দিনযাপন | ০৬০৪২০১৫

ম্যাকবুক প্রো কেনার এক বছর হয়ে গেলো আজকে … গত ছয়মাসে সব মূল্যবান জিনিস হারানোর ধাক্কার মধ্যেও এখনো এই জিনিসটা টিকে আছে … আমি মাঝে মাঝে ভাবি, যেদিন ক্যামেরা চুরি গেলো, সেদিন যদি চোর এই ম্যাকবুকটাও নিয়ে যেতো, তাহলে বোধহয় আমার লিটেরেলিই সব শেষ হয়ে যেতো! …

নেটবুকটা নষ্ট হবার পর একদমই মুহুর্তের সিদ্ধান্তে ম্যাকবুক কেনা হয়েছিলো। টাকাও প্রায় পুরোটাই ধার করা। সেই ধারগুলো এখনো শোধ করা হয়নি। ‘তার’ জন্য আমার এত এত টাকার ধার না জমলে অবশ্য এতদিনে শোধ হয়ে যেতো … এখনো একজন ম্যাকবুকের ২৫,০০০ টাকা পায়। তার টাকা আমি কবে দিতে পারবো জানি না। এইটুকু জানি যে উনি আমার কাছে খুব প্রয়োজন না হলে কখনোই মুখ ফুটে চাইবেন না। কিন্তু মনে মনে হয়তো আশা করে আছেন যে টাকা আমার পক্ষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উনাকে দিয়ে দেই! …

এবং, এতদিনে, এক বছর পার হয়ে যাবার আগেই উনার টাকাটা আমার দিয়ে দেয়া উচিত ছিলো! …

গত বছর এই দিনটাতে অনেক সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটিয়েছিলাম … ‘তার’ সাথে …সানগ্লাস কিনতে গিয়েছিলাম তার জন্য। আমিও একটা নীল সানগ্লাস কিনেছিলাম। অনেক পছন্দের ছিলো আমার ওই সানগ্লাসটা, কিন্তু সেটা হারিয়ে ফেলেছি … সানগ্লাসটা হারিয়ে ফেলে আমার অনেক মন খারাপ হয়েছিলো … ঠিক ওইরকমই আরেকটা সানগ্লাস কিনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরে আর পাইনি। …

সানগ্লাস … নান্দোস … একসাথে রিকশায় করে পান্থপথ পর্যন্ত যাওয়া … অনেক অনেক গল্প … অনেক লম্বা একটা সন্ধ্যা …

আজকে আমাদের ওয়ার্কশপ-এ পারফরমেন্স ডে ছিলো। ৬ ঘণ্টা টানা পারফর্ম করতে হয়েছে। বলা হয়েছিলো, যে কোনো একটা ‘পারসোনা’ ধারণ করতে হবে এবং পুরো ৬ ঘণ্টা সেই পারসোনার ক্যারেক্টারিস্টিক ধরে রেখেই যাবতীয় কাজকর্ম করতে হবে। তো, কি করবো সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে শেষে আমি দিনযাপনের থিমেই কাজ করা শুরু করলাম। আমার পারসোনাটা হলো এমন যে আমি ঘরের এক কোণায় নিজের একটা ছোট্ট জগতের মধ্যেই আছি, কারো সাথে কথা বলছি না, কেবল একটা নোটবুকে এটা সেটা লিখছি, আঁকছি … কিছুটা নিজের মনের কথা, নিজের অভিজ্ঞতা আর কিছুটা চারপাশে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটার কথা। ভিজুয়াল ডাইরির মতো আর কি! মাঝে মাঝে কিছু কিছু কথা আবার স্টিকি নোটে লিখে দেয়ালে সেঁটে দিচ্ছি … স্টিকি নোটের পার্টটা ছিলো এমন যে আমার হয়তো পানি খাওয়া দরকার, তো আমি ওখানে ইংরেজিতে লিখেছি যে ‘পানি খাবো কি খাবো না, বুঝতে পারছি না, কারণ আমি পারফরমেন্স শুরুর আগে জিজ্ঞেস করে নিতে ভুলে গেছি’। তো সেটা দেখে ইয়ানা এক গ্লাস পানি আর একটা বিস্কিট আমার পাশে রেখে গেলো। আরেকবার লিখলাম ‘কতক্ষণ সময় গেলো বুঝতে পারছি না’, তো নিখিল এসে ঘড়িতে সময় দেখিয়ে গেলো! … আর মাঝে মাঝেই নোটবুকটাতে যা লিখছিলাম, আঁকছিলাম সেগুলাও দেয়ালে সেঁটে দিচ্ছিলাম। …

আমার কাজটা যে নিখিলদের, মানে ওয়ার্কশপ কো-অর্ডিনেটরদের ব্যাপক ভালো লাগবে সেটা বুঝি নাই! কিন্তু দেখলাম তারা খুবই প্রশংসা করলো । পারফরমেন্স শেষ হবার সাথে সাথেই নিখিল এসে ঘাড়ে চাপড় দিয়ে বললো, ‘লাভলি ওয়ার্ক! লাভড ইট!’… মাধবী আর ইয়ানাও তাই! তাদের ভালো লাগার কারণটা ছিলো যে কাজটা অনেক কমুনিকেটিভ হয়েছে। দর্শক হিসেবে তারা আমার কাজের সাথে সংযুক্ত হতে পেরেছে। অডিয়েন্স ইন্টারঅ্যাকশন তো যে কোনো পারফরমেন্স আর্টেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তো আমি সেটাই নাকি অনেক সিম্পল বাট কমুনিকেটিভ একটা পারফরমেন্স এর মধ্য দিয়ে করতে পেরেছি। বিদেশী আরও দুইজন আর্টিস্ট মাঝখানে আমাদের পারফরমেন্স দেখতে এসেছিলো, তারাও দেখলাম আমার পারফরমেন্স দেখতে দেখতে বেশ পজিটিভ কমেন্ট করছিলো। …

নিখিল, মাধবী, ইয়ানা’র ফিডব্যাক শুনেই মনে হলো তারা এই পাঁচদিনের ওয়ার্কশপে যে দুই তিনজনের কাজ নিয়ে সর্বোপরি খুশি, তাদের মধ্যে আমি একজন। … এরকম প্রশংসা পেয়ে আমি ব্যাপক আনন্দ পেলাম। ৮ তারিখে আমাদের ওপেন স্টুডিও ডে । সেদিনের পারফরমেন্স বাধ্যতামূলক না। যার ইচ্ছা সে করবে। আমার ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু আত্মবিশ্বাস ছিলো না। আজকে ইচ্ছা আর আত্নবিশ্বাস দুটোই বেড়ে গেলো। হোপফুলি ৮ তারিখে একটা কিছু করবো …

আজকে অনেক ক্লান্ত লাগছে। হাত- পা কেমন জানি জমাট বেঁধে আছে মনে হচ্ছে … তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে চাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s