দিনযাপন | ১৬০৫২০১৫

Room_Day 1যেমন ভাবনা তেমন ভাবেই কাজটা শুরু করলাম … ঘরের জিনিসপত্র গোছাবো আর ছবি তুলবো একটু একটু করে … যেহেতু ক্যামেরা নাই, সেহেতু মোবাইলের ক্যামেরা আর ইন্সটাগ্রাম ইফেক্ট-ই এখন ভরসা … আমার তো ঘরের চেহারা বোঝানো গেলেই হলো, সুতরাং তাতে আমার সমস্যা নাই … অনেকগুলা ছবি জমে যাওয়ার পর ‘ আমার নতুন প্রজেক্ট’ বলে এটাকে জাহিরও করবো না, মনগড়া টেক্সট দিয়ে এটাকে একটা ‘পারসোনাল স্টোরি’ ও বানায় ফেলবো না … নেহায়েত একটা নোটবুক বা স্কেচবুকে ছবিগুলার প্রিন্ট করে তারিখের ক্রমানুযায়ী সাজিয়ে রাখবো … নয়তো নতুন বাসার কোনো একটা দেয়ালে এদের ঠাই হবে … এই তো! …

যাই হোক, আপাতত নিজের থাকার ঘরটা দিয়েই শুরু হোক … তারপর একে একে বাকি ঘরগুলোরও চেহারা দেখা যাবে …

আমার ঘরটা একটা ছোটোখাটো গুদামঘর । এখানে আমার নিজের বলতে দুইটা বুক শেলফ আর একটা ওয়্যারড্রোব … আর ঘরের একটা বর অংশই দখল করে আছে একটা আখাস্তা সাইজের কিং সাইজ ডবল বেড।মালিকানা সূত্রে খাটটা মা’র, কিন্তু তাদের ঘরে অলরেডি একটা খাট আছে দেখে, এবং আমি যেই ঘরে থাকি সেটাই বাসার মাস্টার বেড দেখে খাটটা এই ঘরে ঠাই পেয়েছে … আমার খাট বিষয়টা তেমন পছন্দ নয়। আমি ফ্লোরিং -এই স্বচ্ছন্দ … নেহায়েত একটা লো হাইটের ডিভান হতে পারে … স্কুল আর কলেজের ট্রানজিশন- এর সময়টায় ব্যাপক ‘খাট হঠাও আন্দোলন’ করেছি বাসায়, ইভেন অনশন প্রক্রিয়াও বাদ যায়নি … কিন্তু তাতে লাভ হয় নাই … খাট খাটের জায়গাতেই রয়ে গেছে … মিরপুরের বাসায় গিয়ে আমার প্রথম প্রজেক্টই হবে খাটটাকে মা’দের ঘরে ট্রান্সফার করে দেয়া …

আমরা এই বাসায় এসেছিলাম ১৯৯২ এর শেষ দিকে … ডিসেম্বরের শেষেই হবে … সেই দিন- তারিখ আমার মনে নাই … কিন্তু এই এত বছরে, মানে এই প্রায় ২৩/২৪ বছরের এটা সেটা জিনিস জমে জমে এই বাসাটা এখন একটা স্টোররুম-এ পরিণত হয়েছে, আর তারমধ্যে সবচেয়ে হাবিজাবি অবস্থা এই ঘরের … ছোট্টো, মানে আমার ছোটো মামা যখন ঢাকায় এই বাসায় থাকতো, তখনকার জিনিস কিছু রয়ে গেছে, টিয়াম আর লালাম, মানে আমার দুই খালারা বিয়ে হবার আগ পর্যন্ত যতদিন ছিলো তাদেরও বেশ কিছু জিনিস রয়ে গেছে, আমার কিছু ফেলার অভ্যেস নেই বলে আমার অনেক অনেক জিনিস জমেছে, সেই সাথে মা, অমিত আর আমার যাবতীয় কাপড় – চোপড়ের জন্য তো একটা বিশাল জায়গাই এই ঘর নিয়ে নিচ্ছে … বাকি ঘরগুলোতেও জিনিসপত্রের অভাব নেই … একমাত্র আব্বুর ঘরে সম্ভবত সবচেয়ে কম জিনিস, এবং তুলনামূলকভাবে গোছানো কারণ তার ঘরে তার নিজের জিনিস ছাড়া আর কিছুই রাখা হয় না …

আসল কথা হচ্ছে, গত দুইদিন ধরেই সারাদিন যাবৎ ভাবছি যে কার্টন বক্স কয়েকটা কিনে নিয়ে আসবো, আর তারপর গোছগাছ শুরু করবো … কিন্তু কিসের কি! গতকালকে বৃষ্টিতে আটকে গেলাম, আজকে আলসেমি … আগামীকাল একটা কিছু করতেই হবে …

আলসেমি করতে করতে ব্যাংকেও যাচ্ছি না … একটা চেক জমা দেয়া দরকার … তাহলে অন্তত কিছু টাকা হাতে আসবে … দুইদিন যাবৎ মানিব্যাগে ১৫০ টাকা নিয়ে ঘুরতেসি … ওটা দিয়ে বড়জোর আর একদিন চলা যাবে, তারপর পুরাই ফকির হয়ে যাবো … অথচ ব্যাংকেও যাচ্ছি না …

২৫ তারিখের মধ্যে সব গুছিয়ে ফেলতে হবে … ৩০ তারিখে গণ্ডারের শো আছে … যেহেতু আমিও ওই নাটকে অভিনয় করি, ২৬ তারিখ থেকেই আমাকে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করতে হবে … আর জুন মাস থেকে তো মনে হয় শিফটিং-এর কাজই শুরু হয়ে যাবে … ওই সময়ের জন্য গোছগাছ ফেলে রাখা যাবে না একদমই …

মে মাসের শেষ সপ্তাহটা অনেক ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে যাবে … সেটা মনে হয় একদিক দিয়ে ভালো … ওইসময়টা অনেক মানসিক যন্ত্রণা দেবে … এক তো গতবছরের অনেক কিছু মনে করিয়ে দেবে, আর দুই, এমন কিছু ‘ঘটলেও ঘটতে পারতো’ বিষয় আছে যেগুলো আরও বেশি করে খোঁচাবে … এখনই প্রচণ্ডরকম খোঁচাচ্ছে, আর তখন …

ব্যস্ত হতে হবে, ভয়ঙ্কর ব্যস্ত … সবকিছু ভুলে যাবার মতো ব্যস্ত … আমি চাই না আমার মাথায় ঘুরঘুর করুক ‘ আজকে তো এই হয়েছিলো’ ‘ আজকে তো ওই হয়েছিলো’ ‘ আজকে তো এটা’ ‘ আজকে তো সেটা’ … আমি চাই না মে মাসের ২৪ তারিখ আসলে আমার মনে আসুক যে ‘ আজকে তো সেই দিনটা হলেও হতে পারতো!’ …

ভুলে যেতে চাই সবকিছু … সব …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s