দিনযাপন | ৩১০৩২০১৫

দেখতে দেখতে মার্চ মাসটাও চলে গেলো … এপ্রিল মাসে অনেক কিছুর আয়োজন আছে … ব্যস্ত একটা মাস কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি … ইভেন্টফুল ব্যস্ততা …

সারাদিনের গরম, রাতের ঠাণ্ডা বাতাস সব মিলিয়ে ফলাফল হলো নাক-গলা চুলকানো একটা অসহ্য টাইপের ঠাণ্ডা … গতকালকে রাতে ঘুমের মধ্যেই প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগছিলো শেষ রাতে। ফুল স্পিডে দেয়া ফ্যানটা যে উঠে গিয়ে কমিয়ে দেবো, সেইটা করতে খুবই আলসেমি হলো। ওই ঠাণ্ডার মধ্যেই কুঁকড়ে থেকে ঘুমালাম। তার ফলাফল হলো এই যে সকাল থেকে নাক বন্ধ, ক্রমাগত হাঁচি আর চোখ জ্বলা … এই অবস্থা নিয়েই বের হয়েছি দিনের বেলা। রোদ- গরম – ধুলা-বালিতে ঠাণ্ডা আরও বেড়েছে … এখন দিনশেষে ক্রমাগতই নাক টানছি … আর হাঁচি তো চলছেই …

আজকে একটা মজা হলো। সন্ধ্যায় গ্রুপে বসে হঠাৎ মনে হলো খিচুরি খেতে ইচ্ছা করছে। হাতে টাকাপয়সা নেই দেখে কোথাও খেতে যাবারও উদ্যোগ নিলাম না। … বাসায় এসে শুনি মা খিচুরি রেঁধেছে। বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব দেখে নাকি তার খিচুরি রাঁধতে ইচ্ছা করেছে! … বেশ একটা ‘না চাইতেই পেয়ে যাওয়া’র মতো ঘটনায় আমি ব্যাপক বিনোদিত হলাম …

সন্ধি’র একটা-দুইটা ছবি ফেসবুকে দিয়েই তো ব্যাপক সাড়া পেয়ে গেলাম। ছবি তোলার জন্য এখন অনেক আগ্রহী মডেল আমার! … কিন্তু ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত আমাকে আবার পারফরমেন্স-এর আরেকটা ওয়ার্কশপে থাকতে হবে। সুতরাং এই ক’দিন তো আর ছবি তুলতে পারবো না। এদিকে সনেট যদি এর মধ্যেই ক্যামেরা ফেরত চায় তাহলে তো দিয়ে দিতে হবে … তখন আবার সহসা ক্যামেরা চাইতেও পারবো না! … এরকম জানলে তো ওয়ার্কশপ না করে ছবিই তুলতাম … ছবি তোলার জন্য একরকম জোশ উঠে আছে আমার! … সকলের প্রশংসা আর আগ্রহ তো আমাকে আরও উদ্যমী করে দিচ্ছে যে ‘একটা ক্যামেরা অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল’ কিনতেই হবে! …

ব্যাপক উদ্যম নিয়ে গোছাগুছি শুরু করে দিয়েছি। আজকে একটা কার্টন গুছিয়ে ফেললাম। যত সিডি-ডিভিডি আর টুকটাক জিনিসপত্র। নেক্সট শুরু করতে হবে বই দিয়ে। আমার নিজেরই যত বই, সেগুলো কার্টনে ভরে ফেললেই তো ঘর অর্ধেক খালি হয়ে যাবে! … এইটুকু একটা ঘরের মধ্যে তিনটা শেলফ ভর্তি তো খালি বইই আমার! … আমাদের মিরপুরের ওই বাসায় জায়গা বেশি থাকলে বাসার যত বই সব মিলিয়ে একটা লাইব্রেরি ঘর করে ফেলা যেতো! …

বইগুলো গুছিয়ে ফেলতে পারলে অন্তত একটা শান্তি পাবো যে ওগুলোকে ইঁদুরে কেটে ফেলার আর ভয় থাকবে না। আমাদের এই বাসায় একটা কি দুইটা ইঁদুর একেবারে স্থায়ী বাসিন্দা। সারাটা রাত এদের কিচকিচ আওয়াজ আর হুড়োহুড়ির শব্দ শুনতে শুনতে যায়। কোনো কোনো রাতে এমনও হয় যে আধো ঘুমের ঘোরে আবিষ্কার করি যে জোন ক্লিয়ার মনে করে ইঁদুর বাবাজি বিছানার ওপর দিয়েই পার হয়ে চলে যাচ্ছেন! … আমার এত এত শখের বইগুলোর একটাও যদি ইঁদুরে কাটে, তাহলে আমার দুঃখের সীমা থাকবে না। কাপড়চোপড়ও আমি বাইরেই ছড়িয়ে রাখি, কিন্তু সেগুলো কাটলেও দুঃখ নাই! একটা কাপড় নষ্ট হলে আরেকটা পরা যাবে। কিন্তু আমার এমন অনেক অনেক বই আছে যেগুলো ইঁদুরে কেটে ফেললে আমি আর পাবো না! … সুতরাং, সে সুযোগ ইঁদুরকে মোটেই দেয়া যাবে না।

আজকের দিনযাপনে খুব বিশেষ কিছু নাই … খুবই রেন্ডম … বেশ খাপছাড়া …

ঠাণ্ডায় আর জ্বর জ্বর ভাবের কারণে কিছুই ভালো লাগছে না … কম্পিউটারের স্ক্রিনে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থেকে কাজ করতে পারছি না … আজকের এইটুকু এক দিনযাপনই লিখলাম প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নিয়ে … হাতে কিছু জরুরি কাজ আছে … আগামীকালকের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে, যেহেতু পরশু থেকে পরবর্তী কয়েকটা দিন ওয়ার্কশপ নিয়েই ব্যস্ত থাকবো … শরীর যদি আরও খারাপ হয় তাহলে অবশ্য যে লাউ সেই কদুই থাকবে! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s