দিনযাপন | ২৩০৪২০১৫

অনেকগুলা কাজ করা হলো আজকে সারাদিনে …

সকালবেলা অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম ভাঙবে কিভাবে সেই টেনশন থেকেই মনে হয় ৯টা বাজতেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো … তারপরও একটু আধটু আলসেমি করে করে সোয়া দশটার দিকে উঠলাম … দিনের প্রথম কাজ, সিম রিপ্লেসমেন্ট … বের হতে হতে প্রায় পৌনে বারোটা বাজলো অবশ্য … তো যাই হোক, ২৭ নম্বরে গ্রামীণ ফোনের সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে সিম রিপ্লেসমেন্ট-এর সব কাজ শেষ হবার পর দেখা গেলো ১২৫ টাকার সার্ভিস চার্জ নেবার জন্য ৫০০ টাকার ভাংতি নেই ওদের কাছে … আমার কাছেও পাঁচশ টাকার নোট ছাড়া কিছু নাই … কাউন্টারের যে আপু ছিলেন তিনি বললেন বসে অপেক্ষা করতে … পরবর্তী সার্ভিসের চার্জগুলা পেলে উনি ভাংতি দিতে পারবেন বলে আশা করছেন … মোটামুটি মিনিট পনেরো বসবার পর আমার মনে হলো এই অপেক্ষা নিরন্তর করে যেতে হবে, আর ভাংতিও হবে না … আমিই অগত্যা আবার বের হয়ে মিনাবাজার পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে দুই কৌটা প্রিঙ্গেলস-এর বিনিময়ে ভাংতি পেলাম …

বাসায় ফিরবো বলে রিকশা ঠিক করলাম … মাঝপথে গোপী ফোন করে জানালো সাইন্স ল্যাবের দিকে চলে যাবার জন্য … উদ্দেশ্য আমার ভায়োলিন কেনা … তো গেলাম … ভায়োলিন কেনাও হয়ে গেলো …

বিকেলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট … ইউরিন ইনফেকশন-এর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের শরণাপন্ন আমাকে হতেই হলো … আর যাই সহ্য করে নেই না কেন, এইটা সহ্য করে চলা প্রায় অসম্ভব … তো, ডাক্তারের কাছে মা’র সাথেই যেতে হয়েছে … এটা একটা সুযোগও বলা যায় … যা মুখে বলতে পারছি না, তা আবার অন্য কোনো উপায়ে প্রকাশ করানো … ডাক্তার কি বলে, কি টেস্ট দেয় তার ওপর অবশ্য সেটা নির্ভর করছিলো … তো যাই হোক, ডাক্তার আলটিমেটলি সকল প্রকার অসুবিধার কথা শুনে বিভিন্ন টেস্ট-এর সাথে আলট্রাসাউন্ড টেস্ট-ও দিয়েছে … সুতরাং, শনিবার সকালে যখন টেস্ট করাবো তখনই অনেক দৃশ্যপট পাল্টে যাবে … আবারো সারাদিন রুটিন করে একগাদা ওষুধ খাওয়ার পেইন শুরু হয়েছে … ওই তিনমাসে এত ওষুধ খেয়েছি যে এখন ওষুধ জিনিসটার প্রতি আমার অরুচিই ধরে গেছে … কিন্তু খেতে হবে … আমার মনে না থাকলেও মা ঠিকই ঘড়ি ধরে ধরে ওষুধ হাতে নিয়ে মুখের সামনে ধরে রাখবে … টেস্টের রিপোর্টগুলা নিয়ে গেলে যে আরও কি কি সব ওষুধ দেবে কে জানে!

ব্লাড টেস্ট, ইউরিন টেস্ট এগুলা গ্রুপে যাবার আগে করায় নিলাম … ব্লাড টেস্ট জিনিসটা খুবই পেইনফুল আমার জন্য … এই জীবনে যতবার ব্লাড দিতে গেছি বা ব্লাড টেস্ট করাতে গেছি, হয় ফিট হয়ে গেছি নয়তো প্রেশার প্রচণ্ড লো হয়ে গেছে … ফলে, ব্লাড টেস্ট মানেই আমার কাছে একটা আতঙ্ক … আজকেও প্রচণ্ড ভয়ে ছিলাম যে শরীরের যেই অবস্থা, প্রেশার লো তো অবধারিত, ফিট হয়ে গেলেও অবাক হবো না … কিন্তু তাও ভালো যে লো প্রেশারের ওপর দিয়েই গেলো … ব্লাড টেস্ট করায় গ্রুপে যাবার পথে মোটামুটি মাথা ঝিমঝিম অবস্থা ছিলো … কোক খেয়ে শরীরে সুগার ইনটেক দিয়ে সেটা কিছুটা কমালাম … পরে আস্তে আস্তে অনেকটাই নর্মাল হলো … এখন এই দিনযাপন লেখা শেষ করেই ঘুমিয়ে পড়বো …

ভায়োলিনটা কিনে আমার মনটা আজকে বেশ ভালো …

অবশ্য যেভাবে আমার একের পর এক জিনিস হারাচ্ছে, তাতে বেশি উৎফুল্ল না থাকাই বোধহয় ভালো …

স্টাফ নোটেশন নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করতে মন চাচ্ছে … নিজে নিজে স্টাফ নোটেশন লিখতে শিখতে হবে … বড় বড় স্টাফ শিটে পরিচিত অপরিচিত সব গানের স্টাফ নোটেশন লিখবো … এইটা আমার অনেকদিনের শখ … পিয়ানো শিখতে যেতাম যখন, তখন স্টাফ নোটেশন পড়া শিখসিলাম … মাঝখানে মিউজিক থিওরির একটা ছোটখাটো কোর্স হইসিলো … কোরিয়ান তিনজন টিচার করিয়েছিলেন … ওই কোর্সটা আমার জন্য বিশাল একটা উপকার ছিলো … এরপর থেকে আমার ব্যাপক শখ যে আমি নিজে নিজে গানের স্টাফ নোটেশন লিখবো … এখন ভায়োলিন শিখতে গিয়ে এই স্টাফ নোটেশন পড়তে পারার বিদ্যাটা যেমন কাজে লাগছে, তেমনি পুরনো অনেক কিছু নতুন করে ঝালাই হচ্ছে … আর শখটা কেবলই তীব্র হচ্ছে …

ব্ল্যাঙ্ক স্টাফ শিটের একটা বাধাই করা খাতা ছিলো আমার … ওইটা মাঝখানে শেলফ গুছাতে গিয়ে পেয়েছিলাম … এখন আবার হারিয়ে ফেলেছি … ওরকম একটা খাতা হাতের কাছে থাকলে আবার প্রাকটিস শুরু করে দিতাম … ওরকম একটা খাতা আবার বানিয়ে নেবো কি না ভাবছি …

অনিক নামে আমার একজন বন্ধু ছিলো … সে গান লিখতো, গান গাইতো … তার সাথে থেকে থেকে মিউজিকের অনেক কিছু বুঝতে শুরু করেছিলাম … থিয়েটার করতে গিয়ে গত ছয় বছরে আর যাই হোক, এই মিউজিক বোঝার বিষয়টা অনেক বেশি ডেভেলপড হয়েছে … বলা যায় যে অনিকের কাছ থেকে যদি ৫ ভাগ হয়, তাহলে ৫০ ভাগ পর্যন্ত ডেভেলপড হয়েছে এখানে এসে… এখন অন্তত গান শুনি অনেক কিছু মাথায় রেখে … কম্পোজিশন বোঝার চেষ্টা করি … ইন্সট্রুমেন্টগুলো বোঝার চেষ্টা করি … অনেক পুরনো গান এখন শুনতে গেলে নতুনভাবে শুনি …

তাই বলে এইটা ভাববার কিছু নেই যে আমি নিজেকে একজন সঙ্গীত বিষয়ে বিশেষজ্ঞতে পরিণত করার পথে আগাচ্ছি … মিউজিক নিয়ে বড় বড় কথা বলে ফেলছি তাও না … গান গাইবার চর্চা করিনি কখনো … কিন্তু গান বোঝার চেষ্টা করেছি … ওইটুকুই আমার জন্য যথেষ্ট … আই মিন, গান শুনলে যদি একটু থিওরি জেনে শোনা যায়, সেটা খারাপ কি ? নাচ দেখতে হলেও, নাচের এটা-সেটা জানা থাকলে নাচ দেখার দৃষ্টিটাও পাল্টে যায় … ফাইন আর্ট -এর যেমন বুঝতে হলে অ্যাপ্রিসিয়েশনের দৃষ্টিতে দেখা খুব জরুরি, আমি মনে করি মিউজিক, ড্যান্স, থিয়েটার সবখানেই তাই …

যাই হোক, অনেক জ্ঞানী জ্ঞানী কথবার্তা হয়ে যাচ্ছে … আমার এই দিনযাপন তো জ্ঞানী জ্ঞানী কথাবার্তার জন্য না … সেইটা ইথার ভাই উনার প্রজেক্ট ৩৬৫-তে করেন … মজাই লাগে পড়তে … মাঝে মাঝে আবার বিরক্তও লাগে … উনি যেদিন উনার নিজের জীবনের কোনো ঘটনা নিয়ে লেখেন, সেইটা আমি খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ি … কিন্তু যেদিনই বিভিন্ন শিক্ষামূলক লেখা লেখেন, সেদিন পড়ার আগ্রহই কাজ করে না … কেন জানি মনে হয় যে আজকে মনে হয় লেখার মতো কিছু পান নাই, তাই একটা কিছু নিয়ে লিখে দিয়েছেন … সত্যি বলতে, আমার এই দিনযাপন লিখবার উৎসাহটা উনার ওই ৩৬৫ প্রজেক্টের থেকেই পাওয়া … উনি ওই প্রজেক্ট শুরু করেছিলেন যখন, তখন অনেক পারসোনাল বিষয় নিয়ে অনেক ইমোশনাল কথা লিখতেন … আমার পড়ে অনেক ভালো লাগতো … তারপর আমি ভাবলাম, তাহলে আমি কেন আমার কথা লিখি না? … তো শুরু হলো দিনযাপন …

উনার ৩৬৫ প্রজেক্ট বোরিং হয়ে যাচ্ছে যাক … আমার দিনযাপনকে বোরিং করা যাবে না … কারণ এইটা আমার ডাইরির মতো … আর ডাইরিতে জ্ঞান কপচানোর কোনো মানে নাই …

ঘুমিয়ে পড়া দরকার … কাল অনেক দৌড়াদৌড়ি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s