দিনযাপন | ১২০৪২০১৫

মাঝে মাঝে মনে হোয়, কবে এমন যন্ত্র আবিষ্কার হবে যেখানে মুখে মুখে বললেই লেখা টাইপ হয়ে যাবে? … সেরকম যদি হতো, তাহলে সারাদিনে কতো কিছুই লিখে ফেলা যেতো! … এই যে এখন দিনযাপন লিখতে বসেছি , সেটাও এভাবে টাইপ করতে হতো না! …

আলসেমি আমার একটা বড় রোগ … ঠিক আলসেমি না … একধরণের ‘ ইচ্ছা করছে না’ ‘ভালো লাগছে না’ টাইপ আলসেমি … যেকোনো কাজ শুরু করার কয়েকদিন পরেই এই আলসেমিটা আমাকে পেয়ে বসে! … ধীরে ধীরে দিনযাপনেও পেয়ে বসতে শুরু করার একটা ভাব দেখতে পাচ্ছি! … কিন্তু সেটা হতে দেয়া যাবে না … অন্তত ৩৬৫টা দিন যাক! … রাব্বি তো একদিন খুব উৎসাহের স্বরে বলছিলো, ‘ এই দিনযাপনের লেখা যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে পাঁচ বছর পর যে কি দারুণ একটা জিনিস হবে! … পাঁচ বছর না হোক, অন্তত এক বছর পর এইটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় সেটাই আগে দেখা যাক …

আজকে সারাটা দিনে রিকশাওয়ালা আর সিএঞ্জিওয়ালাদের ওপর মেজাজ খারাপ করেই কাটলো …

দুপুরে বের হলাম, শঙ্কর যাবো … সনেটের বাসা থেকে ক্যামেরা নেবো … প্রচণ্ড রোদের মধ্যে একটাই খালি রিকশা পেলাম … সেই রিকশাওয়ালা হেভি ভাবসাব নিয়ে ৬০ টাকা ছাড়া যাবেই না বলেটলে রিকশায় উঠালো … ৬ নম্বরের মাথায় গিয়ে তার প্রশ্ন – ‘ এখন কি বাঁয়ে যাবো না সোজা?’ … ধারণা করলাম যে সে হয়তো চেনে না … কারণ শঙ্কর গেলে গ্রিন রোড দিয়ে যাবার উপায় নাই … হরতাল হইলে তাও মিরপুর রোড দিয়ে মাঝে মাঝে রিকশা যায় … জিজ্ঞেস করলাম, ‘চিনেন না?’ ~ ‘না, মানে, আপনার কোন দিক দিয়ে সুবিধা হয়, সেজন্য জিজ্ঞেস করলাম আর কি!’ … তারপর তাকে মোটামুটি কয়েকবার ডাইনে-বায়ে বলে দেয়া লাগলো ‘আমার কোন পথে সুবিধা’ সেটা জানানোর জন্য! … এই ব্যাপারটা আমার খুব অপছন্দের … রিকশায় উঠে যদি আমারই পুরাটা সময় রাস্তায় মনোযোগ দিয়ে বসে থাকা লাগে, আর রিকশাওয়ালাকে পথের দিশা বলে দিতে হয়, আমার কাছে তখন বিষয়টা খুবই বিরক্তিকর লাগে … তো, শঙ্করের মাথায় এসে সে যখন বাঁয়ে না গিয়ে ডান দিকে সিটি হসপিটালের দিকে বাঁক নিলো, আমার চূড়ান্ত মেজাজ খারাপ হলো … গজগজ করে তারে কতক্ষণ ঝাড়লাম … তাও সে স্বীকার করে না যে সে চেনে না! … বলে, ‘ না, আমি ভাবছিলাম ভেতর দিয়ে যাবো!’ … কই শঙ্কর বাসস্ট্যান্ড, আর কই মোহাম্মদপুর! …

শঙ্কর থেকে শিল্পকলা যাবার পথে সিএনজি নিলাম। শাহবাগ মোড়ে শিশুপার্কের সামনেই বসে রইলাম আধাঘণ্টা । তারপর আধা মিনিট আবার সিএনজি আগালো … ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট পর্যন্ত আসলো কোনোরকমে … তারপর আবার বিশ মিনিট আটকা … এর মধ্যে সিএনজিওয়ালা এমনভাবে সিএনজিটা রেখেছে যে পেছনের রিকশাগুলো যেতে পারছে না … দুইবার তিনবার করে রিকশাওয়ালারা তাকে অনুরোধ করে গেলো যে সে একটু ডান দিকে সরলেই রিকশাগুলা চলে যেতে পারে … সিএনজিওয়ালা খুব ভাব নিয়ে না শোনার ভান করে বসে রইলো … আমি একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘একটু জায়গা করে দিলে আপনার সমস্যা কি?’~ ‘ এহ! আমি তেল পুড়ায় ঘণ্টার পড় ঘণ্টা বসে থাকুম, আর রিকশাগুলা সব আগে আগে যাইব গা!’ … তার যুক্তিতে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো! … সে তেল পোড়ার দোহাই দেয়, আর রিকশাওয়ালা রিকশা চালায় গতর খাটিয়ে! … তার নিজের যখন জায়গা লাগবে তখন তো সামনের রিকশাদেরকে হর্ন বাজিয়ে অস্থির করে ফেলবে, নয়তো ধাক্কাই মেরে বসবে! …

আর আজকে রাস্তায় যে পরিমাণ ট্র্যাফিক জ্যাম ছিলো, তাতেই তো মেজাজ অর্ধেক খারাপ হয়ে ছিলো আমার! … ওই ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এর সামনে থেকে পরে হেঁটে হেঁটে শিল্পকলা পৌঁছেছি … শিল্পকলা থেকে বের হয়েও হেঁটে হেঁটেই গ্রুপে গেছি … তাও ভালো যে সঙ্গী হিসেবে গোপী ছিলো ফেরার পথে … একা একা হাঁটতে হইলে তো মেজাজ আরও খারাপ হয়ে যেতো … একে তো গরম, তার ওপর কোমর, পেট সব ব্যথা … আর একা একা হাঁটার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমি প্রচণ্ড রকম বেখেয়াল হয়ে যাই আর আমার খুবই বোরিং লাগে … গান শুনতে শুনতে হাঁটাটা তাও ভালোই লাগে, কিন্তু এখন তো আমার হেডফোন নাই … ফলে একান্তই নিরুপায় না হলে একা একা হাঁটার কথা চিন্তাও করি না …

ঊর্নাজাল-এর শো ছিলো আজকে … প্রথম শো -এর পর নিজে থেকেই বকুল ভাইকে বলেছিলাম ছবি তুলে দেবো নাটকটার … দ্বিতীয় শো-তে সেই সুযোগ হয়নি, আজকে তৃতীয় শো-তে সেটা করে নিলাম … বকুল ভাইয়ের ডিরেকশনের নাটকে যেটা হয় যে ভিজ্যুয়াল ডিজাইন খুব সুন্দর হয়, অনেক ইল্যুশন থাকে … ফলে শুধুমাত্র দৃশ্যকল্পের জন্যই তার নাটকগুলা দেখতে ভালো লাগে … ছবি তুলতেও … নাটকের কাহিনী, ভাবধারা, অভিনয় এইসব যাবতীয় বিষয় নিয়ে কথাবার্তা তো আলাদা বিষয় … সেই বিচারে নাটকের নান্দনিক দৃশ্যকল্পকে কিছু অংশে ফেলা যায়, আবার কিছু অংশে সেটা সম্পর্কিত থাকে না … ঊর্নাজাল নাটক হিসেবে কেমন, সেই আলোচনা না হয় অন্য কোথাও করা যাবে! এইখানে আমার নাট্যজ্ঞান জাহির করার দরকার দেখছি না! …

কাল চৈত্র সংক্রান্তি, পরশু বৈশাখ … অথচ এবার এগুলা নিয়ে আমার মধ্যে কোনও উৎসাহ উদ্দীপনা কাজ করছে না … কোথাও যাবো কি না তাও ঠিক জানি না … কাল হয়তো এক ফাঁকে চারুকলায় ঢুঁ মারবো … রাতে থাকা হবে না … আবার পরশু দিনও বুয়েটের দিকে যাবো ভেবে রেখেছি, কিন্তু বাকি আর কিছু এখনো ভাবিনি … তারকা-য় খেতে যাবো বলে একটা তাল উঠালাম, এখন নিজেরই উৎসাহে ভাটা পড়েছে … একে তো দূর, তার ওপর শরীরের অবস্থাও কাহিল … এইরকম ব্লিডিং, পেতে ব্যথা, কোমর ব্যথা নিয়ে অন্তত দূরপাল্লার যাতায়াত এর মধ্যে আমি নাই … আর একটা দিন পরে হইলেও ব্লিডিং অনেকটা কমতো … কিন্তু এবার এমন একটা সময় এই চৈত্র সংক্রান্তি আর পহেলা বৈশাখ পড়লো …ইহাই জীবন …

জীবনের রসবোধ বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে …

আর, আপাতত, ঘুম ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছি না … চাচ্ছিও না … ইতিমধ্যেই একপ্রস্থ ঘুমিয়েও পড়েছিলাম … সুতরাং, দিনযাপন শেষ করে দিয়ে ফুল কোর্স ঘুমের প্রতি মনোনিবেশটাই এখন জরুরি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s