দিনযাপন | ৩০০৩২০১৫

হঠাৎ করেই মিরপুরের বাসার কাজ কচ্ছপ গতি থেকে পাল্টে চিতাবাঘের গতি পেয়েছে। এমন একটা অবস্থা যে মনে হচ্ছে এক মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে দিয়ে বলবে ‘ আপনার বাসা রেডি!’ … অবশ্য, বাসার কাজ আর খুব বেশি তো কিছু বাকিও নাই। মুল দরজা লাগাবে, সুইচ লাগাবে, স্যানিটারি ফিটিংস বসাবে আর রং করবে। এই কাজের জন্য এক মাস যথেষ্ট সময়। …আজকেই যেমন সকাল সকাল প্রায় দৌড়ের ওপর আমি আর মা কাজীপাড়া গিয়ে দরজার দোকানে দরজা দেখে ফাইনাল করে দিয়ে আসলাম। এখন যেকোনো দিন দরজা নিয়ে গিয়ে লাগিয়ে দেবে। রঙ-ও চয়েজ করে দেয়া হয়ে গেছে। সুইচেরও একরকমের চয়েজ আছে। বড় কাজ বলতে এখন স্যানিটারি ফিটিংস চুজ করে দেয়া। সেটাও এর মধ্যেই যেকোনো দিন হয়ে যাবে …

এদিকে আমি এতই দৌড়ের ওপর যে কোনোভাবেই এই বাসার জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করার উদ্যোগ নিতে পারছি না। আমার চিন্তা ছিলো যে মোটামুটিভাবে কিছু জিনিস এখনই বাক্সবন্দী করে ফেলা, যেমন বই-পত্র, শো-পিস, কিছু কাপড়- চোপড় ইত্যাদি। তাহলে আর শেষ সময়ে গিয়ে ওগুলো গোছানো নিয়ে হুড়োহুড়িও লাগবে না, আবার কোনটা ফেলে কোনটা গোছাবো টাইপ যন্ত্রণাও হবে না … আর তাড়াহুড়ার মধ্যে এসব কাজ করতে গেলে আমি আউলায় যাই, মাথা কাজ করে না। এগুলোর জন্য আমার দরকার ঠাণ্ডা মাথা আর একটা গোছানো পরিকল্পনা আর অনেকটা সময় … এই মুহুর্তে মাথাও ঠাণ্ডা আছে, কিভাবে কি করবো সেই পরিকল্পনাও ঠিকঠাক, কিন্তু সময়টা বের করা যাচ্ছে না … একদম অফুরন্ত সময় লাগবে … অন্তত তিন থেকে চারদিন …

মনে করতে পারছি না আজকে ঠিক কত বছর পর আমি আর মা একসাথে বাইরে কোথাও খেলাম! অনেক অনেক দিন আগের কথা হবে শেষবার যখন খেয়েছি … তবে সেটা কবে কোথায় তা আমার মোটেই এখন আর মনে পড়ছে না। যাই হোক, দরজার দোকানে কাজ শেষ করে আজকে আর পল্লবী গেলাম না। আমাদের পরিকল্পনা ছিলো টাইলস-এর দোকান থেকে যে অল্প কয়েকটা টাইলস কিনবো সেগুলো সহ পল্লবী যাবো। কিন্তু টাইলস পাওয়া যাবে বিকেলে, ফলে সকালে যাবার সময় টাইলস নিজেরা নিয়ে যাওয়া হলো না। সে কারণেই হাতে কিছুটা উদ্দেশ্যহীন সময়ও পাওয়া গেলো। মা-ই প্রস্তাব দিলো তাহলে বাইরে কোথাও খেয়ে সময় কাটিয়ে তারপর বাসায় যাওয়া যেতে পারে। কোথায় যাওয়া যায় ভাবতে গিয়ে মা বললো ওয়েস্টার্ন গ্রিল-এর কথা। আমার হঠাৎ করেই আবার পাস্তা-র ক্ষুধাটা জাগ্রত হয়ে গেলো। বেশ কয়েকদিন ধরেই পাস্তা ক্রেভিং চলছে, কিন্তু হাতে পর্যাপ্ত টাকাপয়সার অভাবে সেটা মেটানো যাচ্ছে না। … মা যখন বাইরে খাওয়ার কথা বললোই, তখন মুহুর্তের মধ্যেই ওয়েস্টার্ন গ্রিল থেকে গন্তব্য পাল্টে হয়ে গেলো শর্মা হাউজ … পাস্তার জন্য তৈরি হওয়াটা তীব্র ক্ষুধাটা মিটলো অবশেষে! …

কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও সকাল থেকে একটা বিষয় নিয়ে মনের মধ্যে বিরক্তি আর কেমন একটা খচখচানি ভাব। কয়েকদিন আগেই অভিজিৎ রায় নামে একজনকে কে বা কারা কুপিয়ে মারলো সবার সামনেই। তার অপরাধ সে ধর্ম নিয়ে ব্লগ লিখতো। ওই ঘটনার ঠিক এক মাসের মধ্যেই আজকে আবার ওয়াশিকুর রহমান নামে আরেকজনকে কুপিয়ে মারার খবরে ফেসবুক গরম। সেই ব্যক্তিটিও ব্লগার এবং সে-ও ধর্ম নিয়ে লিখতো। … আমি তাকে চিনি না, কখনো তার লেখাও পড়িনি। আজকে ফেসবুকে যেগুলো লেখা শেয়ার হয়েছে সেগুলো পড়লাম। একটা লেখায় দেখলাম সে লিখেছিলো ‘ইসলাম ধ্বংস হোক’ টাইপ কথাবার্তা। তার অন্য লেখাগুলোও বেশ আক্রমণাত্মক। দেশের এখন যেই পরিস্থিতি, তাতে এরকম লেখার কারণে তার প্রতি আক্রমণ আর আক্রোশ স্পষ্টই স্বাভাবিক …

সে কি লিখতো, সেগুলো কতটা ঠিক-বেঠিক বা ভালো -খারাপ ছিলো সেগুলা নিয়ে আমার ভাবনা নাই … কারণ আমি তাকে চিনিও না, তার লেখার পাঠকও ছিলাম না কখনো …

তবে, রিসেন্টলি যেভাবে ‘নাস্তিকতার’ ইস্যু নিয়ে একে তাকে কথা নেই বার্তা নেই মেরে ফেলা হচ্ছে, তাতে করে দীর্ঘদিন ধরে মনের মধ্যে একটু একটু করে তৈরি হওয়া একটা ভয়ের অনুভূতি আজকের ঘটনায় হঠাৎ খুব তীব্র হয়ে গেছে …

খবরে পড়লাম, যারা তাকে কুপিয়েছে বলেছে যে তারা জানে না ব্লগ কি, কিংবা সে আসলে ওখানে কি লিখেছে। তারা তাদের ‘হুজুরের’ কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছে যে সে ইসলাম বিরোধী, সুতরাং ঈমানের দায়িত্ব হিসেবে তাকে হত্যা করতে হবে … অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ড যতটা না গা কাঁপিয়েছে, তার চেয়ে বেশি ভীত করেছে আজকের ঘটনা। যেই লোকগুলা রাস্তায় ধরে ধরে এভাবে কোপাচ্ছে, তারা তো ওই হুজুরদের আজ্ঞাবহ যন্ত্র ছাড়া আর কিছু না! তাদের জ্ঞানের সীমাও বোধ করি সীমিত। ব্লগ বা সেখানে লেখালেখি বিষয়টা আদৌ কি, সেটা খায় না মাথায় দেয় সে সম্পর্কে তাদের বিন্দুমাত্র ধারণা আছে বলে আমার মনে হয় না, এমনকি এসকল আজ্ঞাবহ যন্ত্রেরা কেউ কেউ হয়তো পড়তেও জানে না। তাদের হুজুরেরা এসব ব্লগ-টগ সম্পর্কে হয়তো জানে বা তারা হয়তো এদের লেখাগুলো পড়ে, এবং তারাই সিদ্ধান্ত নেয় কাকে মারতে হবে, কাকে কোপাতে হবে … এখন এর মধ্যে সেসকল স্বল্প শিক্ষিত আজ্ঞাবহ লোকগুলার কাছে তো সরল ব্যাখ্যায় বিষয়টা এমন দাঁড়াতে পারে যে হুজুর যাদের মারতে বলে তারা তো সবাই ‘ব্লগার’, তারমানে ব্লগার মানেই মনে হয় ইসলামবিরোধী! আর তখনই রাস্তায় যাকেই শুনবে ব্লগ লেখে, তাকেই ইসলাম বিরোধী ধরে নিয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে ঈমানের দায়িত্ব পালন করে ফেলবে – হোক সে ইসলামবিরোধী ব্লগার আর ‘প্রেম করার একশ একটি উপায়’ নিয়ে লেখা ব্লগার! … ওদের কাছে এটার এতটা সরলীকরণ মোটেই অস্বাভাবিক নয়, আর সেজন্যই এখন এটা খুবই ভয়ের একটা বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে যে কেউ ইসলামবিরোধী লেখা লিখুক আর না লিখুক, সে ব্লগ লেখে জানলেই ধরে নেয়া হবে সে ইসলামবিরোধী আর তখন কিছু বোঝানোর আগেই তার ঘাড়ে কোপ পড়বে!…

যেমন ধরা যাক আমি নিয়মিত ব্লগে লিখি, কিন্তু ‘ব্লগার’ বলতে যা বোঝায় আমি কিন্তু সেরকম কেউ নই। আমি যা লিখি সেগুলো হয়তো অনেক বড় পরিসর হবার কারণে ফেসবুক স্ট্যাটাস হিসেবে দেয়া যাবে না, তেমনি ফেসবুকে নোটস-এ লিখলেও এই দিনযাপনের লেখাগুলা গোছানো যাবে না। এখানে যেমন এক নজরে সবগুলো লেখা দেখে নেবার একটা সুযোগ আছে, আর এখানের ফরম্যাটের সুবিধার জন্য লেখাগুলোর একটা সহজলভ্য আর্কাইভ তৈরি হচ্ছে, তার কারণেই ব্লগ-এর পাতা বেছে নেয়া। এখানে আমি যা লিখি তা একান্তই আমার নিজের জীবনের প্রতিটা দিনের গল্প। এখন ব্লগার কোপানোর আদেশ দেয়া কোনো হুজুর যদি আমার দিনযাপন পড়ে বা না পড়েই সিদ্ধান্ত নেয় যে ‘এই মেয়ে তো ব্লগ লেখে, কোপাও ওরে!’ তাইলেও বা অস্বাভাবিক কি? … আমার চলাফেরা, অ্যাপিয়েরেন্স-এও তারা হয়তো বিভিন্ন সূত্র খুঁজবে! যেমন, আমি জিন্স-ফতুয়া পরি, ছবি তুলি, থিয়েটার করি, রাত দশটা পর্যন্ত থিয়েটারে থেকে আবার তারপর রাস্তায় দাঁড়ায় চা খাই, আড্ডা দেই ছেলেদের সাথে, শাহবাগে বসে বসে রাত এগারোটা পর্যন্ত আড্ডাবাজি করি, আমার ঘাড়ে আর হাতে ট্যাটু আঁকা, সেই সাথে আবার লেখালেখি করি একটা ব্লগে! সুতরাং, আমাকে নাস্তিক / ইসলামবিরোধী লেবেল দিতে তাদের তো কয়েক সেকন্ড-ও সময় লাগবে না! …

এটাই এখন আমাদের জীবন হয়ে দাঁড়িয়েছে … প্রতিদিনই আমরা মাথাটা নিয়ে বের হই ঠিকই, কিন্তু দিনশেষে সেই মাথাসহ জীবিত বাড়ি ফিরবো কি না, সেই গ্যারান্টি এখন কেউই কাউকে দিতে পারে না! কে যে কখন কোথা থেকে এসে যে কোনো যুক্তিতে আমাকে, তোমাকে, আপনাকে, আমাদেরকে ‘নাস্তিক’ ‘ইসলামবিরোধী’ ইত্যাদি ইত্যাদি তকমা দিয়ে মেরে ফেলে রেখে যাবে, সেটা কেউই বলতে পারে না! … এনিথিং ইজ পসিবল নাও ইন বাংলাদেশ …

কেমন জানি একটা প্রচণ্ড রকম অস্বস্তিবোধ তৈরি হয়ে যাচ্ছে নিজের ভেতরেই! … আমার ‘মানুষ’ পরিচয়টাই তো আমার কাছে সবচেয়ে আগে! সৃষ্টিকর্তা  একজন আছেন, সেটাতে আমার বিশ্বাস আছে, কিন্তু তিনি তো আমাকে ‘মুসলমান’ ‘হিন্দু’ ‘বৌদ্ধ’ ‘খ্রিস্টান’ হিসেবে সৃষ্টি করেননি, ‘মানুষ’ হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন! … আর ধর্ম তো মানুষেরই তৈরি! … যখন প্রথম মানুষগুলো ছিলো লাখ লাখ বছর আগের পৃথিবীতে, তারা সৃষ্টিকর্তাকে মেনেছে প্রকৃতি দিয়ে! কোনো একটা কাজে সৃষ্টিকর্তা খুশি হয়ে সুন্দর বাতাস দেন, ফুল দেন, রঙ দেন। আর, যখন তিনি অসন্তুষ্ট হন তখন বজ্রপাত দেন, ঝড় দেন, বন্যা দেন! এই সরল সোজা যুক্তিকে মেনে মানুষ সবধরনের কাজকে ‘ভালো’ আর ‘খারাপ’ বলে ভাগ করেছে সেই কয়েক লাখ বছর আগেই! … দিনের পর দিন মানুষের অভিজ্ঞতা আর বুদ্ধিবৃত্তি যত বেড়েছে ততই সে সৃষ্টিকর্তা আর তাঁর ক্ষমতা নিয়ে নতুন নতুন এবং আরও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে … এমনকি এখন যে বিজ্ঞান সৃষ্টির রহস্য খুঁজছে, সেই বিজ্ঞানও কি একটা ধর্ম না? … বিজ্ঞানও তো বলে ‘কোনো এক মহাশক্তি থেকে এই সবকিছুর সৃষ্টি!’ সেই মহাশক্তিটা কি সেটা যেহেতু বিজ্ঞান নিশ্চিত নয়, তারমানে তো তারাও আসলে কোনো এক সৃষ্টিকর্তাকেই বিশ্বাস করে! …

দিনের পর দিন মানুষ তার ‘মানুষ’ পরিচয়টার চাইতে ‘মুসলমান’ ‘হিন্দু’ ‘বৌদ্ধ’ ‘খ্রিস্টান’ ‘আস্তিক’ ‘নাস্তিক’ ইত্যাদি ইত্যাদি পরিচয়গুলোকেই বড় করে তুলছে! …

আমি নিজেকে পরিচয় দেই একজন মানুষ হিসেবে। আর, আমার ধর্মবিশ্বাস অনেক সরলরৈখিক – একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন, যিনি এই মহাবিশ্বটাকে সৃষ্টি করেছেন। এই সৃষ্টিকর্তাকেই যুগে যুগে, দেশে দেশে, সমাজে সমাজে মানুষ একেকনামে ডাকে। কেউ ডাকে আল্লাহ, কেউ ডাকে ভগবান, কেউ ডাকে গড, কেউ ঈশ্বর, কেউ মহাশক্তি … একেকজন তার সৃষ্টি লীলা, তার শক্তি, তার অভিভাবকত্বকে একেকভাবে বর্ণনা করে ঠিকই, কিন্তু সব কথারই মূল কথা একটাই, ‘ সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয়’ ! …

যাই হোক, প্রসঙ্গ পাল্টাই …

মাঝে মাঝেই আমার সাথে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটে, অদ্ভুত কিছু মানুষের সাথে রাস্তায় দেখা হয়। আজকেও হলো। সন্ধ্যায় গ্রুপে যাবো বলে বের হয়েছি, গেট দিয়ে বের হতে না হতেই গেটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভদ্রলোক সরাসরি প্রশ্ন করে বসলেন, ‘ তোমাদের পড়া শেষ আজকে?’ এক মুহুর্ত সময় লাগলো বুঝতে যে উনি কে, বা আদৌ আমি চিনি কি না। তারপর মনে হলো যে এখানে তো বাসার নিচেই কোচিং সেন্টার আছে, ওখানে হয়তো উনার ছেলে বা মেয়ে পড়ে, উনি হয়তো ভেবেছে আমিও ওই কোচিং-এর! ভেতরে ভেতরে অনেক হাসি পেলো। কারণ, এই কোচিং-এ যারা পড়ে তারা সর্বোচ্চ ক্লাস নাইন কি টেন এর স্টুডেন্ট! আমাকে দেখে কি ওই ভদ্রলোকের এতোই পিচ্চি মনে হইলো! আমি তাকে বললাম যে ‘ সরি! আমি এখানকার একজন ভাড়াটিয়া… ‘ তো উনিও বললেন, ‘ ও আচ্ছা! মানে, এখানে তো শফি স্যারের কাছে অনেক স্টুডেন্ট আসে, আমি ভেবেছি তুমিও সেরকম একজন…’ তার সাথে তো আমার কথাবার্তা এখানেই শেষ হয়ে যাবার কথা! আমি একটা রিকশা ডাকলামও। কিন্তু এর মধ্যেই উনার ফিরতি প্রশ্ন, ‘ তুমি এখানকার ভাড়াটিয়া হলে কাঁটাবনে কি জন্য যাচ্ছো?’ আমার বেশ বিরক্ত লাগলো! কি আজব লোক! না আমি উনাকে চিনি, না উনি আমাকে চেমে! আমি কাঁটাবনে যাবো না কই যাবো তাতে উনার কি? এদিকে তাকে বিরক্তিটা দেখানো ঠিক হবে কি না সেটাও বুঝতে পারছি না। খুব শান্তভাবে বললাম, ‘ওখানে একটা কাজে যাচ্ছি’ ~ ‘ওহ! তা তুমি কোথায় পড়ো ?’ ~ ‘ আমার পড়াশোনা অলরেডি শেষ, আমি চাকরি করি’ … পড়াশোনা শেষ শুনে উনি যেই এক্সপ্রেশন দিলেন তাতে মনে হলো যে উনি এতক্ষণ ধরেই নিয়েছিলেন যে আমি স্কুলে বা নিদেনপক্ষে কলেজে পড়ি! … ‘ কোথায় চাকরি করো?’ ~ ‘বিবিসি-তে’ ~ ‘মানে ওই ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং যেইটা? ~ ‘জ্বি’ ~ ‘বাবা কি করে?’ ‘দেশের বাড়ি কই?’ ইত্যাদি ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের প্রশ্নের পর উনি বলে বসলেন, ‘আচ্ছা, তোমার নাম্বারটা দাও তো!’ … এইবার আমি আরও আজব হয়ে গেলাম! ভদ্রলোকের সমস্যা কি! চিনি না , জানি না, পাঁচ মিনিটও কথা হয়নাই, নাম্বার চায় কেন?…জিজ্ঞেস করলাম, ‘ আমার নাম্বার দিয়ে আপনি কি করবেন?’ ~ ‘না মানে, আমি তো একটা গার্মেন্টস-এ আছি! আমাদের তো মাঝে মাঝে এটা ওটা প্রোগ্রাম হয়, তাহলে বিবিসি-তে জানাবো আর কি!’ ~ ‘ কিন্তু আঙ্কেল, আমি তো আমার নাম্বার সবাইকে দেই না। আর তাছাড়া, আমি বিবিসিতে প্রজেক্ট বেসড কাজ করি, অফিসে না। ফলে আপনি যেটা ভাবছেন, সেইভাবে তো আমি বিবিসি-তে যোগাযোগ করতে পারবো না!’ ~ ‘ ওহ! আচ্ছা! আচ্ছা!’

সম্পূর্ণ অমূলক হতেই পারে, কিন্তু উনার সাথে কথা বলতে গিয়ে আমার কেন জানি বার বার মনে হচ্ছিলো যে ‘আচ্ছা, উনি কি আমাকে চেনে বা, আমাদের বাসার আর কাউকে চেনে? উনি কি খুব ইন্টেনশনালিই আমার সাথে কথা বলতেসে? উনার কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে?

… এর মধ্যেই উনার সাথে কথাবার্তায় কয়েক মুহুর্তের একটা সাইলেন্স তৈরি হলো, মনে হয় উনি ভাবছিলেন আর কি বলা যায়। আমি সাথে সাথে ‘ আচ্ছা, আঙ্কেল, আসি’ বলে উনার উত্তরের অপেক্ষা না করেই সোজা হেঁটে সামনে অনেকটুকু চলে গেলাম উনার চোখের আড়ালে! প্রথম যে রিকশাটা দেখলাম সেটাতেই উঠে পড়ে মনে হলো হাফ ছেড়ে বাঁচলাম!  

…এসকল যাবতীয় অদ্ভুত অদ্ভুত মানুষদের সাথে কিভাবে কিভাবে যে আমার দেখা হয়! …     

Advertisements

One response to “দিনযাপন | ৩০০৩২০১৫

  1. ‘আচ্ছা, তোমার নাম্বারটা দাও তো!” মানুষ পারেও …………

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s