দিনযাপন | ০১০৪২০১৫

ঝড় … বৃষ্টি … জ্বর … ঠাণ্ডা … আজকের দিনের সার কথা এই …

গতকাল রাতে ফ্যাচফ্যাচে নাক আর খুসখুসে গলার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে অ্যালাট্রল খেয়ে ঘুমালাম। তারই বদৌলতে ঘুম হলো গভীর, আর চোখ মেলে দেখলাম প্রায় ১টা বাজে! … নাক ফ্যাচফ্যাচানি বন্ধ হয়েছে, গলা খুসখুসে ভাব বন্ধ হয়েছে, কিন্তু যোগ হয়েছে প্রচণ্ড মাথা ব্যথা আর জ্বর! … সে কারণে বাকিটা সময়ও শুয়ে থেকেই কাটলো। কিছুক্ষণ ক্যান্ডি ক্রাশ, কিছুক্ষণ ফার্ম হিরোজ আর কিছুক্ষণ ঘুম … এই করতে করতে বিকাল পাঁচটা বাজিয়ে দিলাম। তারপর উঠে ঠাণ্ডা পানিতেই গা কাঁপিয়ে গোসল দিলাম। জ্বর বাড়লে বাড়বে, কিন্তু গা ম্যাজম্যাজে ভাবটা তো কমলো! … তারপর যেই গ্রুপের উদ্দেশ্যে বের হবো বলে প্রস্তুতি নিলাম, তখনই শুরু হলো ঝড় আর বৃষ্টি …তারপর বের হবো কি হবো না এই দোটানায় পড়ে অবশেষে একপ্রকার মনের জোর করেই বের হয়ে গেলাম। …

মজার ব্যাপার হচ্ছে, সকালেও নাকি এরকম ঝড় আর বৃষ্টি হয়েছে! একে তো মরার মতো ঘুমিয়েছি, তাই হয়তো বা কিছুই টের পাইনি … দ্বিতীয়ত, ঘুম ভেঙ্গে ফেসবুকে মানুষের বৃষ্টি বন্দনা দেখতে দেখতে নিজের জানালা দিয়ে রাস্তায় তাকিয়ে দেখলাম রোদ ঝলমল করছে, আর রাস্তাঘাটও শুকিয়ে আছে! … বুঝতে পারলাম না যে এই এলাকায় কি আদৌ ঝড় হয়েছে কি হয়নাই! …নাকি এমনই সেন্সলেস এর মতো ঘুমিয়েছি যে কিছুই টের পাইনি? …

যাই হোক, গ্রুপে গেলাম যখন তখন বৃষ্টি থেমেছে। কিন্তু বের হবার সময় আবার সেই বৃষ্টি … গ্রুপ থেকে হেঁটে কাঁটাবনের চায়ের দোকানটায় পৌঁছাতে পৌঁছাতেই বৃষ্টি একটু বেড়ে গেলো … ফুয়াদ, রানা আর গোপী সাথে … চা খেতে খেতে বৃষ্টি থামলো … আবার ঠিক যখন চা খেয়ে রওনা দেবো, তখন আবার বৃষ্টি বেড়ে গেলো … একটু পড়ে বৃষ্টি অল্প থামতেই রওনা দিলাম। কাঁটাবনের মোড়ে এসে রাস্তা পেরিয়ে রিকশা নিলাম। বাসায় পৌঁছতে না পৌঁছতেই বৃষ্টি তো বাড়লোই, একেবারে মেঘ গুড়গুড় অবস্থায় চললোও অনেকক্ষণ। আমি তো তাও পাঁচ – সাত মিনিটে বাসায় ফিরেছি … বাকি তিনজনই দূরের বাসিন্দা … বৃষ্টির পুরোটা সময়ই ওদের রাস্তাতেই থাকার কথা … কি অবস্থায় বাসায় ফিরেছে কে জানে! …

বৃষ্টি ব্যাপারটা নিয়ে আমার মধ্যে একরকমের মিশ্র অনুভূতি আছে। বৃষ্টি বিষয়টা প্রকৃতিগতভাবে আমার বেশ পছন্দের … কিন্তু ঢাকা শহরের রাস্তাগুলো কেমন নোংরা আর ভ্যাপসা হয়ে যায় বলেই কি জানি না, বৃষ্টির দিন আসলেই আমার বিরক্ত লাগতে থাকে … আমার কাছে মনে হয় যে ঢাকা শহরটা যে আসলে কতটা ময়লা আর জলাবদ্ধ সেটা একমাত্র বৃষ্টির দিনেই প্রকট হয়ে ভেসে ওঠে … বৃষ্টির দিনে বাসা থেকে বের হতে হবে মনে হলেই আমার কেমন অস্বস্তি লাগতে থাকে … একে তো রাস্তায় যেখানে সেখানে ফেলে রাখা ময়লাগুলা আরও চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়, তারওপর রাস্তায় জমাট বাধা নোংরা পানি পেরিয়েই তো যেতে হবে! … যতটা সম্ভব আমি চেষ্টা করি বৃষ্টির দিন বাসা থেকে বের না হতে … একান্তই যদি খুব জরুরি কাজ না থাকে, তাহলে বাসায় থাকাই ভালো মনে হয়! … গাড়িতে করে যারা ঢাকা শহরে চলাফেরা করে, এক গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের হয়ে ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই আরেক গ্যারেজে গিয়ে ঢোকে, তার গায়ে রাস্তার নোংরা পানি তো পরের কথা, বৃষ্টির একটা ফোঁটাও তো লাগে না! … অলস কোনো দিনে তাদের কেউ কেউ জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে, কিংবা ঘরে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে গরম কফির কাপ হাতে সে ‘বৃষ্টির গান’ শোনে আর ফেসবুক/টুইটারে বৃষ্টি বন্দনা করে … আমিও যদি এরকম গাড়িতে চলাফেরা করা মানুষ হতাম, তাহলে আমার কাছে বৃষ্টি মানেই ‘উদাস হওয়া’ হতো, কিংবা মনে মনে গুনগুন করতাম, ‘ এমন দিনে তারে বলা যায়… ‘ । কিন্তু, ঢাকা শহরের রাস্তা জোড়া ময়লা আর নোংরা আমার মধ্যে এমনই শুচিবায়ু তৈরি করেছে যে আমি বৃষ্টির দিনে পারলে আগাগোড়া নিজেকে প্লাস্টিকে মুড়ে বের হই, যাতে করে গায়ে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিও না লাগে, আর গায়ে নোংরা পানি ইত্যাদি লেগে যাবে চিন্তা করে অস্বস্তিও না লাগে! …

ছোটবেলায় যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকতাম, তখন নানু বাড়ির সামনের অংশটায় ঘাস ছিলো কেবল। বৃষ্টি পড়লে সেই ঘাসগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে যেতো আর বাতাসে মৃদু দুলতো … আমি ওই ঘাসের ওপর দিয়ে খালি পায়ে হাঁটতাম … মাঝে মাঝে একটা দুইটা ব্যাং লাফিয়ে যেতো … কি যে মজা লাগতো! …

একটা সময় ঢাকা শহরটাও অনেক পরিষ্কার ছিলো … এভাবে রাস্তা ঘাটে অন্তত চোখ মেললেই এত এত ময়লা আবর্জনা চোখে পড়তো না! … ইউনিভার্সিটি লাইফে বৃষ্টিতে খালি পায়ে পিচঢালা রাস্তায় হেঁটেছি এমনও মনে আছে … কিন্তু এখন তো বৃষ্টি মানেই আমি পা ঢাকা জুতো পরে বের হই যাতে এক ফোঁটা পানিও পায়ে না লাগে …

কিছুদিন পর পরই তো আমাদের দেশে ‘বিউটিফিকেশন’ অভিযান চলে … কিন্তু তাতে করে কি শহরের জঞ্জালগুলো সাফ হয়? … হঠাৎ করেই ঢাকা শহরকে আমার এত প্রচণ্ড নোংরা লাগে কেন? মনে হয় কেন যে একটা বিশাল ডাস্টবিনের মধ্যে বাস করছি! … একটা রাজধানী শহর কিভাবে এতটা নোংরা হতে পারে যে এর রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন জাতের ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকবে? … আচ্ছা, নিজের ঘরের ভেতর কি কেউ এভাবে ময়লা ফেলে? তাহলে রাস্তায় ময়লা ফেলার অনুশীলনটা কেন হয়? … এমনকি ডাস্টবিনগুলোও কেমন হাঁ করে তাকিয়ে থাকে – একগাদা ময়লার অর্ধেকটাই রাস্তার উপর ফেলে রেখে! …

নিজের ঘরকে যদি সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখাটা মানুষের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে নিজের রাস্তা, নিজের শহর, নিজের দেশকে না কেন? …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s