দিনযাপন | ২২০৫২০১৫

এই মুহুর্তে ফেসবুকের টাইমলাইন জুড়ে খালি আজকের স্কুলমেটদের গেট টুগেদারের ছবি আর ট্যাগ করা পোস্টগুলোয় একের পর এক নোটিফিকেশন …

আজকের দিনটা একটা মনে রাখার মতো দিনই বটে …

অনেকবারই গেট টুগেদারের কথাবার্তা হতে হতে আজকে অবশেষে একটা গেট টুগেদার হলো হলিক্রসের এসএসসি ২০০৩ এর ডে শিফট ব্যাচের … জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে যেসব মানুষগুলোকে জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পেয়েছি, সেই মানুষগুলো কখনোই আসলে মন থেকে হারিয়ে যেতে পারে না … ডে শিফটের যে শ’খানেক সহপাঠী ছিলাম আমরা, প্রত্যেকেরই একে অপরের সাথে সারাজীবন কমবেশি মনে রাখার মতো এক বা একাধিক স্মৃতি আছে … ইউনিভার্সিটির সহপাঠীদের সাথে সম্পর্কের জায়গা থেকে স্কুল কলেজের সহপাঠীদের সাথের সম্পর্কের আবেগীয় জায়গাটা অনেক বেশি অন্যরকম …

এবারের গেট টুগেদারের প্ল্যানটা হুট করেই করা … জিনিয়া আর এশার উদ্যোগে … দেখা গেলো যে বেশিরভাগই দেশের বাইরে! … তবুও দেশে যারা আছি, তাদের মধ্যে অতি নস্টালজিক আমরা ১৫ জনের মতো সহপাঠী অবশেষে আজকে একসাথে হলাম … নিজেরা নিজেরা ঘনিষ্ঠতার সূত্রে অনেকেরই একে অপরের সাথে আগে থেকেই যোগাযোগ আছে … আবার এমন অনেকেই আছে যাদের সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ হলেও চোখের সামনে দেখা হলো প্রায় এক দশক কি এক যুগ পর! …

অনেক অনেক নস্টালজিক দিন গেলো আজকে … স্কুল লাইফের কত স্মৃতি, হাসি , ঠাট্টা আবার ফিরে ফিরে আসলো … কেউ আগের মতোই আছে … কেউ একদমই না চেনার মতো বদলে গেছে … কেউ আগের চেয়ে শান্ত হয়েছে, কেউ আগের চাইতে দুরন্ত … কেউ ভালো আছে, কেউ ভালো নেই … কেউ খুব ব্যস্ত, কেউ একদমই কর্মহীন … এরকম অনেক অনেক কিছু …

অনেকের ভালো থাকার গল্প শুনে ভালো লাগলো … অনেকের খারাপ থাকার গল্প শুনে মন খারাপ হলো …

কিন্তু সবমিলিয়ে এরকম একটা দিন শেষতক সব খারাপ-ভালোর চিন্তা ভুলিয়ে দিয়ে এটাই ভাবায় যে এরকম একসাথে হবার উছিলা আরও চাই … আজকে ১৫ জন এসেছি, আরেকদিন হয়তো ৫ জনও আসবে না … আরেকদিন হয়তো ৩০/৪০ জন এর একটা বিশাল গ্যাদারিং হয়ে যাবে … কিন্তু এরকম প্রায় প্রায়ই দেখা সাক্ষাৎ হওয়াটা আমার কাছে অন্তত আনন্দের …

এই মুহুর্তে বাসায় সনেটের কাছ থেকে আনা ক্যামেরাটার বডিটা পড়ে আছে, কিন্তু লেন্স নাই … ফলে ক্যামেরা নিয়ে যেতে পারলাম না আজকে … সবাই যে যার মোবাইলেই ছবি তুললো … মিন্নিকে ক্যামেরা নিয়ে যেতে বলেছিলাম … চিন্তা ছিলো যে ছবি তুলবো আমি … কিন্তু পরে দেখলাম যে ওর ক্যামেরায় চার্জ কম … আর তাছাড়া সবার সাথে গল্প করতেই ভালো লাগছিলো … ছবি তোলায় মনোযোগ থাকলে তো আর গল্প করা হতো না …

আজকের স্মৃতিটা অন্তত আমার দিনযাপনেও আমি জমা করে রাখতে চাই বলে অন্যদের ছবিগুলো থেকে কয়েকটা বাছাই করে এখানে রেখে দিচ্ছি … যাতে অনেক অনেকদিন পরে ফেসবুকে যখন ছবিগুলো হারিয়ে যাবে, তখন দিনযাপন ঘেঁটে সহজে ছবিগুলোকে আবার স্মৃতি জাগানোর টনিক হিসেবে বের করে ফেলা যায় …

গেট টুগেদার ছাড়া আজকের দিনের আর কোনো আপডেট নাই … ভোর ৪টা পর্যন্ত ইন্ডিয়ার ভিসার ফর্ম ফিলাপের কাজ কর্ম করে তারপর ঘুমাতে চাইলাম, কিন্তু ঘুমের নাম গন্ধ নাই ! … শুয়ে শুয়ে ল্যাপটপে গেম অব থর্ন্স এর চলতি সিজন ফাইভের লেটেস্ট এপিসোডটা দেখতে শুরু করলাম … অর্ধেক দেখার পর মনে হলো, এইটা দেখতে গেলে আরও ঘুম আসবে না … তখন চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় কখন যেন ঘুমিয়ে পড়লাম … সকালে ৯টার দিকে উঠে আবার কাগজপত্র নিয়ে বসে আবার বাকি কয়েকজনের ভিসার ফর্ম ফিলাপ করলাম … সারাদিন এই কাজই করতেসি … মাঝখানের গেট টুগেদারের টাইমটুকুই বাদ … বাকিটা সময়, এমনকি সন্ধ্যায় গ্রুপে গিয়েও বসে বসে ওই একই কাজ …

আগামীকালকে যেভাবেই হোক, বিবিসির কাজটা শেষ করতেই হবে … রবিবার সকালের মধ্যে দুইটা স্ক্রিপ্টের অনুবাদ জমা দিতে হবে … আজকে যদি রাতে ভিসার ফর্ম ফিলাপের ঝামেলা না থাকতো, তাইলে মিরপুর চলে যেতাম টিয়ামের বাসায় … যেহেতু নেট নাই ওখানে, সেহেতু অনেক কিছুর এঙ্গেজমেন্ট থেকে দূরে থেকে সারাদিনে অনেকটুকু কাজ করে ফেলা যেতো … কালকে বাসায় থেকে সারাদিনে যতটা সম্ভব কাজ আগাতেই হবে …

এদিকে কলকাতায় যদি কোনো কারণে শেষমেষ শো করতে যাওয়া না হয়, তাহলে আমার এই দুইদিনের ভিসা প্রসেসিং-এর কাজকর্ম যে হুদাই বেগার খাটা হবে সেটা বলাই বাহুল্য! … আমি এইজন্যেই প্রথমে চিন্তা করেছিলাম শনিবার রাতের আগে ভিসার কাগজপত্র নিয়ে বসবো না … গ্রুপ থেকে এমন তাড়াহুড়া তাড়াহুড়া ভাব যে আমিও গতকালকেই সবার কাছ থেকে যার যা ইনফরমেশন আছে সব জোগাড় করে নিয়ে ভিসার অ্যাপ্লিকেশন করতে বসে গেলাম … এখন আবার কনফিউশন দেখা দিয়েছে যাদের শো করতে যাচ্ছি তারা প্রডাকশন কস্ট দেবে কি দেবে না সেটা নিয়ে … যদি না দেয়, তাহলে যাওয়া হবে না … কারণ সেক্ষেত্রে গ্রুপের নিজের পকেট থেকেই সিংহভাগ খরচ চলে যাবে, আর সেই অ্যামাউন্টটাও কম না … দেখা যাক, কি হয় … কাল জানা যাবে …

আরেকটা ব্যাপার মাথায় ঘুরঘুর করছে … মাঝে মাঝেই এমন হয় যে কোনো একটা কাজ করার চিন্তা এমনভাবে মাথায় ঢুকে যে ‘ কাজটা করতেই হবে’ … কেন করতে হবে, করলে কি হবে কিছুই জানি না … কাজটার আফটার ইফেক্ট ভালো হবে না খারাপ হবে তাও জানি না … কিন্তু মনে মধ্যে ক্রমাগত খোঁচাখুঁচি চলতে থাকে যে কাজটা করতে হবে … গত কয়েকদিন যাবৎ এরকমই একটা চিন্তা মাথায় ঘুরতেসে … যেটা করতে চাই, সেটা করা মানেই একেবারে সম্মুখ যুদ্ধের ডাক দেয়া … সেই যুদ্ধ করার মতো প্রস্তুতি আমার আছে কি নেই সেই বিষয়ে কিছু ভাববারই অবকাশ পাচ্ছি না … খালি মনে হচ্ছে যে যা হয় হবে, কিন্তু মনের মধ্যে যা খোঁচাচ্ছে সেটাকে এভাবে লালন করা যাবে না! …

জানি না কি করবো … কিন্তু যাই করবো তাতেই বড়সড় বোমা ফাটবে …

বোমা ফাটানোর ইচ্ছায় আমার নিজের ভেতর কোনো দ্বন্দ্ব নেই … কেবল ফাটাবো কি না সেই সিদ্ধান্তটা নেয়াটাই একটা দ্বন্দ্বের পাহাড় গড়ে বসে আছে …

কিন্তু এটাও আমি ভাবছি যে আমার একটা পুনর্জন্ম দরকার … বোমা বিস্ফোরণে সবকিছু ধ্বংস হয়ে ছারখার হয়ে যাবার পর সেই ছাই থেকেই ফিনিক্স পাখির  মতো আমার আবার জন্মানো দরকার …

মে মাসের এই শেষ সপ্তাহে এসে যে নবজন্মের শুরু হতে পারতো, সেখানেই সে শেষ হোক … বরাবরের মতো … আর সেই শেষের আগুন থেকেই আমার নতুন জন্ম হোক …

চে সারা সারা …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s