দিনযাপন | ০২০৬২০১৫

ঠিক যখনি খুব আপ্লুত হয়ে লিখলাম যে কাজ নাই, একটা মাথা ভারহীন রাত কাটাচ্ছি, ঠিক তখনি মাথা আরও বেশি ভার করার জন্য একগাদা কাজ আর টেনশন এসে জমা হলো …

ওই যে, ইন্ডিয়ান ভিসার কাজকর্ম চলছিলো … হাই কমিশনে যোগাযোগ হবার পর সেখান থেকে টুরিস্ট ভিসার বদলে এন্ট্রি ভিসার আবেদন করতে বললো। একরাতের মধ্যে ১২ জনের ভিসা ফর্ম ফিলাপ করলাম আবার। পুরাই মাথা হ্যাং হয়ে যাবার মতো অবস্থা … গতকালকে দুপুর পর্যন্ত এই কাজ করে কালকে সারাটা বিকাল ফর্মগুলো প্রিন্ট করার পেছনেই গেলো, সন্ধ্যায় গ্রুপে গিয়ে সবার সিগনেচার নেয়া, কাগজপত্র রেডি করা … আজকে আবার সকাল বেলা গেছি হাইকমিশনে। সেখানে ১১ জনের অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে এসেছি। ১১ জন কারণ নীল-এর অ্যাপ্লিকেশন জমাই নেয়নি ওর পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম বলে। এদিকে আবার ভিসার কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে দেখা গেলো ফরহাদের ফর্মে ভুল হয়েছে। ওর ডাকনাম তো শামীম। তো আমি ভুল করে ফরহাদ আহমেদ -এর জায়গায় শামীম আহমেদ লিখে ফেলেছিলাম। এমনিতেই মাথা হ্যাং, তার মধ্যে অনেকসময় এরকম হয় না যে একটা জিনিস দেখছি ভুল, কিন্তু সেটা যে ভুল ওই সিগন্যালটা ব্রেইন পর্যন্ত যাচ্ছে না! ওর ফর্মের ব্যাপারে তাই হয়েছে। ফর্মটা চেক করার সময় যখনই দেখেছি শামীম, মাথায় কাজ করেছে যে ওর নাম তো শামীম ঠিকই আছে! এমনকি ও-ও যখন গতকাল সাইন করতে গেলো, তখনও ওই একই বিষয় ওরও ঘটেছে। ফোলে, ভুলটা চোখের সামনে থেকেও চোখ এড়িয়ে গেছে। শশাঙ্ক দা সাথে ছিলো, উনি সাথে সাথেই বাইরে গিয়ে সাইবার ক্যাফে থেকে ফর্ম ফিলাপ করিয়ে আনতে গেলেন। কিন্তু দুবার ফর্ম ফিলাপ করার পরও একবার ইলেক্ট্রিসিটি চলে যাওয়া, আরেকবার আইপিএস ডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে ফর্ম ফিলাপ কমপ্লিট করতে পারেননি। পরে বললো যে আগামীকাল ফার্স্ট আওয়ারে গিয়ে দিয়ে আসতে। এমনিতেও কালকে আমাদের আবার যেতে হতো গ্রুপের ব্যাংক স্টেটমেন্ট-এর কাগজ জমা দেয়ার জন্য। ফলে একটু হলেও রিলিভড বোধ করলাম। এমনিতে যেহেতু হাই কমিশন থেকে রিকমেন্ডেশন আছে, ফলে ভিসা আমাদের সবারটাই একসাথেই দিয়ে দেবে। এইটাই ভরসা আর কি! …

তবে সত্যি কথা, যদি হাই কমিশনের রেফারেন্স না থাকতো, আর নর্মাল প্রসিডিউরে ভিসার কাজ করতে হতো, তাহলে আমি বেশ বিরক্তই হয়ে যেতাম। এত রকমের লোকজন, এত রকমের নিয়মকানুন! আমরা যেভাবে ‘সন্দীপ সিং’-এর রেফারেন্স বলে বলে সবখানে আগে আগে চলে যেতে পারছিলাম আর কাজগুলো সব সাথে সাথে হয়ে যাচ্ছিলো, সেটা কোনোভাবেই নর্মালি হতো না … মজা হলো ফটোকপি করতে গিয়ে। ওখানেই দুইতলায় ফটোকপির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেখানে যেরকম লাইন আর যেরকম কমনসেন্সহীন লোকজন দেখলাম, বুঝলাম যে এখানে লাইনে দাঁড়ায় ফটোকপি করতে গেলে সারাদিন পার হয়ে যাবে। হাতে যেই ফর্মটা ছিলো সেটাতে সন্দীপ সিং-এর রেফারেন্স করা ছিলো, ওটা দেখায় সবার সামনে গিয়ে ভিআইপির মতো ফটোকপি করিয়ে চলে আসলাম … লাইনের লোকজন বেশ বিরক্তি আর হিংসা নিয়ে আমার দিকে তাকাচ্ছিলো … কিন্তু কি ই বা করার আছে! …

একটা জিনিস মনে হলো আজকে … ইন্ডিয়ার ভিসা পাওয়া, কিংবা ভিসার প্রসেসিং যে এত কঠিন, তারপরেও মনে হয় প্রতিদিন অন্তত দুই/তিন হাজার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ে ওদের ইন্ডিয়ান হাই কমিশনে! এত রকমের ভিসা আর এত রকমের লোক … শশাঙ্ক দা যখন ফরহাদের ফর্ম ফিলাপ করতে বাইরে গেছে, তখন আমি বিজনেস ভিসার কাউন্টারে চেয়ারে বসে ছিলাম। ওখানেই ওই এক ঘণ্টায় কম করে হলেও ৫০ জন মানুষ বসে ছিলো বিজনেস ভিসার কাগজ জমা দেবার জন্য! …

এবার মরার ওপর কিভাবে খাঁড়ার ঘা পড়ে সেই কথা বলি। গতসপ্তাহেও ভিসার অ্যাপ্লিকেশন ফর্মের দৌড়াদৌড়ি, গণ্ডারের রিহার্সাল এসবের মধ্যেই মিরপুরের বাসার বাথরুম ফিটিংসগুলো কেনাকাটা হয়েছে। পুরাই দৌড়ের ওপর থেকে আমি মিরপুরে গিয়ে সবকিছু দেখেশুনে চুজ করে দিয়ে এসেছি। আজকে এই যে সকাল বেলা হাই কমিশনের অফিসে দৌড়াদৌড়ি ছিলো, আজকেই সকাল থেকে বাথরুম ফিটিংসগুলো সেটিং করবে বলে জানালো! … সবকিছু কেন জানি একসাথেই হতে হয়! …

আবার যেগুলো চুজ করে দিয়ে আসছিলাম, সেখানে বেসিন আর কমোডের কালার বলে আসছিলাম গ্রে, গিয়ে দেখি কমোড এসেছে অফ হোয়াইট, আর বেসিনগুলো সব গ্রিন! মাস্টার বেড-এর বাথরুমে নীল টাইলস, সবুজ বেসিন আর অফ হোয়াইট কমোডের কম্বিনেশনটা কতটা বিশ্রী লাগছে সেটা না দেখিয়ে বোঝানো সম্ভব না। এর মধ্যে আবিষ্কার করলাম সুপারভাইজার খুব সম্ভবত কালার ব্লাইন্ড! সে সবুজ বেসিনকে ক্রমাগত নীল বলে যাচ্ছে! …এতদিন জানতাম বাড়ির কাজ করছে যেসব লোকজন তারা কাজের উল্টাপাল্টা করে, আর আজকে জানলাম যে এদের সাথে কন্ট্রাক্ট করা দোকানগুলারও একই অবস্থা! না হলে অর্ডার হয় এক জিনিস, আর আসে আরেক জিনিস! … কি আজব! …

আজকে আর লিখবো না… আজকে আমি অনেক বেশি ক্লান্ত … গত দুইরাত যাবত ঘুমাই না … এই বিনিদ্র অবস্থা শরীর আর মানছে না …

অতএব ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s