দিনযাপন | ১৭০৬২০১৫

গতকালকে স্ক্লাস্টিকা থেকে ফিরতে ফিরতে বাজলো রাত প্রায় ১১টা। প্রায় দেড় ঘণ্টা গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে এতই ক্লান্ত লাগছিলো যে বাসায় ফিরে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম। অবশ্য সাথে সাথে যে ঘুমিয়ে পড়েছি তা না … দুইদিন যাবৎ ‘গ্রিম’ সিরিজটার ফোর্থ সিজন দেখছি, সেটার দুইটা এপিসোড দেখলাম, কিছুক্ষণ ক্যান্ডি ক্রাশ খেললাম, কিছুক্ষণ ফেসবুকিং আর কিছুক্ষণ আজাইরা চিন্তাভাবনা করতে করতে মোটামুটি রাত ৩টা বাজিয়ে দিলাম ঘুম আসতে আসতে …

গতকালকে সারাটা দিন কেমন জানি একটা অদ্ভুত একঘেয়েমিপনার মধ্য দিয়ে গেছে … সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ভায়োলিন প্র্যাকটিস করলাম অনেকক্ষণ। ক্লাস করার কথা ছিলো গতকাল … ভায়োলিন প্র্যাকটিস করে বিশ্রামের ছুতায় গ্রিম-এর দুইটা এপিসোড দেখে ফেললাম পরপর। এদিকে স্ক্লাস্টিকায় যেতে হবে ৪টার মধ্যে, কারণ সাড়ে চারটা সময় ওদের প্রোগ্রাম শুরু হবে। এর আগেরদিন যে রকম ট্র্যাফিক জ্যামের কথা শুনেছি ওই রাস্তায়, মনে হলো যে সাড়ে তিনটাতেও যদি বের হই, তাও মনে হয় উত্তরা সময়মতো পৌঁছাতে পারবো না । আমার চিন্তা ছিলো শরীফ ভাইকে ফোন করে রিকোয়েস্ট করবো যে আমি তিনটা থেকে ক্লাস করবো, যেহেতু উত্তরা যেতে হবে। কিন্তু তারপর মনে হলো যে তিনটা সময় আমার রওয়ানাই দেয়া উচিৎ, যদি সাড়ে চারটায় প্রোগাম শুরু হবার আগে পৌঁছাতে চাই … ফলে, ক্লাসের চিন্তা মাথা থেকে বাদ দিয়ে দৌড়ের ওপর গোসল করে, একটু খেয়ে নিয়ে বের হয়ে গেলাম।

আমি শিওর, শরীফ ভাই এবার আমার ওপর যথেষ্টই বিরক্ত হবে … প্রায় একমাস হয়ে গেছে ক্লাস করি না … এমনকি ইন্ডিয়া যাওয়ার সময়ও জানিয়ে যাইনি যে আরেকটা ক্লাস মিস হবে … অবশ্য, আমিও শরীফ ভাইয়ের ওপর একটা কারণে সামান্য হলেও বিরক্ত হয়ে আছি … পাঁচতলায় উনি যেই রুমটাকে উনার স্টুডেন্ট-দের ওয়েটিং রুম হিসেবে ব্যবহার করেন, সেটার পাশে যে বারান্দা আছে সেখানে অনেকদিন ধরেই অনেককিছু রাখা ছিলো। জেম-এর একটা পুরনো ভাঙ্গা ভায়োলিন, নোবেল ভাইয়ের নেগেটিভসহ ফ্যামিলি ফটোগ্রাফের অ্যালবাম, আমার একটা কুড়িয়ে রাখা টেডি বিয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি … ওইদিন জেম-এর ভায়োলিন আর আমার টেডিবিয়ারটা নিয়ে যাবার জন্য বারান্দায় গিয়ে দেখলাম কিছু নেই … পড়ে শুনলাম যে শরীফ ভাই নাকি সব ফেলে দিয়েছে! আমার খুব রাগ হলো … ওগুলো কোনটাই তো উনার জিনিস না! ফেলে দেবার আগে একবারও জিজ্ঞেস করে নেয়ার প্রয়োজন মনে করলো না যে ওগুলো দরকারী কিনা! আর সবচেয়ে বর কথা উনি ফেলবেনই বা কেন? যদি উনার বারান্দা খালি করার প্রয়োজন হতো, তাহলে আমাদের বলতো যে আমাদের জিনিসগুলো যা যা আছে সব যেন সরিয়ে নেই! … তো, ওই বিরক্তি থেকেও গতকালকে ক্লাস করতে যাওয়ার ব্যাপারে, কিংবা করতে পারবো কি পারবো না সে ব্যাপারে উনার সাথে যোগাযোগ করতে বেশ রিলাক্টেন্ট অনুভব করছিলাম …

গতকালকে স্ক্লাস্টিকায় ছবি তুলতে গিয়ে সাবা’র সাথে দেখা হলো । সাবা হক, মর্নিং শিফটে ছিলো … কলেজে আর্টস-এ থাকার সূত্রে টুকটাক কথাবার্তা হতো … কলেজ থেকে বের হবার পর গতকালকে প্রায় ১০ বছর পর আবার ওর সাথে দেখা হলো। তাও আমি প্রথম খেয়াল করিনি। ও এসে আমার পাশেই বসলো। কিছুক্ষণ পড় হঠাৎ ও-ই আমাকে খেয়াল করে বললো যে ‘ তুমি প্রজ্ঞা না?’। তখন তাকিয়ে দেখলাম যে সাবা! ওর ছোটো বোন স্ক্লাস্টিকায় পড়ে, গতকালকে ও লেভেল গ্যাজুয়েট-দের একজন ছিলো … বেশ ভালো লাগলো একজন স্কুলমেট-এর সাথে এভাবে এতদিন পর হঠাৎ দেখা হয়ে … পাশাপাশি বসবার সুবাদে টুকটাক কথাবার্তা, গল্প হলো … ভালো লাগলো … বেশ ভালো লাগলো …

এদিকে, গতকালকে ছবি তোলার সময় একটা বিপত্তির মধ্যে পড়লাম … প্রোগ্রামের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে হলের ভেতর একটা প্রজাপতি ঢুকেছে কোনোভাবে, আর অন্ধকার বলে, কিংবা বের হবার জায়গা না পেয়ে ক্রমাগত হলময় উড়ে বেড়াচ্ছে … প্রজাপতিটা দেখার সাথে সাথে আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসলো … প্রথমেই চিন্তা আসলো যে এইটা যদি এখন স্টেজের আশেপাশে ক্রমাগত উড়ে বেড়াতে থাকে, তাহলে আমি ছবি তুলবো কিভাবে? … এবং হলোও তাই! … স্টেজে আলো আছে বলেই মনে হয় ওটা বারবার স্টেজের কাছেই উড়ে উড়ে আসতে লাগলো … আমি বারবার মনে মনে প্রার্থনা করছি যে ওটা কোথাও সেটল হয়ে বসে থাকুক, উড়তে থাকলেই তো আমি প্যানিকড হয়ে যাবো … কাউকে তো বোঝাতেও পারবো না যে আমি প্রজাপতি ভয় পাই, আর হলের ভেতর একটা প্রজাপতি ওভাবে উড়ছে দেখে ছবি তুলতে পারছি না … প্রজাপতি ভয় পাওয়াটাই তো সবার কাছে হাস্যকর বলে মনে হবে … কেউ তো আমার আতঙ্কগ্রস্ত চেহারা বুঝে নিয়ে প্রজাপতিটাকে ধরে বাইরে বের করে দেবে না! … আমি প্রচণ্ড আতঙ্ক নিয়ে স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে কোনোরকমে ছবি তুলতে থাকলাম … ওটা কাছে আসলেই লাফিয়ে সরে যাচ্ছিলাম … কে কতটুকু খেয়াল করেছে জানি না … সামনে আরও অনেক গার্জিয়ান তাদের ছেলে-মেয়েদের ছবি তোলার জন্য পারলে স্টেজের ওপর উঠে যাচ্ছিলেন … আমার লাফালাফি দেখে অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছে যে ছবি তোলার সঠিক অ্যাঙ্গেল পাচ্ছি না বলে বারবার ওরকম সরে সরে যাচ্ছি! … আর নয়তো কেউ কেউ হয়তো ভেবেছে যে মেয়েটার সমস্যা কি? … আমার কিছুই করার ছিলো না … প্রজাপতি নিয়ে আমার যেই ফোবিয়া সেটা ওদেরকে বোঝাবে কে? … আমি নিজেই তো বুঝি না ! … কিন্তু এইটুকু জানি যে প্রজাপতি দেখলে, বিশেষ করে প্রজাপতি উড়তে দেখলেই আমার রক্ত চলাচল দ্রুত হয়ে যায়, হার্টবিট বেড়ে যায়, আর সারা শরীর শিরশির করতে থাকে … আর উড়তে উড়তে কাছে চলে আসলে তো কথাই নেই! … কোথায় লুকাবো, কি করবো বুঝতে না পেরে চিৎকার শুরু করি … তেলাপোকা, টিকটিকি এসবের ব্যাপারে মানুষের এই ভীতি অনেক কমন, বোঝানোও সহজ … কিন্তু প্রজাপতি! … সারা দুনিয়াতেই মনে হয় হাতে গোনা কয়েকজন পাওয়া যাবে যাদের এই ফোবিয়া আছে! …

যাই হোক, প্রজাপতিটা শেষ পর্যন্ত একটা জায়গায় সেটল হয়ে বসেছিলো … আমিও দাঁত-মুখ চেপে কোনোরকমে পুরো অনুষ্ঠান শেষ করেছি …

মিরপুরের বাসার বাথরুমের দরজা লাগানো বাকি ছিলো, সেটাও নাকি গতকালকে হয়ে গেছে … এখন খুবই ছোটোখাটো কিছু ফিনিশিং-এর কাজ বাকি … খুব সম্ভবত অগস্ট-এর প্রথম থেকে ওই বাসায় থাকা শুরু হবে আমাদের … তার আগে অবশ্য সবকিছু গোছানোর কাজ করতে হবে … আগামী শুক্রবার আরও কিছু জিনিসপত্র ওই বাসায় শিফট করা হবে …

যত তাড়াতাড়ি ওই বাসায় ওঠা যায় ততই ভালো … এই বাসায় আর ভালো লাগে না থাকতে … কেমন জানি একটা গুমোট ভাব … তারমধ্যে না রান্নাঘরটা আরাম করে ব্যবহার করা যায়, না বাথরুম … এই মাসের শেষে হয়তো বাড়িওয়ালাকে ফর্মাল নোটিশ দেয়া হবে, আর জুলাইয়ের মাঝামাঝি, কিংবা ঈদের পর হয়তো ওই বাসায় ওঠা হবে …

বাসাটা কমপ্লিট হয়ে গেলে আগামী মাসটায় বাড়ি গোছানোর ছুতায় অন্তত আমি যখন তখন ওই বাসাতেই গিয়ে থাকতে পারবো …

দেখা যাক, কি হয়! …

আজকে মোটামুটি সারাদিনই গ্রিম দেখে দেখেই কাটিয়ে দিলাম । সন্ধ্যায় গ্রুপে গেছি । আবার ফিরে এসে গ্রিম দেখতে বসেছি …

কালকে সারাদিন জিনিসপত্র গোছানোর কাজ করতে হবে। শুক্রবার নিয়ে যাবার জন্য কিছু জিনিস রেডি করতে হবে … বড়বড় কিছু জিনিস দিয়ে দিতে পারলে ঘরটা এক ধাক্কায় অনেকটাই খালি হবে …

আজকের জন্য এতটুকুই লেখা …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s