দিনযাপন | ০৭০৬২০১৫

গত এক সপ্তাহের বিভিন্ন ঘটনা মিলিয়ে একটা ‘ মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ সিরিজ-ই বানিয়ে ফেলা যেতো! তাতে আর কষ্ট করে প্রতিদিন একবার করে লিখতে হতো না যে একটা একটা করে এই খাঁড়ার ঘা -এর ডোজ বেড়েই চলেছে …

এই যেমন সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকাল রাতে আমরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছি, আর আজকে আমার ঠাণ্ডা লেগে অবস্থা খারাপ। জ্বর জ্বর ভাব, গলা চুলকানি ভাব আর শুকনা কাশি, নাক ফ্যাচফ্যাচ অবস্থা, চোখ জ্বালা করা আর ক্রমাগত পানি পড়া আর সেই সাথে শরীরের গিটে গিটে ব্যথা … এদিকে গতকালকে সারাদিন গরমের মধ্যে ঘেমে আবার সেই ঘামই শরীরে শুকিয়ে কাজ করেছি … বাসায়ও ফেরা হয়নি, তাই সারাদিনে একবারও গোসলও করা হয়নি … ফলাফল এই যে এখন সারা গা ভর্তি গুড়ি গুড়ি ঘামাচি উঠে গেছে … ওগুলো যদি চুলকানো শুরু করে তাহলে তো কথাই নেই …

এর মধ্যে আমরা যাচ্ছি নন-এসি বাসে। একে তো সেট টানাটানির একটা ঝামেলা ছিলো, তারওপর টাকা-পয়সারও একটা হিসেব আছে … ফলে জার্নিতে গরমের অস্থিরতা তো একরকম থাকবেই … জানালার পাশে বসলে একটু বাতাস পাওয়া যাবে এই ভরসা …

মরার ওপর খাঁড়ার ঘা এখানেই শেষ না … পিরিয়ড হবে হবে একটা অবস্থায় আছি … এর মধ্যেই হবার কথা … টিউমারটার কারণে পিরিয়ডের প্রথম দুই-তিনটা দিন আমার যেরকম হেভি ব্লিডিং হয়, তাতে তো ঘর থেকেই বের হতে পারি না … কালকে যদি পিরিয়ড শুরু হয়ে যায়, তাহলে পুরো জার্নিতে কিভাবে কি করবো সেটা ভাবতে গেলে আমার কোনোভাবেই মাথা কজা করছে না … মনেপ্রাণে চাইছি কোনোভাবে কালকের রাতটা পার হয়ে যাক … কলকাতায় গিয়ে পিরিয়ড হলেও সমস্যা নাই … ওখানে যখন তখন বাথরুমে যেতে পারবো … রাস্তায় বাসের মধ্যে কিভাবে কি করবো আমি? …

এখন মনে হচ্ছে কোনো ওষুধ খেয়ে কয়েকদিনের জন্য ব্লিডিং বন্ধ করা গেলে সেটাই করি! … অন্তত মাথার মধ্যে একটা জলজ্যান্ত টেনশন নিয়ে কলকাতা থাকতে হবে না! …

কি যে যন্ত্রণা ! … সবকিছুর মধ্যেই একটা না একটা আপদ লেগেই থাকবে …

কোথায় আমি এখন সুস্থ-স্বাভাবিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় নিজের জিনিসপত্র আর গ্রুপের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছাবো … তা না! আমি এখন প্রচণ্ড রকমের বিরক্তিকর একটা ঠাণ্ডা লাগিয়ে জ্বর আসবে কি আসবে না সেই টেনশনে মরছি, মাথা ব্যথার চোটে কোনো কাজ মনোযোগ দিয়ে করতে পারছি না আর সেই সাথে টেনশনে মরছি যে এখন যদি পিরিয়ড শুরু হয়ে যায় তাহলে কিভাবে কি করবো! …

গতকালকে দেই বেলা বারোটা থেকে গ্রুপে সেটের কাজ করলাম … একটা ব্যাকড্রপ রং করার কাজ … দিনের বেলা ফার্স্ট কোটিং দিয়ে সারারাত ওটাতে ডিটেইল কাজ করা হলো … মানুষ ছিলাম সাতজনের মতো ; রেজা, গোপী, আদনান, ইভন, শুভ্র, সাদি আর আমি … এর মধ্যে আঁকাআঁকি জানা মানুষ বলতে কেবল রেজা আর আমি … ফলে দুইজনে মিলে চিন্তাগুলো ভাগাভাগি করে নিয়ে বাকিদের বুঝিয়ে বুঝিয়ে কাজগুলো করা হলো … যেমন, একেকটা কার্টন বক্সের পারস্পেক্টিভ অনুযায়ী লাইট-ডার্ক শ্যাডো দেয়া, সেখানে হাইলাইট বের করা, একটা বক্স থেকে আরেকটা বক্সকে আলাদা করা, একটা সামনে একটা পেছনে এরকম ডাইমেনশন তৈরি করা … এতকিছু তো আর আমি বা রেজা যেভাবে বুঝতে পারি বাকিরা সেভাবে বুঝবে না … ফলে ওদেরকে ওদের মতো করে বুঝিয়ে বুঝিয়ে রঙ-এর কাজগুলো করা হলো … তবে সারারাত একটানা কাজ করে যাওয়ার ফলে একটা ভালো হলো যে কাজটা ৮০ ভাগ শেষ করে তারপর ভোরবেলা বের হতে পারলাম … বাসায় এসে শুয়েই ঘুম … উঠলাম তিনটা সময় … তারপর আবার গ্রুপ … রিহার্সাল … মিটিং … সেট গুছানো …

সকালে বাসায় আসতে আসতেই তের পাচ্ছিলাম যে শরীরের ওপর দিয়ে একটা ঝড় যাবে … দুপুরে ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই টের পেলাম যে ঝড় অলরেডি শুরু হয়ে গেছে … আর এখন এই রাত দেড়টা সময় এসে তো রীতিমত বৃষ্টিবাদল শুরু হয়ে গেছে … নাকের পানি, চোখের পানিতে একাকার অবস্থা …

অ্যালাট্রল খেয়েছি একটা … এখন ঘুমাই … দেখি সকাল নাগাদ কি হয় …

আগামী তিন চারদিন দিনযাপন লিখতে বসার সুযোগ পাবো কি না জানি না … হয়তো একবারে ১২ তারিখ রাতের আগে আর লেখা হবে না …

তবে সে যাই হোক, কলকাতা ডাইরি তো একটা তৈরি হবেই …

আপাতত ঘুমটাই সবচেয়ে উত্তম কাজ হবে … অতএব, ঘুমাতে যাই …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s