দিনযাপন | ১৪০৫২০১৫

দুপুর ২টায় ঘুম থেকে উঠে মনে হলো যে দিনের প্রায় অর্ধেকটাই শেষ … নিতান্তই আলসেমি করতে করতে আজকে এতক্ষণ ঘুমালাম …

তারপরে দিনের বাকি অংশটুকু গেলো সিনেমা দেখে দেখেই … মাঝখানে ঘণ্টা তিনেকের জন্য বাইরে গেলাম, গ্রুপে, শাহবাগে … ওই ভরদুপুরেই ঘুম থেকে উঠেই ভাত খেতে ইচ্ছে করলো না … তাই ঘুম কাটানোর উছিলায় চা আর হাল্কা নাস্তা খেতে খেতে ওয়ান্স আপন আ টাইম এর এই সপ্তাহের এপিসোডটা দেখে নেয়া হলো … তারপর ক্লাউডি উইথ আ চান্স অব মিটবলস এর সেকন্ড পার্ট … আর এখন বাসায় ফিরে দেখলাম ইন্টারস্টেলার … প্রথমে ভাবছিলাম পারফিউম মুভিটা দেখবো … ওইদিন কথায় কথায় পারফিউম মুভিটার প্রসঙ্গ এসেছিলো … তখন থেকেই মাথায় গেঁথে আছে যে পারফিউম মুভিটা আবার দেখতে হবে … শেষ যেবার দেখেছি সেটাও প্রায় তিন বছর হয়ে গেছে …

যাই হোক, শেষমেষ ইন্টারস্টেলারই দেখলাম … এই মুভিটার কথা অনেকবার শুনেছি, কিন্তু দেখা হয়ে ওঠেনি … ভাবলাম দেখা মুভির চেয়ে না দেখা মুভিটাকেই প্রায়োরিটি দেয়া হোক …

ইন্টারস্টেলার মুভিটা বেশ ইন্টেরেস্টিং … যে থিওরির ওপর বেস করে মুভিটার গল্প এগিয়েছে, ছোটবেলায় যখন সাইন্স ফিকশন পড়তাম, বিশেষ করে যখন আইজ্যাক আসিমভের গল্পগুলো পড়া হতো, তখন এই টাইম-স্পেস রিয়ালিটি টাইপ বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতাম … ছোটোবেলায় আমার অ্যাস্ট্রনট হবার অনেক বেশি শখ ছিলো … ইনফ্যাক্ট, নিজেকে অ্যাস্ট্রনট হিসেবে বিভিন্ন সময় ফ্যান্টাসাইজও করতাম … আমার কাছে অ্যাস্ট্রনট হওয়া ব্যাপারটা অনেক লোভনীয় ছিলো এই চিন্তা করে যে ধরা যাক আমি এমন একটা গ্রহে গেলাম, যেখানে পৃথিবীর চাইতে ওই গ্রহের অরবিটিং স্পিড দ্বিগুণ, অর্থাৎ পৃথিবীতে যদি ২৪ ঘণ্টায় ১ দিন হয়, তাহলে ওই গ্রহে হবে ৪৮ ঘণ্টায় ১ দিন … আমি যখন অনেক বছর পর পৃথিবীতে ফিরে আসবো, তখন কি আমার সমবয়সীরা আমার চেয়ে বয়সে দ্বিগুণ হয়ে যাবে? কারণ তাদের এক একটা বছর শেষ হয়েছে ৩৬৫ দিনে, আর আমার ৭৩০ দিনে! … আর যদি উল্টোটা হয়, তখন কি হবে? … এইসব অনেক অনেক ভাবনা ছিলো আমার …

আজকে ইন্টারস্টেলার মুভিটা দেখতে গিয়ে আমার ওইসব ভাবনার অনেককিছুর সাথেই মুভিটার গল্পকে মেলাতে পারলাম … সেকারণেই বোধহয় গল্পটা খুব বেশি মাথার ওপর দিয়ে যায়নি … ‘কি দেখলাম এইটা’ টাইপ হ্যাংওভার নাকি হয় অনেকের! … টাইম, স্পেস, থ্রি ডাইমেশন, ফিফথ ডাইমেনশন এইসব এইসব বিষয়আষয়ের হিসাব-নিকাশ মেলাতেই অনেকটা তালগোল পাকিয়ে যায় মাথার মধ্যে … অল্টারনেট রিয়ালিটি ! …

অল্টারনেট রিয়েলিটি ব্যাপারটা নিয়ে আমার বেশ চিন্তা-ভাবনা আছে । হতেই তো পারে যে আমরা যেই রিয়েলিটিতে বাস করছি, সেটার বিপ্রতীপ আরেকটা রিয়েলিটি আছে! … তার বিপ্রতীপ আরেকটা! … এরকম অনেকগুলো রিয়েলিটি থাকতেই পারে! … একসময় নিজে নিজে একটা থিওরি দাঁড় করিয়েছিলাম যে আমরা যা করছি, যা ভাবছি তার সবই অন্য কারো চিন্তা, অন্য কারো ভাবনা! আমরা হয়তো একজন গল্পকারের তৈরি করা চরিত্র! সে যা লিখছে, সেভাবেই আমাদের জীবনের সবকিছু ঘটছে … পরে যখন সোফি’স ভারডেন পড়লাম, তখন দেখি যে সেখানেও একইরকম বিষয় নিয়েই আরও বহু বছর আগে ইয়েস্তেন গার্ডার লিখে গেছেন! বড় বড় ভারী তত্ত্বের বই পড়ার অভ্যাস নাই আমার। তবে গুরুগম্ভীর তত্ত্ব নিয়ে সোফি’স ভার্ডেনের মতো ইন্টেরেস্টিং আর সহজ করে কেউ কিছু লিখলে সেটা আগ্রহ নিয়ে পড়ি … আর তত্ত্বকথা খুব একটা পড়ি না দেখে কে কবে কোন তত্ত্ব নিয়ে ভেবেছে সেগুলোও জানি না … কিন্তু, আমি আমার এই সীমিত বই পড়ার মাথায় শুধুমাত্র জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে যা ভাবি, বড় বড় তাত্ত্বিকরাও অনেক অনেক বছর ধরে সেরকম  বিষয় নিয়েই ভাবছেন বা পাতার পর পাতা লিখছেন, সেটা যখন জানা যায় তখন বেশ মজাই লাগে! …

আমাদের যে কল্পনার জগত, সেটাও ও আসলে একটা অল্টারনেট রিয়েলিটি! … আমি প্রচণ্ডরকমের কল্পনাপ্রবণ একজন মানুষ … আর সেই সুবাদে প্রতিটা মুহুর্তেরই একটা কাল্পনিক চিত্র আমার মনের মধ্যে সারাক্ষণ ঘুরপাক খায় … যে রাস্তা দিয়ে আমি হাঁটছি, সেই রাস্তাটা আসলে দেখতে যেমন, কল্পনায় তা হয় না … তো আমি মাঝে মাঝেই ‘এমন যদি হতো’ টাইপ চিন্তাভাবনায় বুঁদ হয়ে যাই … যেমন, রাস্তার দুইপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় থাকা বাড়িগুলোর যদি বিভিন্ন রঙ হতো, কিংবা যাবতীয় মেইন রোড, হাইওয়েগুলোর দুইপাশে যদি বড় বড় ফুলের গাছ থাকতো, কৃষ্ণচূড়া, জারুল কিংবা সোনালুর মতো, কিংবা সারাবছরের জন্য বাগানবিলাস ! [ আজকে দেখলাম ইমন ভাই ঠিক এরকম একটা কথা লিখেছেন উনার স্ট্যাটাস বক্সে। পড়ে মজা পেলাম … উনার ঐ ভাবনা আমার মধ্যেও তো কত বছর ধরে আছে … এভাবে যদি সবাই ভাবতে শুরু করতো, তাহলে তো সত্যি সত্যিই রাস্তাগুলো ওরকম হয়ে যেতো!] … তো, সেরকম হলে রাস্তাগুলো কেমন লাগতো সেটা আমি কল্পনা করি, কিন্তু এমন তো হতে পারে যে কোনো একটা অল্টারনেট রিয়েলিটিতে আসলেই এরকম রাস্তাওয়ালা ঢাকা শহর আছে! …

নার্নিয়া দেখে একসময় বেশ মজা পেয়েছিলাম … একটা আলমারি খুললেই যদি ওরকমভাবে অন্য একটা জগতে চলে যাওয়া যেতো, তাহলে তো আর কথাই ছিলো না … অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড পড়ে ছোটবেলায় কোনো গর্ত দেখলেই ভাবতাম যে এইটার ভেতর দিয়ে চলে গেলে কি সত্যি সত্যি ওয়ান্ডারল্যান্ডে পৌঁছানো যাবে? … ওরকম ছোটো বয়সে নার্নিয়া দেখলে তো মনে হয় যখনই আলমারি খুলতাম, তখনি মনে হতো নার্নিয়ার জগতে যাওয়া যায় কি না চেষ্টা করে দেখি! …

যাই হোক, অল্টারনেট রিয়েলিটি নিয়ে ব্যাপক কথাবার্তা শুরু করে দিয়েছি … এবার আপাতত এই দৃশ্যমান বাস্তবতায় ফিরে আসি …

আজকের মতো আর কিছু লেখার নাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s