দিনযাপন | ১০০৪২০১৫

সকালে নয়টার দিকে ঘুম ভাঙলো ভয়ঙ্কর একটা দুঃস্বপ্ন দেখে … দেখলাম যে মা আমার ঘরের সবকিছু তার নিজ দায়িত্বে গুছিয়ে ফেলেছে! একটা বুকশেলফ নাই, সেখানে একটা নতুন ওয়্যারড্রোব যোগ হয়েছে! কাপড় চোপড় সব গুছিয়ে ফেলা হয়েছে সেখানে … ঘরের মধ্যে কেমন কেমন করে জানি অনেকটুকু ফাঁকা জায়গা বের হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি … আমার জিনিস আমি ছাড়া আর কেউ গুছিয়ে দেবে এটা আমার কাছে রীতিমতো দুঃস্বপ্নই! কারণ, অগোছালো অবস্থাতেও আমার জিনিস কেবলমাত্র আমিই খুঁজে পাই! … কিন্তু অন্য কেউ যদি আমার জিনিসপত্র খুব সুন্দর করে গুছিয়েও রাখে , আমি কিছুতেই আর সেই জিনিসটা খুঁজে পাইনা … চোখের একদম সামনে থাকলেও না! … গত কয়েকদিন যাবৎ দেখছি আমার কাপড়চোপড়গুলো ক্রমাগত শাফল হচ্ছে, কারণ মা খুঁজে খুঁজে শীতের কাপড়গুলো বের করে নিয়ে লন্ড্রিতে দিচ্ছে। কাপড়চোপড় বলেই চিন্তা কম করছি … ধরেই নিয়েছি এটা দৈবক্রমে যেই কাপড় সামনে পড়বে সেভাবেই পরতে হবে …

যাই হোক, স্বপ্নের মধ্যেই একবার ভাবলাম, এটা নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখছি! তারপর আবার কি কি সব হিসাব মিলায় বের করলাম যে ‘নাহ! এটা বাস্তব!’ … তারপর যখন সত্যি সত্যি ঘুম ভাঙলো, তখন প্রথমেই উঠে বসে ঘরটা একপলক দেখে নিলাম! … সবকিছু আগের মতোই আছে দেখে নিয়ে মনের আনন্দে আবার দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিয়ে শেষমেষ বারোটা বাজে বিছানা ছেড়ে উঠলাম! …

কিন্তু স্বপ্নটা দেখে মনের মধ্যে এই চিন্তাটাই গাঢ় হলো যে নিজ দায়িত্বে আমার নিজের জিনিসপত্র গোছগাছ শুরু করতে হবে! নইলে এই স্বপ্ন সত্যি হতে হয়তো দেরি হবে না! …

এত প্রচণ্ড গরম, বাইরে বের হতেই ইচ্ছা করে না … বের হলেই কেমন অসুস্থ লাগতে থাকে … বাংলাদেশটা মনে হয় আস্তে আস্তে মরুভূমি হয়ে যাবে ! … খালি মনে হয় যে সারাক্ষণ যদি ঠাণ্ডা বাতাসওয়ালা জায়গায় বসে থাকা যেতো, তাহলে ভালো হতো … কিংবা এমন যদি প্রযুক্তি থাকতো যে ছাতার মতো কোনো একটা যন্ত্র থাকবে, সেটা মাথার ওপর মেলে ধরলেই এসি’র মতো ঠাণ্ডা বাতাস বের হবে! … সেরকম কিছু থাকলে তো আর গরম নিয়ে চিন্তাই করতে হতো না! … কিংবা, সারা শহরটা যদি বড় বড় ছাতা দিয়ে ঢেকে দেয়া যেতো, যাতে করে রোদের তাপটা সরাসরি গায়ে না লাগে! … কিংবা পুরো শহরটাকে যদি এয়ার কন্ডিশনড করে ফেলা যেতো! …

ঢাকা শহরটাকে নিয়ে এরকম অনেক ধরণের উদ্ভট সব চিন্তা আমার মাথায় সারাক্ষণ খেলা করে। যেমন, আমি ভাবি, শহরের একেকটা রাস্তা যদি একেকরকম রং হতো? মেইন রোডগুলো একরকম রং, গলিগুলো আরেকরকম! আবার গলির ভেতর দিয়ে যে ছোটো ছোটো আরও অনেক অলিগলি তারও একেকটা একেকরকম রং! … আবার রাস্তা না হোক, বিল্ডিঙগুলো হতে পারতো একেক রঙের! … আবার কিছু কিছু বাড়ির এক্সটেরিওর এমন হয় যে দেখে মনে হয় যদি বড় বড় ঘণ্টা ঝুলিয়ে দেয়া যেতো, আর বাতাস আসলেই সেগুলো একেক গুরুত্বে টুং-টাং-ঢং-ঢং আওয়াজ করতো! … আর বড় বড় দালানগুলোর ওপর থেকে বোগেনভেলিয়া, মানিপ্ল্যান্ট জাতীয় ঝুলন্ত গাছ থাকলে পুরো শহরের চেহারাই পাল্টে যেতো …

সত্যিকার অর্থে এগুলো মোটেই সম্ভব না, কিন্তু আমার এভাবে ভাবতে বেশ ভালো লাগে! … জীবনযাপনের প্রায় সবকিছু নিয়েই আমি প্রচণ্ড রকমের কল্পনাবিলাসী! … আমি ভালো গ্রাফিক্স এর কাজ জানলে আমার এই কল্পনাগুলোকে কাগজে-কলমে- সফটওয়্যারে ফুটিয়ে তুলতে পারতাম! … কিন্তু সেটা আমি করতে পারি না … লিখে লিখে এগুলো সবকিছু বর্ণনাও করা যায় না!…

তবে, সত্যি সত্যি যদি আমাদের চারপাশে এত রং, আর এত প্রকৃতি থাকতো, তাহলে মানুষের মন এমনিতেই ভালো হয়ে যেতো … তখন তারাও অনেক স্বপ্নবিলাসী হতো, ঝুঁকি নিতে ভয় পেতো না, নতুন কিছু করার জন্য সবসময়ই মাথার মধ্যে আইডিয়া গিজগিজ করতো, সময়ের দোহাই দিয়ে দায়সারা গোছের কাজ করতো না, কিংবা কথায় কথায় রেগে যেতো না, সহজ সরল চিন্তা থেকে কথা বললে সেটা নিজের গায়ে নিয়ে দশটা কথা শুনাতো না, কোনোকিছু ভালো লাগছে না বললেই টেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলতো না, ‘ আপনি এগুলা বোঝেন না বলেই এই কথা বলতেসেন?’ … কিংবা ‘এতই যদি বোঝেন, তাহলে নিজে করে দেখান!’ … স্বপ্নবিলাসী হতে পারাটা নিজের জন্য অনেক ভালো একটা বিষয়, কিন্তু দশজনের মধ্যে একজন সেরকম হলে হয়না, সবাইই যদি সেটা হয় তাহলে সবার জন্যই কাজগুলো অনেক সহজ আর ইন্টেরেস্টিং হয়ে যায় …

আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় আমার চারপাশে সবাই যদি তাদের নিজেদের ক্ষেত্রগুলোতে স্বপ্নবিলাসী হতো, কল্পনাবিলাসী হতো, আর সেটা নিয়ে অস্বস্তিবোধ না করে বরং ওই স্বপ্নবিলাস আর কল্পনাবিলাসকেই পুঁজি করে কাজ করতো, তাহলে আর কিছু না হোক, আশপাশটা অনেক রঙ্গিন হতো! … সবাই স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সেইসব স্বপ্ন নিয়ে বিলাসিতা করার সময় আসলেই তারা প্রচণ্ড বাস্তববাদী হয়ে যায়! … তখন তারা যুক্তি দিয়ে সবকিছু বিচার করা শুরু করে! …

কিংবা, আমারই হয়তো চোখ একটু বেশিই খারাপ, তাই সবকিছুর মধ্যেই অবাস্তব রঙ আর দৃশ্য দেখি … হয়তো আমারই চিন্তা একটু বেশিই যুক্তিহীন, সে কারণে মনে করি যে সবকিছুর মধ্যেই রঙ থাকবে, ফুর্তি থাকবে, সবকিছু ওয়েল-কম্পোজড হবে সেটাই স্বাভাবিক ! … আমি যে কোনো কিছুতেই বিষয়টার বা কাজটার নান্দনিকতাকে যতটা গুরুত্ব দেই , সবাই তো তা দেয় না! … বেশিরভাগ মানুষের কাছেই কাজটা হয়ে যাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ, সেটার নান্দনিকতা নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় বা শক্তি ব্যয় করার মানসিকতা তাদের নাই … কিন্তু, আমার এরকম অভ্যাসও আছে যে একটা কাজ করার করার পর সেটা যদি আমার কাছে সৌন্দর্য সাপেক্ষে ভালো না লাগে, তাহলে আমি সেটা আবার পুরোটা করি … যেমন, স্কুলে পড়ার সময় কি হতো … তখন তো সায়েন্স -এর ল্যাব খাতা থাকতো, সেখানে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট দিতো, আর বছর শেষে ওই খাতা জমা নিয়ে মার্কিং করতো … সারাবছর যাবৎ যে কাজগুলো করেছি, যে ছবিগুলো এঁকেছি সেগুলো সব আমি দুইদিন কি তিনদিন ধরে বসে বসে আবার করতাম তখন, নতুন আরেকটা খাতায় ! কারণ, পুরনোটা দেখে বছর শেষে আমার মনে হতো কিছু কিছু হাতের লেখা খুব খারাপ হয়েছে, কিছু কিছু ছবি আঁকা ঠিক হয়নি! … আর সুন্দর করে না লিখে, না এঁকে তো খাতাটা জমা দেয়া যায় না! … তাই আমি আবার সব লিখে, এঁকে, টিচারকে রিকোয়েস্ট করে আবার সবগুলা কাজে তার সিগনেচার নিয়ে তারপর খাতা জমা দিতাম! … এইরকম খুঁতখুঁতানি ভাব আমার এখনো রয়ে গেছে, যদিও এখন আশেপাশের মানুষদের ‘বাস্তবতা’র চাপে পড়ে আমাকে অনেককিছুই ত্যাগ স্বীকার করতে হয়! … অনেক ক্ষেত্রেই মুখ বুজে থেকে কষ্ট করে হলেও মানিয়ে নেই, অনেক জায়গায় অনেক কিছু করিই না, আবার কিছু জায়গায় নিজের অবস্থান অন্যের কাছে ‘হাস্যকর’ করে হলেও নিজের নান্দনিকতার খুঁতখুঁতানিটাকে টিকিয়ে রাখতে হয় …

আজকে একটা দুইটা করে কি কি জানি কয়েকটা জিনিস কিনলাম, তাতেই হাতে যেটুকু টাকা ছিলো তার সব শেষ … অবশ্য ছিলোই বা কত! হাজার দুই-এর মতো! … ভায়োলিন কিনতে হবে, রবিবারে বা সোমবারে কিছু টাকা পাবো আশা করি … ভায়োলিনটা কিনে ফেলতে পারলে একটু শান্তি লাগবে … যেই ভায়োলিনটা দিয়ে প্র্যাকটিস করি সেটা ভালো না … ওটা বাজাতেও ইচ্ছা করে না …

রাতে গোসল করার কারণেই কি না জানি না, ঘুম বলে যে একটা বস্তু আছে সেটা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে চোখ থেকে … এখন রাত বাজে তিনটা … এখনো আমার চোখে ঘুমের নাম গন্ধ নাই … কালকে সকাল সকাল উঠে আমাকে একগাদা ছবি এডিট করতে হবে! … তারপর সেগুলো প্রিন্ট করতে হবে … তারপর বিকালে পাঠশালার ফিল্ম ডিপার্টমেন্ট এ যেতে হবে ৪টার মধ্যে … সন্ধ্যায় আবার মহুয়া আপার সাথে দেখা করতে হবে … উনার সাথে যত দেরি করে দেখা হবে, ততই টাকা পেতে দেরি হবে! …

আজকে গেম খেলার নেশায় নতুন যোগ করেছি ফ্রুট নিনজা … এইটার নেশা অবশ্য নতুন না! … একটা সময় অনেক অনেক বেশি ছিলো … এমনও হয়েছে যে ফোন কিনতে গেছি, ফোনের মধ্যে ফ্রুট নিনজা ইন্সটল করা আছে দেখে খুশি হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ওই ফোনটাই নেবো! … এখন তো তাও এই নেশা বেশ শিথিল …

শিওর এখন আমি শুবো ঠিকই, কিন্তু একটার পর একটা সব গেমই লাইফ শেষ হওয়া পর্যন্ত খেলতে থাকবো … আজকে যদি ঘুমাতে ঘুমাতেই ৫টা বাজাই, তাহলে উঠবো কখন, আর এতগুলা কাজ শেষ করবো কখন! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s