দিনযাপন | ১৭০৪২০১৫

গতকালকে ইচ্ছা করেই দিনযাপন লিখি নাই … আসলে লেখার মতো কিছু আছে বলে মনে হচ্ছিলো না … গতকালকে সারাটা দিন মোটামুটি পাঠশালার সিনেমা ডিপার্টমেন্ট-এই কেটেছে … পাঠশালা সিনে ক্লাব এর এক বছর পূর্তির প্রোগ্রাম ছিলো … এইটা নিয়ে আসলে কি আর এমন লিখতাম! একটা গেট টুগেদার এর মতো প্রোগ্রাম ছিলো আর কি! সেখানে সবার সাথে সবার চেনা পরিচয় হইলো, তারপর সিলেক্টেড কিছু শর্টফিল্ম দেখানো হইলো … আমাদেরই কাজ, বিভিন্ন ব্যাচের বিভিন্ন স্টুডেন্ট-এর…তারপর গান বাজনা, খাওয়া দাওয়া … এগুলা নিয়ে তো আসলে একদিনের পুরো একটা দিনযাপন লিখে ফেলা যায় না!

আর ক্লান্তও লাগছিলো কালকে … দুপুরে গরমের মধ্যে কাঁটাবন ঘুরে তারপর পাঠশালায় গেছি … সেখানে গিয়েও দৌড়ের ওপর ছিলাম প্রায় পুরোটা সময়ই … ডেকোরেশন … তারপর আবার নোবেল ভাইরা গান গাইবার জন্য গিয়েছিলো, তাদের সাথে সময় দেয়া … ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে বাসায় ফেরা … তারপর  আবার সেন্ট্রাল রোড থেকে হেঁটে হেঁটে শাহবাগ গেছি … সবমিলায় বাসায় ফেরার পড় অনেক বেশিই ক্লান্ত লাগছিলো …

আমি ফিল্মমেকিং কোর্স করার সময় ফাইনাল প্রজেক্ট হিসেবে যেই কাজটা করেছিলাম, সেটাও ছিলো সিলেক্টেড ফিল্মগুলোর মধ্যে … নিজের কাজ এভাবে সবার সাথে বসে দেখতে বেশ অস্বস্তি লাগছিলো … কিন্তু অনেকদিন পর কাজটা দেখতে গিয়ে মনে হলো যে ফাইন টিউন করা গেলে কাজটা আসলে বেশ ইমোশনাল একটা কাজই হবে! অনেক পুরনো স্মৃতির সাথে এসোসিয়েটেড বলেই কি না জানি না, আমার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছিলো কাজটা দেখতে দেখতে … অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রাখলাম …

কাজটার ফাইন টিউন করা হয়নাই … এডিট-এ এখনো অনেক আনাড়িপনা আছে … অনেক জায়গায় অনেক কিছু অদলবদলের বিষয় আছে … সেগুলো করে ফেলতে পারলে কাজটাকে সবার কাছে উন্মুক্ত করে দেয়ার আত্মবিশ্বাস পেতাম … ল্যাপটপেই কিন্তু আছে প্রজেক্ট ফাইলটা! … খালি এক-দুই ঘণ্টার কাজ … কিন্তু সেই জুন মাসে কাজটা জমা পর আজ অবধি আলসেমির চোটে সেই কাজটুকু করা হয়নাই …

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞেস করে, তুমি তো চাইলেই এখন ছোটোখাটো আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে পারো! করো না কেন? … সবার জন্য আমার একটাই উত্তর থাকে, ‘আলসেমি’ ! …

আজকে সকাল বেলা কথা নাই বার্তা নাই হঠাৎ এমন কোমর আর পেট ব্যথা শুরু হলো, মনে হচ্ছিলো মরেই যাবো … পানি থেকে তুলে এনে মাছকে ডাঙ্গায় ছেড়ে দিলে যেমন তড়পায়, আমিও ঠিক সেভাবেই বিছানায় শুয়ে তড়পাচ্ছিলাম … লম্বা হয়ে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার একটু আরাম পেলাম … তখন বাজে সকাল ১০টার মতো … ওভাবে শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়েই গেলাম … উঠে দেখি বিকাল ৪টা … আমার আজকে ভায়োলিনের ক্লাস করার কথা, মহুয়া আপার বাসায় যাবার কথা … সেগুলা কোনটাই আর করা গেলো না …

ঘুমটা ভেঙেছে খুব অদ্ভুতভাবে! স্বপ্ন দেখছিলাম একটা কিছু … কোথাও ঘুরতে গেছি দলবেঁধে … সেখানে আবার নেপাল থেকে সৌর আর জুপিটারও চলে এসেছে! … হঠাৎ করেই কার জানি ফোনে ভাইব্রেশন শুরু হলো … ফোন খুঁজেই যাচ্ছি … কিন্তু যার ফোনই চেক করছি, কোনটাতেই ভাইব্রেশন হচ্ছে না … ভাইব্রেশনের মাত্রা বাড়তে বাড়তে হঠাৎ চোখ মেলে তাকালাম … তারপর একটা আধো ঘুম অবস্থায় টের পেলাম ভাইব্রেশনটা আমার ফোনেই হচ্ছে … এই অনুধাবনের সাথে সাথেই ‘আয় হায়! ঘুমিয়ে পড়লাম কখন!’ টাইপ একটা অস্থিরতা নিয়ে ঘুম ভেঙ্গে গেলো …

ইদানীং অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখি … যুক্তিছাড়া স্বপ্ন …

প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে ঘুমাই যখন, তখনই এসব স্বপ্ন দেখি … মাথা ব্যথার সাথে এসব স্বপ্নের কোনো যোগাযোগ আছে? …

স্কুলে পড়ি যখন, ক্লাস নাইন কি টেন-এ, তখন একটা ডাইরিতে স্বপ্ন লিখে রাখা শুরু করেছিলাম। প্রতিদিন যা যা স্বপ্ন দেখতাম, সেটা যতটুকু মনে থাকতো লিখে রাখতাম … অনেকদিন পর পর যখন পড়তাম আবার, বেশ মজা লাগতো …নিজের মতো করেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা তৈরি করার চেষ্টা করতাম … অবচেতন মনে কি কি চিন্তা কাজ করতে পারে সেটা ভাবতাম … তখনো আমি সাইকোলজি কি জিনিস, ড্রিম অ্যানালাইসিস বলে যে আসলেও একটা কিছুর প্র্যাকটিস আছে সে সব জানিই না! … আর তখন তো এখনকার মতো হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট ছিলো না … ইনফ্যাক্ট তখন কম্পিউটারই তো থাকতো না সবার বাসায় … ফলে সেসব সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণার কোনো স্কোপ ছিলো না … তবুও এখন মনে হয় যে নিজে নিজেও সে সময় কম গবেষণা করিনাই! …

আজকে আর লিখতে ভালো লাগছে না …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s