দিনযাপন | ১৯০৬২০১৫

অবশেষে আমি কলকাতা সফরের ডাইরি দিয়ে আমার ভ্রমণগল্পের সিরিজ শুরু করতে পারবো বলেই মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে কলকাতা ডাইরির যাত্রা শুরু দিনের গল্প লেখা শেষ, কেবল বর্ডার পার হবার অপেক্ষা। আশা করছি আগামীকাল নাগাদ কলকাতা ডাইরির প্রথম পর্ব পাবলিশ করা যাবে।

আজকে সন্ধ্যায় বাসাতেই ছিলাম। সেই সুবাদেই আসলে অনেকটা সময় হাতে পেয়ে এই কাজটা করে ফেলা গেলো। দুপুরে গ্রুপে ছিলাম স্কুলের নাটকের রিহার্সালে। চারটার দিকে রিহার্সাল শেষ হবার পর বাসায় চলে আসলাম। আজকে প্রথম রোযা, মোটামুটি সবাই-ই নিজেদের বাসায় কিংবা বন্ধুদের সাথে ইফতার করতে চায়। তাই রিহার্সালও আজকে তাড়াতাড়ি শেষ করে দেয়া হলো। আমার চিন্তা ছিলো যে ইফতারের পরে আবার গ্রুপের দিকে যাবো। সেটারও মূল উদ্দেশ্য ছিলো যে গোপী গ্রুপে আসলে ওকে বলবো ভায়োলিনটা টিউন করে দিতে। কিনু কাহারের থেটারের শো-এর দিন যে ফুয়াদ ইস্টার্ন প্যাটার্নে টিউন করেছিলো সেটা আর চেঞ্জ করা হয়নি। আমারও টিউন করার মতো অভ্যস্ততা আসেনি বলে নিজে রিস্ক নেইনি। তো যাই হোক, গোপীর সাথে কথা হয়েছিলো যে ও সন্ধ্যায় গ্রুপে যাবে। আমি বাসায় এসে আগে আগেই ইফতার করে সময় কাটানোর জন্য একটা সিনেমা দেখতে বসলাম – দ্যা ইনক্রেডিবলস। ওইটা আধাঘণ্টা দেখার পর ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুমানোর আগেই মনে হচ্ছিলো যে গ্রুপে না গেলে ভালো হতো, একটু আরাম করে রেস্ট নেয়া যেতো। পরে গোপী নিজেই জানালো যে ওর পরীক্ষা আছে আগামীকাল, তাই গ্রুপে আসতে চাচ্ছেনা। আমিও মনে মনে বেশ খুশিই হলাম যে, গোপী না আসলে আমারও যাওয়া না যাওয়া সমান, কারণ আজকে তো আর ভায়োলিন টিউন করা হবে না। আর এটা ছাড়া গ্রুপে আর কোনো উদ্দেশ্যও নাও। বাসায় থাকার একটা সুযোগ হলো, মনের খুশিতে তাই আরও এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিয়ে উঠলাম।

ঘুম থেকে উঠে ভাবছিলাম যে কি করা যায়। একবার ভাবলাম যে স্ক্লাস্টিকার ছবিগুলো নিয়ে বসি। কিন্তু সেটা বেশি ইচ্ছা হলো না। মনে হলো যে ওইটা না হয় কালকেই করবো। তারপর মনে হলো যে আরেকটা সিনেমা দেখি। সেইটাই বেশি আগ্রহ পেলাম না। তখন মনে হলো কলকাতার ডাইরি লিখতে বসি, আর সেটার ব্যাপারে আগ্রহও কাজ করলো। ফলে, যেই ভাবা সেই কাজ।

রোযা শুরু হলো আজকে থেকে। এই রোযা, ঈদ এই বিষয়গুলো নিয়ে আমার খুব একটা উচ্ছ্বাস কাজ করে না। ছোটবেলায় ঈদের একটা উৎসাহের জায়গা ছিলো। স্কুল ছুটি পাওয়া, ঈদের শপিং-এর ছুতায় নতুন নতুন বই কেনা, এটা সেটা উপহার পাওয়া, এর বাসায় তার বাসায় ঘুরতে যাওয়া, বাসায় গেস্ট আসা … ওইসব উৎসাহও এখন কমে গেছে। এখন দেখা যায় যে ঈদের দিনটা হচ্ছে একমাত্র কর্মযজ্ঞহীন দিন, আর সে কারণে সারাদিন আলসেমি করে ঘুমাচ্ছি, নয়তো সিনেমা দেখছি আর নয়তো সন্ধ্যায় সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে কারো বাসায় যাচ্ছি বা বাইরে কোথাও আড্ডা দিচ্ছি। রোযা যেহেতু রাখি না, ফলে রোযা নিয়েও কোনো পরিকল্পনা, কোনো উচ্ছ্বাস কাজ করে না। সন্ধ্যায় ইফতারের সময় যেখানেই থাকি, সবার সাথে মিলে ইফতার করি, এটুকুই। বাসাতেও মা ছাড়া আব্বু বা অমিতও রোযা রাখে না। ফলে, এই বাসায় একমাত্র সন্ধ্যায় বাসায় থাকলে ইফতার করা ছাড়া সারাদিনে আর রোযার আমেজ পাওয়া যায় না। খালার বাসায় আবার লালাম, টিয়াম, খালু তিনজনই রোযা রাখে। ফলে, ওই বাসায় গেলে আবার একটা রোযা রোযা আমেজ পাওয়া যায়।

যাই হোক, রোযার তো মাত্র শুরু। রোযা সংক্রান্ত চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন প্রসঙ্গক্রমে দিনযাপনে আরও আসবে।

আজকে সারাদিনে তেমন কিছু ঘটেনাই বলে দিনযাপনেও লেখার মতো কিছু নাই ।

তবে, একটা জিনিস ভেবে দেখলাম। মিরপুর চলে যাবার পর আর কিছু না হোক, অন্তত সন্ধ্যা সময়টায় বাসার থাকার বদৌলতে অনেকগুলো কাজ করার সময় বের হবে। তখন চাইলেই প্রতিদিন বের হয়ে গ্রুপে চলে আসতে পারবো না। সময়ের ব্যাপার তো বটেই, টাকা-পয়সারও একটা ব্যাপার আছে। সবাই আমাকে খুব এনকারেজ করছে স্কুটি কিনে ফেলবার জন্য। আমার কাছেও প্রস্তাবটা খারাপ লাগছে না। কিন্তু সমস্যা একটাই। টাকা নেই। ব্যাটারি-র স্কুটিগুলোর কিনতে হলেও মিনিমাম ৭০ হাজার টাকা লাগবে। সাইকেল কিনতে পারতাম। কিন্তু শরীরের অবস্থার কারণেই সাইকেল চালাতে পারবো না। ফলে সাইকেল কিনে লাভ হবে না। স্কুটিই ভালো আইডিয়া। কিন্তু সেটার অর্থসংস্থানের জন্য সময় লাগবে। ফলে, সহসাই আমার মিরপুর থেকে কাঁটাবন আসার সহজ রাস্তা পাওয়া যাচ্ছে না।আর তার সুবাদে আমার বাসায় থেকে সন্ধ্যা সময়টা কাজে লাগানোর একটা সুযোগও হবে।

আজকে আরেকটা জিনিস ভাবছিলাম। সেটা হলো যে, ভাবছিলাম দিনযাপনটা একটু র ভাবে লিখি। একটা ঘটনা ছিলো, যেটা লিখতেই পারতাম। কিন্তু পরে মনে হলো যে সত্যি সত্যি নিজেকে ‘দিনযাপন সন্ত্রাসী’ প্রতিপন্ন করার দরকার নেই আপাতত। ফলে, ঘটনার ঘনঘটায় বেশ ‘বিনোদিত’ একটা অনুভূতি নিয়ে বসে আছি। আর মনে মনে ভাবছি, আই উইশ আই কুড বি ইভেন আ ওয়ান-থার্ড অভ রিলাক্টেন্টলি সেলফিশ সামওয়ান লাইক দ্যাট সো-কল্ড ফ্রেন্ড অভ মাইন! …

তো, সে যাই হোক, আজকে আর লিখছি না …

তবে, একবছর আগের এই দিনের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস শেয়ার করে রাখি। হুট করে ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, কিন্তু দিনযাপনে থাকলে পাওয়া যাবে –

 ~ ~ ~ ” আমার হারিয়ে ফেলার কেউ নেই, কাজেই খুঁজে পাওয়ারও কেউ নেই…আমি মাঝে মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলি,আবার খুঁজে পাই…..” ~ ~ ~

এই স্ট্যাটাসের সঠিক শানে নুযূল এই মুহুর্তে মনে নাই … ‘তাকে’ উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম মনে হয় … কিন্তু কি কারণে লিখেছিলাম, এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s