দিনযাপন| ০৯০৪২০১৫

হঠাৎ করেই খুব রিলাক্সড লাগছে নিজেকে! … মনে হচ্ছে কোনো কাজের চাপ নেই, ঘাড়ের ওপর একগাদা কাজ জমে নেই! … কাজ কিন্তু ঠিকই আছে বেশ কিছু, কিন্তু সেগুলোর চাপ একেবারেই অনুভব করছি না! … মনে হচ্ছে যে, শুরু করলেই হলো! হয়ে যাবে! …

বহুদিন পর এরকম রিলাক্সড অনুভব করলাম …

এর একটা বড় কারণ হতে পারে এটাই যে, এতদিন যেই অনুবাদের কাজটা নিয়ে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিলাম, অথচ কাজগুলো শেষ করার কোনো তাগিদ পাচ্ছিলাম না, সেই কাজটা থেকে অবশেষে আমি নিজেকে অব্যাহতি দিতে পেরেছি! … অনেকদিন আগে থেকেই এটা করবো বলে ভেবেছি, কিন্তু শেষ মুহুর্তে এসে সিদ্ধান্ত পাল্টে আবার কাজ শুরু করেছি … এবার ফাইনালি আমি ‘না’ করে দেয়ার বেশ কিছু কারণ পেয়ে গেলাম যার কারণে ইচ্ছাটাকে জাস্টিফাই করার সুযোগ পাওয়া গেলো! …

এক সপ্তাহের টানা ব্যস্ততাও শেষ হলো কালকে। গতকাল আমাদের ওয়ার্কশপের পার্টিসিপেন্টদের ওপেন স্টুডিও ডে ছিলো … আমার পারফরমেন্স এর থিম ছিলো ‘ লাভ মি, লাভ মি নট’ … একগুচ্ছ ফুলের তোড়া থেকে একটা একটা করে ফুল নিয়ে ‘লাভ মি, লাভ মি নট’ বলতে বলতে পাপড়ি ছিঁড়লাম, আর তারপর ‘লাভ মি’ অথবা ‘লাভ মি নট’ যেটাই আসলো, সেটা একটা চিরকুট লিখে হাঁটতে হাঁটতে যাকে সামনে পেলাম তাকে দিলাম … আমি কাজটা মনে মনে ঠিক যেভাবে গুছিয়েছি, সেটা একদম সেভাবে পুরোপুরি করতে পারিনি … কারণ আমি ভেবেছিলাম এটা বেশি সময় লাগবে না,কিন্তু কাল পারফরমেন্স করতে গিয়ে মনে হলো যে দুই ঘণ্টার জায়গায় যদি অন্তত তিন বা সাড়ে তিন ঘণ্টা নিতাম, তাহলে ঠিক হতো! … তবে কাজটার আইডিয়াটা নিখিল অনেক প্রশংসা করেছে। কালকেও আমি তার টিমের কাছ থেকে খুবই পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়েছি। নিখিল বলছিলো, ‘ লাভলি ওয়ার্ক! এভরিওয়ান ওয়াজ টাচড বাই ইয়োর জেসচারস উইথ দোজ ফ্লাওয়ারস অ্যান্ড গিভিং নোটস টু পিপল অ্যারাউন্ড …  ‘ … এই কমপ্লিমেন্ট শুনে আমি ব্যাপক আনন্দিত হলাম … এই আত্মবিশ্বাসও পেলাম যে পরে অন্য কোথাও সুযোগ পেলে এই কাজটাকে আরও গুছিয়ে করা যাবে! …

পারফরমেন্স-এর ছবিগুলো দেখলে আরও ভালো বুঝবো কি করেছি আসলে … রানা গিয়েছিলো পারফরমেন্স দেখতে, ও শেষ মুহুর্তের কিছু ছবি তুলেছে … কিন্তু প্রথম দিকের কিছু ছবি দরকার, যেখানে ফুল হাউজ পারফরমেন্স এর মাঝখানে বসে বসে আমি ‘লাভ মি, লাভ মি নট’ বলে ফুল ছিঁড়ছি …

পারফরমেন্স শেষ হবার পর একবার ভেবেছিলাম যে মাটিতে পড়ে থাকা যে ন্যাড়া, মানে পাপড়ি ছাড়া ফুলগুলো ছিলো, ওগুলা কয়েকটা নিয়ে আসি … স্মৃতি হিসেবে রেখে দেবো … কিন্তু পরে আর আনলাম না … লাস্ট একটা কাগজে ‘লাভ মি নট’ না লিখে ‘ লাভ ইউ’ লিখেছিলাম। সেটার পেছনে আবার ইয়ানা লিখে দিয়েছিলো ‘প্রেম’ … ওই কাগজটা আবার সন্ধির হাতে রাখতে দিয়েছিলাম। পরে নিতে ভুলে গেছি … স্মৃতি হিসেবে ওটাই সবচেয়ে মূল্যবান হবার কথা … কারণ সেখানে আরেকজনের সাথে ইন্টারঅ্যাকশন আছে …

গতকালকে বাসায় ফেরার পর এমনই ক্লান্ত লাগতে শুরু করলো যে আর কোনোদিকে না তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি। দিনযাপনও লিখিনি … আজকে কতদিন পর অ্যালার্ম ছাড়া ঘুমালাম! … মা কলেজে যাবার সময় ডাক দিয়ে গেলো … উঠে ধীরে সুস্থে বের হয়ে দুই ঘণ্টা লাগায় মহাখালী গেলাম, এক ঘণ্টা লাগায় মহাখালী থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর গেলাম … একে তো প্রচণ্ড গরম, তার ওপর জ্যাম … মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো আমার … বাসায় ফিরেই বিকেলে আবার দুই ঘণ্টার একটা ঘুম দিলাম …

এই ট্রাফিক জ্যাম নামক বিষয়টা নিয়ন্ত্রণে থাকলে আমাদের জীবনযাত্রা কত সহজ হয়ে যেতো! … ঢাকা শহরের বেশিরভাগ মানুষের যে সহ্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে, আর প্রচণ্ড রুক্ষ মেজাজ তৈরি হচ্ছে তার অন্যতম কারণ এই অযথাই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে রাস্তায় বসে থাকতে বাধ্য হওয়া! … সে যাত্রীই হোক, আর চালকই হোক …

তবে, এই রিলাক্সড মুডের সাথেই আজকে সারাদিনে ‘অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ হবার সুবাদে মন ভালো থাকা চিন্তা-ভাবনা কিছু হয়নাই … ‘তার’ সাথের ভালো-খারাপ সব সময়গুলোর কথাই খালি সারাদিন মাথায় ঘুরঘুর করেছে … কেন যে মাথা থেকে তার চিন্তা যায় না! … আজকে প্রচুর হেঁটেছি বলে বিকেলে বাসায় ফেরার পর প্রচণ্ড পেটে ব্যথা করছিলো … আর যখনি আমার শরীরের এরকম অবস্থা হয়, তখনি আমার খালি মনে হতে থাকে এই অবস্থার জন্য তো সে-ই দায়ী! …

কিন্তু, আমি ঠিক করেছি নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কাউকে আর কিছু বলবো না … আমার শরীরের কি অবস্থা সেটা আসলে আমিই বুঝি … এই যে এখন আমি বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে লিখছি, তাতে পেটে চাপ পড়ছে। যখনি সোজা হয়ে শোবো তখনি টের পাবো অস্বস্তিকর ব্যথাটা … কালকে নোবেল ভাই মজা করে বলছিলো, ‘ … প্রজ্ঞার মতো একটা পেট থাকলে তো আমি সব খেয়ে শেষ করে ফেলতাম ‘ … এই টাইপেরই একটা বাক্য ছিলো … একদম সঠিক সেটাই বলতে পারলাম কি না সেটা নিয়ে কনফিউজড … কিন্তু, তুলনাটা হচ্ছিলো আমার ভুঁড়ির সাথে, এটাই মূল পয়েন্ট … আমি মনে মনে হাসলাম … আমার মতো একটা পেট বানাতে হলে তার তো একটা বিশাল সাইজের টিউমার হওয়া লাগবে পেটের ভেতর, যার কারণে পেটটাকে পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট -এর মতো দেখাবে! … উত্তরটা এভাবেই দেবো ভাবছিলাম … পরে আর মুখ খুললাম না … থাক না! … আমার বুঝ না হয় আমিই বুঝলাম! …

যাই হোক, আবেগকে পাত্তা দেবার সময় নাই আমার …

এখন যা করতে হবে, তা হলো একটা ‘আগে কোন কাজ শেষ করবো’ টাইপ একটা লিস্ট বানানো … হাতে আসলে অনেক খুচরা কাজ …

কিন্তু তারও আগে, আমাকে মোবাইলে গেম খেলার নেশা কাটাতে হবে … আজকে আমি ক্যান্ডি ক্রাশ সোডা-ও ইন্সটল করে ফেলেছি … আর ক্রমাগত একটার পর একটা গেম খেলেই যাচ্ছি …

আর তারও আগে, ঠিক এই মুহুর্তে আমাকে ঘুমাতে হবে … প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে … কালকে সকাল হলে না হয় দেখা যাবে কি হয় দিন দুনিয়ার …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s