দিনযাপন | ২৪০৩২০১৫

আজকে দিনযাপন লিখবো না ভাবছিলাম …

আরেকবার ভাবছিলাম, লিখবো, এবং একদম মনের কথা ঢেলে লিখবো … কি কি লিখবো মনে মনে ঠিকও করে ফেললাম … কিন্তু, তারপর ভাবলাম, এই লেখার কারণে যে ঠাস ঠাস করে চারদিকে বোমা ফাটবে, সেটা না হয় এখন না-ই হোক! … তাই, শেষ পর্যন্ত নিজের সাথেই নিজে নেগোশিয়েট করে নিলাম …

আজকের দিনের বিশেষত্ব কি কি ? …অনেক বিশেষত্ব ! … টাইম হপ আমাকে আজকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে আমার নেটবুকটা গত বছর ঠিক এইদিন সকালে মৃত্যুবরণ করেছিলো। এর আগের ক’দিন থেকেই তার বিভিন্ন সমস্যা শুরু হয়েছিলো, সেগুলো ঠিক করানো হলো, তারপর এক সপ্তাহের মতো চললো … তারপর এই ২৪ তারিখ সকালেই সেই যে বন্ধ হলো, আর চললো না … নেটবুকটা ঠিক করানোর কথা আর ভাবিই নাই … একমুহুর্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলাম যে ‘ এবার সময় হলো নতুন ল্যাপটপ -এর’ , আর ল্যাপটপ যদি কিনতেই হয় তো সেটা ম্যাকবুক ! …

ম্যাকবুক কেনার একবছর হবে যেদিন সেদিন ম্যাকবুকের গল্প হবে। এবার ফিরে যাই ২৪ মার্চের বিশেষত্বে …

টাইম হপ আমাকে এটাও মনে করিয়ে দিলো আজকে থেকে প্রায় ৬ বছর আগে, এই দিনে আমরা সাইকোলজি ডিপার্টমেন্ট-এর সবাই মিলে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে বেড়াতে গিয়েছিলাম। অনেক মজা হয়েছিলো সেদিন। টাইপ হপ-এ ছবিগুলো দেখতে দেখতে বেশ নস্টালজিক লাগছিলো … ডিপার্টমেন্ট-এর বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের সাথেই আমার অনেক দূরত্ব ছিলো – পড়াশোনার ধরণ, চলাফেরা, চিন্তা-ভাবনা, কাজকর্ম কোনকিছুতেই তাদের সাথে আমার মিলতো না … এই ছবিগুলো দেখতে দেখতে একটা মজার জিনিস খেয়াল হলো যে তখনও পর্যন্ত আমিই একমাত্র জিন্স-ফতুয়া পরা স্টুডেন্ট ছিলাম ডিপার্টমেন্ট -এ। ইনফ্যাক্ট, আমি যখন ভার্সিটিতে পড়ি, ওই ২০০৭/২০০৮ সালের সময়টাতে জিন্স-ফতুয়া পরে ক্লাস করতে যাওয়া স্টুডেন্ট পুরো ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসেই হাতে গোনা দুই কি তিনজন পাওয়া যেতো! …

যাই হোক, টাইম হপ -এর বাইরেও আমার এইদিনটাকে স্মরণ করার আরও বিষয় আছে! … এই তো, আর দুইদিন পরেই কুয়াকাটা যাবার প্ল্যান ছিলো, আর আমি সেদিন রাতে ‘তার’ সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তার কাছ থেকে লেন্স নেবার জন্য। আমার নিজের ৩৫ মিলিমিটার লেন্সটার ফোকাসে ঝামেলা করতো। তাই তার কাছ থেকে লেন্স নিয়েছিলাম যে কুয়াকাটার কিছু ছবি তুলবো সুন্দর করে। লেন্স অবশ্য শে এমনিতে দিতো না। তার সাথে আমার একটা ডিল হয়েছিলো যে আমি যদি হোলির ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা ভাড়া নেবার জন্য তাকে টাকা ধার দেই, তাহলে সে শুধু টাকা ফেরতই দেবে না, নিজের ক্যামেরার ব্যাপারে ওভার-প্রটেক্টিভ হওয়া সত্ত্বেও সে আমাকে তার লেন্স ব্যবহার করতে দেবে। তো, আমি অবশ্য ওই ডিলের কথা মাথায় রেখে লেন্সটা চাইনি, সে-ই মনে করিয়ে দিয়েছিলো যে ‘ নাও, অসুবিধা নাই। সেরকমই তো ডিল ছিলো’ …

অবশ্য সেই লেন্স-এর ব্যবহারবিধির নিয়মিত রিমাইন্ডার পেয়েছি আমি – কুয়াকাটা যাবার আগে থেকে তো বটেই, কুয়াকাটা থাকা অবস্থাতেও আমার খোঁজ না নিয়ে সে আগে ‘লেন্স ঠিক আছে কি না’ সে খোঁজ নিয়েছে! বারবার আমাকে সাবধান করে দিতো, লেন্স নিয়ে বালুর কাছাকাছি যাবা না … আচ্ছা, কি আজব না? … আমি তো কুয়াকাটা গিয়েছি, সেখানে তো সমুদ্র আর বালু ছাড়া কিছু নাই! … তাহলে তো ওই লেন্স নিয়ে হোটেলের ভেতরেই ছবি তুলতে হতো! … এত খুঁতখুঁতানি তার! আমার অবশ্য রাগ ওঠেনি, বরং বেশ মজাই লেগেছে তার এসব খুঁতখুঁতানি আচরণে! … আমার নিজেরও তো নিজের অনেক কিছু নিয়েই কত খুঁতখুঁতানি আছে! একেবারে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠার মতো খুঁতখুঁতানি!

যাই হোক, গতবছরের এই দিনটায় সে প্রথমবারের মতো আমার কাছে আবদার করেছিলো যে তার খুব পেস্ট্রি খেতে ইচ্ছে করছে, কিংস-এর পেস্ট্রি। এরকম আবদার পেয়ে আমিও মহা খুশি হয়ে তাকে নিয়ে পেস্ট্রি খেতে চললাম। ফেসবুকে মানুষ যেমন স্ট্যাটাস দেয় ‘ ফিলিং ইম্পোর্ট্যান্ট’ , ওইরকম একটা ভাবসাব নিয়ে খুব গদগদ মনে তার আবদার পূরণ করলাম। আমার কাছে কেউ একটা কিছু চেয়েছে, এটাই তো আমার জন্য কত্ত খুশি হবার মতো একটা বিষয়! … তার কাছে হয়তো এই আবদারের আবেগীয় মূল্য সেই অনুপাতে কিছুই ছিলো না! অন্য আর দশটা মেয়েকে আগে যেভাবে বলে এসেছে, কিংবা বলে আমাকেও সেভাবেই বলেছে ‘খাওয়াবা?’ … ! আচ্ছা, আমার আবেগে গদগদ ভাবগুলো কি সে বুঝতো? হয়তো খুব ভালোভাবেই বুঝতো আর সেটার সুযোগ নিতো! … আমিও তার আচরণকে গুরুত্ব দেয়া ভেবে ভুল করে তাকে সুযোগ দিয়ে দিতাম! …

আজকে আমার একটা অদ্ভুত ইচ্ছা করছিলো, কিন্তু হাতে টাকা নাই দেখে ইচ্ছাটা দমিয়ে ফেলতে পারলাম! … না হলে, আজকে একা একাই কিংস-এ যেতাম, এক বছর আগে ঠিক যে পেস্ট্রিটা আমি নিয়েছিলাম, কিংবা সে নিয়েছিলো, সেটা অর্ডার করতাম, ঠিক যেই চেয়ারটায় বসেছিলাম সেখানে বসতাম  আর গতবছরের এই দিনটাকে স্মরণ করতাম। এর পরের দিনগুলো কেমন হয়ে যাবে সে সম্পর্কে তো আর আমার কোনো ধারণা ছিলো না! ওই দিনটাতে আমি প্রথমবারের মতো তার প্রতি গদগদ টাইপের ভালোবাসা অনুভব করেছিলাম, সেটাই আমার কাছে সেই দিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো! … আমি তো আর দশজনের জন্য একই অনুভূতি নিয়ে চলি না কিংবা দশজন ছেলের সাথে ফ্লার্টও করি না, কিংবা আমার আচরণ, কথাবার্তা একই রকম হয়না! আসলে সেরকম কীভাবে করা যায় সে সম্পর্কেই তো আমার কোনো জ্ঞান নাই! …

আমার অনেক বন্ধুই একসাথে একাধিক মেয়েদের সাথে বেশ বীরবিক্রমে একই রকম আচরণ করে চলতে পারে! … তাদের সাথে থেকেও যখন কিছু শিখতে পারিনি, তার মানে সারজীবনে আর শেখা হবে না! …

আজকে আমার একজন ‘কাছের’ বন্ধুর জন্মদিন। কিন্তু আমি তাকে উইশ করিনি। বিভিন্ন ঘটনার টানা-পোড়েনে সেই বন্ধুর কাছ থেকে খুব কষ্ট নিয়ে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি … শুধু সে নয়, পুরো সার্কেল থেকেই এখন আমি অনেক দূরে … এই বন্ধুর সূত্র ধরেই ‘তার’ সাথে আমার পরিচয়, তার কাছাকাছি আসা। আবার ‘তার’ সূত্র ধরেই এই বন্ধুর সাথে আমার একটা আজীবনের বন্ধন হতে পারতো, আমাদের বন্ধুত্বের যাত্রাটা আরও গভীর আর সুন্দর হতে পারতো! … কিন্তু আজকে সেই ‘তার’ই সূত্র ধরে এই বন্ধুর ছায়া থেকেও আমি দূরে দূরে থাকছি! … সেটা কেবল নিজের জন্য না, বন্ধুর জন্যও বটে! … আমার তো স্বভাব খারাপ! কষ্ট পেলে, রাগ হলে মুখ ফুটে বেফাঁস কথা বলে ফেলি! এই বন্ধুর ব্যাপারে কবে কাকে কি বেফাঁস কথা বলে ফেলি তার তো ঠিক নাই! সুতরাং, সকল প্রকার ঝুঁকি থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই দেশ ও দশের মঙ্গল! … আমার বিশ্বাস, সে নিজেও তাতে স্বস্তির নিঃশ্বাসই ফেলছে! …

আচ্ছা, আমার মনে হয়, আপাতত স্মৃতি রোমন্থন চ্যাপ্টার শেষ করা ভালো, না হলে কেঁচো খুঁড়তে খুঁড়তে আস্ত একটা কুমিরই বের হয়ে যাবে! …

বরং, আজকের একটা ঘটনা বলি। আজকে শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে গিয়েছিলাম একটা কাজে। সন্ধ্যায় যখন বের হবো, তখন দেখি পুরো শিল্পকলা জুড়ে পোকার মেলা! কি জানি, প্রচণ্ড গরমের ফল হয়তো! … এমনকি নাট্যশালার ভেতরে যেখানে কোনোদিন একটা পোকাও দেখিনাই, সেখানে প্রতিটা লাইটের নিচে শত শত কি হাজার হাজার পোকা উড়ে বেড়াচ্ছিলো! কোথা থেকে যে এত পোকা আসলো কে জানে! … গ্রিনরুমের লাইট পর্যন্ত বন্ধ করে রাখতে হয়েছে পোকা উড়ছে দেখে! … পর্যাপ্ত আলো পেলে আর আর এরকম উড়ে বেড়ানো পোকা দেখে আমার গা শিরশির করার সমস্যা না থাকলে আমি হয়তো কাছে গিয়ে সেসব পোকাদের পালের একটা ছবি তুলতাম! …

দক্ষিণ আফ্রিকা আবারো সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিলো! আচ্ছা, কোনোবার ওদেরকে সরাসরি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে দেয়া যায় না? অন্য দলগুলো সব খেলে উঠবে, কিন্তু ওদেরকে কোনো একটা মহান কারণ দেখায় অটোমেটিক ফাইনালে উঠিয়ে দেয়া হবে! … তীরে এসে আর কতবার যে ওদের তরী ডুববে! … রবার্ট ব্রুস-এর সেই অধ্যবসায়ী মাকড়শার বদলে একদিন সবাই উদাহরণ দেবে ‘ জানো, এই ফাইনাল খেলার আগে অমুক সংখ্যকবার দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনাল খেলেছে আর জিততে জিততে আউট অব নোহোয়্যার হেরে গেছে!’ … আজকে ওদের যেই ফিল্ডিং হলো, তাতে মনেই হলো যে জন্টি রোডসের মতো ফিল্ডার থাকা অবস্থাতেই দক্ষিণ আফ্রিকা কিছু করতে পারে নাই, আর এখন তো অসম্ভব টু দি পাওয়ার ইনফিনিটি! …

তবু, আশায় বুক বাঁধি যে একদিন জয় হবেই সেমিফাইনাল! হয়তো তখন আমি বুড়ো থুত্থুরে হয়ে যাবো, নইলে বেঁচেই থাকবো না! …

আজকের দিনযাপনে লেখার মতো আর কিছু নেই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s