দিনযাপন | ১৪০৬২০১৫

গতকালকে ‘সান আন্দ্রিয়া’ মুভিটা দেখতে দেখতে এমনই ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম যে তারপর ঘুমিয়েই গেছি … দিনযাপন আর লেখা হয়নাই … অবশ্য গতকালকে লিখবার মতো তেমন কিছু ঘটেও নাই … সারাদিন প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে ঘুমিয়েছি … ঘুম থেকে উঠে বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব আর ঠাণ্ডা আবহাওয়া দেখে গোসল করবো কি করবো না ভাবতে ভাবতে বিকাল পার করে দিয়ে গ্রুপে চলে গেছি … ইন্ডিয়া ট্যুরের রিভিউ মিটিং ছিলো, সেজন্যই যাওয়া … নইলে হয়তো বাসায় থেকেই রেস্ট নিতাম, সিনেমা দেখতাম নয়তো ঘুমাতাম …

যাই হোক, রাতে ঘুমিয়ে গেলাম তাই আর দিনযাপন লেখা হলো না …

আজকেও সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেছি প্রচণ্ড মাথা ব্যথা নিয়ে … গতকালকে গোসল না করার ফল … তো কি করবো ভাবতে ভাবতে একটা সিনেমা দেখবো বলেই সিদ্ধান্ত নিলাম … খুঁজে পেতে ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সী’ মুভিটা দেখা হলো … আমি যেই অনলাইন সোর্স থেকে মুভি দেখি, ওটার কি জানি হয়েছে! অনেক মুভিই চলে না … বলে যে লিঙ্ক নাকি ব্লকড … ফলে, এখন প্রায় সময়ই যেই মুভিটা দেখতে চাই ওটা হয়তো দেখার সুযোগই হয়না … ওইদিন গেম অভ থ্রন্স-এর নয় নাম্বার এপিসোডটা দেখতেই পারলাম না … পরে ইউটিউব থেকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কিছু অংশ দেখেছি … আজকে গেম অভ থ্রন্স -এর এই সিজনের লাস্ট এপিসোড দেখাবে … কালকেও যদি অনলাইন লিঙ্কগুলা যন্ত্রণা করে তাহলে তো একটা মহা বিরক্তিকর খচখচানি থেকে যাবে মনের মধ্যে …

আজকে বিকালে গেলাম স্ক্লাস্টিকা স্কুলে … ওদের এ লেভেল-এর স্টুডেন্টদের গ্র্যাজুয়েশন সেরেমনি … ছবি তুলতে হবে … গতকালকে ইমন ভাই বলার পর কথায় কথায় রাজি হয়ে গেলাম … পরে মনে হলো যে টাকা-পয়সা আদৌ দিবে কি না, দিলেও কত দিবে সেটা তো জিজ্ঞেস করলাম না! … এখন তো ফাউ ফাউ ছবি তুলিয়ে নিলেও কিছু বলতে পারবো না! … স্ক্লাস্টিকা যাওয়া আসাই তো প্রায় ৬০০ টাকার মামলা হয়ে যায় … আজকে অবশ্য আসার সময় ওদের স্কুলের গাড়িতে করে ইমন ভাই আর আরেক ম্যাডামের সাথে মগবাজার মোড় পর্যন্ত এসেছি … সেখান থেকে সেন্ট্রাল রোড আসতে ৪০ টাকা ধরে স্ক্লাস্টিকা যাওয়া-আসায় আজকে ৩৪০ টাকার মধ্যে খরচ পুষিয়ে গেলো …

মগবাজার থেকে রিকশাকরে আসতে গিয়ে আরেক কাহিনী … মোড়ের মাথাতেই সিগন্যালে রিকশা দাঁড়ানো … এর মধ্যে এক ২০/২২ বছরের ছেলে সাইকেল নিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে নিজের দোষেই রিকশার চাকার সাথে পায়ে বাড়ি খেলো … তারপর নিজেই উলটা রিকশাওয়ালার সাথে চোটপাট শুরু করলো … রিকশাওয়ালাকে তার বাপ-মা তুলে গালি দিয়ে অস্থির অবস্থা … রিকশাওয়ালাও আজাইরা গালি খেয়ে মেজাজ গরম করে উলটা সেই ছেলেকে গালাগালি করলো … পারলে মারামারি করে এমন অবস্থা … এর মধ্যে সিগন্যাল ছেড়ে দিলো … ওই ছেলে ‘ সামনে আয় তুই’ বলে রিকশাওয়ালাকে থ্রেড দিয়ে দ্রুত আগায় গেলো … জনকণ্ঠ ভবনের ওইদিকটাতে গিয়ে দেখলাম ওই ছেলে সত্যি সত্যি দাঁড়িয়ে আছে, সাথে তার আরেক বন্ধু … রিকশাওয়ালাকে তারা ডাক দিলো … বুঝলাম যে রিকশা থামলেই এখন মারামারি, হাতাহাতি পর্যন্ত হবে … রিকশাওয়ালা থামতেও গেলো … আমার মাথায় খালি এটাই কাজ করছিলো যে ছেলেগুলা যদি অ্যাডিক্ট-টাইপের হয় বা ছিনতাইকারী টাইপের হয়, আর রিকশাওয়ালার সাথে গ্যাঞ্জামের সূত্র ধরে আমাকেও অ্যাটাক করে তাইলে কি হবে! এমনিতেও আমার ব্যাগে ল্যাপটপ, সনেটের ক্যামেরা … সেগুলাও যদি নিয়ে যায় তাইলেই বা আমি কিভাবে কি করবো! আমি সর্বশক্তি দিয়ে রিকশাওয়ালার পিঠে থাবা দিয়ে ‘সামনে যান, থাইমেন না’ বলে মেজাজ দেখায় রিকশা চালু রাখলাম … রিকশা ভিড়ের মধ্যে ঢুকলো ঠিকই, কিন্তু ওই ছেলে তার বন্ধুরে নিয়ে ঠিকই এসে রিকশাওয়ালার সাথে গ্যাঞ্জাম শুরু করলো … আমার গেলো মেজাজ গরম হয়ে … ছেলে দুইটার বাপ-মা-পারিবারিক শিক্ষা এসব নিয়ে চিল্লাপাল্লা করলাম ওদের সাথে … আমি গলা উঁচানোয় আশেপাশের লোকজন এসে ছেলে দুইটাকে সরায় নিলো … তারাও মোটামুটি ‘ ম্যাডাম-এর জন্য বেঁচে গেলি’ টাইপ ভাবভঙ্গি দেখায় রিকশাওয়ালাকে শেষ একটা গালি দিয়ে চলে গেলো …  তারপরও সেন্ট্রাল রোড-এ নিজের বাসার গেট অবধি আসা পর্যন্ত মনের মধ্যে ভয় ভয় লাগছিলো যে এখন যদি এমন হয় যে হাতিরপুল বাজারের মোড়ে কিংবা ওরকম কোনো একটা নির্জন জায়গায় যদি ওরা এই রিকশাওয়ালাকে ধরার জন্য অপেক্ষা করে তখন কি হবে! …

যাক! ভালোয় ভালোয় কিছু হয়নাই … ল্যাপটপ আর ক্যামেরা নিয়ে বের হলেই আমার এখন প্রচণ্ড ভয় লাগে এমনিতেই … আর একা একা তো কথাই নেই … তারওপর যদি এরকম ঘটনা ঘটে …

আজকে আমার ছোটোভাই অমিত-এর জন্মদিন … আজকে দাদুরও জন্মদিন … ছোটবেলায় দুই-একবার অমিত আর দাদুর একসাথে জন্মদিন পালনের কথা মনে আছে হাল্কা-পাতলা … গতবছর থেকে যেহেতু আমি দায়িত্ব নিয়ে কেক কিনে আনার কাজটা থেকে অব্যাহতি নিয়েছি, এখন বাসায় আঃর কেউ সেটা করে না … আজকে সারাদিনে অমিত-এর সাথে দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি … ফেসবুকে গতবছর ওকে উইশ করে কিছু কথা লিখেছিলাম, সেটাই টাইমহপ থেকে শেয়ার দিয়েছি … ও আজকে বাসায়ও আসেনি রাতের বেলা … গতবছরও অবশ্য ওর সাথে জন্মদিনে আমার দেখা হয়নি … সারাদিন মুগ্ধদের সাথে ওদের চকোলাইট-এর একটা প্রি-ওয়েডিং শুট-এর কাজে ছিলাম, রাতেও বাসায় ছিলাম না …

হঠাৎ করে প্রচণ্ড গরম থেকে এরকম ঝুম বৃষ্টি আঃর ঠাণ্ডা বাতাসের আবহাওয়াতে আসার কারণেই কি না জানি না, কলকাতা থেকে ফেরার পর থেকেই কেমন জানি একটা অদ্ভুতরকমের ক্লান্তি সারা শরীরে ভর করে আছে … কলকাতা থেকে ফিরেই প্রথম দুইটা দিন কিন্তু অনেক ঘুমিয়েছি … ঘুম সংক্রান্ত ক্লান্তি থাকারই কথা না … অথচ সারাক্ষণই মাথাটা কেমন ভার হয়ে থাকে আর প্রচণ্ড ঘুম ঘুম লাগে … একবার বিছানায় মাথা এলিয়ে দিলেই আর মাথা তুলতে পারি না …

এমনিতেই ঢাকা শহরের মতো একটা নোংরা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শহরে আমার বৃষ্টিবিলাস কম। তারওপর যেরকম একটা আবহাওয়া হয়ে রয়েছে, তাতে বৃষ্টি ব্যাপারটা আরো বেশি অসহ্য লাগছে …

এখন আড় লিখতে ভালো লাগছে না … ঘুম ঘুম ভাবটা বাড়ছে … এমনিতেই আজকে অনেকক্ষণ এসি-তে ছিলাম বলে গা ম্যাজম্যাজ করছে … কালকে আবার সকাল সকাল বের হতে হবে … মিরপুর যাবো কাঠমিস্ত্রিকে নিয়ে …

অতএব আজকের মতো দিনযাপন এখানেই শেষ করছি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s