দিনযাপন | ২৭০৪২০১৫

আমি রাতে কেন বারোটার মধ্যে ঘুমিয়ে যাই না সেটা নিয়ে ডাক্তারের অনেক চিন্তা, সেজন্য একগাদা ওষুধের সাথে তিনি একটা ঘুমের ওষুধও দিয়েছেন! … আধাঘণ্টার মতো হলো ওষুধটা খেয়েছি, আর এখন মোটামুটি নিস্তেজ অনুভব করা শুরু করে দিয়েছি … কাজকর্ম সব যে আমার মাথায় উঠবে সেটা ডাক্তারকে কে বোঝাবে! কাজ তো যা করার রাতেই করি …

গতকালকে বহু চেষ্টা করেও ওয়ার্ডপ্রেস ওপেন করতে পারলাম না … আজকে সকালেও না … এই এখন পারলাম …

ফলে আরেকদিনের লেখা বাদ গেলো …

গতকালকের সারাদিনের মধ্যে ঘটনা বলতে স্কলাস্টিকায় ছবি তুলতে যাওয়া আর সন্ধ্যায় সিনেমা দেখতে যাওয়া …

গত পাঁচ বছর ধরে স্ক্লাস্টিকার ড্রামা ক্লাবের যে কোনো নাটকের ছবি তোলা একটা অভ্যস্ত কাজ হয়ে গেছে … একদিন ব্রশিয়ারের জন্য ছবি তোলা, আরেকদিন নাটকের শো-এর ছবি তুলতে যাওয়া … এইটা যে খুব পয়সাওয়ালা হাই প্রোফাইল কাজ তা মোটেই না … কিন্তু এটা একটা ভালো লাগা কাজ … আর সে কারণেই প্রতি বছরই নাটকের ছবি তোলার জন্য কবে ডাকবে তার একটা অপেক্ষা থাকে …

তো, গতকালকেও সেরকমই কাজে স্ক্লাস্টিকা যাওয়া হলো … মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শো, আজকে ব্রশিয়ারের জন্য ছবি তুললাম …

কিন্তু যাওয়া -আসা – ছবি তোলা এগুলো আজকে খুব অস্বস্তিকর ছিলো … শরীরের অবস্থা বিশেষ ভালো না … ইউরিন ইনফেকশন তো আছেই, সেই সাথে ব্লাডারের প্রেশার বেড়েই চলছে … অবশ্য সেটা খুবই স্বাভাবিক … আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্ট পাওয়া গেছে … ইউটেরাসের টিউমারটার আকৃতি এখন প্রায়  ৮ সেমি! ১৪ সেমি ডায়ামিটারের একটা ইউটেরাসের ৮ সেমি জায়গাই দখল করে আছে এই টিউমার! … গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, ব্লাডারের ওপর প্রেশার এর জন্য এই টিউমারের দায়ই বেশি! …

বাসা থেকে বের হয়ে উত্তরা তিন নম্বর সেক্টর পর্যন্ত যাওয়ার এক ঘণ্টা আর ফিরে আসার দেড় ঘণ্টা মোটামুটি প্রচণ্ড টেনশনে গেলো … ব্লাডারের প্রেশার যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে কি হবে ভাবতে ভাবতে গেলাম পুরোটা পথ …

গতকালকে  এমন মেজাজ খারাপ করা একটা ঘটনা ঘটলো … লেন্স, ক্যামেরা সবই তো ধার করা … নিজের একটা পুরনো মেমোরি কার্ড ছিলো, ওটা নিয়ে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়ে ক্যামেরাতে লাগানোর পর আবিষ্কার করলাম ওই কার্ডটা করাপ্টেড এবং সেটাকে কোনোভাবেই আর জীবিত করা গেলো না! … আমার মোটামুটি মাথায় হাত অবস্থা! … কি করবো বুঝে উঠতে পারলাম না … তারপর শেষমেষ ওই স্কুলেরই আরেক স্যারকে সঙ্গী করে রাজলক্ষ্মীর কাছে গিয়ে দুইটা মার্কেট ঘুরে একটা দোকানে মেমোরি কার্ড পেলাম … মনে মনে ভাবলাম যে কালকে যদি এটা নর্মাল এসডি কার্ড না হয়ে ক্যামেরায় সিএফ কার্ড হতো, তাহলে কি বেইজ্জতিটাই না হতে হতো! …

যাই হোক, কপালের ফের কালকের জন্য কমের ওপর দিয়েই গেছে! …

গতকালকে সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সিনেমা দেখতে যাবার প্ল্যান হলো, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ … বলাকা সিনেমা হলে … বেশ ক’দিন ধরেই দেখবো দেখবো কথা হচ্ছিলো … কালকে নিজেই ভাবছিলাম যে সন্ধ্যায় নোবেল ভাইয়ের সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করবো কবে যাবে সিনেমাটা দেখতে … কালকে দুপুরেই দেখলাম সে নিজেই সবার সাথে কথাবার্তা বলে প্ল্যান করে ফেললো যে সন্ধ্যায় দেখবো … মোটমাট দশজন … ভালোই লাগলো সিনেমাটা দেখে … সিনেমাটোগ্রাফির কাজ ভালো … শট কম্পোজিশন সুন্দর … কাহিনী যদিও টিপিক্যাল তুমি-আমি-আমি-তুমি টাইপ প্রেমের গল্প … ওই সেই ক্ষমতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ইগোইজম এইসব এইসব আর কি! … কিন্তু সব মিলিয়ে সিনেমাটা খারাপ লাগেনি … বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমায় যে এরকম নতুন নতুন পরিচালকদের উদ্যোগ কাজ করছে এবং তারা সচরাচর চলে আসা কাহিনীচিত্র বা দৃশ্যপটকেই তাদের কারিগরী মুন্সিয়ানা দিয়ে প্রকাশ করছেন সেটাই তো প্রশংসনীয় … কয়েকদিন আগে অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রি’ দেখতে গিয়েও একই অনুভূতি হয়েছে … নতুন কাজ হচ্ছে, ভিন্ন কাজ হচ্ছে এটাই তো অনেক কিছু! … ‘বাংলা সিনেমা!’ বলে নাক সিটকানো একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিলো মানুষের, সেটা তো দিন দিন কমছে … ‘জাস্ট ফান’ হিসেবেও কিছু মানুষ সিনেমাগুলা দেখতে যায় হলে, সেটাও পজিটিভ …

গতকালকেও নাকি ভুমিকম্প হয়েছে দুপুরের দিকে। আসলে ভূমিকম্প ঠিক না, ভূমিকম্পের আফটার শক সম্ভবত। আমি অবশ্য টের পাইনাই। যখন ভূমিকম্প হয় তখন আমি স্ক্লাস্টিকায়, স্টেজের ওপর চেয়ার নিয়ে দাঁড়ায় পিচ্চিগুলার ক্যারেক্টার পোর্টেট তুলতেসি … হঠাৎ এক মেয়ে এসে বলল যে আবারও নাকি ভূমিকম্প হয়েছে! … আমরা এসটিএম হলের ভেতর যারা ছিলাম কেউ টেরই পাইলাম না! …

আবার আজকে দেখলাম কয়েকজন বলল যে সন্ধ্যার দিকেও নাকি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছে … সেটাও টের পাইনি…

এরকম আফটার শক নাকি আরও দুই তিনটা হতে পারে … কয়েকটা জায়গায় পড়লাম যে আরেকটা নাকি আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে …

আজকে মিরপুর গিয়ে ইলেকট্রিক সুইচ বুঝায় দিয়ে আসলাম … অমিতকেও নিয়ে গিয়েছিলাম … ও তো মিরপুরের বাসায় কন্সট্রাকশনের চেহারাই দেখেনাই … এখন প্ল্যানিং করতে গেলে তো ওর হেল্প লাগে … স্বচক্ষে দেখা না থাকলে তো ভালো সাজেশন দিতে পারবে না … সম্ভবত মে মাসের মধ্যেই সব কমপ্লিট হয়ে যাবে … জুন মাস নাগাদ মনে হয় শিফট করা সম্ভব হবে …

কাল-পরশুর মধ্যেই নাকি রঙের কাজ ধরবে … তখনি বোঝা যাবে যে বাসার চেহারা আসলে ক্যামন হলো …

ব্যাপক ঘুম আসছে … অলরেডি দুইবার ঘুমিয়েও গেছি … আর পারছি না …

মাথার ওপর কয়েকটা কাজ জমে যাচ্ছে … কাল – পরশু নাগাদ শেষ করা জরুরি … ক্যামনে যে কি করবো! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s