দিনযাপন | ২১০৪২০১৫

একবছর আগের ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিলো, ‘ … একজন আদরের কাঙ্গাল’ … কি জানি একটা মন খারাপ করা ঘটনায় এটা লিখেছিলাম … ‘তাকে’ বোঝাতে চেয়েছিলাম যে তার কাছ থেকে আমি একটু হলেও আদরমাখা আচরণ আশা করি … আজকে একবছর পর আবারো মনে হচ্ছে, আজকেও আমার এই একই কথা স্ট্যাটাস বক্সে লিখবার মতো মানসিক অনুভূতি … খালি পার্থক্য এটাই যে মানুষটা এখন আর সে কিংবা নির্দিষ্ট কেউ নয় … হয়তো আশেপাশের সবাই … নিজেকে ইদানীং অনেক বেশি নাজুক মনে হয় … মনে হয় যে একটু সামলে না রাখলেই ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাবো … কিন্তু নিজেকে তো নিজে কখনোই সামলে রাখতে পারি না … নিজের খেয়ালটাও নিজে রাখতে ভুলে যাই … নিজেকে সামলাতে, কিংবা নিজের দিকে খেয়াল রাখতেই যদি পারতাম, তাহলে আজকে হয়তো আর আমি একজন প্রচণ্ড বিষণ্ণ প্রজ্ঞা ‘বেঁচে আছি এই তো অনেক’ বলে বলে প্রতিদিনের জীবন যাপন করতাম না …

সামান্য ব্যাপারেই কান্না পাওয়া, কেঁদে ফেলার একটা বদভ্যাস ছিলো অনেক আগে। সেইটা মনে হয় আবার ফিরে আসছে … আমার ধারণা ছিলো ওই অভ্যাসটাকে আমি চিরতরে পাল্টে ফেলতে পেরেছি … কিন্তু কি আর করা! স্বভাব তো আর কখনো যায় না! … আমার স্বভাব, আমার স্টাইল … আমি যা আমি তাই … এটাই আমি … এইসব এইসব আর কি! …

আজকে গ্রুপের কর্পোরেট ইভেন্টের শো-তে গিয়ে এইরকম করে বসলাম আর কি! … গত দুইদিন যাবৎ-ই প্রচণ্ড মন-মেজাজ খারাপ, তার একটা প্রভাব তো আছেই … সবাই রিহার্সাল শেষে খাওয়া-দাওয়া করছে … বিরিয়ানি … আমি দুপুরে ভাত খেয়ে গিয়েছি, ফলে বিকাল বেলাতেই আবার বিরিয়ানি খাবো কি না সেটা নিয়ে কনফিউজড ছিলাম … এদিকে ক্ষুধাও লেগেছে … ইদানীং কি জানি হয়েছে, ভরপেট খাওয়ার পরও ঘণ্টা দুই-এক এর মধ্যেই আবার ক্ষুধা পেয়ে যায় … তো যাই হোক, তখন আর নিজে হাত দিয়ে খেতে ইচ্ছা করছিলো না … অসুস্থ শরীরটা নিয়ে যে বসে আছি তাই অনেক মনে হচ্ছিলো … ভাষা পাশেই বসে খাচ্ছিলো, ওর কাছে আবদার করলাম খাওয়ায় দেয়ার জন্য … ও-ও নিজের খাওয়া শেষ করে আমাকে একটু একটু করে খাওয়ায় দিচ্ছে, এর মধ্যে কস্টিউম না পরে কেন এভাবে আমাকে খাওয়ায় দিচ্ছে, কে বলেছে খাওয়ায় দিতে এসব নিয়ে ওকে বকা শুনতে হলো … আমার কেন জানি প্রচণ্ড গায়ে লেগে গেলো বিষয়টা … মনে হইলো, এইরকমই হয়! আমি একটু একটা জিনিস আবদার করলাম, আবার আমার কারণেই একজন তো কথা শুনলোই, আমারও আহ্লাদটা পাওয়া হইলো না … চোখের পানিটা নিয়ন্ত্রণ করার বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে বের হয়ে গেলো … রানা তখন পাশে বসা … সে তখন এই আহ্লাদিপনার দায়িত্ব নিলো … ওরে আবার কখন এসে কে বকাঝকা করে, সেই কারণে পরে ফরহাদ এসে খাওয়ায় দেয়ার কাজটা নিয়ে নিলো … আমার তখন ক্যামন লজ্জা লাগছিলো … ইমোশনাল হয়ে গিয়ে কতগুলা মানুষকে বিপদে ফেলে দিলাম! … এখন এসে আমাকে প্যাম্পারিং করতে হচ্ছে! … আবেগ জিনিসটা কখনোই কেন যে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে না! …

কি যে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে আছি … পেটে ব্যথা, কোমরে ব্যথা তাও সহ্য করে নেয়া যায় … কিন্তু হঠাৎ করেই দুই-তিনদিন যাবত লাগাতার যদি ব্লাডারের প্রচণ্ডরকম নিম্নমুখী চাপ নিয়ে চলতে হয়, আর সারাক্ষণই একটা অস্বস্তিকর ব্যথা, জ্বালাপোড়া টাইপের অনুভূতি নিয়ে চলতে হয়, তাহলে কিছুই কি ভালো লাগে? … এইটা যে ঠিক কি কারণে হচ্ছে! টিউমারটাই আরও বড় হয়ে গিয়ে ব্লাডারে চাপ দিচ্ছে, নাকি ইউরিন ইনফেকশনই হয়েছে সেটা বুঝতে পারছি না … সিম্পটমগুলোর অনেককিছুই ইউরিনারি ইনফেকশনের সাথে মিলে যায়, আবার টিউমারের কারণেও নাকি এরকম হয় সেটাও একটা ফ্যাক্ট …

আগামীকাল পর্যন্তও একই অবস্থা থাকলে ডাক্তারের কাছে যেতেই হবে …আজকে সকাল থেকে ব্লাডারের প্রচণ্ড ব্যথায় কাতরেছি … তারপর কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে একটু আরাম পেলাম … বাড্ডা যাবার কথা ছিলো, সেটা হয়নাই … ভাবলাম গ্রুপের সবার সাথে বাসে করে চলে যাবো, কিন্তু ঘুম ভেঙ্গে দেখলাম অলরেডি ২টা বাজে … বাস ছাড়ার কথাই ২টা সময় … পরে একা একাই সিএনজি নিয়ে রওয়ানা দিলাম … একবার ভাবছিলাম না যাই … আমার কাজ তো খালি ছবি তোলা … সেটা না হয় আর কেউ করে নেবে … কিন্তু যাবার ইচ্ছাটাই এত প্রবল ছিলো যে নিজের মনকে মানিয়ে নিলাম … রাস্তায় প্রচণ্ড ট্র্যাফিক জ্যাম আর গরম ঠেলে যেতে যেতে মনে হলো আরও অসুস্থ হয়ে গেলাম … রাস্তায় যাবার পথে দেখলাম গোপীও একা একা সাইকেল চালায় যাচ্ছে … ও যাবে জানতাম না, না হলে হয়তো ওর সাথে যোগাযোগ করে একসাথে নিয়ে যেতাম … কত লম্বা রাস্তা এই গরমের মধ্যে ছেলেটা সাইকেল চালায় গেছে! আর সিএনজি হোক, বা গাড়িই হোক, এত লম্বা রাস্তা একা একা যাওয়াটাই আমার জন্য অনেক পেইনফুল … একা একা সিএনজি-তে বসে থাকতে হলে খুব বোর লাগে, অনেক ধরণের চিন্তা মাথায় খেলা করতে থাকে, বিশেষ করে যেসব চিন্তা ভুলে থাকতে চাই … সাথে কেউ থাকলে তো আর ওসব চিন্তা করার সুযোগই পাই না …

আজকে সকাল থেকে একটা ব্যাপারে নিজেকে প্রচন্ডভাবে রেজিস্ট করলাম … ‘তার’ যে বন্ধুস্থানীয় ডাক্তার বড়ভাই তাকে ‘বিপদ থেকে উদ্ধার পাবার জন্য’  সবচেয়ে সুযোগ্য পরামর্শটা দিয়েছিলো, সবচেয়ে বেস্ট অপশনের খোঁজ দিয়েছিলো, সেই বন্ধুস্থানীয় বড়ভাই মাঝখানে তার কোনো এক ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ফেসবুক থেকে ডিঅ্যাক্টিভেটেড ছিলেন। এখন আবার কদিন হলো তিনি ফিরেছেন। তো আমার গত কয়েকদিনের এই অসহ্য শারীরিক অবস্থার প্রেক্ষিতে ‘তার’ প্রতি তো বটেই, এই ভদ্রলোকের ওপরও বিজাতীয় রকমের রাগ উথলে উঠছে … সারাক্ষণই মনে হয় যে উনার সাজেশনের কারণেই তো ঘটনাটা শেষ পর্যন্ত ঘটেছিলো … গতকাল থেকেই আমার খালি মনে হচ্ছিলো উনাকে ফেসবুকে যোগাযোগ করে দুই-চারটা কথা বলে আমার ভেতরের রাগটা ঝাড়ি … কাজটা কতটা সমীচীন হবে সেটা নিয়ে যাচাইয়ের সুযোগেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছি …

ঝড় আসছে … বাইরে বাতাস টের পাচ্ছি …

হোক … ঝড় হোক … প্রচণ্ড ঝড় হোক …

এরকম ঝড়ের দিনে উত্তাল সমুদ্র দেখতে ইচ্ছে করে আমার … সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে থেকে সামনে উত্তাল ঢেউ …  আকাশে কালো মেঘ আর বিদ্যুতের খেলা … তারপর ঝুম বৃষ্টি … সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর বৃষ্টি পড়ার দৃশ্যটা যে কি অভাবনীয় … সেই সময়টায় ঢেউয়ের সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে হয় …

এরকম প্রায় অর্থহীন মানবিক জীবনযাপনের চাইতে সমুদ্রের ঢেউ হয়ে বেঁচে থাকাও অনেক ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s