দিনযাপন | ০৩০৩২০১৫

… আজকে দুপুরে শুয়ে শুয়ে একটা কথা ভাবছিলাম, নিজের কথা পাবলিক মিডিয়াতে খোলামেলাভাবে বলতে পারার জন্য কি আসলে খুব হ্যাটম লাগে? … আমরা আসলে কার কাছ থেকে কি লুকাই? … কেনই না এত লুকোছাপা করি? … পার্থিব সমাজ যত বড় হচ্ছে, ততই মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ বাড়ছে, আর কমছে নিজেকে খুলে বলার প্রবণতা … আমার খুব অস্বস্তি হয় যখন ‘ কে কি মনে করবে’ এটা খুব সচেতনভাবে মাথায় রেখে কথা বলতে হয় বা কাজ করতে হয়! … এত বড় একটা দুনিয়া, সেখানে কয়েক শত কোটি মানুষের মধ্যে আমাকে চেনে কয়জন? আর তাদের কাছেই আমার এত লুকোছাপা! তাহলে ওই কয়েকজন মানুষই বা আমাকে কি চিনলো! …

আসলে এই দুনিয়াতে দিনযাপনটাই অনেক বড় একটা চ্যালেঞ্জ! এখানে সারাজীবন বাচ্চা হয়ে থাকতে পারলে ভালো হতো! বাচ্চারা যা ইচ্ছা হয় তাই বলে ফেলতে পারে, কারণ তাদের তো আর ‘কে কি মনে করবে’ সেই চিন্তার বালাই থাকে না! বাচ্চা হয়ে থেকে যাকে যা খুশি বলা যেতো, যা ইচ্ছা সেটা করা যেতো! জবাবদিহির কিছু অন্তত থাকতো না! যত রকমের আপেক্ষিক বিষয় নিয়ে মানুষই মানুষকে বিচার করে বেড়ায়!

এত কিছু করি, এবার ভায়োলিন শিখতে শুরু করলাম … যে কোনো একটা মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতে পারার শখ আমার সবসময়কার … একসময় পিয়ানো শিখবার চেষ্টা করেছি … ভালোই আগাচ্ছিল … তারপর হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো …

আউট অব নো হোয়্যার ভায়োলিন কেন? …

দাদু ভায়োলিন বাজাতো বোধহয় একসময়। তার একটা ভায়োলিন ছিলো। আমার একসময় অনেক লোভ ছিলো যে দাদুর ভায়োলিনটা আমি উত্তরাধিকার করবো। কিন্তু দাদুর চেহারাই তো দেখলাম না সে কতগুলা বছর! এর মধ্যে তিনি মারাও গেলেন! তার কাছে আর আমার ভায়োলিন চাইবার সুযোগ হয়নি … সেই ভায়োলিন প্রসূন ভাইয়ার কাছে এখন। সে বাজায় কি না আমি জানি না। … তার সাথেও আমার দেখা- সাক্ষাৎ নেই। দেখলে আদৌ চিনতে পারবে কি না তাও সন্দেহ … তাই তার কাছে ভায়োলিনটা চাইবো, সেই উপায়ও নেই … যাই হোক, দাদুর নাতনি হিসেবে ট্র্যাডিশন মেইনটেইন করছি বলা যেতে পারে! … লেখালেখি তো করিই টুকটাক, এবার না হয় ভায়োলিনের তালিমটাও হয়ে যাক ! …

আজকে ভায়োলিনের প্রথম ক্লাস করলাম। ‘ভায়োলিন শিখে ফাটায় ফেলবো’ টাইপ কোনো স্বপ্ন আমার নাই। মনের আনন্দের জন্যই একটা ইন্সট্রুমেন্ট বাজাতে পারতে চাই। পিয়ানো শেখার শখটা ছোটোবেলা থেকে পুষতে পুষতে যখন শুরু করেছিলাম, তখন উৎসাহ ছিলো প্রচুর, কিন্তু কিভাবে কিভাবে সেটা আর অনুশীলনের প্রেরণা থাকলো না। কিবোর্ড -টা নোবেল ভাইয়ের বাসায় রেখে দিয়েছি, সে মিউজিক করে, তার কাজে লাগতে পারে। ইদানীং দেখি শরীফ ভাই নিয়মিত বাজায়। আমারও কিবোর্ডটা দেখলে হাত নিশপিশ করে। কিন্তু অনভ্যাসে বিদ্যা লুপ্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। … আবার হয়তো শুরু থেকে শুরু করতে হবে! …

তো, নিজের এখনকার মানসিক অবস্থা থেকে উন্নত হবার জন্যই ভায়োলিন শিখতে শুরু করা। যখন কিছুই ভালো লাগবে না তখন অন্তত ভায়োলিনটা নিয়ে বসে একটু আনাড়ি হাতের বাজনাও অনেক প্রশান্তি দেবে – এরকম চিন্তাভাবনা আর কি! … অবশ্য আমি সবসময়ই ফাস্ট লার্নার। এই আত্মবিশ্বাস-এর কারণেই ভায়োলিনের শিক্ষাও হয়তো তাড়াতাড়িই রপ্ত করে ফেলবো, কিন্তু সেটা কন্টিনিউয়াস অনুশীলন হবে কি না জানি না! … শরীফ ভাই আজকে বেশ প্রশংসার সুরে বলছিলো যে ‘ তোমার ব্রেন অনেক শার্প। নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক ভালো করবা’ … কথাটা শাহবাগে বসে নোবেল ভাইকে বলছিলাম, সে পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘ পিয়ানো যখন শিখতে গেসিলেন তখনও নিশ্চয়ই পিয়ানো টিচার একই কথা বলসিলো? ‘ … আমি হ্যাঁ -সূচক একটা হাসি দিয়ে চুপ করে থাকলাম। কথা তো সত্য!

… অনেক কিছুই শুরু করে আর শেষ করা হয়নি … ছবি আঁকা-আঁকি করা হয় না … ছবি তোলাটা সিরিয়াসলি হয়না … লেখালেখিটাও নিজের জন্য অনেকটাই হয় না … পড়ালেখাটাও ঠিকমতো শেষ করলাম না … চাকরি-বাকরিরও বালাই নেই … থিয়েটার-এর কল্যাণে তবুও লেখা, আঁকা, ছবি তোলা এগুলো একটু একটু করে হলেও করা হয় … না হলে সেই প্রেরণাও হয়তো পেতাম না! … আবার, এভাবে যদি ভাবি, এই থিয়েটারটাই আমি কতটা সিরিয়াসলি করি? … এই আত্মবিশ্বাসের অভাব আমার হয় না যে যেটাই করি না কেন, আমি সেটাতেই ভালো করবো … কিন্তু সবকিছু তো আর একজনের পক্ষে একভাবে করা সম্ভব না … মানলাম আমি মাল্টি-ট্যালেন্টেড, কিন্তু একটা কিছুতে তো থিতু হতে হবে যেটা দিয়ে আমার পরিচয় হবে মানুষের কাছে … এখন বেশিরভাগ মানুষ আমাকে ফটোগ্রাফার হিসেবেই চেনে, কিন্তু সেখানেও কি আমি এমন কোনো কিছু করি যাতে করে আজকে থেকে দশ বছর পরেও মানুষ আমাকে ফটোগ্রাফার বলেই জানবে? … আমার পরিচয়টা যে আসলে কি হবে, সেটাই মাঝে মাঝে ভেবে কূল পাই না! … অন্তত ‘ জ্যাক অব অল ট্রেডস, মাস্টার অব নান’ তকমা নিজের গায়ে সাঁটানোর ইচ্ছা নাই! … একটা ‘ফিক্সড’ পরিচয় তো থাকা চাই! …

… কোথায় জানি একটা বিরাট মোটিভেশনের অভাব! … কোথায় যে, সেটা খুঁজে পাই না, বুঝে পাই না! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s