দিনযাপন | ০৮০৫২০১৫

রাতের খাবার নিয়ে একটা বদভ্যাস হয়ে যাচ্ছে … ইদানীং রাত সাড়ে বারোটা / একটা ‘র আগে খাওয়াই হয় না … বাসায় ফিরি ১১টা কি সাড়ে ১১টার দিকে, তারপর একটু ফ্রেশ হয়েই ল্যাপটপ নিয়ে বসি … কিছুক্ষণ ফেসবুকিং করি, নয়তো অর্ধেক দেখে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া কোনো মুভি শেষ করতে বসে যাই, কিংবা হয়তো মোবাইল নিয়ে বসে গেম খেলতে থাকি … এর আগে খেলতাম ক্যান্ডি ক্রাশ, নয়তো ফার্ম হিরোজ এইসব … গতকালকে থেকে শুরু করেছি ২০৪৮ … গেম আর টিভি সিরিজ বস্তু দুইটা ব্যাপক বাজে নেশা … যেমন, গত দুইদিন যাবৎ দেখতে দেখতে আজকে দুপুর বেলা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম’ এর লেটেস্ট পর্ব পর্যন্ত দেখে শেষ করলাম … [ নেক্সট এপিসোড ১০ তারিখ টিভিতে দেখাবে, তারপর পাওয়া যাবে অনলাইনে …আপাতত সে পর্যন্তই অপেক্ষা করি ] … তো, যাই হোক, এইসব কাহিনী করতে করতে কখন যে রাত ১টা বেজে যায় সেটা খেয়ালই থাকে না … প্রতিদিনই রাত ১০টা/ ১১টার দিকে বেশ ক্ষুধা পায় … তখন গ্রুপ থেকে বের হয়ে কাঁটাবনে অথবা শাহবাগে দাঁড়ায় টুকটাক চা-বিস্কিট খেতে খেতে ক্ষুধাটা মরে যায় … তারপর যখন আবার ক্ষুধা পায় ততক্ষণে রাত ১টা কি দেড়টা …

আরেকটা বাজে অভ্যাস আমাকে বেশ ভোগাচ্ছে … বহুদিন যাবৎ-ই ঘরে জায়গার স্বল্পতার কারণে টেবিল সরিয়ে সেখানে একটা ওয়্যারড্রব-কে জায়গা দেয়া হয়েছে … তার ফলে যাবতীয় কাজকর্ম এখন করা হয় বিছানায় শুয়ে বসে … এখন আমার লেখালেখির কাজ অনেক অনেক বেশি … আগে তাও ছবি এডিট জাতীয় কাজগুলো বিছানায় বসে কিংবা উবু হয়ে শুয়ে করে নেয়া যেতো … কিন্তু এই লেখালেখির কাজ কিছুতেই একটানা অনেকটা সময় ধরে বিছানায় বসে করা যায় না … শরীরের অবস্থার কারণে তো এখন সেটা আরও অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে … তার ফলে, কাজের গতি তো কমছেই, কাজ করার আগ্রহও কমে যাচ্ছে … টেবিলে বসে কাজ করার একটা উদ্যোগ মাঝখানে নিয়েছিলাম … ড্রয়িং রুমে যে টেবিলটা আছে সেখানে … কিন্তু নিজের ঘরে নিজের মতো থেকে কাজ করার আরামটা পাওয়া যায় না বলে সেই উদ্যোগটা কয়েকদিন পর মাঠে মারা গেলো … এখন একমাত্র মিরপুর যাবার পর আবার টেবিল চেয়ারে বসে কাজ করার যাবতীয় সংস্থান সম্ভব হবে … কিন্তু তার আগেই যে কাজগুলো শেষ করতে হবে, সেগুলোর কীভাবে কি হবে তাই নিয়েই চিন্তিত আমি …

আগে যখন পাঠশালায় নিয়মিত যাওয়া হতো ক্লাসের জন্য, তখন ল্যাপটপ নিয়ে সকাল সকাল চলে যেতাম আর সারাদিন এসি রুমে টেবিল চেয়ারে বসে বসে কাজ করতাম …আর এখন নিয়মিতই গ্রুপে যাই সন্ধ্যাবেলা, কিন্তু যেহেতু আমি ল্যাপটপ নিয়ে বাইরে বের হইনা সবসময়, ফলে গ্রুপে গিয়ে টেবিলে বসে কাজ করার সুবিধাটা নিতে পারি না …

যাই হোক, টেবিল থাকুক আর না থাকুক, শরীরের অবস্থা খারাপ হোক আর না হোক, কাজগুলো যে আমাকে যে কোনো উপায়ে শেষ করতে হবে সেটাই আসল কথা …

মনে মনে পরিকল্পনা ছিলো যে এই সপ্তাহটা মিরপুরে কাটাবো … টিয়ামের বাসায় চলে গেলে টেবিল-চেয়ারে বসে কাজ করার আরামও পেতাম, আর ওইখানে নেট নাই বলে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মোবাইলের হটস্পটও ব্যবহার করা হতো না, আর কাজগুলোও তখন মনোযোগের সাথে আগাতো … কিন্তু ১২ তারিখ ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির শো, সুতরাং আমাকে ওইসময় পর্যন্ত এই এলাকাতেই থাকতে হবে … মহা ফাঁপর হয়ে গেলো আমার জন্য … যতই ভাবছি যে এক নিঃশ্বাসে কাজ শেষ করে অন্তত ৪/৫টা দিন সবকিছু থেকে নিজেকে ছুটি দিয়ে গোছগাছের কাজটা ৮০% আগায় রাখবো, ততই একটার পর একটা ব্যস্ততা এসে জুটছে …

আজকে অনেক অনেক বছর পর সাইমন ভাইদের বাসায় যাওয়া হইলো … ইথারের সাথে একটা কাজে দেখা করার জন্য … ওই বাসায় শেষ গিয়েছি মনে হয় প্রায় ৫ বছর হয়ে গেছে … আন্টির সাথে দেখা হলেই আন্টি খালি জিজ্ঞেস করতো আমি কি কোনো কারণে রাগ নাকি, নইলে যাই না কেন … আসলে কেন জানি যাওয়ার মতো ছুতো তৈরি হয়নি … শেষ যেবার গিয়েছিলাম, তখন কামরঙ্গির চরে প্রায়ই একটা কাজের জন্য যাওয়া হতো … ওখান থেকে সাইমন ভাইদের বাসা বেশ কাছে … একদিন বেশ ক্লান্ত লাগছিলো, কি মনে করে ওই বাসায় চলে গিয়েছিলাম রেস্ট নেয়ার জন্য … সেটাও মনে হয় ২০১০ সালেরই কোনো একটা সময়ে হবে … তারপর এই আজকে ইথারের সাথে একটা কাজের ছুতায় যাওয়া হলো …

আজকে সন্ধ্যার একটা ছোটো ঘটনা অনেকদিন আগের একটা পরিকল্পনাকে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠিয়েছে … গ্রুপে বসে জেবা হঠাৎ করে আমাদের প্রথম সাক্ষাৎ হবার ঘটনাটার প্রসঙ্গ তুললো … ঘটনাটা আমার সচেতন মনে ছিলো না … ও প্রসঙ্গটা তোলার সাথে সাথে পুরো ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো … রিট্রিভ্যাল কিউ বলে যেটাকে, সেরকম বিষয় কাজ করলো আর কি! … তো, অনেকদিন আগে আমি একটা পরিকল্পনা করেছিলাম মনে মনে … সেটা হলো যে একটা ডাইরি অথবা অ্যালবামের মতো বানাবো, যেখানে আমার আশেপাশের পরিচিত মানুষদের একটা করে ছবি থাকবে, আর সাথে লেখা থাকবে তার সাথে আমার কবে কোথায় কিভাবে পরিচয় … কিন্তু সেই কাজটা কখনো করা হয়নি … টুকটাক ছবি জমানো হয়েছিলো, কিন্তু হাতেকলমে কাজটা শুরু করা হয়নি … তখন এসব ফেসবুক, ব্লগ এসব জিনিসের চল ছিলো না, ফলে ওসব মাধ্যম ব্যবহার করা যেতে পারে কি না সেই চিন্তাও মাথায় আসে নি … তবে ওয়েব-এর চাইতে এসব বিষয়ে আমি সবসময়ই অস্তিত্বমান বস্তুই প্রেফার করি … কারণ প্রিজার্ভ করা গেলে সেটা সময়ের চিহ্ন হিসেবে থেকে যাবে …

যেমন, যখনি কোথাও ঘুরতে যাই, আমার মনে মনে প্ল্যান থাকে যে একটা ডাইরি নিয়ে যাবো আর পুরো ট্যুর-এর যাবতীয় স্মৃতি লেখা, ছবি বা সংগৃহীত কোনো বস্তু দিয়ে সেই ডাইরিতে লিপিবদ্ধ করে রাখবো … ওই ডাইরিটা তখন ওই ট্যুর-এর স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে তো থাকবেই, একটা ভ্রমণকাহিনীর-ও মর্যাদা পাবে …

কিন্তু, সেই কাজটাও আমার কখনো করা হয় না …

তারপরও, টুকটাক ছোটোখাটো স্মৃতি আমার জমানো হয় … সময়ে – অসময়ে … একটা ছোটো বাক্সতে আমার অনেক টুকটাক স্মৃতিচিহ্ন জমানো আছে … কোনোকিছুই ফেলে দেবার অভ্যাস করতে পারি নাই কখনো … যে ঘটনার সাথেই কোনো না কোনো আবেগ জড়িত, তার সাথে সম্পর্কিত যে কোনো কিছুই স্মৃতিচিহ্ন হয়ে যায় … হোক সেটা একটা শুকনো পাতা, কিংবা একটা খাবারের বিল …

মিরপুরে চলে গেলে জীবনযাপনের অনেককিছুই আবার নতুন করে শুরু হবে … তখন থেকে হয়তো ডাইরি মেইন্টেইনের কাজটা যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে শুরু করতে হবে …

ওই যে, ছোটোবেলায় অদ্ভুত চিন্তা ছিলো যে আমার সব জিনিস নিয়ে একটা মিউজিয়াম হবে! … সেটার জন্য তো সব প্রস্তুত রাখতে হবে …

ওইদিন বই গোছাতে গিয়ে একটা স্কেচবুক পেলাম … প্রায় দশ বছর আগে ওই স্কেচ বুকটাতে আমি আমার জন্মের পর থেকে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন ছবি, বিভিন্ন স্মৃতি জমিয়ে রাখতে শুরু করেছিলাম … অটোবায়োগ্রাফিক্যাল একটা স্ক্র্যাপবুক -এর মতো আর কি! … ওইটার কথা আমি ভুলেও গিয়েছিলাম … ওইদিন খুঁজে পেয়ে বেশ মজা পেলাম … ওখানে অনেক অনেক কিছু যোগ করার আছে এখন … গত দশ বছরের অনেক অনেক স্মৃতি … আরো অনেক অনেক ছবি … অনেক অনেক গল্প … অনেক অনেক মানুষ … অনেক অনেক ঘটনা …

আপাতত আমি এখানেই লেখা শেষ করবো … কারণ এখন আমাকে একটা কাজ শেষ করে তবেই ঘুমাতে হবে … কালকে এমনিতেই সারাদিন অনেকগুলা কাজ করতে হবে … সুতরাং সময় নষ্ট করার মতো সময় নেই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s