দিনযাপন | ২৯০৫২০১৫

আজকে মনে মনে পণ করেছি যে দিনযাপন লিখবোই লিখবো …

যত ক্লান্তিই থাকুক … যতই কাজ থাকুক … আর যতই ঘুম পাক …

এমন নয় যে আজকে রাতে আমি ফ্রি … আজকে অনেকগুলো কাজ … আগামীকালকে ইন্ডিয়ান ভিসার অ্যাপ্লিকেশনের জন্য সবার কাগজপত্র প্রিন্ট করবো, ফাইল আপ করবো … সুতরাং সেগুলো গোছাতে হবে … কি আছে, কি নেই সেগুলো চেক, ডবল চেক করতে হবে … কোথাও কোনো ভুল রয়ে গেলো কি না দেখে নিতে হবে … আবার বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে … তবুও ভালো যে আরেকটা যে কাজ আছে বিবিসি’র, ওটার সাবমিশন কালকে না … কারণ, এতকিছুর মাঝখানে আমাকে ঘুমাতেও হবে … কালকে শো, গণ্ডারের … ওখানে আবার আমারও পারফরমেন্স আছে … সুতরাং শো-এর আগেরদিন না ঘুমানোটা অন্তত কোনো ভালো কাজ হবে না …

তাছাড়া, সকালেও দৌড়াদৌড়ি কম না … পাসপোর্ট ছবি তুলতে হবে, পার্লারে গিয়ে চুল সেট করতে হবে, জুতা কিনতে হবে, ইন্ডিয়ান ভিসার জন্য সবার ফর্মগুলো প্রিন্ট করাতে হবে … তারপর আবার ৩টার মধ্যে শিল্পকলাতেও পৌঁছাতে হবে … সুতরাং, বুদ্ধিমানের কাজ হবে এখন ঘুমিয়ে পড়া, আর ভোরবেলা উঠে কাজ শুরু করা …

আজকে এমনিতেও ছুটির দিন হিসেবেও বেশ দৌড়াদৌড়ি গিয়েছে … সকাল সকাল উঠেছি ঘুম থেকে … তারপর বেশ কিছু কাজ সারলাম … আবার সাড়ে বারোটার দিকে বাপ্পি ফোন দিয়ে বললো বিউটি বোর্ডিং-এ যাবার কথা … যাবো কি যাবো না এরকম একটা ভাবসাব ছিলো মনে … গতকালকে কাঁটাবনে দেখা হবার পর যখন আজকের দুপুরের এই প্ল্যানটা করছিলো, তখনি মনে হচ্ছিলো যে যাবো কি যাবো না নিশ্চিত না … ওর ফোন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম যে যাই-ই না হয় … তো, যাওয়া হলো … উদ্দেশ্য ওখানে লাঞ্চ করা … লাঞ্চ শেষ করে কাছাকাছিই এক দোকানে বসে চা খেতে খেতে গল্পগুজব করার ফাঁকেই জানা গেলো যে কারওয়ান বাজার মোড়ের যেই রাস্তাটা খানিকটা ডেবে গেছে গতপরশু, ওইটা নাকি আরেকটু ভেঙ্গে পড়েছে, আর এখন বালি দিয়ে ওইটার ভেঙ্গে পড়াকে আটকানো হচ্ছে … তো, কই যাওয়া যায় টাইপ একটা কনফিউশনের মাঝখানে যখন এই খবর পাওয়া গেলো, তখন সেখানে যাওয়াটাই সিদ্ধান্ত হলো … তাতে করে বাপ্পিরও অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট হবে, আমারও ধানমণ্ডি যাবার কথা, সেটার কাছাকাছি পৌঁছানো হবে … তো, রাস্তার মধ্যেই বৃষ্টি নামলো … নিজেকে বাঁচানোর চাইতে ল্যাপটপ আড় যাবতীয় জরুরি কাগজপত্রসহ ব্যাগ বাঁচানো ফরয মনে করে রিকশায় কোনোরকমে ব্যাগ আঁকড়ে জবুথবু হয়ে বসে রইলাম … এর মধ্যে দোয়েল চত্বর পার হয়েই পড়া গেলো আরেক ক্যাচালে … ছাত্রলীগের কি জানি বিশাল সমাবেশ … এই মিছিল, এই লোকজনের ভিড় … এইসবকিছু পার করতে করতেই অনেকটা সময় পার হয়ে গেলো …

কাঁঠালবাগানের মোড়ে এসে রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম উনি ধানমণ্ডি যাবে কি না … যাবে না শুনে মনে হলো যে তাহলে একটু নেমে দেখেই যাই রাস্তাটার কি অবস্থা সামনে … বাপ্পি ছবি তুলতে হবে বলে আগেই দৌড় দিলো রিকশা থেকে নেমে … আমিও বেশ রিপোর্টার রিপোর্টার ভাব নিয়ে ওইখানে দাঁড়ায় থাকলাম আর মোবাইলে কয়েকটা ছবি নিলাম … লেকের ওপর ফাউন্ডেশন দিচ্ছে, কিন্তু মাটি এতই নরম যে পাইলিং-এর ভার নিতেই পারেনাই … ফলে চারপাশের মাটিসহ টান দিয়ে পুরা ফাউন্ডেশন নিচে ডেবে গেছে! … ঘটনাটায় আমি আসলে অবাক হইনাই … ঢাকা শহরের একটা বড় অংশ জলাভূমির ওপর ভিত্তি গড়ে তৈরি … সুতরাং কখনো যদি পুরো শহরের একটা বড় অংশও এরকম ডেবে যায়, তাতেও অবাক হবার কিছু থাকবে না …

যাই হোক, ওখানে কিছুক্ষণ থেকে চলে আসলাম … বাপ্পি তখন ছবি তোলায় ব্যস্ত … ওকে আর তখন কিছু বলে আসা হলো না … পরেও আর ফোন দেয়া হয় নি … আমাকে না দেখে হয়তো ধরেই নিয়েছে আমি ধানমণ্ডি চলে গিয়েছি … ধানমণ্ডি যাওয়াটাও বেশ কষ্টকর একটা পদ্ধতি হয়ে গেলো … বসুন্ধরা সিটির সামনের রাস্তাটার একপাশ পুরোটা বন্ধ … ফলে হাঁটতে হলো অনেকটা পথ … তারপর পান্থপথ মোড়ে এসে রিকশা নিলাম … এর মধ্যে আবারো বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব, কিন্তু রিকশাওয়ালার কাছে পর্দা নাই … যাই  হোক, সে বললো যে বৃষ্টি নামার আগেই সে আমাকে ধানমণ্ডি ১৯ নাম্বার পৌঁছে দেবে … এবং দিলোও তাই … গন্তব্য ছিলো গ্লোরিয়া জিন্স ক্যাফে … সেখানে ঢুকলাম, আর সাথে সাথে বৃষ্টি শুরু হলো …

গ্লোরিয়া জিন্স যাবার উদ্দেশ্য ছিলো ওদের একটা স্পেশাল অফার চলছে ‘ বাই টু ইন ওয়ান্স প্রাইস’ , ওইটা ট্রাই করা । কিন্তু আমাদের টাইম এর ব্যাপারে একটু জানার ভুল ছিলো, তাই আমরা দিনের এমন একটা সময় গেছি যখন অফারটা থাকে না … তো কি আর করা! কফিই সই … একটা ফ্রি ডিশ-এর জন্য তো আর কিছু যাবে আসবে না … তাছাড়া দুজনেরই পেট ভরা …  তিন্নি আপু বিয়ের দাওয়াত থেকে এসেছে, আর আমি বিউটি বোর্ডিং থেকে ভরপেট খেয়ে … তো কফি খেতে খেতে গল্পগুজব হলো … এর মধ্যে যখনি আমরা বের হলাম, তখনি আবার ঝুম বৃষ্টি! … মোটামুটি আধাঘণ্টা ধরে সেই বৃষ্টি পড়লো … তারপর সিএনজি নিয়ে সোজা গ্রুপে …

গতকালকের দিনটাও আসলে দৌড়ের ওপরেই গিয়েছে … পরশু বলা নেই কওয়া নেই জানতে পারলাম যে সেদিনই নাকি আমাদের মিরপুরের বাসার স্যানিটারি ফিটিংস কিনতে যাওয়া হবে! … সেদিন তো আর যাওয়া হলো না, তাই গতকালকে সকালে গেলাম । দোকান মিরপুর ১০ নাম্বারে। সেখানে গিয়ে সবকিছু দেখে-শুনে ঠিকঠাক করে দিয়ে আসা হলো … মিরপুরে যাওয়ার আগের একবার ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের ধানমণ্ডি অফিসটায় গিয়েছিলাম, সেটাও বলে রাখা ভালো। তাহলে দৌড়াদৌড়ির চিত্রায়নটা ভালোভাবে করা যাবে … তো মিরপুরে স্যানিটারি ফিটিংস-এর কাজ শেষে মা গেলো কলেজে, আর আমি গেলাম টিয়ামের বাসায় … ওখানে দুপুরবেলাটা থেকে, গোসল করে, খেয়ে তারপর আবার গ্রুপ … সেখানে রিহার্সাল …

কালকে রিহার্সাল করতে গিয়ে আমার শরীরের গিরায় গিরায় ব্যথা হয়ে গেলো … বাসায় এসে একটু দুধ-সাগু খেয়ে ঘুম! …

আজকেও এখনি ঘুমিয়ে পড়বো … গত তিন/চারটা দিন যাবৎই অনেক দৌড়ের ওপর আছি … গত পরশু কিভাবে একবার ঢাকা ব্যাংক, একবার এবি ব্যাংক, আরেকবার ঢাকা ব্যাংক দৌড়ে একটা চেক ভাঙ্গায় টাকা তুললাম, সেটা নিয়েই তো একটা আলাদা দিনযাপন লেখা হয়ে যাবে …

আজকে বাপ্পির সাথে কিছু বিষয় নিয়ে অনেক কথা হলো … আমি জানতাম ও হঠাৎ করে দেখা করার জন্য এত উতলা হয়ে গেছে মানে হচ্ছে যে ওর আমার সাথে কিছু কথাবার্তা আলোচনা করার আছে … আমি যেই বিষয়ের কথা ভাবছিলাম, সেটা তো ছিলোই, প্রসঙ্গ সেটার চাইতেও চমকপ্রদ আরও কিছু ছিলো …

তবে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে আমার মাথায় কিছু দুষ্টু বুদ্ধি এসেছে … মাঝে মাঝেই এই বুদ্ধিগুলো আমার মাথায় খেলা করে, কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করার তাগিদটা জোরেসোরে পাই না … এখন একটু একটু করে পাচ্ছি …

সবকিছুই ১ জুন থেকে নতুন করে শুরু করবো এরকম ভাবছিলাম … সেই শুরুটা তবে হয়েই যাক … শুরু থেকেই শুরু হোক! …

আমি দিনযাপনে সাধারণত এরকম অ্যাম্বিগুয়াস কথাবার্তা লিখি না … যা-ই লিখি যথেষ্ট স্পষ্টতা রেখেই লিখি … আজকে ইচ্ছা করেই একটু ঝাপসা ভাব রাখলাম শেষের অংশটায় … যখন সময় হবে, তখন দিনযাপনের ধারাবাহিকতায় এই কথাগুলোও বোধগম্য হয়ে যাবে! … তখন হয়তো এটাও কেউ কেউ বলতে পারবে যে ‘ আরে! ওইদিনের ঐ লেখাতেই তো এই ঘটনার ক্লু ছিলো!’ …

আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s