দিনযাপন | ০৫০৪২০১৫

গত কয়েকদিনের বৃষ্টি-বাদলার আবহাওয়ার কারণেই কি না জানি না, ইন্টারনেটের লাইন খুবই স্লো পাচ্ছি। আর আমার ইন্টারনেট সার্ভিসে ফেসবুক, জিমেইল সবই খুলছে, কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস কোনোভাবেই খুলছে না! … গত পরশুর দিনযাপন পোস্ট করতে হলো গতকাল সকালবেলা, তাও মোবাইলের হটস্পট দিয়ে নেট চালিয়ে। কালকে কয়েকবার চেষ্টার পর পেজটা ওপেন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাতে এত ক্লান্ত ছিলাম যে লেখা শেষ না করেই ঘুমিয়ে পড়লাম। আর সকালে জ্বর জ্বর লাগছিলো বলে ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই সকাল সাড়ে নয়টা বেজে গেলো! … তখন তো আর তাড়াহুড়ায় লিখতেই বসা গেলো না …

অতএব, আবারো একদিনের দিনযাপন বাদ গেলো …

কেমন জানি একটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়া … কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ফ্যানটা চালিয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর রীতিমত শীত লাগছে আর মাথাও কেমন ভার মনে হচ্ছে … ফ্যান বন্ধ করে দিলে লাগছে গরম, আর ভার হয়ে থাকা মাথাটা ক্রমাগত কেমন চাপ দিচ্ছে পুরো শরীরটাকে! … প্রচণ্ড গরমের সময় এরকম মাথা ভার লাগার ভাবটা গোসল করে ফেললেই চলে যায়, কিনতি এখন যেরকম ঠাণ্ডা, তাতে যখন খুশি তখন গোসল করার উপায় নাই … পানি গরম করো, তারপর গোসল করো … অনেক হ্যাপা! …

কেনিয়ার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চরমপন্থি ইসলামিদের একটা দল চোখের পলকে ১৪৭ জন ছাত্রছাত্রীকে মেরে ফেলেছে । ফেসবুকে দেখলাম এই খবরটা। এটা একটা গা-হাত-পা ঠাণ্ডা করে দেয়ার মতো খবর। একই ঘটনা তো বাংলাদেশেও ঘটতে পারতো! কিংবা কখনো যে হবে না তার নিশ্চয়তা কি? …

আনুশেহ আনাদিল অনেকদিন ধরেই সুন্দরবন এলাকায় কাজ করছেন। সেখানে নাকি স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের বলেছে ওখানে গেলে বোরখা পরতে, নয়তো সেখান থেকে চলে যেতে! … কি ভয়াবহ! …

আজকে বিকেলে শাহবাগ থেকে হেঁটে হেঁটে গ্রুপের দিকে যাচ্ছি। হঠাৎ করে পেছন থেকে এক বোরখা পরা মহিলা প্রায় ধাক্কা দিয়ে সামনে চলে গেলো। তারপর আবার আমার দিকেই ক্যামন কটমট করে তাকালেন। তার কেবল চোখ দু’টো ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না বলে মুখের বাকি অংশের এক্সপ্রেশন দেখতে পারলাম না! …

আমার পরিচিত মানুষদের মধ্যে হিজাবীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে … কয়েকমাস আগেও যাকে হিজাব ছাড়া দেখেছি, তাকেও দেখছি রিসেন্ট ফেসবুক ফটোতে হিজাব পরা! … কয়েকদিন পর তো হিজাব না পরে চলা মানুষজনের সংখ্যা আঙ্গুলে গোনা যাবে! …

কেমন একটা ধর্মগ্রস্ত অবস্থা সবার! … কেউ অন্ধবিশ্বাসে, কেউ ভয়ে, আর কেউ হুজুগে মেতে ধার্মিকতার জীবনযাপন করছে … অথচ যুক্তির জায়গাটা ফাঁকা … ধর্মবিশ্বাস মানেই কি চরমপন্থা? … এটা কি কাউকে জোর করার বিষয় ?

গতকালকে পাঠশালায় ইন্টারভিউ ছিলো, শিক্ষক নিয়োগের … অ্যাপ্লাই করবো কি করবো না ভাবতে ভাবতে একদম শেষ সময়ে অ্যাপ্লাই করেছি … আবার এরকম একটা সময়েই ইন্টারভিউ পড়লো যখন পারফরমেন্স-এর ওয়ার্কশপটা নিয়ে মহাব্যস্ততায় আছি … ফলে, যেটুকু আগ্রহ ছিলো, সেটাও কেমন জানি মিইয়ে গেলো … তারওপর আবার টাইমিং নিয়েও ক্যাচাল করা লাগলো। একবার সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম যে যাবোনা ইন্টারভিউতে। তারপর শেষমুহুর্তে আবার মনে হলো যে যাই। এদিকে, এতরকম দোটানার কারণেই কি না জানি না, প্রেজেন্টেশনটা মনে মনে যেভাবে গুছিয়েছিলাম, তার কিছুই বলতে পারলাম না। কেমন একটা হাঁসফাঁস লাগা পরিস্থিতির মধ্যে সবকিছু বলে গেলাম। ফলাফল এই হলো যে, ইন্টারভিউ বোর্ডের চারজনের একজন মোবাইলেই ব্যস্ত থাকলেন, একজন ঘড়িতে সময় দেখতে লাগলেন, একজন হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে থাকলেন, আরেকজন একটু পর পর বিভিন্ন বিষয়ে ডায়রিতে নোট নিলেন আর ফোন নিয়ে মাঝেমাঝে ব্যস্ত থাকলেন। আমার আত্মবিশ্বাস যেটুকু অবশিষ্ট ছিলো, সেটা জিরো লেভেলে নামার জন্য আর কি লাগে! … এমনিতেই তো যাদের সামনে কথা বলছি তারা আমার চাইতে অনেক বেশি অভিজ্ঞ আর বেশি জানেনও। ফলে তাদেরকে আসলে নতুনভাবে কিছু দেবার তো আমার কাছে কিছু নাই! এমন হইতো যে আমাকে একটা ডামি ক্লাস নিতে হবে স্টুডেন্ট-দের সামনে, আর তারা পেছন থেকে অবজার্ভ করবেন, তাহলে আমিও আমার মতো করে বসে, দাঁড়িয়ে, হেসে, খেলে মজা করে লেকচার দেয়ার আত্নবিশ্বাস পেতাম। কিন্তু যেহেতু প্রসেসটা এমন ছিলো না, ফলে আমারও ভয় করছিলো অনেক বেশি! … কি বলতে কি বলে ফেলি টাইপ একটা ভয়! … অথচ যে বিষয়ে লেকচার দিয়েছি, সেটা সম্পর্কে কিন্তু আমার জ্ঞান, চিন্তা, ভাবনা সবই যথেষ্ট সচল …

অবশ্য, সত্যিকারের ক্লাসে আমি হয়তো বা এমনভাবে ফর্মাল লেকচারই দিতাম না! … কম্পোজিশনের ক্লাস তো! আমি যখন নিজে এই বিষয়ের ক্লাস করেছি, তখনি ভাবতাম যে কম্পোজিশনের ক্লাস হওয়া উচিত অনেক বেশি প্র্যাক্টিকাল। সেই সূত্র থেকেই, আমি স্টুডেন্টদেরকে আগে বাইরে নিয়ে গিয়ে যেকোনো একটা সাবজেক্টরই ছবি তুলতে বলতাম। তারপর একেকজনের ফ্রেমিং ধরে ধরে কম্পোজিশনের বিষয়- আষয় নিয়ে আলোচনা করতাম। তারপর ক্লাস শেষে হয়তো একটা হ্যান্ডআউট দিতাম যেখানে পুরো ক্লাসের আলোচ্য বিষয়গুলো গুছিয়ে লেখা থাকতো …

ক্লাস নিতে না বলে যদি আমাকে ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করতো টিচার হলে কিভাবে ক্লাস নেবো, তাহলে তো আমি অনেক কনফিডেন্স নিয়ে গড়গড় করে এগুলা সব বলে আসতাম! … ওরকম ফর্মাল লেকচার দিতে গিয়েই যত বিপদ হলো …

তো যাই হোক, প্রথম পনেরো মিনিটে প্রেজেন্টেশনের ওই ধাক্কা আমাকে এতটাই কাবু করে ফেললো যে পরের পনেরো মিনিট আমার কাছে মনে হলো আমি একটা ইন্টারোগেশন সেলে বসেছি আর চারজন আমাকে এটা – ওটা প্রশ্ন করে জবাবদিহি করছে! … যা যা প্রশ্ন করা হলো, প্রত্যেকটারই সুস্পষ্ট যুক্তি আমার কাছে আছে, কিন্তু ওইখানে বলতে গিয়ে মনে হলো বেশি কথা বললে মনে হয় একটু পরে তোতলাতেই শুরু করবো! … এমন কি একটা কথা প্রসঙ্গে মার্টিন পার এর নাম বলতে যাবো, ওই নামটাই কিছুতেই মনে আসলো না কয়েক মুহুর্ত! তাও ভালো শেষ পর্যন্ত মনে এসেছে! … না হলে প্রিয় আলোকচিত্রীর নামই মনে করতে পারিনাই, এর চাইতে বেইজ্জতি বিষয় আর কিছুই থাকতো না! …

আমি শিওর আমি বের হবার সাথে সাথে চারজন একসাথেই ‘না বোধক’ মাথা নেড়ে পরস্পরের দিকে তাকিয়েছে আর রিপোর্ট শিটে বড় করে লিখে দিয়েছে ‘NO’ …

আজকের পারফরমেন্স ওয়ার্কশপের সেশনটা অনেক মজার ছিলো … দুপুরে লাঞ্চের পর আমাদের নিয়ে আউটডোর সেশন হয়েছে … শিল্পকলা একাডেমী থেকে চারুকলা পর্যন্ত আমরা ১৪ জনের একটা দল বিভিন্ন রকমের লিড অ্যান্ড ফলো পারফরমেন্স করতে করতে হেঁটেছি … রাস্তার মানুষজনের রেসপন্সগুলো আমার কাছে নতুন না, কারণ আমরা যখন পথনাটক করি তখনো এরকম অনেকধরণের রেসপন্সই পাই … কিন্তু এখানে পুরোটা বিষয়ই একটা দলগত ইম্প্রোভাইজেশন ছিলো … কে কখন কি করবে আমরা কেউই জানি না … কিন্তু কেউ একজন সামনে থেকে যা করবে সবাইকেই তাই করতে হবে … কেউ যদি মাটিতে গড়াগড়ি দেয়, সেটাও! … একটা জিনিস করে আমি অনেক মজা পেয়েছি … আমরা শিখা অনির্বানের কাছে গিয়ে দেখলাম সেখানে অনেক পুলিশ। কিছুক্ষণ পর সেখানে নৌমন্ত্রী আসবেন, তার কথা বলবার জন্য মাইক-টাইক রেডি হচ্ছে … তো একজনের নেতৃত্বে আমরা ওখানের পুলিশদের পাশে গিয়ে বসলাম। হঠাৎ আমার খেয়াল হলো এক কোণায় একটা মাইক রেডি হচ্ছে। আমি ওই মাইকের সামনে গিয়ে ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’ শুরু করলাম। আমাকে দেখে বাকি সবাই মাইকের সামনে এসে ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’ শুরু করলো … একসাথে ১৪জন সমস্বরে ‘হ্যালো’ বলে চিৎকার করছে, … মাইকে অবশ্য সাউন্ডের কানেকশন ছিলো না! … থাকলে তো বিষয়টা আরও মজার হয়ে যেতো! …

ধুর! ওয়েদারটা যে কবে ঠিক হবে! … বৈশাখ আসতে না আসতেই এমন কালবৈশাখীর ভাবসাব শুরু হয়ে গেলে কেমন লাগে! … এই যে এখন রাতের বেলা  ফ্যান চালু থাকা বন্ধ থাকা নিয়ে একটা গোলমাল শুরু হবে, আর সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠতেই পারবো না মাথা ব্যাথার কারণে, বিষয়টা খুবই বিরক্তিকর! …

যাই হোক, এখন এই ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাবসাবের মধ্যেও রাত পৌনে একটা সময় আইসক্রিম খাচ্ছি, সেটাও বা মন্দ কি? …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s