দিনযাপন | ১৮০৬২০১৫

একটা জাদুশক্তি থাকা দরকার ছিলো আমার … মনে মনে ভাবতাম যে কার্টনগুলোর মধ্যে ঘরের জিনিসপত্র গোছানো হয়ে যাক, আর আপনাআপনিই জিনিসগুলো নিজে নিজে কার্টনের মধ্যে ঢুকে গোছানো হয়ে যেতো … অথবা এমন একটা জাদুশক্তিও হতে পারতো যে সেন্ট্রাল রোড থেকে মিরপুর চলে যাচ্ছি মুহুর্তেই, এবং একটা একটা করে জিনিস ওই বাসায় নিচ্ছি আর নির্দিষ্ট জায়গায় গুছিয়ে ফেলছি … এই বাসার যেমন জায়গা খালি হওয়াটা জরুরি, ওই বাসাতেও জিনিসপত্র যে ডাম্প করা হচ্ছে সেগুলো গোছানো হওয়া জরুরি … না হলে বাসায় উঠে যাবার পর যদি জিনিস গোছাতে হয়, তাহলে মোটামুটি কয়েকদিনেই ধৈর্যহারা হয়ে সব জিনিস এমনিতেই ফেলে রাখবো … তখন ওই বাসাটাও এটার মতো একটা গুদামঘরে পরিণত হবে …

একা একাই এত জিনিসপত্র গুছাচ্ছি বলেই হয়তো আরও অসহ্য লাগছে … জিনিসপত্র এগিয়ে দেয়ার জন্য কেউ থাকলেও হতো … আব্বু, মা আর অমিতের কথা বাদ-ই দিলাম … আমার এমন কোনো বন্ধুও নাই যে বিনা বাক্যব্যয়ে কামলা খাটবে … আর আমিও কাউকে এসব ব্যাপারে হেল্প করার জন্য অ্যাপ্রোচ করতে পারি না … নিজের কাজ নিজেই করি, তাই ভালো … কাউকে বলবো, সে তার গরজ অনুযায়ী কাজ করবে বা করবে না … তখন আমার মেজাজ খারাপ হলেও আমি তাকে কিছু বলতে পারবো না …

সুতরাং, অসহ্য লাগুক আর যাই হোক, নিজে নিজেই পুরোটা কাজ শেষ করতে হবে …

২০১৩ সালে এইসময়টায় কক্সবাজার ছিলাম … জাকিয়া আপা আর মহুয়া আপার সাথে একটা হঠাৎ প্ল্যান হওয়া ট্যুরে … কিন্তু ট্যুরটা বেশ ইন্টেরেস্টিং ছিলো … সেবার ক্যামেরা নিয়ে গেলেও ট্যুরের তিনদিনে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা হয়নি, মোবাইলে ইনস্টাগ্রামেই সব ছবি তুলেছিলাম … অফ সিজন ছিলো বলে মারমেইড বিচ রিসোর্টের মতো জায়গাতেও আমরা ওখানকার সবচেয়ে দামী কটেজটায় অর্ধেকের কম দামে ছিলাম … জায়গাটা এত সুন্দর … পুরো রিসোর্টটা এত সুন্দর … যদিও আমার জন্য মারমেইড রিসোর্টের অভিজ্ঞতা খুবই প্যাথেটিক ছিলো … সেটার কারণও সেই প্রজাপতি! … আমার ধারণা ছিলো সমুদ্রের কাছাকাছি প্রজাপতি থাকার সম্ভাবনা কম, যেহেতু পানি আছে … কিন্তু দেখা গেলো প্রতিটা কটেজের সামনেই এমন সব ফুলগাছ লাগানো যেগুলো প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে … যেই একদিন একরাত আমরা ওখানে ছিলাম, সারাদিন আমি লিটেরেলি আমাদের কটেজ রুম থেকে বের হইনি … রাতের বেলা অনেক ভয়ে ভয়ে কোনোরকমে বের হয়ে ডিনার করেই আবার ঘরের ভেতর গিয়ে ঢুকেছি … সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোটামুটি জান-প্রান নিয়ে পালাবার মতো করে ওখান থেকে চেক আউট করে চলে এসেছি! …

তবে, অ্যাপার্ট ফ্রম দ্যাট প্রজাপতি ইন্সিডেন্ট, ওটা খুবই চমকপ্রদ একটা ট্যুর ছিলো … স্কুল ছুটির অবসরে সত্যিকার অর্থেই একটা রিলাক্সিং ট্যুর …

ওই ট্যুরের ছবি আর গল্প নিয়েও এখনো অবধি ট্যুর ডাইরি লেখা হয়নি আমার …

মনে হচ্ছে, এই ট্যুর ডাইরি ব্যাপারটাকে একটা রেগুলার প্রজেক্ট হিসেবে শুরু করতে হবে … দিনযাপনের মতো করে প্রতিদিন একটুআধটু লেখা … রেগুলার সিরিজ … তাহলেই আসলে কাজ হবে … হাতেকলমে ডাইরি লিখতে বসলে আর এই কাজ করা হবে না …

কেন যে দিন দিন এত অলস হয়ে যাচ্ছি আমি! … আলসেমি করতেই ভালো লাগে … শরীরের ওপর চাপ দেয়, মাথা খাটানোর জন্য চাপ দেয় এমন কোনো কাজ করার কোনো আগ্রহই তৈরি হয়না আমার … আজকে গ্রুপ থেকে বের হয়ে কাঁটাবন মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসতে আসতে পাভেল ভাইয়ের সাথে কাজ-বাজ নিয়ে কথা হচ্ছিলো … উনি বলছিলেন যে আমি কেন এনজিও বা এমন কোথাও কাজের জন্য ট্রাই করছি না, সেটা রেগুলার কাজই হোক, আর ফ্রিল্যান্স প্রজেক্ট বেসড কাজই হোক … আমি ‘হুম, দেখি’ এসব বলে কাটিয়ে দিলাম … কিন্তু তাকে তো আর এটা বলি নাই যে বর্তমানে আমার মধ্যে প্রচণ্ড রকমের একটা উইথড্রয়াল সিনড্রোম কাজ করে আর আমি যখন তখন কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলি … মাসে একটা দুইটা ছোটোখাটো অনুবাদের কাজ করা এক জিনিস, আর লম্বা সময়ের জন্য একটা কাজ করা আরেক জিনিস … দেখা যাবে কয়েকদিন পর কাজের আগ্রহ চলে যাচ্ছে, আর তারপর একটা বিশ্রী অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে … আর তারচেয়ে বড় কথা, টাকা-পয়সা রোজগার করেও বা কি হবে? হয় কারো জন্য সব টাকা খরচ হয়ে যাবে, নয়তো কাউকে ধার দেবো, তারপর তার কাছ থেকে টাকা ফেরতও চাইতে পারবো না … আজকে না কালকে করতে করতে একসময় আমারই বিরক্ত লাগবে যে এতবার টাকা চাইছি কেন! … অতএব, নিজের যত কম টাকা থাকে ততই ভালো … কেউ তার জন্য টাকাও খরচ করতে বলবে না, আর কেউ ধারও চাইবে না …

মিরপুরের বাসায় উঠে গেলে একেবারে নিজেকে নির্বাসিত করে ফেলবো কি না ভাবছি … খুব দরকার না হলে বের হলাম না … মাসে তিন/চার হাজার টাকার মধ্যে তো চলেই যাবে … আর না চললেই বা কি করা যাবে? … কিছুই করার নাই! … তখন বাসায় বসে থেকে বলবো যে টাকা নাই, তাই বের হতে পারবো না … তাতে কেউ তার কাজের গরজে আমার ট্রান্সপোর্টের খরচ দেবে, আর না দিলে আমারও কাজ করা হবে না …

লাইফ-টাকে এরকম সিম্পল কিছু রুলের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে …

তবে, আপাতত আমি লেখা শেষ করবো, কারণ আমার অনেক ঘাড়ে ব্যথা করছে … ঘাড়ের একপাশ ক্যামন জানি ফুলে গেছে … ঘাড় নাড়াতে পারছি না … লেখা শেষ করে শুয়ে পড়াই উত্তম …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s