দিনযাপন | ২০০৫২০১৫

আগামী কয়েকটা দিন শ্বাস ফেলার সময় পাবো না টাইপ দৌড়ের ওপর থাকতে হবে বলেই মনে হয় গত দুই/তিনদিন যাবৎ ঘুমের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় হয়ে ছিলো …

অবশ্য প্রচণ্ড গরমও এহেন শারীরিক অবস্থার আরেকটা কারণ হতে পারে … সারা শরীরের মধ্যেই কেমন জানি একটা অস্বস্তি … অনেকটা সময় ঘুমাচ্ছি, কিন্তু তাও মনে হচ্ছে একদমই ঘুম হয়নি … আর সেই সাথে সারাক্ষণই মনে হতে থাকে পেটের ভেতর কি জানি একটা বস্তু ক্রমাগত গুটুরগুটুর শব্দ করতেসে …

আবার এটা টিউমারজনিত কারণেও হতে পারে … ব্যাপক যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে বিষয়টা … মনে হচ্ছে যে প্রতিমাসেই পিরিয়ড শেষ হবার পর পর একটা করে শারীরিক সমস্যার নাটক চলবে … গতমাসে হলো ইউরিন ইনফেকশন … আর এই মাসে এইরকম অবস্থা … আগামী মাসেও আবার হয়তো আরেকটা নতুন উপসর্গ দেখা দিবে … টিউমারটা ভালোই যন্ত্রণার বস্তু হয়ে দাঁড়াচ্ছে … মনে হচ্ছে অতিসত্বরই ফেলে দেয়ার সিদ্ধান্তই নিতে হবে …

কিন্তু সামনে কাজের চাপও কম না … নতুন বাসায় উঠবার ধাক্কা, একটা বইয়ের অনুবাদের কাজ, বিবিসি’র কাজ … আর থিয়েটার তো আছেই … সেই সাথে মাস্টার্স-এ ভর্তি হবো কোথাও সেই পরিকল্পনাও করছি … কিভাবে যে কি হবে জানি না … এমন যদি হয় যে হঠাৎ এতই অসুস্থ হয়ে গেলাম যে সব কাজ বাদ দিয়ে ইমার্জেন্সি বলা নাই কওয়া নাই অপারেশন হয়ে গেলো, তাহলে এক জিনিস … কিন্তু নিজে প্ল্যান-প্রোগ্রাম করতে করতে গেলেই দেখা যাবে যে এটা-সেটা কাজের কমিটমেন্ট এর কারণে মন থেকে তাগিদ পাবো না …

গতকালকেই লিখছিলাম যে একটা ট্যুরের প্ল্যান হচ্ছে, কিন্তু যাবো কি যাবো কিনা সেটা নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব কাজ করছে … আজকে নিজে থেকেই এমন একটা সিচুয়েশন দাঁড়িয়ে গেলো যে ট্যুরটায় এখন আর চাইলেও যাওয়া হবে না … সামনের মাসে কলকাতায় ট্র্যাজেডি পলাশবাড়ি নাটকটার শো করার একটা আমন্ত্রণ এসেছে … তার জন্য কলকাতা যাওয়া হবে জুনের ৮ তারিখ। এর মধ্যে ভিসার প্রসেসিং-এর বিষয় আছে। সুতরাং, ১ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত ঢাকার বাইরে থাকার বিষয়টা আসলে যুক্তিযুক্ত হবে না … এমনিতেই কনফিউজড ছিলাম যে ট্যুরের টাকাটা কিভাবে ম্যানেজ হবে … একজনের কাছে ৫০০০ টাকা পাই, সেটা চাইতে চাইতে নিজেরই এখন আত্নসম্মানে লাগছে যে এতবার একটা মানুষের কাছে টাকা চাইছি, অথচ পাচ্ছি না! … আবার যার কাছে টাকা পাই, সেও এমন না যে টাকার জন্য ঘোরায় । তারও নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হচ্ছে বলেই গত তিন মাস যাবৎ দিচ্ছি দিচ্ছি করেও দিচ্ছে না … সেই কারণে তাকে ‘ ভাই টাকাটা কি ম্যানেজ হয়েছে? একটু দ্যাখো না কি করা যায় … খুব আর্জেন্ট’ এই পর্যন্ত বলেই অফ যেতে হচ্ছে … কিন্তু এটাও সত্য যে টাকাটা না পেলে আমি ট্যুরের টাকা দিতে পারতাম না কারণ ওয়েবসাইট এর ডোমেইনের ইয়ারলি পেমেন্ট-এর জন্যও এই সপ্তাহের মধ্যেই মুগ্ধকে টাকা দিতে হবে…এই মুহুর্তে আমার কাছে কোনো এক্সট্রা টাকা নাই …সো, ওই টাকাটা না পেলে আসলে এমনিতেও ট্যুরে যাওয়া হতো না … কারণ কারো কাছ থেকে আর টাকা ধার নিয়ে কিছু করতে চাই না … ‘তার’ জন্য টাকা ধার করতে করতে এখন কাছের মানুষদের কাছে এমনিতেই আমার ইম্প্রেশনের বারোটা বেজে আছে, আবার টাকা ধার চেয়ে সেটাকে আরো জায়েজ করার কোনো মানে হয় না! … আগে সব ধার শোধ করবো, তারপর আবার কখনো ধার করবো কি করবো না সেটা দেখা যাবে … সো, শেষ পর্যন্ত যদি এমন হইতো যে ফিরে এসে ওই টাকাটা পেলে ফেরত দেবো এরকম কথার বিনিময়েও টাকা ধার করে ট্যুরে যেতে হচ্ছে, তাহলে আলটিমেটলি যেতাম না … কিন্তু এরকম একটা ট্যুর কিভাবে মিস করি, সেটা নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিলো … আর এখন এমনিতেই ট্যুরে যাবার আর উপায় রইলো না … একদিক দিয়ে মনে হয় ভালোই হলো … টাকার জন্য ট্যুরে যেতে পারছি না, সেই দুঃখ পেতে হলো না … এখন অ্যাটলিস্ট একটা ‘ভ্যালিড’ কারণ আছে ট্যুরে না যাওয়ার …

কিন্তু, হঠাৎ করে আজকে একটা ইন্টেরেস্টিং বিষয় খেয়াল হলো … যখনি এরকম খুব প্ল্যান প্রোগ্রাম করে ট্যুরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা হয়, সেই ট্যুরটা আর হয় না! … অন্তত এই ট্যুরে যাবার তালিকায় আছে এরকম কিছু মানুষের ক্ষেত্রে … আমার মনে আছে, ২০১৩’র সেপ্টেম্বরের দিকে একটা প্ল্যান করা হচ্ছিলো যে ওঁই বছরের ডিসেম্বরে আমরা কয়েকজন মিলে সিলেট যাবো … নাকি এরকম বান্দরবান কি রাঙ্গামাটিই যাবো বলে ঠিক করেছিলাম তা খেয়াল নেই … টাকা-পয়সা কত দিতে হবে, কবে যাবো সব ঠিকঠাক হয়ে গেলো … তারপর একটার পর একটা বাধা আসতেই লাগলো … হয় গ্রুপের শো, নয়তো রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো না ইত্যাদি ইত্যাদি … এই করতে করতে সেই ট্যুরটা আর হলো না …

এই ট্যুরটাও প্রথমে হবার কথা মে মাসের এই সময়টায় … ২২ থেকে ২৬ এরকম একটা পাক্কা হিসাবনিকাশ হয়ে গেলো … এই সময়ের জন্য টাকাও ম্যানেজেবল ছিলো … ব্যাংকে হাজার পাঁচেক টাকা আছে, সেটা দিয়ে এই সময়টায় ট্যুর করে এসে তারপর পাওনা টাকাটা পেয়ে গেলে মাসের বাকি অংশটাও চলে যেতো … সো, যাবো কি যাবো না সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বও ছিলো না … এমনকি সবার সাথে যোগাযোগ করে নিজেও উদ্যোগী হয়ে গেলাম ট্যুর সফল করার জন্য … এরপরেই শুরু হলো একটার পর একটা বাধা … ২৬ তারিখ গ্রুপের ইভেন্ট, ৩০ তারিখ শো … আবার জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যেতে হলে আমার টাকা পয়সার ক্যাচাল … এখন তো আমাকে মে মাসের এই সময়টুকু চলবার জন্য ব্যাংকের ওই হাজার পাঁচেক টাকা খরচ করে ফেলতে হবে … তাহলে আমি ট্যুরের টাকা কিভাবে দিবো, আর ওয়েবসাইটের টাকাও বা কিভাবে দিবো? ট্যুরের জন্য তিন, ওয়েবসাইটের জন্য ২ হাজার দিয়ে দিলেই তো ৫০০০ টাকা শেষ! … তার মধ্যে আজকে আবার জানা গেলো কলকাতার শো-এর কথা … অতএব এই ট্যুরটাতেও সেই আগের মতোই কুফা লাগলো …

আসলে হুট করে আজকে মাথায় আসলো ট্যুরে যাবো, আর পরদিনই রওনা হলাম, যে যে পারলো জয়েন করলো টাইপ ট্যুরগুলাই এসব ক্ষেত্রে, অন্তত আমাদের মতো ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ জীবনযাপন করা মানুষদের জন্য বেষ্ট … এত প্ল্যান প্রোগ্রামের ট্যুর আমাদের মানায় না … তাতে প্ল্যানটাই হয়, প্রোগ্রামটা হয় না …

অতএব, যখনি ভাবনা আসবে কিছু করার, তখনি যদি করে ফেলা যায় তো বেস্ট … যা হবে সব ইনস্ট্যান্ট … ওই যে একটা কথা আছে না, উঠলো বাই তো মক্কা যাই … ওইরকম আর কি! …

আমার মাঝে মাঝেই মনে হয়, আমার হাতে যদি অফুরন্ত টাকার সংস্থান থাকতো, তাহলে আমি হুটহাট মন চাইলেই ঘুরতে চলে যেতে পারতাম । দেশে, বিদেশে সবজায়গায় … আফসোস এখনো এটাই যে অনেক সাধ আছে, কিন্তু সাধ্যের ছিটেফোঁটাটুকুও নাই … এমন একটা চাকরিই যদি পাওয়া যেতো যে খালি দেশেবিদেশে ঘুরতে হবে এটাই কাজ, দেশেবিদেশে ঘোরার জন্যই টাকা পাবো! … তাইলে জীবনে আর কি লাগতো! … দেশে বিদেশে ঘুরতাম, ছবি তুলতাম আর ভ্রমণকাহিনী লিখতাম …

আহা! ভাবতেই স্বপ্নবিলাসী হয়ে যাচ্ছি! … ছোটবেলায় একটা ছড়া পড়েছিলাম, ওখানে বলা ছিলো ‘ থার্সডে’জ চাইল্ড হ্যাজ ফার টু গো’ … অর্থাৎ যারা বৃহস্পতিবারে জন্মায় তারা অনেকদূর যায় … আমার জন্মও কোনো এক বৃহস্পতিবারে … এটা শুনে আমার ছোটোফুপা বলেছিল যে ‘ কথা সত্য! আমারও বৃহস্পতিবার জন্ম, আর আমিও আমেরিকা পর্যন্ত ঘুরে এসেছি … সুতরাং তোমারও অনেক দূর পর্যন্ত যাবার আছে’ … আমি সেটা শুনে মহা খুশি হয়ে গিয়েছিলাম যে তাইলে তো হয়েই গেলো! খালি ঘুরবো আর ঘুরবো! … কিন্তু আদৌ অনেক দূর যাওয়া বলতে মনে হয় লিটেরেলি দেশে বিদেশে ঘোরা বোঝায়নাই, জীবনে অনেক উন্নতি করবে টাইপ একটা কিছু বুঝাইসে … এখন আমি যা-ই করি তাতেই একটা সময় পর্যন্ত বেশ শাইন করি, তারপর উৎসাহ হারায় ফেলি বলে সেটা আর কন্টিনিউ করা হয় না … কিন্তু ঘুরে- বেড়ানোর যে ব্যাপারটা, সেটা তো হয় না! …

ঘোরাঘুরির কথা লিখতে লিখতে কেমন ঘুম ঘুম ভাব চলে আসছে … সকাল সকাল উঠে দৌড়াতে হবে … অনেক কাজ কালকে থেকে …

আজকের ঘুম দিয়েই আলসেমি শেষ হোক …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s