দিনযাপন | ১২০৬২০১৫

৬ বছর আগে, যখন কিঞ্চিৎ কাব্যচর্চার ভাব ছিলো, তখন এই দিনে একটা স্ট্যাটাস লিখেছিলাম ফেসবুকে, “বৃষ্টি ছোঁয়া গানে আজ মেঘ এসেছে নেমে/ মেঘের সাথে ভাসছি পাখি, সময় গেছে থেমে” … কেন লিখেছিলাম, কি ঘটনার প্রেক্ষিতে লিখেছিলাম আমার মনে নেই … বৃষ্টিতে কোথাও আটকে গিয়েছিলাম, তাতে করে কারো সাথে অনেকটা সময় কাটানো হয়েছিলো বলে খুশি হয়েছিলাম, তাই ওরকম কথাবার্তা লিখেছি – এরকমই হবে ঘটনাটা … কিন্তু ঘটনার স্থান-কাল-পাত্র কিছুই আমার সঠিক মনে পড়ছে না …

যাই হোক, টাইমহপের নোটিফিকেশনে কথাগুলো দেখে নিজের কাছেই ভালো লাগলো, তাই সেটাকে দিনযাপনের পাতায় জমা করে রাখলাম …

আজকে ভোর পাঁচটায় এসে পৌঁছিয়েছি ঢাকায়। কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু হয়েছিলো গতকাল বেলা সাড়ে বারোটায়। পাঁচটা নাগাদ বর্ডারে পৌঁছে ইমিগ্রেশন পার করে যখন বেনাপোল থেকে বাসে উঠতে যাবো, তখন বাস নিয়ে মহা ক্যাচাল হয়ে গেলো একটা … সেই ক্যাচালের ফের ধরে ওই বাসে আমরা গেলাম না। সেই মুহুর্তে খোঁজাখুঁজির পর এক বাসে সেট -এর জিনিসপত্রসহ ৮ জন ফিরলো, আর আরেক বাসে বাকি ৪ জন। ‘পরিস্থিতির শিকার’ হয়ে ‘মেয়ে’ হবার কারণে আমার ঠাই হলো ৪ জনের দলে … আমার যাত্রাসঙ্গীদের কারো সাথেই আমি কমফোর্টেবল না! …অথচ সিচুয়েশন বুঝবার দায়ে আমাকে মন মেজাজ খারাপ করে ওই তাদের সাথেই আসতে হলো! … অথচ আমার ইচ্ছা ছিলো আমি সেট নিয়ে গ্রুপ পর্যন্ত ফিরবার কাজটার অংশ থাকবো … আমার জন্য তো সেটাই অভিজ্ঞতা হবে … চুপচাপ একদল অপছন্দের যাত্রা সঙ্গীর সাথে ৮/১০ ঘণ্টা ভ্রমণ করা তো আমার অভিজ্ঞতার উদ্দেশ্য না! … সে কথা বাকিদের বোঝানোর ক্ষমতা বা তাদের বুঝবার ক্ষমতা নেই ভেবে নিয়েই আমাকে চুপ থাকতে হলো … তাও আমি নোবেল ভাই আর পাভেল ভাই দুজনকেই বললাম যে আমি ৮ জনের দলটায় থাকতে চাই … কিন্তু তাতে খুব লাভ হলো না … তাদের চিন্তা হচ্ছে ‘ আমি একটা মেয়ে’ … ‘আমাকে বাসের একদম পেছনের সিটে ঝাঁকুনি খেতে খেতে যাওয়া লাগবে’ … ‘অনেক কষ্ট হবে’ … ‘তাদের সেট টানতে পারার মতো কাজের লোক লাগবে’ ইত্যাদি ইত্যাদি … আমি তাও একবার জিদ ধরে থেকে যাবার কথা বলবো কি না ভাবলাম, পরে মনে হলো তাতে ওদের কাছে মনে হবে আমি ‘রিঅ্যাক্ট’ করছি কিংবা ‘সিচুয়েশন বোঝার চেষ্টা করছি না’ … আমার সিচুয়েশন কিংবা আমার কমফোর্টটাও যে তারা আমলেই নিচ্ছে না সেটা তাদেরকে বোঝাবে কে? … যাই হোক, যেই বাসে আসছি, সেটাও যে খুব আরামদায়ক জার্নি হয়েছে তা মোটেই না … রাতের জার্নিতে কোনো ব্রেক নাই … এমনকি রাতের খাবারের জন্য থামা তো দূরের কথা, কেউ ওয়াশরুমে যেতে চাইলেও তার উপায় নাই … ওয়াশরুমে যাওয়ার উপায় নেই দেখে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পানিও খেলাম না … এদিকে অত লম্বা সময় ধরে স্যানিটারি প্যাড চেঞ্জ করছি না, কি অবস্থা হবে যদি সারারাত চেঞ্জ করতে না পারি এসব নিয়ে টেনশনে আরো অস্থির লাগছিলো … রাত ১২টার দিকে গোয়ালন্দে এসে ফেরিতে উঠবার লাইনে যখন বাসের গতি শিথিল হলো তখন নেমে এক  জায়গায় ওয়াশরুমে যাওয়া হলো, আর অল্প একটু খেয়ে নেয়া গেলো … বেশি খেলাম না, এমনকি পানিও অল্প খেলাম এই টেনশনে যে তারপর আবার ঢাকা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত ওয়াশরুম পাওয়া যাবে না … এইসব করে ঢাকায় এসে মালিবাগ বাসস্ট্যান্ডে যখন নামলাম তখন ৫টা বাজে। দিনের আলো আরেকটু ভালোভাবে ফুটবার জন্য অপেক্ষা করে ৬টার দিকে রওনা দিলাম ওখান থেকে … পাভেল ভাই আর শাহরিয়ার গেলো মগবাজারের দিকে … আমি আর পারু একটা সিএনজি নিলাম, সেটা সেন্ট্রাল রোড হয়ে আমাকে নামিয়ে মিরপুর গেলো …

বাসায় এসে ২টা পর্যন্ত ঘুম দিলাম আর কোনোদিকে না তাকিয়ে … সন্ধ্যায় আবার কিনু কাহারের থেটারের শো ছিলো … দুপুরে খেয়ে, গোসল করে আবার শিল্পকলায় গেলাম …

কলকাতার মাঝের দুইদিনের কথা তো লেখা হয়নি … ১০ তারিখ তো আমাদের শো ছিলো সন্ধ্যায় … দুপুরে ২টার আগে হল খুলবে না, ফলে সকালটা ফ্রি পেয়ে সবাই একটু ঘোরাঘুরি করা সুযোগ পেলাম … একদল গেলো নিউমার্কেট … আর আমরা একদল গেলাম লালবাজার … নোবেল ভাই, রিপন ভাই, শশাঙ্ক দা, বিপ্লব আর আমি … লালবাজার হচ্ছে ইন্সট্রুমেন্ট-এর বাজার … ঘুরে ঘুরে একগাদা ইন্সট্রুমেন্ট কিনে ফেলা হলো … আমি নিজেও একটা জাইলোফোন কিনে ফেললাম … হাতে আরেকটু টাকা থাকলে হয়তো একটা চাইম বেল-ও কিনে ফেলতাম … এ যাত্রা সেটা হলো না … তো যাই হোক, ইন্সট্রুমেন্ট এর বাজার ঘুরে হোটেলে ফিরেই দৌড়ের ওপর খাওয়া-দাওয়া করে সোজা হলে চলে গেলাম একটা দল … সেখানেও এটা আছে, ওটা নেই এসব ঝামেলা পোহানোর পর শেষমেষ কাজগুলো হলো … শো-টাও ভালো হলো … যদিও আমি পুরো নাটকের প্রজেকশন করলাম ভিডিও’র স্ক্রিন না দেখে … স্ক্রিনে ভিডিওটা আদৌ চলছে কি না, কিংবা কেমন লেগেছে কিছুই বলতে পারবো না … উইং-এর পাশে সিঁড়িতে বসে ভিডিও চালিয়েছি … একটা ছেলে ছিলো আমার সাথে, সবাই ওকে ‘বুড়ো’ বলে ডাকে, ওকে ভিডিও-র কিউ আসবার আগে বলেছি স্ক্রিন অন্য করতে, ও রিমোট চেপে স্ক্রিন অন্য করেছে, আবার ভিডিও শেষে স্ক্রিন অফ করে দিয়েছে … প্রজেক্টরের লাইটটা বাড়ছে কমছে দেখে আমাকে আন্দাজ করে নিতে হয়েছে যে স্ক্রিনটা ঠিকমতো অন বা অফ হয়েছে … পুরো নাটকটার লাইন বাই লাইন যদি আমার ব্লকিং, মিউজিক কিউ আর ভিডিও কিউসহ মুখস্থ না থাকতো, তাহলে একেবারেই না দেখে এই ভিডিও প্রজেকশন সেদিন কিভাবে কি করতাম নিজেও জানি না! … তো, সৌম্য এসেছিলো সেদিন … কলকাতায় যাওয়ার আগেই ওর সাথে যোগাযোগ হয়েছিলো যে যাচ্ছি … শো -শেষ হবার পর ওর সাথে দেখা হলো, হাঁটতে হাঁটতে বেশ খানিকটা দূরে গেলাম হল থেকে, গল্প হলো, মোমো খাওয়া হলো … রাতে হোটেলে ফেরার পর ব্রাত্যজনের প্রান্তিক দা আর চন্দ্রনাথ, আর পাভেল ভাই-এর দুইজন গেস্ট সহ অনেক রাত পর্যন্ত সবাই মিলে গল্প-গুজব, আড্ডাবাজি হলো … আর তারপর দিন তো সকালে উঠে ফেরার প্রক্রিয়াই শুরু হলো …

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঈদের সময় আবারো কলকাতা যাওয়া হবে … তিন্নি আপু তার ভাইকে নিয়ে যাবেতাদের আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা করতে, আমিও সাথে জোট বাঁধবো … কাল-পরশুর মধ্যে ভিসার প্রসেসিং শুরু করে দেবো ভাবছি … এবার তো একমাসের এন্ট্রি ভিসা পেলাম, কিন্তু সেটা সিঙ্গেল এন্ট্রি … ৬ মাসের মাল্টিপল ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করবো এবার … সেপ্টেম্বরে দিল্লি ফটো ফেস্টিভ্যাল-এ যাবার একটা ইচ্ছা আছে … আজকে অবশ্য তিন্নি আপু আরেকটা প্রস্তাব দিলো … যদি ব্যাটে-বলে মিলে যায় তাহলে সেটা আরো চমৎকার একটা ট্রিপ হবে … এক ট্রিপে চারটা দেশ ঘোরার একটা পরিকল্পনা এখনো একদমই ভ্রূণ পর্যায়ে আছে … এই সপ্তাহ নাগাদ জানতে পারবো যে আদৌ সেটা হচ্ছে কি না, আর হলে কিভাবে কি হবে … তারপর যাবো কি যাবো না সেটা আমার টাকা-পয়সার সংস্থানের ওপর নির্ভর করবে …

আজকে আর লিখবো না … এখন গেম অভ থ্রন্স-এর এই সপ্তাহের এপিসোডটা দেখবো … কলকাতায় ট্রিপের ধাক্কায় এ সপ্তাহের এপিসোডটা এখনো দেখা হয়নি …

এবারের ‘কলকাতা ডাইরি’ তৈরি করে ফেলতে হবে খুব তাড়াতাড়িই … মোবাইলে কিছু ছবি তুলেছি, সেগুলোই সম্বল … আর বাকিটুকু লেখালেখি …

আপাতত আজকের দিনযাপন এখানেই শেষ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s