দিনযাপন | ০৬০৩২০১৫

… আগের দিন লেখা হয়নি … বাসায় ছিলাম না, নেট অ্যাকসেস-ও ছিলো না … তাই দিনযাপনের একটা পর্ব বাদ গেলো … অবশ্য আগেরদিন যে লেখার মতো খুব আহামরি কিছু ছিলো তা নয়। আজকের লেখাতেই হয়তো তার কিছু রেফারেন্স চলে আসবে। … তবে, গতকালকের রাতটা সুন্দর ছিলো! …

আর গতকালকে একটা বিষয় টের পেয়ে খুব অবাক হলাম নিজের কাছেই। এখন আর আমার কান্না আসে না। যত কষ্টের কথাই ভাবি, আমি কাঁদতে পারি না! চোখের সব পানি শুকিয়ে গেছে মনে হয় ! … কিংবা শেষও হয়ে যেতে পারে! … শেষ চার-পাঁচটা মাস তো কম কাঁদি নাই! … কালকে শেষে কাঁচা মরিচ খেয়ে চোখে পানি আনার চেষ্টা করলাম। ঝালের যন্ত্রণায় যেটুকু চোখের পানি পড়ার পড়লো, তারপর আবার যেই কে সেই! …

যাই হোক, আজকের দিনটা বেশ ভালো কাটলো। সকালবেলা দল বেঁধে হোলি খেলতে যাওয়া হলো। এর আগের দুইবার আমি গিয়েছি ছবি তুলতে। আর এবার ক্যামেরা নেই বলে একেবারেই খালি হাতে কেবলমাত্র উৎসবটা উপভোগ করতেই গিয়েছি। সব রঙ মেখে একাকার হলাম। নিজেরা রঙ কিনে একে অন্যের গালে মাখলাম। নাচানাচি, হই-হুল্লোড়। আমার সাথে যারা গেছে তাদের কেউই এর আগে শাঁখারিবাজারের এই আয়োজনে আসেনি। আমি একপ্রকার ইনফরমালিই আগের দিন থিয়েটারের বন্ধুদের বলছিলাম, আর তারাও রাজি হয়ে গেলো। আমার বেশ ভালো লাগলো তাদের সাথে হোলি-তে গিয়ে একদম নিজের মতো মজা করতে পেরে। ওরা কেউ না গেলে আমার হয়তো এবার যাওয়াও হতো না। কারণ আর কোনো সঙ্গী ছিলো না । সোহেল ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলো, সে ছবি তুলেছে দুই- একটা, আমিও মোবাইলের ক্যামেরায় কিছু তুলেছি পরে যখন বিউটি বোর্ডিং-এ খেতে যাওয়া হলো সেখানে।বিউটি বোর্ডিং-এও বেশ মজা হলো। প্রায় ৮-১০জন মানুষ একটা ভ্যানে করে গেলাম। বিউটি বোর্ডিং-এর লোকগুলো আমাদের দেখে বেশ মজা পেলেন। তারা আমাদের সাথে ছবিও তুললেন। পেট ভরে বেশ আয়েশ করে খাওয়া -দাওয়া হলো আমাদের।

তাকে এবার দেখলাম না। তার বন্ধু-বান্ধবদের দুই-একজনকে দেখেছি। তারপর থেকে আমার চোখ সতর্ক হয়ে ছিলো যে কোথাও হয়তো তাকেও দেখে ফেলবো। কিন্তু দেখি নাই। হয়তো যায় নাই। কিংবা গেলেও দেখা হবার সময়-সুযোগের মিল হয় নাই। গতবার না চাইতেই তার সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিলো, ঘটনাচক্রে পুরোটা সময় ছিলামও তাদের সার্কেলের সাথেই। কারণ দেখা গিয়েছিলো, ওখানে তাদের যে লোকাল কন্টাক্ট, সে আমার ইউনিভার্সিটিরই বন্ধুর বন্ধু হয়। ভালোই লেগেছিলো। আমাকে তো তার সাথে নেয়ার ইচ্ছা ছিলো না, কারণ তার সার্কেলে সে বাইরের কাউকে মেশায় না! কিন্তু কেমন কেমন করে তার সাথেই ঘোরা হলো পুরোটা সময়। সে অবশ্য পরে আমার কয়েকটা ছবিও তুলেছিলো সেবার। সেই ছবির একটাতে তার নামের ওয়াটার মার্ক কেটে দিয়ে ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার দিয়েছিলাম দেখে তার কি সেই প্রফেশনাল অ্যাটিচুড! … মুখ খারাপ করে গালি দিতেও বাকি রাখেনি! … আমার খুব অবাক লেগেছিলো যে কাছের মানুষদের সাথে কি মানুষ এসব অ্যাটিচুড দেখায়? প্রচণ্ড খারাপও লেগেছিলো … কিন্তু তখন আসলে এটা তো বুঝতাম না যে ‘সম্পর্ক’ জনিত কারণে আমি তাকে যতই কাছের মানুষ ভাবি না কেন, আমি কখনোই তার কাছে তেমন ছিলাম না! নাহলে তো সে গালি দেয়ার পর ছোটলোকের মতো মুখের ওপর আমিও বলতে পারতাম যে যেই ক্যামেরায় সে ছবি তুলেছিলো সেটা আমারই কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়া নেয়া!

গতকালই অবশ্য সে হয়তো যা মজা করার করে নিয়েছে চারুকলায়। সেখানে মনে হয় আবির খেলার ছবি তুলতে গেছিলো তার বন্ধুরা। তাদের সাথে গিয়েছিলো বোধহয়। আমি শুনেছিলাম এবার হবে না আবির খেলা। আগের দিন রাত পর্যন্তও খোঁজ নিয়ে তাই জেনেছি। সেজন্য চারুকলায় যাওয়া হয়নি। গেলে হয়তো তার সাথেও দেখা হয়ে যেতো। শুধু তার সাথেই না, তার সাথে আর যে ছিলো তার সাথেও! ছবিতে দেখেছি ফেসবুকে। আমার চোখ যদি খুব খারাপ না হয়ে থাকে, তাহলে আমি যাকে ধারণা করছি ছবির ব্যক্তিটাও সে-ই। কেন জানি এই একটা ব্যাপারে কখনওই আমার হিসেব মেলে না। দুজনেই বলে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ নেই। দুজনেই তো আর একসাথে মিথ্যা বলবে না! অন্তত একজনের ব্যাপারে তো আমার সেটা ভাববারই স্কোপ নেই। তারপরও আবার কিভাবে কিভাবে তাদের একই সার্কেলে দেখা হয়ে যায়, ছবি উঠে যায়! জীবন কি এতটাই কাকতালীয়? এত বেশি কাকতালীয় হয়? নাকি আমিই বেশি বেশি ভাবি? কোনটা? কে জানে! … এখন আর এসব আমি মাথায় নিতে পারি না! আমার মাথায় অনেক যন্ত্রণা হয়।

আজকে বিকেলটাও অনেক ভালো কেটেছে। আগে থেকেই প্ল্যান ছিলো হ্যাং-আউটের। তৃষা কুষ্টিয়া গেছে, তাই তাকে বাদ দিয়েই মিন্নি, নিশাত আর আমার প্ল্যান হলো। দুপুরে একসাথে খাওয়ারও প্ল্যান ছিলো। কিন্তু রঙ মেখে যে অবস্থা ছিলো, সেটা পরিষ্কার না করে তো ওদের সাথে দেখা করার উপায় ছিলো না। আমার ওদের সাথে লাঞ্চ করতে হলে দুপুর পার হয়ে বিকেল হয়ে যেতো। তাই ওরা দুজনই লাঞ্চ করলো, আর আমি পরে ক্যাম্পাসে গিয়ে জয়েন করলাম।ঘোরাঘুরি হলো, মিন্নির ক্যামেরায় ছবি তোলা হলো।ওর লেন্স ক্যাপ আবার সয় থ্রি-তে ফেলে এসেছিলো লাঞ্চ করতে গিয়ে। সেখানে আবার যাওয়া হলো তিনজন মিলে। লেন্স ক্যাপ পাওয়াও গেলো। আবার সেখান থেকে কিউ কিউ অভিযান। …

আজকে মা’র জন্মদিন। আমার উইশ করা হয়নি। অবশ্য কখনোই আমি মুখ ফুটে তাকে উইশ করি নাই এত বছরে। সবসময় যেটা করতাম, রাতে বাসায় ফেরার সময় একটা কেক নিয়ে আসতাম, একগুচ্ছ ফুল আনতাম, ভাঈ-কে বলতাম হল থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে, তারপর সবাই মিলে কেক কাটতাম। গতবছর সেটা করি নাই। এ বছরও না। এখন আর এসব ইনভল্ভমেন্ট ভালো লাগে না আমার। আব্বুর সাথে কথা বন্ধ হবার পর থেকে এসব উৎসাহ আমার চলে গেছে। চুপচাপ নিজের মতো বাসায় থাকি, বের হই, আবার ফিরি। সপ্তাহখানেক হলো অমিত বাসায় থাকছে। হল ছেড়ে দিয়েছে। এখন মাঝে মাঝেই একসাথে খেতে বসা হয় দুই ভাই-বোনের, কিছুক্ষণ কথা-বার্তা হয়। এই সারাদিনের মধ্যে বাসায় আমার একটু সরবতা। …

শরীর ক্লান্তিতে ভেঙ্গে আসছে। রঙে ভিজে সেই রঙ আবার গায়েই শুকিয়েছে। তারপর সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য শাওয়ারের নিচেই দাঁড়িয়েছিলাম আধা ঘণ্টা। এখন মনে হচ্ছে জ্বর আসবে। মাত্রই জ্বর থেকে উঠলাম। আবার যদি জ্বর আসে, ব্যাপারটা মোটেই ভালো হবে না। … শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এত কমে গেছে হঠাৎ করে! ভাবতে অবাকই লাগে! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s