দিনযাপন | ০৩০৫২০১৫

মাঝে মাঝেই এমন একটা দিন যায় যেটা শুরু হয় বেশ ‘ধুর বাল’ টাইপ মনমেজাজ দিয়ে আর শেষ হয় অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ‘ এই তো জীবনের মজা’ টাইপ চিন্তা দিয়ে … আজকেও সেরকম একটা দিন কাটালাম …

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে একটা কাজ শেষ করবো, এরকম চিন্তা নিয়েই ঘুমিয়েছি রাতে … আর ঘুম ঘুম ভাব করতে করতে অবশেষে ঘুম ভেঙ্গে উঠেছি বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা বাজে! … ফ্রেশ হয়ে এক কাপ চা খেয়ে বসতে বসতেই তো বারোটা পার হয়ে গেলো … কাজ করার কি আর মুড থাকে! কাজকর্ম বাদ দিয়ে রিও – ২ দেখতে বসলাম … এর মধ্যেই ২টা বেজে গেলো … অতএব খেয়ে দেয়ে গোসল টোসল করে স্ক্লাস্টিকা যাবার জন্য রেডি হয়ে যেতে হলো … সাথে আবার রানা, নোবেল ভাই আর সন্ধিও যাবে … রাস্তা ফাঁকা থাকবে ভাবছিলাম, কিন্তু তাই বলে যে আধাঘণ্টার মধ্যে সেন্ট্রাল রোড থেকে উত্তরা তিন নম্বর সেক্টর পৌঁছায় যাবো সেরকম ফাঁকা থাকবে তা বুঝি নাই … সোয়া চারটার মধ্যে ওইখানে পৌঁছায় গেলাম! এত তাড়াতাড়ি ভেতরে গিয়ে করবো কি! আমরা বেহুদাই কতক্ষণ বাইরে বসে বসে গল্পগুজব করলাম আর চা খেলাম … পাঁচটার দিকে ঢুকলাম ভেতরে, কিন্তু ভেতরেও আজকে বেশ ঢিলেঢালা অবস্থা … গতকালকে যেহেতু একটা শো হয়ে গেছে নাটকের, তাই আজকে তো মেক-আপ ছাড়া আর নতুন করে কিছু করার নাই … ফলে সবাই বেশ রিলাক্সড মুডে ঘুরছে … আমি তো বেশি তাড়াতাড়ি গেছিই, সাথে আবার তিনজনকে পোটলা বেঁধে সাথে নিয়ে গিয়ে বেহুদাই বসায় রেখেছি ভাবতে গিয়ে আরও বিরক্ত হয়ে গেলাম … কারণ আমি না হয় তাড়াতাড়ি চলে যাওয়াটাকে ছবি তুলে তুলে কম্পেনসেট করে নিতে পারি, কিন্তু বাকি তিনজনের তো আর কোনো কাজ নাই! …

যাই হোক, নাটকের শেষে আমি রওনা হলাম গুলশান। অদিতির বিয়ের প্রোগ্রামে … একবার ভেবেছিলাম যাবো না … মন চাইছিলো না একদমই … কিন্তু পরে নাটক চলার সময়টুকুই নিজের মনকে অনেকভাবে মানিয়ে নিলাম যে ‘যাবো’। তো সেই অনুযায়ী আমি রওনা দিলাম। যে সিএনজি-তে উঠলাম তার সাথেই ভাড়া নিয়েই প্রথমে অনেক কথাবার্তা হয়েছে … শেষপর্যন্ত সে যেতে রাজি হলো ঠিকই, কিন্তু আমি সিএনজিতে ওঠার সাথে সাথেই সে মন্তব্য করলো যে ‘ আমাকে ছোটো পাইয়া খুব ঠকাইলেন!’ … আমার তখনই তার ওপর মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো, কিন্তু কিছু না বলে  চুপ করে রইলাম … স্ক্লাস্টিকা স্কুল থেকে গুলশান ১ নম্বর ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে নাকি তাকে ঠকাচ্ছি! সে ভাড়া চেয়েছিলো প্রথমে ২০০ টাকা। সেন্ট্রাল রোড থেকেই তো দুপুর বেলা চারজন মিলে এক সিএনজিতে ২৫০ টাকা দিয়ে গিয়েছি! … তো যাই হোক, সে একটু পথ গিয়েই বলা নাই কওয়া নাই একটা গ্যাস স্টেশনে নিয়ে থামালো … এমন না যে তার এখনই গ্যাস নিতে হবে … যুক্তি দিলো যে রাস্তায় তো জ্যাম, গ্যাস নিয়ে একটু সময় কাটাই আর কি! … তার এই যুক্তিতে আমার হাসবো না কাঁদবো টাইপ একটা অবস্থা হইলো … তাকে বললাম যে গ্যাস নেয়া লাগবে না, আপনি বরং আগান সেটাই ভালো হবে … সে গ্যাস নেবেই … আমি মেজাজ খারাপ করে বললাম যে ‘ আপনি গ্যাস নিলে আমাকে নামায় দেন, আমি অন্য সিএনজিতে যাবো। গ্যাস নিবেন কি নিবেন না সেইটা তো সিএনজিতে প্যাসেঞ্জার ওঠানোর সময় বলে নেয়া উচিত … অনেকেরই তো তাড়া থাকে … ‘ সে আমাকে সিএনজির গেট খুলে দিয়ে বললো ‘যান তাইলে’ … আমিও নেমে গিয়ে গ্যাস স্টেশনের বাইরে দাঁড়ানো আরেকটা খালি সিএনজিকে ডেকে সেটায় উঠে গেলাম …

কবে জানি ঢাকা শহরের এইসব আয়োডিন ডেফিসিয়েন্ট সিএনজিওয়ালা আর গাঁজাখোর রিকশাওয়ালাগুলার সাথে আমার হাতাহাতি লেভেলের ক্যাচাল হয়ে যাবে … দুই-তিন মাস আগে এক রিকশাওয়ালার সাথে প্রায় হাতাহাতিই হয়ে যাচ্ছিলো … কিন্তু আশেপাশের লোকজনের কারণে শেষপর্যন্ত বিষয়টা অতদূর আগায়নাই …

যাই হোক, শেষমেষ অদিতির বিয়েতে গেলাম … এই সিএনজিওয়ালা বেশ ভালো ছিলো … আমি গুলশানের ঠিক কোথায় ইমানুয়েলস সেটা গুলিয়ে ফেলেছিলাম, সে বেশ নিজেই ঘুরে ঘুরে এই রাস্তা ওই রাস্তা করে আমাকে ঠিক জায়গায় নিয়ে গেলো … সেসময় আবারো একটা অ্যানড্রয়েড ফোন কত জরুরি সেটা উপলব্ধি করলাম … ওইরকম একটা ফোন থাকলেই তো গুগল ম্যাপ দেখে সহজেই লোকেশন বের করে ফেলতাম …

ইমানুয়েলস এ ঢুকেই গেট এ দেখা হলো রুবি আর নীলাভের সাথে … ওরা তখন বের হয়ে যাচ্ছে … ওদের কাছে জানলাম যে পরিচিত কেউই নাই … আবারো মেজাজ খারাপ হলো … তার মানে তো দেখা করেই চলে যেতে হবে … অলরেডি তখন প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে … একা একাই তো ফেরা লাগবে … ‘ধুর! কি বাজে একটা দিন’ ভাবতে ভাবতে ভেতরে গেলাম …

ভেতরে ঢুকতে না ঢুকতেই সারাদিনের দৃশ্যপট পাল্টে গেলো …

পৃথিবীটা মাঝে মাঝেই ব্যাপক লেভেলের গোল হয়ে সামনে উপস্থিত হয় … একেবারে গোলেমালে বেহাল অবস্থা হবার জোগাড় হয় …

সেটা কেমন?

ভেতরে গিয়ে দেখি পাঠাশালার বাপ্পি! সে নাকি বরের ছোটবেলার ‘জিগরি দোস্ত’ !

আর আমি অদিতিকে চিনি সেই ক্লাস সিক্স থেকে … সিক্স টু টেন একই সেকশন, একই ‘হলুদ’ দল … কলেজে অবশ্য একই সেকশনে ছিলাম না, কিন্তু ওই একই ‘হিউম্যানিটিজ’ -এই পড়েছি … তারপর ইউনিভার্সিটিতে এসেও একই ডিপার্টমেন্ট … অনেক ইন্টেরেস্টিং একটা পরিচয়সূত্র …

তো, বাপ্পির সাথে এই আচমকা যোগাযোগে ব্যাপক মজা পেলাম … পৃথিবীটা আসলেই মাঝে মাঝে কিরকম গোল হয়ে যায় আর অনাকাঙ্ক্ষিত সব জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এর তার সাথে দেখা হয়ে যায়! …

তারপরের মজাটা হলো যে আমি দেরি করে গিয়েও আসল জিনিসটাই দেখেছি … তখনও অদিতির বিয়েই হয়নাই … হিন্দু বিয়ের আয়োজন দেখতে আমার বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগে … ‘যাক! পরিচিত একজনকে পাওয়া গেলো’ এই স্বস্তির সুবাদে অদিতির বিয়ের সময়টায় থাকা হয়ে গেলো আর  কয়েকটা ছবি তোলারও সুযোগ হয়ে গেলো …

আজকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়াটা জরুরি … কালকে সকাল সকাল উঠে অবশ্যই একটা কাজ শেষ করতে হবে … ওই কাজ শেষ না করে কালকে কোথাও বের হবো না, আর কিছুই করবো না …

অতএব, আপাতত এখানেই বান্দা বিদায় নিচ্ছে …

‘তাকে’ নিয়ে কিছু ভাবের কথাবার্তা লিখতে চেয়েছিলাম … মন্দ্রিয়ানের পেইন্টিং নিয়ে একটা কোয়েন্সিডেন্স-এর ঘটনা সম্পর্কে লিখতে চেয়েছিলাম … সেগুলো না হয় আরেকদিন লিখবো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s