দিনযাপন | ১৫০৫২০১৫

দুপুর থেকে হঠাৎ করেই ঝুম বৃষ্টি … থামাথামির নাম নেই … একটু কমছে, তাও টিপটিপ বৃষ্টি থেকেই যাচ্ছে … তারপর আবার মুষলধারে বৃষ্টি …

আর বৃষ্টি মানেই আমাকে আলসেমিতে পাওয়া … ঘর থেকে বের না হবার আলসেমি …

আজকে বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত অবশ্য পরিকল্পনা ভিন্ন ছিলো … টিএসসিতে কন্সার্ট ছিলো, যৌন নিপীড়ন বিরোধী কন্সার্ট … পারফর্মারদের তালিকা দেখেই ইন্টেরেস্টেড ছিলাম যে গান শুনতে যাবো … কিন্তু যে সময় রেডি হতে যাবো, তখনই শুরু হলো বৃষ্টি … সুতরাং, কিসের কন্সার্ট, কিসের কি! … সিনেমা দেখতে দেখতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল পার করে ফেললাম … গ্রুপে যাবার তাগিদ ছিলো, কারণ কিছু বিদেশী গেস্ট আসার কথা … ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ির টিমের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তত আমাকে থাকতেই হবে … টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে বের হয়ে নিচে নামতে নামতে শরীফ ভাইয়ের সাথে দেখা … ক্লাস নিয়ে নামছিলেন পাঁচতলা থেকে … মগবাজারের দিকে নাকি যাবে, আমাকে হাতিরপুল পর্যন্ত বাইকে লিফট দিতে পারে বললো … বৃষ্টির মধ্যে তাই সই … ঘটনাচক্রে অর্ধেক রাস্তায় মত বদলে শরীফ ভাইও গ্রুপ পর্যন্তই চলে গেলেন … গ্রুপ থেকে একটা স্ক্রিপ্ট নিতে হবে, সেটা পরে এসে নেবেন ভেবেছিলেন, সেটাই আগে করে নিলেন … ফোলে বৃষ্টির মধ্যে গ্রুপ পর্যন্ত যাওয়াটা আমার জন্য আরামদায়কই হয়ে গেলো …

গ্রুপে আজকে ওই বিদেশী অতিথি আসা ছাড়া আর কোনো কাজ ছিলো না … সুতরাং, ওইটুকু কাজ না থাকলে আজকে বাসা থেকে বের হবারও কোনো তাগিদ থাকতো না …

রাতে বাইরে থাকবার পরিকল্পনা ছিলো … বৃষ্টির অবস্থা দেখে মনে মনে সেই পরিকল্পনা অনেক আগেই বাতিল হয়ে গিয়েছিলো, গ্রুপ থেকে বের হবার সময়ও যখন বৃষ্টির অবস্থা সন্ধ্যার মতোই রইলো, তখন সেই পরিকল্পনা থেকে নিজেকে পুরোপুরিই বাদ দিলাম …

এরকম বৃষ্টিতে অন্তত ঢাকা শহরে আমার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক জায়গা আমার ঘর …

একটা কাজ করবো বলে ভাবছি … এখন তো প্রতিদিনই ঘরের কিছু না কিছু জিনিস গোছানো হয় … যেমন গতকালকে সব ব্যাগগুলো একটা বড় হ্যাভারস্যাক-এর মধ্যে গুছিয়ে ফেলেছি … ফলে ওয়্যারড্রোবের ওপরের অংশটা এখন খালি খালি লাগছে … দরজার সাথে যে ব্যাগটা ঝোলানো সেটাতে অনেকগুলো ব্যান্ডানা বাধা ছিলো, সেগুলোও খুলে ফেলেছি … ব্যাগগুলোও সরিয়ে ফেলেছি … ফলে দরজাও এখন খালি … তো, প্রতিদিনের এই ছোটো-বড় গোছানোর ফলে ঘরের চেহারায় যে পরিবর্তন হবে সেটার দিনপ্রতি একটা করে ছবি তুলবো … একই কাজ নতুন বাসাতেও করা যেতে পারে … সেখানে হবে খালি ঘর থেকে জিনিসপত্রে ভরে যাওয়া ঘর … তারপর সেটা দিয়ে একটা টাইমল্যাপস ভিডিও বানানো যেতে পারে … ফটো কোল্যাজ করা যেতে পারে … পৃথার ১১-১৬ লেন্সটা এতদিন বাসায় ছিলো, আজকেই অমিত নিয়ে গেলো ফেরত দেবে বলে … না হলে হয়তো সেটারই সদব্যবহার করা যেতো … এখন মোবাইলই ভরসা …

 জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে একটা মজা হচ্ছে … অনেক পুরনো পুরনো জিনিস বের হচ্ছে … এমন অনেক জিনিস যেগুলো স্মৃতি থেকে মুছেই গেছিলো … যেমন একটা স্কেচবুক খুঁজে পেলাম, যেটাতে আমার ছোটবেলা থেকে একটা সময় পর্যন্ত অনেক ছবি, টুকরো কাগজ, কার্ড এইসব পেস্ট করে করে একটা স্ক্র্যাপবুকের মতো বানাচ্ছিলাম … সেটাতে শেষ ছবি পেস্ট করেছি ২০০৬ সালে … তারপর এত বছরে ওটার কথাই ভুলে গেছিলাম … এরকম আরো যে কত কত পুরনো স্মৃতি বের হয়ে আসবে … ঘরের আনাচে কানাচে এত এত জিনিসের ভীড়ে কি কম স্মৃতি নাকি? …

ওইসব স্মৃতির উন্মোচনের লোভেই জিনিসপত্র গোছানোর কাজটা আরও তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাচ্ছি …

একটা স্মৃতির বাক্স অলরেডি ফিল-আপ হয়ে গেছে … আরেকটা বাক্স বানানো শুরু করতে হবে … টুকরো টুকরো স্মৃতি তো অনেক …

আজকে আর কিছু লেখার নেই … ইনফ্যাক্ট লেখার মতো আর কিছু পাচ্ছি না …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s