দিনযাপন | ০২০৩২০১৫

… দেখতে দেখতে মার্চ মাস চলে আসলো, তাও আবার দুই দিন পারও হয়ে গেলো! … বছরটা কি এবার চোখের পলকে শেষ হয়ে যাবে নাকি! সবে তো শুরু হলো সেই সেদিন! মাত্র সেইদিন! …

দিনগুলো কীভাবে যে কেটে যাচ্ছে! একদিকে কাজের ব্যস্ততায় নাভিশ্বাস উঠবার জোগাড়! অনেক অনেক কাজ জমা পড়েছে ‘ করতে হবে’ তালিকায়, প্রতিটারই ডেডলাইন আসন্ন। কিভাবে কি করবো জানি না … প্রচণ্ড মানসিক চাপ যাতে কোনোভাবে তৈরি না হয় সেই প্রার্থনাতে বিভোর দিন-রাত … কারণ এমনিতেই আমার মানসিক অবস্থা নাজুক … তার মধ্যে কাজ নিয়ে চাপটাকে ঘাড়ে বসতে দিলেই আমি প্রায় ভঙ্গুর পর্যায় থেকে একেবারে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙ্গে পড়বো! …

আরেকদিকে, একজনের সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই প্রায় এক মাসের বেশি! তার কেমন লাগে আমি জানি না! আমি আসলে তাকে কখনো বুঝিনি, এখনও বুঝি না … তবে, আমার এখন বেশ স্বাধীন স্বাধীন মনে হয় নিজেকে! আমি নিজেও ভাবলে অবাক হই, তবু এই অনুভূতিটা সত্যি! … অন্তত কারো জন্য ভাববার দায় নেই, কাউকে বুঝে চলবার দায় নেই … যদিও আমি নিজের তাগিদ থেকেই এই দায়গুলো নিতে চেয়েছিলাম … কি জানি! হয়তো একটু বেশিই দায়বদ্ধ হয়ে যাচ্ছিলাম! … কিংবা, তার কাছ থেকেও একই দায়বদ্ধতার অনুভূতি পেতে চাইছিলাম … সবকিছু কেমন একরৈখিকভাবে চলছিলো … কি থেকে যে কি হলো! জানি না! বুঝি না! … আমার স্বল্প বুদ্ধির মাথায় সেগুলো খাটে না! … তার সাথে শেষ কথা হয়েছে ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ, সেটাও বেশ কটু ভাষায় … কথা যা বলার সে-ই বলেছে, তীব্র রাগ নিয়ে … আর আমি নীরব শ্রোতা ! … হঠাৎ করেই কেমন সব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দুইজন গেলাম, যেগুলোর জন্য নিজেরাও কোনোদিন প্রস্তুত ছিলাম না! … কিন্তু কেমন বাঁধভাঙ্গা ঝড়ের মতো সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেলো! … তার ভাষ্যমতে এসব ঘটনার ঘনঘটায় আমি তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছি ! … কি জানি! হয়তো বা! … তার যুক্তিতে হয়তো তাই ঠিক … কিন্তু আমি যখনই সেটা মেনে নিতে গিয়ে আমার জীবনের অপূরণীয় ক্ষতিগুলোর দিকে তাকাই তখন কোনোভাবেই নিজের অবস্থাকে বর্ণনা করার জন্য ‘সঠিক শব্দ’ টা খুঁজে পাই না … কারণ, একই ঘটনার মধ্য দিয়ে তো আমিও গিয়েছি! আর, এতকিছুর মধ্যে আমার কারণে যদি তার জীবন ধ্বংস হয়ে থাকে, তাহলে সেই একই ঘটনাগুলোর কারণে আমার জীবন তো ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা ছাড়িয়ে এমন কোনো পর্যায়ে চলে গেছে যেটার সঠিক উপমা আমার জানা নেই! … নরকযন্ত্রণাও বলতে পারছি না, কারণ সেটাও সে নিজের জন্য ব্যবহার করে ফেলেছে! …

আমি মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী একজন মানুষ। সে কারণেই হয়তো মেরুদণ্ডটা বেঁকে যাবার পরও একটা সময় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারবো। কিন্তু কিছু অপূরণীয় ক্ষতি আমি কখনোই জীবনের যাত্রাপথ থেকে মুছে ফেলতে পারবো না … কিছু দায় আমাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতেই হবে … দগদগে ঘা-এর মতো সেই দায়গুলো চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে থাকবে … অনেক অনেক দীর্ঘশ্বাস জমা হয়েছে আমার … সারাদিন ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেও সেগুলো শেষ হচ্ছে না …

… দিনযাপনে আর কি কি হয়? … রাত পার হয়ে ভোর হবার পথে ঘুমাই … তারপর প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে উঠি … তারপর প্রচণ্ড গরম আর ট্রাফিক জ্যাম পার করে অফিস যাই তো কোনোদিন যাই না … বাসায় বসে কাজ করাই যায়, কিন্তু বর্তমান মানসিক অবস্থা বার বার কাজের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করে … আর অফিস যাওয়া আর আসার যাত্রাটা এত ক্লান্তিকর যে অফিসে গিয়েও কাজের শক্তি পাই না, আর ফিরে এসে তো কিছু করতেই আর ইচ্ছে করে না! … অফিস সেই বাড্ডা! প্রতিদিন যাওয়া-আসা বাবদ খরচ ৪০০ টাকা, আর লাভের লাভ হয় কচু! … ধানমণ্ডিতে ২০/৩০ টাকা রিকশা ভাড়ার অফিস হলে কি হতো! … দিন দিন কাজের উৎসাহ কমে যাচ্ছে! … কিন্তু পালাবার পথ নাই … যেভাবেই হোক, কাজ আমাকে শেষ করতেই হবে …

আজকে বাতাসটা কি সুন্দর! বসন্ত বাতাস! পাগলা বাতাস! কাঁটাবনের পুরো রাস্তা জুড়ে শুকনো পাতার ছড়াছড়ি! চা খেতে নেমে হাঁটতে হাঁটতে ফুয়াদ বলছিলো, ‘ মনে হচ্ছে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি!’ … আর আমি ভাবছিলাম দুইপাশে মেপল পাতাওয়ালা একটা রাস্তার কথা … বিদেশি ছবিগুলোতে যেমন দেখা যায় … দুইপাশে সারি সারি হলুদ-কমলা টুপিওয়ালা মেপল গাছ আর ঝরা পাতার উৎসবে মাঝখানের রাস্তাটাও কেমন হলুদ-কমলা হয়ে গেছে … ওরকম একটা দেশে কখনো যেতে পারলে ভালো হতো ! নিজের চোখে ওরকম দৃশ্য দেখে নিতাম … এখন না হয় কাঁটাবনের নোংরা ময়লা ফেলা রাস্তায় শুকনো পাতার ছড়াছড়িই সই! … আজকের রাতটা বাইরে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছিলো … আড্ডা হতো, গান হতো … ! … ফুয়াদের বাসার বারান্দা বনে যাওয়া ছাদটা আমাদের সবার খুব লোভের জায়গা! ঢাকা শহরে এরকম একটা চিলেকোঠা ঘর ! হিংসাই হয় মাঝে মাঝে! … এরকম পাগল করা বাতাসে ওই ছাদটায় বসে থাকা! ভাবতেই তো রোমাঞ্চ হয়! … একটা পরিকল্পনা প্রায় হয়েই যাচ্ছিলো … কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না …

অনেক কিছুই তো এরকম হতে হতে হয় না … তবুও তো দিনযাপন চলতেই থাকে … তবুও জীবন কেটেই যায়, জীবনের নিয়মে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s