দিনযাপন | ১৫০৪২০১৫

গতকালকে ধুলাবালির মধ্যে হাঁটাহাঁটির জন্যই কি না জানি না, গতকাল রাতে বাসায় ফেরার পর থেকেই কেমন জানি নাক, গলা খুসখুস করতেসে … ক্রমাগত চোখ জ্বলতেসে আর আমি নাক টানতেসি … যাবতীয় ঠাণ্ডা, জ্বর, সাইনাসাইটিস ইত্যাদি ইত্যাদির ওপর রীতিমতো বীতশ্রদ্ধ হয়ে যাচ্ছি … একটা মানুষের কি সারাবছর ঠাণ্ডা, জ্বর লেগে থাকতে পারে? … নিজের কাছেই অসহ্য লাগা শুরু হয়েছে বিষয়টা …

এখন আমার অসুস্থ হবারও উপায় নাই … কালকে পাঠশালার প্রোগ্রাম, উনিশ তারিখ মায়ের মুখ, একুশ তারিখ গ্রুপের ইভেন্ট, চব্বিশ তারিখ গ্রুপের গানের প্রোগ্রাম … এত কিছুর আয়োজনে অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে থাকলে চলবে না …

অসুস্থ থাকাটাই এখন একটা অসুস্থতার পর্যায়ে পড়ে গেছে বোধহয়! …

আজকে অনেকদিন পর দুপুর বেলা খুব আলসেমি করতে করতে আয়নার সামনে বসে বসে দুই বেণী করলাম … বেণী দুইটার শীর্ণ দশা দেখে প্রচণ্ড কান্না আসলো … চুল পড়তে পড়তে এমন অবস্থা হয়েছে যে এখন মনে হয় দুই গোছা সামান্য চুল মাথায় নিয়ে ঘুরছি … অথচ একসময় কি ঘন চুল ছিলো আমার! … হরমোনাল ইমব্যালেন্স এর জন্য তো এই দুই কি তিন মাস আগেও মুঠো ভর্তি করে চুল পড়েছে … ওই সময় চুল পড়ার বিষয়টা স্বাভাবিকই ছিলো … কিন্তু পরিমাণটা ছিলো এমন যে মনে হতো মাথা বুঝি টাক-ই হয়ে যাবে! … চুলের রুক্ষতা তাও অনেকটা ঠিক হয়েছে গত একমাসে … কিন্তু ঘনত্ব পুরাই ডিজাস্টার …

এবারের গরমে চুল বড় করবো বলে ভাবছিলাম … এই চুল বড় করার কোনো মানেই হয়না … আমি শুকনা-পাতলা গড়নের হলে এতদিনে বয়কাট মেথডে চলে যেতাম … কিন্তু এখন এই গড়নে বয়কাট দিলে আরও কয়েক কেজি বেশি ওজন মনে হবে নিজের …

আ ম্যান ফর অল সিজন্স -এর শোটা ভালোই হলো আজকে … সনেটের ক্যামেরাটা এখনো ফেরত দেয়া হয়নি … ফলে ছবি তোলার একটা সুযোগ নিয়ে নিলাম … এই নাটকের ভালো ছবি নাই আমার তোলা … শো-ই তো হয় দুই বছরে একটা কি দুইটা! … আর আগে যখন তুলেছি, তখন তো থিয়েটারের ছবি তোলায় সিদ্ধহস্ত হইনি … ফলে ছবিগুলো ভালোও হয়নি … আজকে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছবি তুলেছি … কিছু ছবি একদম মনমতো …

আমার মাঝে মাঝে এইটা চিন্তা খেলা করে মাথায় যে ‘সে’ কি আমার দিনযাপন পড়ে? সে কি আদৌ জানে আমি দিনযাপন বলে একটা কিছু লিখি, সেখানে তাকে নিয়েও লিখতে ছাড়ি না? … দিনযাপন পড়লে তার প্রতিক্রিয়া কি হবে আমার মাঝে মাঝে খুব জানার ইচ্ছা হয় … গত কয়েকদিনের বিভিন্ন আয়োজনে, তার বন্ধুদের বিভিন্ন আড্ডার ছবিতে তাকে দেখিনাই … হয়তো ঢাকায় নাই, হয়তো বাড়ি গেছে … কয়েকদিন আগে তার বড় ভাই/বন্ধুদের সে খাইয়েছে এইরকম একটা ব্যাপার স্যাপার চোখে পড়লো তার এক বন্ধুর সেলফির কল্যাণে … হাস্যকর হলেও সত্য যে ছবিটা দেখে আমার প্রথম এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছিলো যে ও যদি খাওয়ায়, তাও একসাথে পাঁচসাত জনকে, সেই টাকাটা ও কার থেকে নিলো! নিজে তো ইনকাম করে না … আমি থাকতে তো ওর ব্যাঙ্ক আমিই ছিলাম! এখন কার থেকে টাকা নিয়ে চলে কে জানে! …

তার প্রতি আমার ভালোবাসা, ঘৃণা কিছুই না থেকে যদি অনুভূতিশূন্য হয়ে থাকতে পারতাম, সেটা সবচেয়ে ভালো হতো … ঘৃনাবোধ থেকেও সারাক্ষণ এটা সেটা ঘটনায় তার সাথে সময়যয়যাপনের কথাগুলা মনে হয়ে যায় … অনুভূতি না থাকলে স্মৃতিও ভোঁতা হয়ে যেতো আস্তে আস্তে … তখন আর মনেও পড়তো না ‘অমুক’ নামে কেউ ছিলো আর তার সাথে এটা হয়েছিলো, ওটা হয়েছিলো …

এই ভাবনাগুলোই এখন বিরক্তিকর … মাথায় যন্ত্রণা বাড়ায় … ইদানীং আমার ক’জন সঙ্গি – সাথী  প্রেম -ভালোবাসা-সম্পর্ক এসব নিয়ে আমার সাথে ‘নির্মল’ আনন্দদায়ক ফাজলামি করে … আমাকে নাকি একটা বিন্দাস লাইফের দিকে ঠেলে দেবার প্রজেক্ট নিয়েছে তারা … হোক আরেকটি ভুল! … তারা ভুল করে অভ্যস্ত বলে হয়তো তারা খুব সহজেই আমাকেও ঠাট্টাচ্ছলে এটা সেটা বলে ফেলে … কিন্তু আমি এরকম ভুল করায় অভ্যস্ত নই … এমনকি ‘তার’ সাথে আমার যা যা হয়েছে, সেইগুলাও আমার কাছে অনেক বড় ধাক্কা কারণ এগুলাকে ‘ জীবনের চলার পথে একটি ভুল’ বলে ভেবে নিয়ে ‘কি আছে জীবনে’ বলে সামনে চলতে শুরু করার মতো স্মার্ট আমি নই … ফলে তাদের নিছক নির্মল ফানগুলাও আমার গায়ে কাঁটার মতো বিঁধে যায় মাঝে মাঝে … খুব অস্বস্তি হয় … নিজের জন্য অস্বস্তি হয়, কারণ আমি জানি না কিভাবে স্মার্টলি এসব ফাজলামিগুলোকে গায়ে না লাগিয়ে ‘হা হা হি হি’ করে ‘সুপার কুল’ থেকে চলতে হয় … আবার যাকে নিয়ে ফাজলামিটা হয়, তার সাথে স্বাভাবিক একটা আচরণ করতেও অস্বস্তি হয় … কারণ আমার মনের মধ্যে সারাক্ষণ এই চিন্তা ঘুরপাক খায় যে এই বুঝি একটা কিছু ফাজলামি কথা বলে বসলো আমার সেই সঙ্গী-সাথীরা … যাকে নিয়ে ফাজলামিটা করছে, তার আসল প্রতিক্রিয়াটা তো আমি বুঝি না, ফলে আমার অস্বস্তি আরো বেড়ে যায় … আবার, যাকে নিয়ে ফাজলামিটা হয়, সে আমার অনেক পছন্দের একজন সঙ্গ, তার সাথে এটা-সেটা নিয়ে অনেক অনেক কথা বলা যায়, অনেক অনেক যুক্তি তর্কে মিলে, আবার না মিললেও সেই অমিল নিয়েই কথা বলা যায় … হয়তো এই অস্বস্তির চোটে সেটাও একসময় বন্ধ হয়ে যাবে …

সবকিছুই ক্যামন জানি জটিল লাগে আমার কাছে …

নাকি আমি নিজেই অনেক জটিল? …

আমার কাছে নিজের জীবন যাপনের চিন্তাগুলো অনেক বেশিই সরলরৈখিক মনে হয় …

কিন্তু সবার জীবনযাপন দেখে মনে হয় যে আমিই হয়তো ভাবছি তারা অনেক জটিল, কিন্তু আসলে তারাই অনেক সোজা-সাপ্টা … হইলে হইলো, না হইলে নাই টাইপ চিন্তাভাবনা নিয়ে চলে … আর আমিই ‘কি হইলো’ ‘ কেন হইলো’ ভেবে ভেবে এক জায়গায় আটকায় থাকি …

হয়তো ট্রায়াল অ্যান্ড এরর মেথডের সম্পর্কযাপনই এখনকার জামানার চল … আমিই এখনো আপডেটেড হইতে পারি নাই … মান্ধাতার আমলের ভার্সনেই পড়ে আছি …

 কি জানি কি! … এগুলা নিয়ে ভাবতে গেলে নিজেকে অনেক হতাশ লাগে … বিষণ্ণতা আবার আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠে …

মাথায় কেমন একটা যন্ত্রণা … তীব্র যন্ত্রণা …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s