যাই হোক, কেঁচো না! ফৌজিয়া আপা এসে দেখে বললেন যে এইটা মেটে সাপের বাচ্চা … মরা সাপকে ভালমতো অব্জার্ভ করে দেখা গেলো যে এইটার একটা মাথা আর পয়েন্টেড লেজও আছে! …

18527616_1071533732982462_8673022964557895536_n

সাপ মারার মতো সাহসী অভিযানের পরে বিকালে এক মহা অ্যাম্বেরেসিং ঘটনা ঘটে গেলো! স্কুলের ক্লাস পার্টিতে টেক আউটের বার্গার নেয়া হবে, সেটার অর্ডার দিতে গিয়েছিলাম আমি আর কাশফিয়া আপু, সাথে আবার কিভাবে কিভাবে জেবু আপাও জুটে গেলো। এদিকে বার্গারের দোকানে অর্ডার নিয়ে কথা বলে, নিজেরা বার্গার খেয়ে নামার সময় আমার উৎসাহেই দুইতলায় ডোনাটের দোকান গ্লেজড-এ ঢোকা হলো … আমরা ডোনাট খেয়ে উঠবো উঠবো করছি এমন সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম কোথা থেকে এক প্রজাপতি উড়ে উড়ে আমাদের দিকেই আসতেসে … কাশফিয়া আপুই প্রথম খেয়াল করলো জিনিসটা … উড়ন্ত জিনিস দেখে প্রথমে বোধহয় ভাবসিলো তেলাপোকা। কারণ এম্নিতেই ওইখানে অনেক মশা ছিলো, আর কাশফিয়া আপুরা বসে বসে ব্যাট দিয়ে মশাও মারতেসিলো। তো ‘ওমা! এইটা কি?’ বলেই সাথে সাথে বললো … আরেহ প্রজাপতি! … আমার কি আর তখন  জানে পানি থাকে? এইরকম গরমকালে এভাবে দোকানের ভেতর কথা না বার্তা নাই প্রজাপতির সাথে এনকাউন্টার! আমি এখন কি করবো, কই যাবো চিন্তা করে দুই হাত দিয়ে মাথা-টাথা ঢেকে চিৎকার দিতে থাকলাম। ওইটা বোধহয় ওই জায়গায় একটু উড়াউড়ি করে আবার দোকানের ভেতরের ডিকে চলে গেলো। আমি মোটামুটি ব্যাগ-ট্যাগ সব রেখেই দৌড়ে বের হয়ে আসলাম … দোকানের লোকজনের মাথার উপর দিয়ে গেলো পূরা ব্যাপারটাই … কাশফিয়া আপুরা শুনলাম বের হতে হতে দোকানের লোকজনকে ব্যাখ্যা করতেসে যে ‘ ও আসলে এইটা ভয় পায় … ফোবিয়া আর কি! … এইটা একটা অসুখ … ও প্রজাপতি দেখলে এরকমই করে … ইত্যাদি ইত্যাদি … ‘ … ওই দোকানের লোকজন কি বুঝছে কে জানে! তবে আমি যে আর অদূর ভবিষ্যতে ওই দোকানে যাবো না, এই ব্যাপারে আমি শিওর!

এইবার জেবু আপা সম্পর্কে একটু বলি … আসার পথে যথারীতি জেবু আপা ফ্রি রাইড নিয়ে আমার সাথে ২ নাম্বার পর্যন্ত এসে তারপর রিকশায় করে ১০ মিনিটের দূরত্বে বাসায় চলে গেলো … আমি একবার ভাবতেসিলাম যে একটা কিছু বলে উনাকে কাটায় দিবো … বলবো যে এখন তো বাসায় যাবো না, আরেক জায়গায় যাবো … এইসব বলে টলে রিকশা নিয়ে কিছুদূর গিয়ে কিংবা উনি বাসের জন্য চলে গেলে পরে ওইখান থেকেই সিএনজি করে চলে আসবো … কিন্তু সেটা আর করলাম না … স্কুলে এম্নিতেই উনার কাজকর্ম আমার খুব একটা পছন্দ না, তারমধ্যে উনার সাথে আমার কিছু ক্যাচালও হয়েছে … সবকিছুই হয়তো আমি স্বাভাবিকভাবে মাথা থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারি, কিন্তু মাঝখানে উনি এমন একটা কাজ করেছে আমার সাথে যে উনার ব্যাপারে যাবতীয় পজিটিভ ইম্প্রেশন আমার উঠে গেছে! জেবু আপাকে যারা আগে থেকে চেনে তাঁরা খুব জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে যে উনি বেসিক্যালি বোকা-সোকা মহিলা, তাই যা খুশি তাই করে ফেলে বা বলে ফেলে … কিন্তু আমি এই যুক্তিতে খুশি থাকার মানুষ না … আমি নিজেও মানি যে উনার চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, শিক্ষাদীক্ষা সবকিছুতেই প্রচণ্ড রকমের টিপিক্যালিটি আছে, এবং ঠিক সেই টাইপের টিপিক্যালিটি যেইটা নাকি আমি একদমই সবসময় অ্যাভয়েড করে আসছি। তো এই গত মার্চ মাসেই, স্কুলের জুনিয়র ক্লাসের ইনচার্জ ফৌজিয়া হক আপার জন্মদিন পালন করা হবে, তো জেবু আপা ওইটার আরেঞ্জমেন্ট করতেসে। ফুল আনানোর কাউকে পায় না, শেষে আমি এক শর্তে রাজি হলাম যে উনার বাসা থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে যে একটা ফুলের দোকান আছে, সেখান থেকে আমি ফুলের অর্ডার দেবো, কিন্তু আসার সময় তাইলে উনাকেও সাথে আসতে হবে। কারণ একজন একা সিএনজি-তে ফুলের তোড়া নিয়ে আসাটা খুব সহজ না … তো উনি রাজি হইলো, প্ল্যান হইলো যে আমি বের হবার সময় উনাকে ফোন দিবো, উনি ওইখানে ফুলের দোকানে চলে আসবে, আমি তারপর উনাকে ‘ফ্রি রাইড’ দিয়ে নিয়ে আসবো … তো যেদিন ফুল আনবো, ওইদিন সকাল থেকে উনাকে ফোন দিয়েই গেলাম, উনি ফোন তো ধরলোই না, পরে আর কলব্যাকও করলো না! … তো আমার আবার এইসব ‘কথা দিয়ে কথা না রাখা’ বিষয়গুলো একদমই নেয়ার ক্ষমতা নাই! … আমার চিন্তাধারা খুব সিম্পল। আমি যদি একবার মুখ দিয়ে বের করি যে ‘ওকে, আমি এইটা করবো’, আমার যত কষ্টই হোক, আমি সেটা করবো। আর একান্তই না পারলে সেটাও নিজেই গরজ করে জানায় দিবো … সেক্ষেত্রে এভাবে ফোন না ধরা, বা ফোন ব্যাক না করাটা তো পুরাই ইগ্নোর করে যাওয়ার শামিল! … উনার ওপর এম্নিতেই তো জিদ উঠতেসিলো, তারমধ্যে উনি স্কুলে যাওয়ার পর উনার ফোন না ধরা বা আমাকে কল ব্যাক না করার ব্যাপারে বিন্দুমাত্র স্যরি তো বললেনই না, বরং যখন দেখলেন যে আমি ক্ষেপে আছি তখন আমার সাথে আজাইরা ফাইজলামি করতে শুরু করলেন। এম্নিতেই মেজাজ গরম, তারমধ্যে ওইসব আচরণ দেখে আরও মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো… উনি এক পর্যায়ে খুব ফাজলামি মুডে, ‘আহারে! বাচ্চাটা রাগ কর্ষে! আসো আদর করে দেই’ বলে আমাকে হাগ দিতে গেলো, আর আমি ‘সরেন! যত্তসব!’ বলে চিৎকার দিয়ে উনাকে ঝটকা মেরে সরায় দিলাম। চিৎকারের ইন্টেন্সিটিটা ‘সরেন … আরে! সরেন তো! … সরেন! ‘… এভাবে ক্রমেই বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে এত জোরে দিলাম যে পাশের টিচার্স রুম, মাদলেন আপার রুম, পাশের ক্লাস রুম পর্যন্তও মনে হয় শোনা গেলো … তাতে নাকি জেবূ আপা খুব অফেন্ডেড হইসিলো! কাশফিয়া আপু আবার আমাকে কি কি সব বুঝাইলো যে ওয়ার্ক প্লেসে অনেক কিছু মাথায় রেখে চলতে হয়, এই সেই!…

আমি হয়তো জেবু আপার ওপর এত বিরক্ত হইতাম না, যদি না উনার পাস্ট হিস্ট্রি ক্লিয়ার থাকতো! উনি স্কুলে খাওয়াবে, সেই খাবারের ডেকচি নিয়ে যেতে হবে দেখে উনি আমার সাথে ‘ফ্রি রাইড’ নিলো ওই ঘটনার কয়েকদিন আগে…বাসা থেকে বের হবার টাইমে উনাকে ফোন দিবো বলার পরেও ভোর থেকে মোটামুটি ৩/৪ বার ফোন করে কনফার্ম হইসে আমি আদৌ উনাকে ফেলে চলে যাই কি না! … শিল্পকলায় নাটক দেখতে যাবে, তাতেও যাওয়াআসার পথে আমার ওপর দিয়েই গেলো! নিজের স্বার্থ যখন থাকে, তখন ঠিকই সেখানে ষোলো আনা ! এইসব স্বার্থপরতাই আমি নিতে পারি না! একেবারেই জিরো টলারেন্স!

তো, ওই ঘটনার পরে জেবু আপার নিজেরই লজ্জা হবার কথা আমার কাছে লিফট নেয়ার কথা ভাবতে! সেই লজ্জা অবশ্য উনার একদমই নাই! ওই ঘটনার এক সপ্তাহের মাথাতেই উনি বাসায় যাওয়ার পথে আমার সাথে যেতে চাইসে! কি অদ্ভুত মেন্টালিটি মানুষের! আমি হইলে তো জীবনেও পারতাম না! … তো যাই হোক, উনার এইসব কাহিনী-কীর্তি আর আচার-আচরণের কারণে উনাকে আমার আর ভাল্লাগে না এখন। যতই উনি বোকা-সোকা হোক, আর ‘টু টিপিক্যাল টু ইগ্নোর’ হোক … জিরো টলারেন্স মানে জিরো টলারেন্স! … এইবার পরীক্ষার আগেও ফাইনাল প্রিন্ট বের করা নিয়ে উনার সাথে আমার গ্যাঞ্জাম হইসে উনার আচরণের সূত্র ধরেই … তারপরেও উনি আবার খুব হাসি হাসি, অ্যাজ ইফ কিছুই হয় নাই! কি জানি! আসলেই কি উনি এতই বোকা যে যখন যা মাথায় আসে তাই বলে ফেলে, নাকি ইচ্ছা করে এতটা বোকা থাকার ভান করে বুঝি না আমি! … এগুলা আমার মাথার উপর দিয়েই যায়! … মানুষ যত রিয়েল হয়, তত আমার জন্য বোঝা সহজ! … মানুষের এইসব জটিল মানসিকতা বুঝি না আমি! …

আজকে একটা গিফট পেয়েছি, একটা ড্রিমক্যাচার। আমার এক স্টুডেন্ট, গুনগুন, ও নেপাল গিয়েছিলো একটা টেনিস টুর্নামেন্টে পারটিসিপেট করতে, তো আসার সময় আমার জন্য সে একটা ড্রিমক্যাচার নিয়ে এসেছে। এত কিছু থাকতে যে ও আমার জন্য একটা ড্রিমক্যাচার এনেছে, মজাটা এখানেই। আমার ড্রিমক্যাচার প্রীতির ব্যাপারে আমার স্টুডেন্টরা অনেকেই বেশ ভালোই অবগত। একবার এই গুনগুনরাই ক্লাসে একটা প্রজেক্ট-এর কাজ করেছিলো, ওইখানে একটা ড্রিমক্যাচার বানিয়ে লাগিয়েছিল ওরা। আমি মাঝেমাঝেই বলতাম যে কোনদিন দেখবা ড্রিমক্যাচারটা নাই! তারপর খুঁজতে খুঁজতে আমার বাসায় গিয়ে পাবা! … তো গুনগুনের হয়তো ওইটাই মাথায় ছিলো যে আমার ড্রিমক্যাচার অনেক পছন্দ, আর সেকারণে নেপালে গিয়ে ড্রিমক্যাচার দেখে মনে হইসে যে মিসের জন্য এইটা নিয়ে যাওয়া যেতে পারে! … এইরকম একটা গিফট পেয়ে আমি যারপরনাই খুশি! … সাধারণত আমি স্টুডেন্টদের কাছ থেকে গিফট না নেয়ারই চেষ্টা করি, কিন্তু কিছু কিছু সময় স্টুডেন্টরা যখন এরকম কিছু নিয়ে আসে সেটা নেয়াই যায়! …

আচ্ছা, আজকে এই পর্যন্তই … এখন একটু গায়ে পানি দিয়ে ঠাণ্ডা হবো … তারপর শুয়ে পড়বো … কালকে তো সকালে উঠেই স্কুল …   

দিনযাপন । ১৯০৫২০১৭

পরীক্ষার খাতা হাতে আসার সাথে সাথে কেমন জানি একটা বাচ্চাসুলভ উত্তেজনা কাজ করতে থাকে। মনে হয় যে কতক্ষণে খাতা দেখে শেষ করবো, আর তারপর হিসাব করে বের করবো কে কত পেলো, কে পাশ করলো, কে ফেইল করলো, আবার যে ফেইল করলো তাকে এক-দুই নাম্বার কোথাও বাড়ায় দিয়ে পাশ করিয়ে দেয়া যায় কি না … কিন্তু খাতা নিয়ে যখন বসি, তখন আবার মনে হতে থাকে যে ধুর! এত খাতা! ভাল্লাগেনা খাতা দেখা! … তখন ৫/৬ টা খাতা দেখার পরেই আবার সব গুছিয়ে রেখে অন্য কাজ করতে থাকি …

অন্যদিন বিকালে ঘুমালে সন্ধ্যা পার হয়ে রাত প্রায় ৮টা বেজে যায় তারপর উঠি … আর আজকে ৪টা কি সাড়ে ৪টার দিকে মনে হয় ঘুমালাম, ঘুম ভেঙ্গে গেলো ৬টার দিকেই … সারা সন্ধ্যা কি করবো ভাবতে ভাবতে খাতা নিয়ে বসলাম, তারপর আবার কিছুক্ষণ আগামী টার্মের সিলেবাস রেডি করা যায় কি না সেটা নিয়ে গবেষণা করলাম … শেষমেশ কিছুই করতে ভালো লাগছে না দেখে দিনযাপন লিখতে বসেছি …

কয়েকদিন ধরে এত গরম! গোসল করে বাথরুম থেকে বের হবার আগেই মনে হয় যে আবার ঘেমে আঠা-আঠা হয়ে গেছে শরীর! ফ্যানের বাতাস গায়ে লাগে না মোটেই! … স্কুল থেকে দুপুরবেলা যখন ফিরি, সিএনজির মধ্যে মনে হয় যেন সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি … আরাম পাওয়ার জন্য দুপুরবেলায় উবার সার্ভিস নেয়া যেতে পারে, কিন্তু তাতে করে যে এক্সট্রা টাকাটা খরচ হবে সেটাকে মনে হয় বিলাসিতা! রাতের বেলা কাঁটাবন থেকে উবার-এর গাড়ি দিয়ে ফিরি,সেটার তো তাও একটা যুক্তি আছে যে রাতের বেলা সিএনজি’র চেয়ে উবার-এর গাড়িতে একা আসা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ! কিন্তু দুপুরবেলা শুধুমাত্র গরম থেকে আরাম পাওয়ার জন্য এসি’রলোভে উবারে চড়াটা একটু বেশি বেশিই হয়ে যায়! …

যাই হোক, গরমে অসহ্য দিন তো কাটছেই … এর মধ্যে এখন আবার কি এক চিকুনগুনিয়া রোগ হচ্ছে সবার … তাতে নাকি খুব জ্বর আসে, আর শরীরের গিঁটে গিঁটে ব্যথা করে। স্কুলে টিচারদের কয়েকজনের হয়েছে, স্টুডেন্টরাও অনেকেই এতে এফেক্টেড, বুয়াদেরও কার কার নাকি হয়েছে বা হবে হবে করছে … আমি খালি মনে মনে আশা করে যাচ্ছি যে আমার যাতে এই ছাতা-মাথা’র অসুখ না হয় … এম্নিতেই শরীরের হাড্ডি-গুড্ডি ব্যথা করে, রিউমেটিক ফিভারের ধাঁচ আছে, আর সাথে যদি এই চিকুনগুনিয়া হয়, তাইলে সব কাজ-কর্ম গুটায় বাসায় বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এই চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নাকি প্রায় ছয় মাস, এমনকি এক বছর পর্যন্তও থাকে!

17353213_1027317814070721_1979846623714086168_n

ভাবছি, আবারো একটা ঘর গোছানো প্রজেক্ট হাতে নিতে হবে। এক্টা-দুইটা জিনিস আবার এদিক-সেদিক করবো, শেলফটা গোছাবো … এবারের ঈদে একটা কেবিনেট বানাবো প্ল্যান করেছিলাম, শাড়ি রাখার জন্য … তবে, একটু মাল্টিপারপাস ডিজাইন হবে আর কি … একই সাথে আয়না থাকবে, আবার আয়রন করার মতো একটা অপশন-ও থাকবে … এইসব এইসব ভেবে মনে মনে একটা ডিজাইন করে রেখেছিলাম … কাঠ দিয়ে বানালে হয়তো খরচ বেশি পড়বে, সেক্ষেত্রে আপাতত ভাবছি বোর্ড দিয়েই বানিয়ে ফেলবো … আমার যে কত শাড়ি হয়েছে, হিসাবও নাই … এমনকি অনেকদিন পর পর শাড়ি পড়তে গিয়ে নিজেই নতুন করে আবিষ্কার করি যে ‘আমার এই শাড়ি আবার কবে কিনলাম’! এই তো আজকেই একটু আগে অনলাইন একটা গ্রুপে একটা শাড়ি দেখে দ্বিতীয়বার চিন্তা না করে অর্ডার দিয়ে দিয়েছি! আরেকটা শাড়িও পছন্দ হয়েছে, ভাবছি ওইটাও দিয়ে দিবো … শাড়ি খালি বেড়েই যাচ্ছে, অথচ পরা হচ্ছে না … স্কুলে রেগুলার শাড়ি পরতে ইচ্ছা করে না … একে তো সারাদিন দৌড়াদৌড়ি, তাছাড়াথেকে স্কুলে যাওয়া-আসাতেই আমি অর্ধেক টায়ার্ড হয়ে যাই, শাড়ি পরে গেলে শাড়ি আর শাড়ির জায়গায় থাকে না! আর এরকম গরম হইলে তো কথাই নাই! … হইতো যে গাড়ি দিয়ে যাই আসি, এসির বাতাসে ঠাণ্ডা হয়ে থাকতে পারি, স্কুলেও এসি আছে, তাইলে শাড়ি পরে থাকাটা গায়েই লাগতো না! …

এদিকে, ইদানীং আরেক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে … চূল বড় করার ইরাদা নিয়েছি, তাই এই গরমে চুল কাটছি না … আর এখন চুল প্রায় ঘাড় ছাড়িয়ে পিঠের কাছাকাছি নেমে এসেছে … এম্নিতেই চুল শুকায় না, আবার চুল খোলাও রাখতে পারি না … চুল খুলে রাখলেই পিঠ ঘেমে গিয়ে চুলকাতে শুরু করে, আবার চুল বেঁধে রাখলে কিছুক্ষণ পরে মাথা ব্যথা শুরু হয় … আজিব সব যন্ত্রণার মধ্যে আছি! … অন্যসময় হোলে হয়তো রেগে-মেগে এদ্দিনে নিজেই নিজের চুল কেটে ছোটো করে ফেলতাম … কিন্তু এবার পাক্কা প্রমিজ করেছি মনে মনে যে চুল বড় করবো, তো করবোই! … একটা হেয়ার ড্রায়ার কেনা যেতে পারে সেক্ষেত্রে! … দুর্দিনে অন্তত চুল শুকানোর জন্য কাজে দেবে … আড় ভাবছি যে টেবিল ফ্যানটাও প্যাকেট থেকে নামিয়ে আবার কানেকশন দেবো … চুল শুকানোর জন্য ওটাও বেশ ভালো সার্ভিস দেয় …

তবে, জুনের ১১/১২ তারিখের আগে এইসব করার সময় পাবো বলে মনে হয় না… এম্নিতেই ১০ তারিখে স্কুলে রিপোর্ট কার্ড ডে, তার মধ্যে আবার ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও পরীক্ষা জুনের ৯ তারিখেই পড়েছে! … এর মধ্যেই আবার কিনু কাহারের থেটার-এর ইংলিশ সাবটাইটেল-এর একটা কাজও শেষ করতে হবে … ফলে মোটামুটি জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত সেই ব্যস্ত থাকবো … তারপরে স্কুল ছুটি হয়ে যাবে … ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্সেরও ব্রেক আছে … তখন এইসব ঘর গোছানো, ফ্যান সেট করা, হেয়ার ড্রায়ার কেনা টাইপ কাজকর্ম করে ফেলতে হবে …

এবার তো আবার ঈদের সময়ও লম্বা টাইমের জন্য থাকবো না … টিয়ামরা কক্সবাজারে ঈদ করার প্ল্যান করেছে, হোটেল-টোটেলও বুকিং দিয়ে দিয়েছে … তো মোটামুটি ২৪ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মনে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার এইসব জায়গাতেই থাকবো … তারপর ঢাকায় ফিরে পরের দুই সপ্তাহের জন্য খালি স্কুলের নতুন সেশনের কাজ করবো …

যাই হোক, আজকে আর লেখার মতো কিছু নাই … আপাতত অফ যাই …   

দিনযাপন । ১৩০৫২০১৭

আহা! কতদিন পর আজকে একটা সন্ধ্যা যেখানে পরবর্তী দিনের জন্য কপি চেকিং-এর টেনশন নাই, ওয়ার্কশিট তৈরির চিন্তা নাই, ক্লাসে কোন টপিকটা কিভাবে পড়াবো সে ব্যাপারে মাথাব্যথা নাই! … যেকোনো টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হবার আগে আগে এই সময়টা বেশ ভালো লাগে, যখন মাত্র পরীক্ষা শুরু হয় আর হাতে তখনও খাতা এসে হাজির হয় না! … এই যেমন, এইবার আমার ১৭ তারিখ পর্যন্ত খাতা দেখা-দেখির ঝামেলা নাই … ১৭ আর ১৮ তারিখ মিলিয়ে ৫ সেট খাতা আসবে, তারপর মোটামুটি জুনের ১ তারিখ পর্যন্ত নাভিশ্বাস উঠার মতো অবস্থায় খাতা দেখবো আর মার্কস কাউন্ট করবো …

যাই হোক, আজকে আবার সন্ধ্যায় গ্রুপে যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এত মাথা ব্যথা করছিলো আর ক্লান্ত লাগছিলো যে দুপুরে খেয়ে দেয়ে ঘুম দিলাম … গত ৪/৫ দিন হলো দীর্ঘদিন পরে আবার টানা গ্রুপে যাওয়া হচ্ছে। বনমানুষ-এর শো হবে ১৬ তারিখ। তো নতুন কিছু সাবস্টিটিউট লাগবে, তাদের আবার নাচ-গান এইসব ওঠানোর বিষয় আছে। তাই একটা ছোটোখাটো ওয়ার্কশপের মতোই হয়ে গেলো। আমি আবার অনেকদিন থেকেই ‘খালা’ ক্যারেক্টারটা উঠাবো বলে ভাবছিলাম। সেকারণে আমিও এই সুযোগে এই ওয়ার্কশপের ভেতরে সেই ক্যারেক্টারটা নিয়ে কাজ করলাম। সে কারণেই গত ৮ তারিখ থেকে রেগুলারই গ্রুপে সময় দিচ্ছি। আজকে স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটি হয় গেছে, আর যেহেতু কপি চেকিং-টেকিং এর ঝামেলা নাই তাই টিচাররা কেউ থাকেও নাই বেশিক্ষণ। ফলে আমিই বা খালি স্কুলে বসে থেকে কি করবো চিন্তা করে বাসায় চলে আসলাম। ভাবলাম যে বাসায় এসে খেয়েদেয়ে, গোসল করে তারপর আবার বিকালে ৫টার দিকে বের হবো। কিন্তু গতকালকে রাতে ভালো ঘুমও হয়নাই, আবার আজকের প্রচণ্ড রোদের কারণেই কি না জানি না, প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলো … ফলে সাড়ে ৪টার দিকে রেডি হবার বদলে ঘুমিয়ে গেলাম।

17361854_1852826441623711_1519773914481962798_n

স্কুল খোলা থাকলে গ্রুপে যাওয়ার ব্যাপারটা এত হেক্টিক হয়ে যায়! এই যে গত কয়েকদিন ধরে গ্রুপে যাচ্ছি, তাতে ভালো যা যা কিছু হচ্ছে তার সাথে সাথে খরচটাও হচ্ছে ডাবল! সকালে স্কুলে যাচ্ছি, তখন ভাড়া লাগছে না। বিল্লাল নামে যেই সিএনজিওয়ালা প্রতিদিন আমাকে নিয়ে যায়, উনি প্রতিদিনের ভাড়া প্রতিদিন নেয় না, একবারে ২/৩ হাজার টাকা করে নেয়। ফলে দৈনিক খরচ হিসেবে আমার আসলে ফেরার পথের ২৫০/৩০০টাকাই খরচ হয়। গ্রুপ থেকে ফেরার সময় রাত হয়ে যায়, সিএনজি পাবো কি পাবো না, কিরকম সিএনজি হবে না হবে চিন্তা করে উবার ডেকে ফেলি। উবারে খরচ পড়ে যায় প্রায় ৪০০/৫০০ টাকা। অবশ্য যত রাত করে আসি, ততই ভাড়াও কম উঠে। তারপরও, ৩৫০/৪০০ টাকা মানেও তো প্রায় ১৫০/২০০ টাকা বেশি খরচ! … হয়তো এভাবে ভাবা যায় যে বিল্লাল ভাই প্রতিদিন ভাড়া নিলে তো তাকেও আমার ২৫০ টাকা ডেইলি-ই দিতে হতো … কিন্তু, ঝামেলা যেটা হয় যে, স্কুল শেষ হয় ২টার দিকে, আর তারপর ৬টা/সাড়ে ৬টা সময় গ্রুপে আসতে হলে মাঝখানের ওই ৪টা ঘণ্টা কোথায় কাটাবো সেটাই ক্রাইসিস হয়ে দাঁড়ায়। স্কুল করার পর একটু শান্তিতে গোসল করে ড্রেসটা চেঞ্জ না করে গ্রুপে গেলে নিজেকে প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগতে থাকে। যেহেতু প্রতিদিন মানুষের বাসায় গিয়ে গিয়ে সেটা করা সম্ভব না, তাই বেস্ট অপশন বাসায় চলে আসা। আর তা যদি করি, এবং এভাবে যদি প্রতিদিন গ্রুপে যাই তাহলে আমার ডেইলি খরচই দাঁড়াবে প্রায় ১০০০টাকায়!

এম্নিতেই ২২হাজার টাকা বেতনের ১৫ হাজার টাকাই সিএনজি ভাড়ার পেছনেই যায়। তখন তো বেতনের টাকা একটা ফুটা পয়সাও থাকবেই না, উল্টা আরও টাকা লাগবে! …

এই স্কুল আর গ্রুপ টাইমের মাঝখানের সময়টার যে কি সমাধান করতে পারবো, বা আদৌ কবে পারবো জানি না! অন্তত মাঝখানে কোনো কাজ করতে চাই না … একেবারে গোসল, খাওয়া, ঘণ্টাখানেক রেস্ট, তারপর এককাপ চা খেয়ে রেডি হয়ে গ্রুপ … এইটাই হিটে হবে, কিন্তু সেটা অন্তত আমার নিজের বাসায় এসে করাটা যতটা আরামদায়ক, ততটাই ব্যয়বহুল! …

স্কুলটা মিরপুরের কোথাও হতো, তাও পোষাতো!

কিন্তু, এই কয়েকদিন গ্রুপে গিয়ে আসলে রেগুলার গ্রুপে যেতে না পারার খামচি মারা দুঃখটা আরও বেশি করে ভেতরে মোচড় দিচ্ছে … এই যে গ্রুপে যাই, কাজ হোক বা না হোক, কিছু মানুষের সাথে একটা সুন্দর সময় কাটে, হাহা-হিহি আড্ডাবাজি হয়, অন্তত এটা তো প্রচণ্ড ভালো বোধ করায়! … নিজেকে কিংবা অনেক কিছুকে ভুলে থাকতে পারার এই টনিকটা শুধুমাত্র বাড়ির দূরত্বের কারণে কিভাবে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে! …

যাই হোক, আজকে অন্তত ‘কাজ নাই’ সন্ধ্যার অবকাশে দিনযাপন লিখতে বসলাম … দিনযাপনও প্রতিদিনই লিখতে মন চায়, কিন্তু মনে হয় যে দিনযাপন লিখতে বসলেই যে ঘণ্টা খানেক/ দেড়েক সময় ব্যয় হবে ওইটুকু সময়ে মনে হয় অনেককিছু করে ফেলা যাবে! … ফলে আর দিনযাপন লিখতে বসা হয়না … আগামী কয়েকদিন হয়তো একটু লেখালেখির ফুরসৎ হবে।

আজকে এতদিন পড়ে লিখতে বসেছি, তাও এমন একটা ইভেন্টলেস দিনে যে আদৌ কি নিয়ে লিখবো বুঝতে পারছি না … মানে, পারটিকুলারলি মেনশন করার মতো কোনো ইভেন্ট আজকে নাই আর কি …

তাইলে আর কি! আজকের মতো লেখায় ইস্তফা দেই … দেখি একটু ফাইল-পত্র গুছানো যায় কি না … এইবারের টার্মটা খুব গুছিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষের দিকে, মানে এই মাস-টাতে এসে কিঞ্চিত আউলা-ঝাউলা হয়ে গেছে সব … এখন যেহেতু একটু সুযোগ পেয়েছিই, গুছিয়েই নেই কাগজপত্রগুলো …

শেষ করি আজকে …  টিল নেক্সট টাইম … চাঁও! 

দিনযাপন । ১৭০৪২০১৭

শেষ দিনযাপন পোস্ট করেছিলাম মনে হয় ফেব্রুয়ারির ২৩/২৪ তারিখের দিকে … তারপর মার্চের ২৩ তারিখে দিনযাপন লেখা শুরু করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু সেটা শেষ করা হয়নি … আজকে ১৭ এপ্রিল ২০১৭ এই প্রবোধ নিয়েই দিনযাপন লিখতে বসেছি যে ‘নো ম্যাটার হোয়াট’ আজকের দিনযাপন লিখে শেষ করে পোস্ট করবোই …

ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের ওই লম্বা সময়টায় দিনযাপন না লেখার জেনুইন কারণ ছিল। আসুস-এর যেই নেটবুকটা ইউজ করছিলাম সেটার হার্ডডিস্ক সংক্রান্ত ইস্যুতে ওইটা বারবার হ্যাং হয়ে যেতো। একপর্যায়ে ওইটা কাজ করার অনুপযুক্তই হয়ে গেলো। দেখা যেতো যে কয়েকবার করে ফোর্স শাট ডাউন দেয়ার পরে ওইটা চালু হতো, তারপর আবার কাজ শুরু করলেই কিছুক্ষণের মধ্যে হ্যাং হয়ে যেতো … শেষমেশ ঈদের সময় পর্যন্ত টাকা জমিয়ে ম্যাকবুক কেনার প্ল্যানটা অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে এসে যা টাকা জমেছিলো তার সাথে আরও কিছু টাকা ধারদেনা করে শেষে একটা ম্যাকবুক এয়ার কিনলাম … আর তারপর যেটা হলো যে স্কুলের কাজকর্ম এতটাই অকুপাইড হয়ে গেলাম যে দিনযাপন লিখতে বসার এনার্জি আর আগ্রহ কোনোটাই ব্যাটে-বলে মিললো না …

যাই হোক, আজকে তো লিখতে বসছি ফাইনালি!

গত কয়েকদিন ধরেই লিখবো লিখবো করতে করতে আর লিখতে বসা হয়নাই … কিন্তু আজকে একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে মাথার মধ্যে কিছু চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খাওয়া শুরু করেছে … চিন্তাগুলো গোছানো না, কিন্তু লিখতে লিখতে যতটুকু গুছিয়ে নেয়া যায় আর কি! …

যেমন … মানে … আমি এখানে মেনশন করবো না আর কি যে কি ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার মধ্যে এই চিন্তাগুলোর উদয় হলো … ঐটুকু এন্টারটেইনমেন্ট আমি না হয় আপাতত আমার নিজের মধ্যেই রাখলাম …

একটা জিনিস আমি প্রায়ই ভাবি … সেটা হচ্ছে যে আমার আশেপাশে যাদের আমি চিনি, তাদের প্রত্যেকেরই আমার জীবনের গল্পের অংশ হবার কিংবা আমি তাদের জীবনের গল্পের অংশ হবার পেছনে কোনো না কোনো কারণ আছে … সময়ে সময়ে এই পরিচয়গুলোর বিভিন্ন রকমের ডাইমেনশনগুলো বের হয়ে আসে … যেমন, একটা ছোটো উদাহরণ যদি এমন হয় যে, কাশফিয়া আপু আমার কলিগ, আবার তার এক ভাগ্নী-জামাই অমিতের ফ্রেন্ড পৃথার বড় ভাই … কিংবা অই যে, চারুর বিয়েতে গিয়ে দেখলাম যে নোবেল ভাইয়ের এক প্রাক্তন প্রেমিকা চারুর জামাইয়ের আপন মামাতো বোন না ফুপাতো বোন… এইরকমের বিভিন্ন টাইপের কানেকশনগুলো আমার অনেক ইন্টেরেস্টিং লাগে … তবে সেটা আরও ইন্টেরেস্টিং হয় তখনই যখন এমন এমন কিছু মানুষ, যাদের সাথে আমার হয়তো কখনো কোনোরকম ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট ছিলো, তাদের ব্যাপারে আউট অভ নো হয়্যার এমন কিছু রেফারেন্স পাই যাতে করে সেই ব্যক্তি কিংবা যার সাথে রেফারেন্সটা কানেক্টেড সেই দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যাপারে আমার যাবতীয় ডাটাবেস নতুন করে সাজানোর অবস্থা হয়! … পৃথিবীটা আসলে কতটা মাকড়সার জালের মতো জটিল! … আর তখনই মনে হতে থাকে, আমি হয়তো বা কোনো এক গল্পকারের চরিত্র, আর আমার মতোই আমার পরিচিত মানুষগুলোও … যখনই এমন কিছু কানেকশন তৈরি হয় যে দুই প্রান্তের দুই পরিচিত ব্যক্তির মধ্যে একটা রেফারেন্স তৈরি হয়, তখনই মনে হতে থাকে যে গল্পকার জেনে-বুঝে গল্পে একটা টুইস্ট আনলো মাত্র! …

আর আমি তারপর পরবর্তী টুইস্টগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকি! …

17309701_1031963566939479_3647410789815246919_n

কয়েকদিন আগে একজন ঘটনাচক্রে আমাকে বলেছে যে বছর দুই/তিন আগের কিছু একটা নাকি সামনে আবার ফিরে আসবে … যে বলেছে সে কাইন্ড অফ ফরচুন টেলার এবং চেহারা দেখেই প্রথমে যা যা বলে দিয়েছেন তাতে করে তার কথায় বিশ্বাস না করার কোনো উপায় নাই … প্রথমে উনি যখন বলেছেন, আমি ভাবছিলাম সোহেল সংক্রান্ত কিছু একটা … ভাবছিলাম যে সোহেল আবার যোগাযোগ করা শুরু করবে না কি, ভুল হয়ে গেছে আবার মাপ-টাপ চাওয়া শুরু করবে নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি … তারপর মনে মনে আল্লাহ-খোদার নাম নেয়াও শুরু করলাম যে এই ঘটনা কোনোভাবে ঘটুক তা আমি মোটেই চাই না … নতুন কারো সাথেই আমি যেখানে কোনোরকমের কোনো সম্পর্কে থাকতে চাই না, সেখানে সোহেল তো তালিকারই বাইরে! ও আমার সামনে আসলে স্রেফ খুনাখুনিই হতে পারে, আর কিছুই না! … তো, কয়েকদিন এইটা নিয়ে একটু বিরক্তই ছিলাম … পরে মনে হলো যে এত চিন্তা করে লাভ কি? … দেখতে থাকি, কি হয়! কি ‘কাম ব্যাক’ করে! … হতেই পারে, যাই-ই ঘটবে বলে উনি বলেছে, সেটা আজকে কালকেই ঘটবে না, হয়তো এক বছর, দুই বছরও ‘রিসেন্ট’  -এর হিসেবের মধ্যেই পড়ে!

মাঝখানে একদিন ক্লাস ফোরে ক্লাস নিতে গিয়ে বিভিন্ন কথাপ্রসঙ্গে অ্যানিমে নিয়ে কথা হচ্ছিলো স্টুডেন্ট-দের সাথে … তো, ডেথ নোট-এর প্রসঙ্গ আসলো … ক্লাস ফোরের বাচ্চা বুঝুক না বুঝুক ডেথ নোট দেখে মহা এক্সাইটেড … তো এরকম একজনের ফিলিংস শেয়ারের প্রসঙ্গে আমি বলছিলাম যে আমার কাছে একটা ডেথ নোট আছে, যেটা আমি একটা কমিকন থেকে কিনেছিলাম, কিন্তু আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় ওখানে কারো কারো নাম লিখে দেখি যে সত্যিই কিছু হয় কি না! … মনে মনে আমি সোহেলের কথাই বুঝাচ্ছিলাম … সত্যি সত্যিই মাঝে মাঝে আমার মনে হয় যে এরকম হতো যে আমি ওই নোটবুকটায় সোহেলের নাম লিখলাম আর ও মরে গেলো!

আরেকদিন সিরিয়াল কিলার নিয়ে কথা হচ্ছিলো … আমি কথায় কথায় বলছিলাম যে ছোটোবেলায় আমার মনে হইতো যে পৃথিবীতে যত মানুষের ওপর আমার রাগ আছে, আমি বড় হয়ে সিরিয়াল কিলার হয়ে ওদের সবাইকে মেরে ফেলবো … কেউ একজন হিসাব করতে শুরু করলো যে ক্লাসের মধ্যে অনেকেই সিরিয়াল কিলার, কারণ তারা প্রায়ই সিরিয়ালি মশা মারে! … আমার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলো, ‘আই হ্যাভ ইভেন কিলড আ হিউম্যান’ … এক মুহুর্তের জন্য পুরো ক্লাস পিন ড্রপ সাইলেন্ট হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো … কে কি বুঝেছে আমি জানি না! … নিজেরই কেমন অদ্ভুত লাগছিলো … মনে হচ্ছিলো কেউ যেন কথাটা আমাকে দিয়ে বলিয়ে দিয়েছে! … কোনো এক স্টুডেন্ট, সে কি বুঝেছে না বুঝেছে জানি না, ‘আরেহ! মিস ওয়ান্টেড সে দ্যাট শি কিল্ড আ মসকিউটো নেমড হিউ ম্যান’ বলে সেই সাইলেন্স ভাঙলো! … ক্লাস ফোরের একটা বাচ্চার কি আমার মুখ ফস্কে বের হয়ে যাওয়া কথার আসল অর্থ আদৌ বোঝার ক্ষমতা আছে? …

দিনযাপনের লেখাটা জমছে না … যেই ঘটনাটার প্রেক্ষিতে আজকে আসলে দিনযাপন লেখার তাগিদ পেলাম, সেই ঘটনাটা লিখতে পারলে হয়তো আরেকটু গভীরতা থাকতো … তার ওপর মন পড়ে আছে গ্রিম-এর সিজন সিক্স-এ … ৫ নাম্বার এপিসোডটা দেখা শুরু করেছিলাম,তারপর সেটা ৭ মিনিটের মাথায় থামিয়ে দিয়ে দিনযাপন লিখতে শুরু করলাম … এখন দিনযাপন লেখা শেষ করে ভাত খেতে খেতে সেই এপিসোডটা দেখে শেষ করবো …

আপাতত নিজের ব্যাপারে একটা আপডেট দিয়ে আজকের লেখা শেষ করি … প্রায় মাসখানেক হয়ে গেলো আমার পিরিয়ড হচ্ছে না! গত মাসের শিডিউলড উইক পার করে আরেকটা সাইকেল অলরেডি প্রায় শেষ, কিন্তু পিরিয়ডের কোনো চিহ্ন নাই … প্রতিদিনই ভাবছি আজকে হয়তো হবে, কিন্তু হচ্ছে না! … যতরকমের হরমোনাল প্রবলেম থাকুক, একমাত্র ২০১৪ সালের ওই ইন্সিডেন্ট ছাড়া এমনিতে কখনোই আমার পিরিয়ডিক সাইকেল বন্ধ থাকার ঘটনা ঘটেনাই … কি জানি! টিউমারটা হয়তো বেশ জোরে-শোরেই অ্যাকশনে নেমেছে … নামুক! তাও ভালো! ক্যানসার- ট্যান্সার জাতীয় কিছুতে টার্ন নিক, মরে টরে যাই … জীবনের অনেক কিছুই ইদানীং খুব বোরিং হয়ে যাচ্ছে! … অন্তত, একটা চেঞ্জ তো আসবে!

ওহ! এর মধ্যে তো ফ্রেঞ্চ কোর্স-এর ডেলফ আ-আ লেভেলের ইন্টারন্যাশনাল পরীক্ষাও হয়েছে। তাতে ৮৩.৫ স্কোর করে পাশ করেছি … অনেকেই দেখলাম ৯০-এর উপরে পেয়েছে … আমার তো লিসেনিং পার্টটাতেই অনেক কম নাম্বার চলে আসছে … যাই হোক, এইটুকুই যে পেরেছি আমার জন্য তাই-ই অনেক … এবার আ-দো লেভেলে ছয় মাসের ইন্টেন্সিভ কোর্স না নিয়ে এক বছরের এক্সটেনসিভ কোর্সটা নিয়েছি … শুক্রবার সকালে ক্লাস করতে যেতে হয় এখন … সপ্তাহে ৬ দিন ভোরবেলা উঠতে হয় এটা একটা পেইন … কিতু উইকেন্ড-এর দুইটা দিনই অন্তত নষ্ট হচ্ছে না, আর সকালে ক্লাস করার কারণে শুক্রবার দিনের বাকি অংশটা পুরোটাই কাজে লাগাতে পারছি …

যাই হোক, বহুত লিখসি আজকে … ক্ষুধা লেগেছে … খেতে যাই …