দিনযাপন | ১৫০৬২০১৫

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলাম মিরপুর যাবো বলে, শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি … আষাঢ় মাসের প্রথম বৃষ্টি … বর্ষার প্রথম দিন … ফেসবুক জুড়ে বৃষ্টিবিলাস … আর আমি ভাবি, ছাতার এই ঢাকা শহরে বৃষ্টি নিয়ে বিলাস করে কি হবে? … আমার চোখে ভাসে বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে ডুবে যাওয়া সবুজ ঘাসের মাঠ, আর সেই সবুজের ভেতর থেকে হঠাৎ হঠাৎ টুক করে লাফ মারা ব্যাঙ, আর তার ভেতর দিয়ে চলতে থাকা নিজের দুই পায়ের ছবি … সেরকম একটা জায়গায় দাঁড়িয়েই না বৃষ্টি বিলাস হয়! … ঢাকা শহরের কাদা আর ময়লায় ছাওয়া কংক্রিটের রাস্তায় বৃষ্টি তো বিরক্তি! …

আজকে গ্রুপ থেকে ফিরতে ফিরতেই আমি, সাদি আর গোপী আলাপ করছিলাম, হয় ঢাকা শহরের আবহাওয়া চেঞ্জ হোক, নইলে ঢাকা শহরটা  চেঞ্জ হোক … এই প্যাচপেচে কাদা, রাস্তার এখানে সেখানে গর্ত, ময়লা, ডাস্টবিনওয়ালা ঢাকা শহরে বর্ষাকাল মানায় না … বর্ষা হবে পাহাড়ে, বনে, জঙ্গলে, নদীতে! …

যাই হোক, সকালের বৃষ্টির কারণে বের হতে দেরি করলাম … মিরপুরে যাওয়ার উদ্দেশ্য কাঠমিস্ত্রি আজিজ ভাইকে নিয়ে মিরপুরের বাসায় গিয়ে বারান্দার গ্লাস ফ্রেম,রান্নাঘরের কেবিনেট আর পর্দার হোল্ডারের মাপজোক করা … রাস্তায় আজকে কি কারণে জানি প্রচণ্ড জ্যাম ছিলো … গেলাম প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে, আসলামও প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময়ে। উদ্দেশ্য ছিলো যে মিস্ত্রির সাথে কাজ শেষ করে বাসায় আসবো, গোসল করবো, খাওয়া দাওয়া করবো তারপর গ্রুপে যাবো … কিন্তু সেটা আর হলো না … কাঁটাবনে মিস্ত্রির দোকানে বসে যখন তার ওস্তাদের সাথে যাবতীয় মাপজোক আর ডিজাইন নিয়ে আলোচনা করে কাজের অর্ডার দিয়ে বের হয়েছি, তখন অলরেডি সোয়া চারটা বাজে … একবার ভাবলামও যে বাসায় চলে যাই, না হয় এক ঘণ্টা দেরি করেই রিহার্সালে গেলাম … আমার তো এখন থাকাটা খুব জরুরিও না … কিন্তু রাস্তার যেই অবস্থা দেখলাম, তাতে মনে হলো যে বাসায় যেতে যেতেই আমার দুই ঘণ্টা লেগে যাবে … আর যদি এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে যায় তাহলে তো আর বের হতেই ইচ্ছা করবে না … তখন অগত্যা কাঁটাবনেই থেকে গেলাম …

গত তিন চারদিন ধরে ইন্ডিয়ার ভিসার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম ফিলাপ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি, অথচ ওদের সার্ভারই পাচ্ছি না … না আমি, না তিন্নি আপু … কালকে পর্যন্ত মেজাজ ঠাণ্ডা ছিলো … আজকে পুরাই বিরক্ত হয়ে গেলাম … যদি ঈদের সময় ইন্ডিয়া যেতে হয় তাহলে এই মাসের মধ্যেই আমাদের ভিসার অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করতে হবে … কিন্তু সার্ভারের যদি এই অবস্থা হয় তাহলে তো ই-টোকেন নাম্বার পেতে পেতেই এই মাস চলে যাবে! … জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কিভাবেই বা ভিসা পাবো, আর ১০/১২ তারিখের দিকে কিভাবেই বা ইন্ডিয়া যাবো! …

আমার ফোনটারও জানি কি হয়েছে … মেমোরি কার্ডটা নষ্ট হয়ে গেছে সম্ভবত … কিনেছি এক মাসও হয়নি … মেমোরি কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমার অনেক অ্যাপ্লিকেশনও চলছে না … যেমন, ইন্সটাগ্রাম … আর সেকারণে আমার মিনহোয়াইল প্রজেক্টটাও আটকা পড়ে গেছে! … মনে হচ্ছে ফোন রিসেট দিয়ে দেখতে হবে কোনো কাজ হয় কি না …

ইদানীং আবারো আমার ক্যান্ডি ক্রাশ খেলার নেশা চাগাড় দিয়ে উঠেছে … তবে সুখকর বিষয় এই যে মোবাইলে আপাতত ক্যান্ডি ক্রাশ ডাউনলোড করতে পারছি না … ল্যাপটপেই খেলছি … তাও বা কম কি! …

আজকে ফেসবুকের হোমপেজ স্ক্রল করতে করতে ভাবছিলাম ‘তার’ কথা … হঠাৎ করেই মনের মধ্যে এই চিন্তাগুলো খেলছিলো যে ‘তাকে অনেকদিন দেখি না, এমনকি রাস্তাঘাটেও হুট করে দেখাদেখি হয়ে যায় না’ … ‘ সে এখন কি করে কার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে চলে, কার ঘাড়ে চড়ে খায় তাও জানি না’ … ‘ সে এখন কোন মেয়ের সাথে ঘুরে, তাকে কিভাবে কোন মেয়ে তার জীবন দুর্বিসহ করে দিয়েছে, বিশেষ করে আমি কিভাবে তার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছি সেসব গল্প বলে তাও জানি না’ … ভাবতে ভাবতেই তার এক বন্ধুর শেয়ার করা সেলফিতে তাকে দেখলাম … কি কাকতালীয় যোগাযোগ! … গতবছর এই সময়গুলোতে তার সাথে আমার যেমন সবচেয়ে বেশি থাকা হতো, তেমনি সবচেয়ে বেশি ঝগড়াও হতো … ঝগড়ার কারণ কি কি থাকতো? … রাত আড়াইটা কি তিনটা সময় যদি সে আমার উপস্থিতি সম্পূর্ণ ইগনোর করে আমারই ল্যাপটপে বসে ফেসবুকে তিন/চারটা মেয়ের সাথে একাধারে ‘হা হা হি হি’ টাইপ চ্যাট করে, তাতে আমার রাগ করাটা অস্বাভাবিক, নাকি আমার রাগ -এর প্রত্যুত্তরে তার তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠা? … এসব যুক্তি-তর্কে সে একটা কথাই বলতো যে আমি তাকে প্রচণ্ড হিউমিলিয়েট করে কথা বলি, কিংবা, ‘ আরে ভাই, আমি তোমার খাই না পরি যে তুমি এভাবে আমাকে চার্জ করতেসো?’ এই কথা শুনে যেটুকু মুহুর্ত আমি বাকরুদ্ধ হয়ে ভাবতাম যে ‘ রাতে যে খাবারটা খেলো সেটা আমিই আমার টাকায় কিনে আনলাম, যে আইফোনটা ব্যবহার করছে সেটার ৮০% টাকা আমার দেয়া, যেই শার্টটা পরে এসেছে সেটাও আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কেনা…ইত্যাদি ইত্যাদি !’ ততক্ষণে সে সগৌরবে সেই তর্কে নিজের জয় ঘোষণা করে দিয়ে বিছানার প্রায় সবটুকু জায়গা দখল করে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো! … আর আমি ঘুম না আসা পর্যন্ত কিংকর্তব্যবিমূর্হ হয়ে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থেকে ভাবতেই থাকতাম যে এরকম একটা মানুষের সাইকোলজি বোঝার জন্য আমার মনে হয় আবার চার বছর সাইকোলজি পড়ে আসলেও লাভ হবে না! …

মাঝে মাঝেই মনে হয় যে কোনো একদিন ঘুম থেকে উঠে সকালবেলা তার এমন কোনো দুর্দশার কথা কেন শুনি না, যেটা মনে হলেই সেদিন সারাদিন আমার ভিলেনিস্টিক ‘ হা হা হা হা ‘ হাসি দিতে দিতে কাটবে? … আমার খুব ইচ্ছা হয় এরকম একটা দিন দেখার যেই দিন সে নিজেকে প্রচণ্ড অসহায় একটা অবস্থানে আবিষ্কার করবে, আর দেখবে তার যাবতীয় কৃতকর্মের জন্য তার দিকেই তার আশেপাশের মানুষেরা আঙ্গুল তুলেছে …

সেই দিনটা হয়তো বাস্তবিকভাবে কোনোদিন আসবে না … যদি আসতো তাহলে আমার চাইতে আনন্দিত, বিনোদিত সেদিন আর কেউ হতো না …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s