দিনযাপন | ২০০৪২০১৫

গত দুই/তিন দিন যাবৎ প্রতিদিন একটা করে মুভি দেখা হচ্ছে। অনলাইনেই মুভি দেখার ব্যবস্থা। সময় কাটানোর জন্য মুভি দেখাটা সবচেয়ে বেস্ট উপায়, অন্তত আমার কাছে । এখন থেকে প্রতিদিন একটা করে সিনেমা দেখবো বলে ভাবছি … আজকে দুপুরে যেমন দেখছিলাম ‘দ্যা থিওরি অব এভরিথিং’ , আর এখন বাসায় ফিরেই ‘দ্যা টেল অব প্রিন্সেস কাগুআ’ ছাড়লাম। এই মুভিটা আগেই অর্ধেক দেখেছিলাম, কিন্তু শেষ করা হয়নি। ছবিমেলার সময় সাদমানের ল্যাপটপ থেকে প্রজেক্টরে দেখতে শুরু করেছিলাম, তারপর রূপার ইন্সটলেশনের কাজ করতে করতে পরে আর শেষটা দেখার সুযোগ হয়নি। আজকে মুভিটা শেষ করার প্রবল ইচ্ছা মাথায় জেগেছে …

দ্য টেল অব প্রিন্সেস কাগুআ জাপানিজ অ্যানিমেশন ফিল্ম, স্টুডিও গিবলি’র। জাপানিজ অ্যানিমেশন এর প্রতি আমার যেই অগাধ প্রেম, মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমি জাপান চলে যাই, আর ওইরকম অ্যানিমেশন সিনেমায় যেমন দেখায়, সেরকম সুন্দর একটা জায়গা খুঁজে বের করে সেখানে থেকে যাই! … জাপানিজ আর্ট আমার অনেক পছন্দের … ওদের পেইন্টিং-এ ক্যামন একটা স্নিগ্ধতা আছে! … অ্যানিমেশনগুলাও যেন একেকটা পেইন্টিং! … ওদের গ্রাফিক্সগুলো কি সিম্পল, অথচ কি সুন্দর! … জীবনে আর কিছু করি বা না করি, একবার জাপান যেতে পারলে আর ওরকম ছবির মতো সুন্দর একটা জায়গায় ঘুরে আসতে পারলে মনে হয় এরকমও ভাবতে শুরু করবো যে জীবনে আর কিছুই চাই না! … সাকুরা ফুলের একটা গাছের নিচে ছোটো একটা কুঁড়েঘর, আর সামনে বিশাল প্রান্তর … এরকম একটা জায়গা হলে জীবনে আর কি লাগে!

ওয়ানপিস নামে একটা অ্যানিমে সিরিজ আছে। সেখানে একটা পর্ব ছিলো যে এক সায়েন্টিস্ট সাকুরা বোম বানিয়েছিলো … সেটা যখন ফাটানো হলো তখন উঁচু একটা বরফে ঢাকা পাহাড়ের ওপর থেকে সাকুরা ফুলের হাজার হাজার গোলাপি পাপড়ি ঝরে পড়তে লাগলো … ওই পর্বটা দেখতে দেখতে আমার মনে হয়েছিলো, এই দৃশ্য যদি কোনোদিন আমার নিজের চোখে দেখার সুযোগ হতো, তাহলে আমি নিশ্চিত যে এত সুন্দর একটা দৃশ্য দেখার আনন্দ সহ্য করতে না পেরে পাগলই হয়ে যেতাম!

স্টুডিও গিবলি’র সব অ্যানিমেশনগুলা দেখে শেষ করার একটা প্রজেক্ট নেবো ভাবছি … একেকদিন একেকটা করে দেখতে থাকবো … 

অনেকেই দেখি যে অ্যানিমেশন মুভি, এমনকি অ্যানিমেশন সিরিজগুলা পর্যন্ত দেখতে পছন্দ করে না। এগুলা তাদের কাছে বাচ্চাসুল্ভ মনে হয়। অথচ আমার কাছে অ্যানিমেশন মুভি পছন্দের তালিকার শীর্ষে … গত পরশুদিনও একটা দেখলাম, ‘হোম’ … কাহিনী খুবই সিম্পল, কিন্তু ক্যারেক্টারাইজেশনগুলা বেশ মজার …

যারা এই অ্যানিমেশন মুভিগুলা বানায়, তাদের কল্পনাশক্তি কতটা প্রখর, সেটা ভাবতেই তো তাদের প্রতি গভীর একটা ভালো লাগা তৈরি হয়ে যায় … আর খালি মনে হয় যে ‘ আমিও যদি ওইরকম হতে পারতাম!’ … আমার কল্পনাশক্তি বেশ ভালো, কিন্তু আমি সেগুলোকে ফুটিয়ে তুলতে পারি না … যেটুকু আঁকতে পারি, তাতে করে কোনো ক্যারেক্টার ডেভেলপ করা সম্ভব হয় না, আর দৃশ্য তো বাদই দিলাম! … গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন জানলে হয়তো কিছুটা করা যেতো! …

আজকে অনেক তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছি! সাড়ে দশটা বাজতেই … তাই দিনযাপনও তাড়াতাড়ি লেখা হয়ে যাচ্ছে … অন্যদিন ৩টা কি ৪টা বাজলে দিনযাপন পোস্ট করা হয়, আজকে মনে হচ্ছে একটা বাজার আগেই সেটা পোস্ট করা যাবে … তাতে অবশ্য ভালো, বেশি মানুষের চোখে পড়বে! …

আজকে মুভি দেখে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো ভাবছি … ঘুমালে অন্তত শরীরটা ভালো লাগে … বিশ্রাম পায় বলেই হয়তো সাময়িকভাবে চাঙ্গা বোধ হয় … সকালে উঠে বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে … তারপর একটা চাবি দেবার জন্য ইউপিএল -এর অফিসে যেতে হবে। অবশ্য আমার একসেট কাপড়ও রয়ে গেছে ব্যাক-অফিসে। সেটাও এই উছিলায় নিয়ে আসা যাবে … তারপর যাবো উত্তরা … রাস্তাঘাটের কি অবস্থা থাকে কে জানে! … একে তো গরম, তার ওপর যদি জ্যাম থাকে তাহলে তো আমার অবস্থা কাহিল হয়ে যাবে …

ধানমণ্ডি এলাকায় বাসা খুঁজছি … আজকে মহুয়া আপার বাসায় গিয়ে উনার পাশের বাসাটা পছন্দ হয়ে গেলো … বারান্দাটা এত সুন্দর! … কিন্তু মনে হয় না ওটা নেয়া হবে … আমরা এখন পর্যন্ত তিনজন থাকবো কনফার্ম, কিন্তু তিনজনে মিলে ২০,০০০ টাকা ভাড়া দেয়াটা কঠিন হয়ে যাবে। আরেকজন সাথে থাকলে সাহস পেতাম। দেখা যাক কি হয় … আমাদের তো যেকোনো সময় মিরপুরে চলে যাবার তোড়জোড় করতে হবে … কিভাবে যে কি হবে তখন ! …

একসময় প্ল্যান করেছিলাম স্কুটি কিনবো। টাকা জোগাড়ও করেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহুর্তে আর কেনা হয়নি … পরে ভাবছিলাম একটা সাইকেল কিনে নেবো … কিন্তু এখন শরীরের যে অবস্থা, তাতে সাইকেল চালানোটা বরং আরো অসুবিধাজনক হয়ে যাবে … স্কুটি কেনার প্ল্যানটা আবার মাথায় নেবো কি না ভাবছি … তাহলে আর মিরপুর টু কাঁটাবন যাওয়া আসা নিয়ে চিন্তা থাকবে না … রাস্তায় অনেক মেয়েকেই দেখি স্কুটি চালাচ্ছে … আমারও তখন ইচ্ছা হয় যে কিনেই ফেলি স্কুটিটা! … তাহলে আর পয়সা খরচ করে চলাফেরার চিন্তাও থাকবে না …

কিন্তু, স্কুটি কিনবো বলে যে প্ল্যানটা করবো … টাকা পাবো কই? …

যে পরিমাণ দেনার মধ্যে ইতিমধ্যেই পড়ে আছি, তাতে করে আর ধার করার কোনো ইচ্ছা নাই … আবার এমন কোনো কাজও করছি না যে স্কুটি কেনার পয়সা উঠে যাবে …

সুতরাং, স্কুটি ব্যাপারটাও এখন ‘ ইস! যদি থাকতো’ টাইপ হতাশামূলক ইচ্ছাতালিকায় অন্তভুর্ক্ত হয়ে গেলো …

স্বপ্নগুলো স্বপ্ন হয়েই রয় বটে ! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s