দিনযাপন | ১৯০৫২০১৫

গতকালকে রাতে বাসায় ফেরার পর থেকেই কেমন জানি একটা ঔদাসীন্য পেয়ে বসেছিলো … কিছুই করতে ইচ্ছে করছিলো না … না সিনেমা দেখতে, না দিনযাপন লিখতে , না জিনিসপত্র গোছাতে , না কোনো কাজ নিয়ে বসতে  …

গতকালকে অবশ্য সকাল থেকে চার কার্টন বই গুছিয়েছি … আরও অনেকগুলা বই বাকি … আরও মনে হয় চারটা কার্টন তো লাগবেই, তার বেশিও লাগতে পারে … এত বই আমার! ভাবতেই অবাক হচ্ছি … মাত্র দুইটা ছোটো সাইজের বুকশেলফে এত বই কিভাবে এঁটেছিল এতদিন? …

বইগুলো গুছাতে গিয়ে এত পরিমাণ ধুলা ঘেঁটেছি যে কাল থেকেই সমানে নাক ফ্যাচফ্যাচ করছে আর চোখ জ্বালা করছে … আর সেকারণেই হয়তো গা-ও ম্যাজম্যাজ করছে … সর্দি কিংবা জ্বর এসব না আসলেই হলো …

এখন কার্টনে জিনিসপত্র গুছাতে গিয়ে নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে … সেটা হচ্ছে জায়গা সংকট … কার্টনগুলা কোথায় রাখবো সেই জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না … এখন মনে হচ্ছে যে কিছু জিনিস যদি কাল-পরশুর মধ্যেই মিরপুরের বাসায় নিয়ে রেখে আসতে পারতাম, অন্তত আমার ঘরের বিশাল খাটটা যদি ঘর থেকে বিদায় করা যেতো, তাহলে আর জায়গা নিয়ে ভাবতেই হতো না …

আজকে সারাদিনে আর এগুলা কাজ নিয়ে বসা হয় নাই … কালকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেছি, আজকে আবার ভোরবেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো … ফোনে ফেসবুকের নোটিফিকেশনের কারণে ভাইব্রেশন হলো, আর আমার হাতটাও তখন মনে হয় ফোনের ওপরেই ছিলো … ওই ভাইব্রেশনে ঘুম ভেঙ্গে কতক্ষণ চোখ খুলে থেকে, কতক্ষণ ফেসবুকিং করে আবার ঘুমিয়ে গেলাম … উঠলাম ১২টার দিকে … ভায়োলিনের ক্লাস ছিলো আজকে, তাই প্র্যাকটিস করতে বসলাম … এর মধ্যেই প্রচণ্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো, গরমের জন্যই কি না জানি না … ঘণ্টাখানেক প্র্যাকটিস করে গোসল করে ফ্রেশ হবো ভাবতে ভাবতে কখন জানি শুয়ে আবার ঘুমিয়ে গেলাম … উঠে দেখি প্রায় সাড়ে তিনটা … প্রায় দৌড়ে গোসল করেই সোজা পাঁচতলায় দৌড় …

আজকে বেশ কয়েকদিন পর ভায়োলিন ক্লাসে সবগুলো হোমওয়ার্ক-এর লেসন ঠিকঠাক বাজিয়েছি … কনফিডেন্স কমে যাচ্ছিলো নিজের ওপর … আজকে আবার একটু বাড়লো …

এগজ্যাক্টলি বুঝতে পারছি না কেন, কিন্তু গত কয়েকদিন ধরেই কেমন জানি একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি … কি জানি একটা হতে যাচ্ছে টাইপ অস্থিরতা … মাঝে মাঝেই আমার মধ্যে এরকম ক্লুলেস অস্থিরতা তৈরি হয়, আর তারপর এমন একটা কিছু ঘটে যেটার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত থাকি না … এখনও হয়তো সেরকম কিছুই হবে, কিন্তু সেটা কি তা তো জানি না … এখন আর এইসব অস্থিরতা ভালো লাগছে না … সবকিছু নিয়েই ক্যামন একটা রিলাক্টেন্ট অনুভূতি কাজ করছে … একটা ট্যুর-এর প্ল্যান হচ্ছে, সেটাও যাবো কি যাবো না ভাব … একে তো টাকা নেই, তারওপর এই অস্থিরতার ভাব … কেন যেন মন টানছে না কিছু করতে, কোথাও যেতে, কারো সাথে মিশতে, কারো সাথে কথা বলতে … কেমন জানি একটা নির্জীব অনুভূতি! …

সপ্তাহখানেক আগেও অনুভূতিটা অনেক কম ছিলো, এখন বেশ বেড়েছে … সামনের কয়েকটা দিন হয়তো আরও বাড়বে …

গত দুই/তিনটা দিন অনেক ব্যস্ত সময় কাটানোর ফাঁকে ফাঁকেই অনেক অনেক কথা, অনেক অনেক ঘটনা মনে করে, অনেক অনেক অনুভূতির কথা মনে করে অনেক কান্নাকাটি করেছি … এই যে এখন আমি চুচাপ নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে দিনযাপন লিখছি, এখনও আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই একটা কিছু নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে কেঁদে ফেলতে পারবো … কান্নাটা সারাক্ষণ গলায়, চোখের কোণায় ঠেকেই আছে … খালি ভেতর থেকে একটা ছোটো ধাক্কা হলেই সজোরে বের হয়ে আসে …

অনেককিছুই হতে পারতো, কিন্তু আমারই নিজের নেয়া কিছু সিদ্ধান্তের জন্য সেগুলো হয়নি … আমার অনুতাপটা এখানেই যে এখন পর্যন্ত জীবনে কোনোদিন নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে অনুতাপ করতে হয়নি! … এই প্রথম, একজনের অনুরোধে আর আকুতি-মিনতিতে নরম হয়ে একটা জীবনের বিনিময়ে সেই একজনকে বাঁচিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি … যাকে বাঁচিয়েছি, সে তার কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছে প্রতারণা দিয়ে আর বিশ্বাসভঙ্গ করে … নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিলে অন্তত আমার এই অনুতাপ থাকতো না যে একজনের মিথ্যা ‘প্রমিজ’গুলো আমি বিশ্বাস করেছিলাম … কারণ, আমার নিজের জন্য যদি আমি সিদ্ধান্ত নিতাম তাহলে সেখানে তার কোনো অস্তিত্বই থাকতো না, প্রমিজ তো দূরের কথা … আর আজকে এইদিনের এই মুহুর্তে এসে আমার জীবনটা আমার কাছে অন্তত একটা অনুতাপের বোঝা হয়ে উঠতো না …

আবার, এটাও মনে হয় যে, এই যে আমি এতকিছুর পরও সবকিছু নিয়ে এভাবে ভাবি, ডাজ ইট রিয়েলি ম্যাটার টু হিম? … আর তারপরেই যখন মনে হয় আসলেই ম্যাটার করে না, তখন অনুতাপটাও আরও বেড়ে যায়, রাগ-ক্ষোভের অনুভূতিগুলোও বেড়ে যায় … রাগ যত না তার ওপর, তারচেয়েও অনেক বেশি নিজের ওপর হয় … যেই আমি সবসময় সবাইকে থোরাই কেয়ার করে চলি, সেই আমি এই একটা মানুষকে এত বেশি পাত্তা কেন দিলাম! … এখনও কেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমিয়ে থাকার সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়গুলো তার কথাই ভাবি? …

একটা বড় বিস্ফোরণ দরকার … মনের সবকিছুর, সবকথার একটা বড় বিস্ফোরণ … সবকিছু পুড়ে ছারখার হয়ে যাবার পর আবার একটা নতুন পথচলা শুরু করতাম … অন্তত সবকিছুর সাথে তাকে, তার স্মৃতিকেও তো ভস্মীভূত করা যেতো … আগুনের হল্কা যদি আমাকেও পুড়িয়ে দিতো, তাতেও আমার কোনো সমস্যা হতো না … এখন যেই আগুনে জ্বলছি, তার কাছে ওই আগুন কিছুই না …

তবু, একটা বিস্ফোরণ দরকার … একটা বড় বিস্ফোরণ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s