দিনযাপন | ১৩০৩২০১৫

একটা ফ্রাইডে দ্যা থার্টিন্থ গেলো আজকে । অবশ্য, আমার মনে হচ্ছে যে গত এক-দেড় বছরে প্রায় প্রায়ই এই ফ্রাইডে দ্যা থার্টিন্থ যাচ্ছে! … গত মাসেও ১৩ তারিখ শুক্রবার ছিলো! …  ‘ ফ্রাইডে দ্যা থার্টিন্থ’ শুনতেই কেমন রোমাঞ্চকর লাগে! …

টাইম হপ-এর কল্যাণে জানলাম যে কয়েকবছর আগে এই দিনটাতেই বসুন্ধরা সিটির একাংশে আগুন লেগেছিলো। যেই মুহুর্তে আগুণ লাগলো, ওই সময়টার কথা মনে আছে আমার। আমি তখন টিউশনি করাই ফার্মগেট-এর এক বাসায়, ইন্টারমিডিয়েট পড়ে এক মেয়েকে সাইকোলজি পড়াই। ওইদিনও দুপুরের দিকে পড়াতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ ওদের কাজের মেয়ে এসে খবর দিলো যে বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লেগেছে। ওদের বাসার জানালা দিয়ে বসুন্ধরা সিটির পেছনের অংশ দেখা যেতো। আমরা বেশ কিছুক্ষণ জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম কীভাবে এত্ত বড় বিল্ডিং-এর একটুখানি অংশ দাউদাউ করে জ্বলছে! … তারপর টিউশনি থেকে ছুটি নিয়ে সোজা বসুন্ধরা সিটির সামনেই চলে গিয়েছিলাম ছবি তুলবো বলে। তখন ক্যামেরা বলতে আমার সনি’ র সাইবার শট। ক্যামেরা আবার বাসাতেই ছিলো। অমিতকে ফোন করে পরে ওকে দিয়ে ক্যামেরা আনিয়ে তারপর ওইটা দিয়েই ছবি তুলেছিলাম অনেকগুলা। আজকে টাইম হপ-এ ওই ইন্সিডেন্ট-এর ছবিগুলা দেখে মজাই লাগলো! আসলেই, সাত বছর আগের এই দিনে কি ঘটেছিলো সেটা আবারো স্মৃতিতে জাগিয়ে তুলতে পারাটা অনেক চমৎকার একটা ব্যাপার! …

গতবছরটাও এইদিন অনেক ভালো একটা সময় কেটেছে। দলবেঁধে আমরা এ আর রহমানের গান শুনতে গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। টি টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে । কি দারুণ একটা অভিজ্ঞতা ছিলো এরকম একটা মানুষের পারফরমেন্স স্বচক্ষে দেখা। সেই সাথে একন! আর তারপর কি দুর্দান্ত আতশবাজির খেলা! …

আজকের দিনের কোনো আহামরি ঘটনা নেই। নাটক দেখলাম সন্ধ্যায়, ‘কবি’, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের নাটক। ওখানে ভাষা পারফর্ম করে। গত দুই/তিন মাসেই আরও দুই – একটা শো হয়েছে, ভাষা বারবারই বলেছে যেতে, কিন্তু প্রাচ্যনাটেরই নাটকের ব্যস্ততায় আর নাটকটা দেখতে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। আজকে অবশেষে যাওয়া হলো। বেশ ভালো লাগলো নাটকটা।

এই মাসে বেশ নাটক দেখা হচ্ছে। ৪ তারিখ দেখলাম ‘ঊর্ণাজাল’, বকুল ভাইয়ের ডিরেকশন, আর ১১ তারিখ দেখলাম ‘কারবালা জারি’, ওইটাও জাহাঙ্গীরনগর-এর স্টুডেন্টদেরই করা … শিল্পকলায় বেশ ধুন্ধুমার থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল চলছে। তাই এই ছুতায় নাটকও দেখা হচ্ছে। আজকেই শিল্পকলায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি আর সন্ধি ঠিক করছিলাম সামনে আর কি কি নাটক দেখা যেতে পারে। দেখার মতো বেশ কিছু নাটক ঠিকও করে ফেললাম। … ঘুরেফিরে তো নিজেদের নাটকই দেখা হয় কেবল, অন্য দলের নাটক আসলে খুব একটা দেখতে আসা হয় না, যদি না দলবল না থাকে। একা একা নাটক দেখতে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে আমার! … একা একা শপিং-এ যাওয়া, একা একা খেতে যাওয়া, একা একা কোথাও ঘুরতে যাওয়া এগুলা সবকিছুতেই আমার অস্বস্তি! … অথচ এই সবকিছুর জন্যই ‘চাহিবামাত্র হাজির থাকিবে’ টাইপ সঙ্গীও নাই … তাই অনেক কিছুই বাদ পড়ে যায় … অনেক কিছুই চেয়েও করা হয় না …

আজকে আর কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না। ঘুম পাচ্ছে ব্যাপক। সো, ঘুমিয়ে পড়ি তাই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s