দিনযাপন | ২৮০৩২০১৫

গত কয়েকদিন যাবৎ বেশ ছবি তোলা হচ্ছে ! লাল যাত্রা, ছাব্বিশ মার্চ-এর গানের প্রোগ্রাম, আজকে প্রাচ্যনাট স্কুলের পথনাটক, সন্ধ্যায় একটা বিয়ের প্রোগ্রাম … পরপর তিনদিন ফেসবুকে তিনটা অ্যালবাম আপলোড হলো থিয়েটারের ছবি দিয়ে , আর আমি মোটামুটি সারাদিনই এটা- ওটা নোটিফিকেশন, লাইক, কমেন্টের মধ্যেই ব্যস্ত … এখনো অনেক ছবি আছে যেগুলো দেয়াই হয়নি … আবার প্ল্যান করছি কালকে বা পরশু কার্জন হল যাবো কাউকে নিয়ে, আর তার ছবি তোলার উছিলায় কার্জন হলে সেই যে সেদিন ওয়ার্কশপটা করতে গিয়ে ছবি তোলার লোভ হয়েছিলো অনেক, সেই লোভটা মেটাবো …

অনেকদিন পর আজকে একটা বিয়ের প্রোগ্রামে ছবি তুললাম। আমি প্রফেশনালি ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করি না। একে তো আমার সেইটার জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট সেট-আপ নাই, কখনো সেটার ব্যবস্থাপনার জন্য চেষ্টাও করি নাই , তারওপরে আমার আসলে এই সেক্টরটায় কাজ করতে ভালোও লাগে না। আমাদের দেশে এখনো বেশিরভাগ মানুষ ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের যেভাবে ট্রিট করে, আমার সেটা ভালো লাগে না। আর সেই ভালো না লাগার জায়গা থেকেই এই সেক্টরটার প্রতি আমার কোনো আগ্রহ জন্মায়নাই কখনো। … তবুও একটা-দুইটা করে টুকটাক ছবি তোলা হয়।বেশিরভাগই পরিচিত মানুষজনের রেফারেন্স-এ, কিংবা তাদেরই কোনো আত্মীয়ের বিয়েতে। আমি অবশ্য লাস্ট কয়েকবার বিভিন্ন ছুতায় কয়েকটা প্রোগ্রামের অফার ফিরিয়ে দিয়েছি, কিংবা অন্য কাউকে রেফার করে দিয়েছি। এই যেমন ক’দিন আগেই, জানুয়ারিতে সাকিব আর মারুফার বিয়ের প্রোগ্রাম হলো। প্রায় মাসখানেক আগেই ফোন করে আমাকে বলে রাখলো যেন ছবি তোলার কাজটা করি। আমি উৎসাহ দেখিয়ে হ্যাঁ বললাম ঠিকই, কিন্তু প্রোগ্রামের কয়েকদিন আগেই সেটা মুগ্ধদের কাছে হ্যান্ড-ওভার করে দিলাম। একে তো প্রফেশনালি ওয়েডিং-এর ছবি তুলি না বলে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছিলাম না, দ্বিতীয়ত ওই সময়টাতেই আমার মানসিক অবস্থাও প্রচণ্ড খারাপ যাচ্ছিলো … ফলে সব মিলিয়েই আমার ইচ্ছে হলো না যে কাজটা আমিই করি, কারণ তাতে করে আমি অন্তত জানি যে আমি তাদের এক্সপেকটেশনের কাছাকাছি কোনো ভালো আউটপুট দিতে পারতাম না, আর ছবি দেখেও ওরা খুশি হতো না! …

সাকিব অবশ্য আমার ওপর যথেষ্ট মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছে … কিন্তু তার বিয়েতে তার ছবিগুলো ভালো হোক, সেটা নিশ্চিত করার জন্য ওই মনঃক্ষুন্নতাকে আমার সহ্য করে নিতে হয়েছে …

আজকের প্রোগ্রামটা না করতে পারিনি, কারণ একে তো এটাতে আমি না করলেও তাদেরকে অন্য কাউকে রেফার করতে পারতাম না, তার ওপর এখন আমার টাকার দরকার। এখন যেই কাজই করি না কেন, যে যা দেবে তাই আমার জন্য অনেক! … ফলে, এই প্রোগ্রামটার ছবি তুলতে রাজি হয়ে গেলাম … কাজটা অবশ্য মোটেই প্যানাফাইং ছিলো না। এখানে কেউই ছবি তোলার জন্য অস্থির না, এমন কি জামাই-বউ এর ও মাথা ব্যথা নাই। আমি বেশ আমার মতোই ডকুমেন্টেশন স্টাইলে ছবি তুললাম … এখন ছবি দেখে ‘ কি তুলসে এইগুলা’ টাইপ কিছু না বললেই হয়! …

গত কয়েকদিন যাবৎ-ই ঘুম থেকে উঠছি প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে। গরমের জন্য কি না জানি না। বালিশ থেকে মাথা তুলতেই পারি না, এত ভারী লাগতে থাকে। আজকে আবার সারা সন্ধ্যা হাড়-কাঁপানো এসি’র মধ্যে ছিলাম এবং ইতিমধ্যেই মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেছে। আজকে সকালে আবার ঘুম ভাঙলো মুগ্ধ’র ফোনে। ও নাকি বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো, শরীফ ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছে, এখন আমার বাসার দিকেই আসছে। আমি ঘুম ঘুম মুখে কথা বলছি দেখে বললো যে ‘ বুঝছি, তোর উঠে ফ্রেশ হইতে দেরি হবে … তুই ঘুমা … আমি যাই তাইলে’ … মেজাজ এমন খারাপ হইলো! … কতদিন দেখা হয় না টাইপ গরজ দেখায় ফোন দিয়ে এখন আবার এরকম করার মানে কি! তাও আবার সকাল ৯টা সময়! … আরেকদিনও তাই হয়েছে! আমার বাসার সামনে দিয়ে যাবার সময় তার আমার সাথে নাস্তা করার ইচ্ছা হয়েছে, তাই ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গিয়ে ‘নাহ! তোর উঠতে দেরি হবে’ বলে চলে গেলো! …

আমার এই বন্ধু কখনো সরাসরি তার দেখা করার বা কথা বলার উদ্দেশ্য আমাকে জানায় না, আমাকে বুঝে নিতে হয় … এবারের এই ক’দিন পর পরের যোগাযোগের উদ্দেশ্য এখনো বুঝি নাই । জানিনা, এগুলোর ছুতায় সে আমার সাথে কথা বলতে চায় কি না ‘তার’ ব্যাপারে, কারণ ‘তার’ সাথে আমার সবকিছুর ব্যাপারে এই বন্ধুটা অনেক বেশিই জানে … সেটা যদি হয়, সেটা সে সরাসরি বললেই পারে, তাহলে আমিও আমার উত্তরটা দিতে পারি যে ‘ নট ইন্টেরেস্টেড’ … কারণ আমি জানি, কথা বলে এগুলার কোনো সমাধান হবে না … ইনফ্যাক্ট, আর কিছুতেই কিছু হবে না। … ইতিমধ্যেই আমার মন থেকে সে অনেক দূরে সরে গেছে … আর কিছুদিনের মধ্যেই মন থেকে উঠেও যাবে … কারণ, ঘৃণা ছাড়া এখন আর তার প্রতি আমার আর কোনো অনুভূতি নাই … আর যাকে আমি ঘৃণা করি, তার ছায়াও আমি এড়িয়ে চলি …

‘তার’ এক ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে দেখলাম। ইন ফ্যাক্ট, এখন তার-ই পালা। গত এক বছরের মধ্যেই তার তিন ভাই-বোনের বিয়ে হয়েছে, তার বিয়ের জন্যও হয়তো দেরি করবে না। আমাকে সে বলেছিল যে আমি তা সাথে যা করেছি, এরপর আর ওর বিয়ে করার কোনো ইচ্ছা নাই। আমি মনে মনে খুব হেসেছিলাম সেই কথা শুনে! আমি যদি এই কথা বলতাম যে আমার সাথে সে যা করেছে তাতে করে আমার এখন প্রেম – বিয়ে এগুলার সব সাধ মিতে গেছে, তাহলেই না মানাতো! … যাই হোক, তার মতো ছেলেদের মুখের কথা মুখ পর্যন্তই থাকে, মন থেকেও বের হয় না, মনেও গেঁথে থাকে না। ‘ তোমার সাথে সারাজীবন থাকবো’, ‘ প্লিজ, আমার ফ্যামিলির কথা ভেবে তুমি কাজটা করো’, ‘ আমার মা এই কথা শুনলে মারা যাবে, তাকে আমি কষ্ট দিতে পারবো না’ … এরকম অনেক কথার পর যখন তার জন্য কাজটা করেছিলাম, তার এক সপ্তাহের মাথায় সে আমাকে কথায় কথায় জানিয়েছিলো যে ‘ আমি আমার মায়ের পছন্দ ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না!’ … ফলে, তার মতো ছেলেদের যেটা হয় আর কি! দশ ঘাটের পানি খেয়ে শেষে মায়ের পছন্দে বিয়ে করে বলবে, ‘ মা-কেই তো আমি সবচেয়ে ভালোবাসি। তাকে কষ্ট দিয়ে তো কিছু করতে পারবো না! ‘ … মায়েরাও জানে তার ছেলে তাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কখনোই কিছু করেনাই, এমনকি এই যুগে এসে নিজের পছন্দের কাউকেও নিয়ে আসে নাই তার কাছে, বরং মা যাকে পছন্দ করেছে তাতেই সম্মত হয়েছে! … আচ্ছা, এইসব মায়েরা যদি কোনোদিন জানতে পারতো তাদের ছেলেরা আসলে কেমন, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হতো? … এভাবে কি তারা তাদের মায়ের সাথেও প্রতারণা করে না? … মায়ের বিশ্বাস নিয়ে কি তারা খেলে না? …

অবশ্য এটাও ঠিক, যেই ছেলে তার মায়ের সাথেই এমন প্রতারণা করতে পারে, সে অন্য মেয়েদের সাথেও প্রতারণা করবে সেটা আর অস্বাভাবিক কি! …

নাহ! দিনযাপন আজকে বেশি র হয়ে যাচ্ছে, অতএব এখন আমার থামা উচিৎ! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s