দিনযাপন | ২৩০৬২০১৫

গত দুইদিন যাবৎ দিনযাপন লেখা হচ্ছে না … এমন না যে লিখতে বসি নাই … গত পরশু এক লাইন লিখতে না লিখতেই কখন ঘুমিয়ে গেছি নিজেও টের পাইনি, আর গতকালকে অর্ধেক লিখে শেষটা কিভাবে করবো ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেছি … আজকে আটঘাট বেঁধে নেমেছি যে যত যাই হোক, দিনযাপন লিখে তবেই ঘুমাবো …

গত দুইদিনের ঘুমের পেছনে মূল কারণ ছিলো মাথা ব্যথা। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে তৈরি হওয়া মাথা ব্যথা! … আজকে মাথা ব্যথা নাই, তাই ঘুমে ঢলে পড়ে যাবার ভাবটাও নাই। তবে, এটাও ঠিক যে আজকে আমাকে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গিয়ে আবার ভোর বেলা উঠতে হবে, বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে, তারপর আবার মা’র সাথে বের হতে হবে মিরপুরের বাসার জন্য পর্দা আর সোফার কাভারের কাপড় কিনতে, তারপর আবার রিহার্সাল আছে গ্রুপে … অনেকগুলা কাজ কালকে …

গত দুইদিনে অবশ্য দিনযাপনে ফলাও করে লিখবার মতো তেমন কিছুও ঘটেনাই …

গতপরশু বাবা দিবসে ফেসবুক ভর্তি করে সবাই যার যার বাবাকে নিয়ে লিখেছে। আমি হয়তো সেদিন দিনযাপনে কিছু একটা লিখতাম। কিন্তু যেহেতু দিনযাপন লেখাই হয়নাই, তাই সেই কথাগুলা এখন আর ব্যাকডেট-এ লেখার মানে হয়না।

আবার, গতকালকে যেমন জলের গানের ‘অন্তরঙ্গ আসর’ -এ গেলাম। সেটা নিয়েও বা কি-ই বা লেখার আছে? জলের গানের সব গানই তো বরাবর একই রকম। ভায়োলিন আর চন্দ্রভানে নতুন সদস্য এসেছে, তাতে বাজনায় সামান্য যা একটু ভেরিয়েশন। কিন্তু বস্তুত সেই নতুন বোতলে পুরনো মদই তো! … রাহুল দা একটা রেকর্ডারকে মনে হয় ক্লেরিনেট বানিয়েছে, সেটা বাজিয়ে বাউলা বাতাস -এর সেকন্ড ভার্সনটা গাইলো, সেটাই যা একটু ভালো লাগলো … এই তো! … এমনিতেই জলের গানের সাথে আমার এখন অনেক দূরত্ব, তার মধ্যে তাদের সেকন্ড অ্যালবাম বের হবার পর আমি ফেসবুকে আমার ভালো লাগা না লাগা’র কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম সেটা নিয়ে রাহুল দা’র সাথে বেশ উষ্ণ কথাবার্তা হয়েছিলো … আবারো যদি এই দিনযাপনে জলের গান নিয়ে কিছু লিখতে বসি, তাহলে হয়তো এবার সম্মুখ যুদ্ধে দাঁড়াতে হবে … অতএব, মুখের কথা মুখেই থাক আপাতত। জলের গান নিয়ে দিনযাপন লেখার সুযোগ নিশ্চয়ই আরো আসবে …

কেন জানি আর ভালো লাগছে না সেন্ট্রাল রোডে থাকতে। মনে হচ্ছে যে মিরপুর চলে গেলে সবকিছু পেছনে ফেলে একটা নতুন জীবন শুরু করা যাবে! এই সেন্ট্রাল রোডের বাসা, এই ঘর, এই সবকিছু কেমন যেন গুমোট হয়ে আছে! অনেক বেশি স্মৃতিকাতরতায় জড়িয়ে আছে সবকিছু। এমন অনেক অনেক স্মৃতি, যা আমি বারবার ভুলে থাকতে চাই … নতুন বাসায় গিয়ে সবকিছু নতুনভাবে সাজালে এই স্মৃতিছক ভাঙবে … কেবলই মনে হচ্ছে চোখের সামনে থেকে স্মৃতিতে গাঁথা ইমেজগুলো খুব দ্রুত সরে যাক … এই বাসার দেয়ালের দিকেও এখন আর আমার তাকাতে ইচ্ছা করে না! … সময়ে সময়ে দেয়ালগুলোও বিগত দুইযুগের সব স্মৃতিকাতরতা নিয়ে নির্ঘুম রাতগুলোতে বুকের ওপর চেপে বসতে চায় …

গত এক সপ্তাহ যাবৎ স্টার সিনেপ্লেক্স-এ ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড’ মুভিটা দেখবার কথাবার্তা চলছে তিন্নি আপুর সাথে … কিন্তু দিন-তারিখ মিলছে না কারো …

ঈদের সময় তিন্নি আপু ‘র সাথে কলকাতা যাবার প্ল্যানটাও ঝুলে আছে। দুজনেই ভিসার জন্য অ্যাপ্লাই করছি, কিন্তু ই- টোকেন এর ডেটই পাচ্ছি না এখনো … আদৌ কি ভিসা পাবো কি না, আর পেলেও সেটা কবে সেটা না জানা পর্যন্ত ঈদের আর কোনো প্ল্যান করাও যাচ্ছে না …

আজকের দিনের ভালো ব্যাপার হচ্ছে যে আজকে অবশেষে আবারো ভায়োলিন ক্লাস শুরু করা গেলো … যদিও পারফর্মেন্স যথেষ্টই খারাপ ছিলো … তবু, শুরু তো হলো …

আজকে বহুদিন পর ‘প্যাসিফিক রিম’ মুভিটা আবার দেখা হলো … আগেরবার দেখেছি খুবই বাজে কোয়ালিটির হল প্রিন্ট … আজকে এইচ ডি ভার্সনে অনেককিছুই নতুন করে বোধগম্য হলো … এর আগেরবার থিম মিউজিকটাও খুব মনোযোগ দিয়ে শুনিনি … এবার সেই মিউজিকটারও নতুন করে ভক্ত হওয়া হলো … সেদিন তিন্নি আপুরই ফেসবুক প্রোফাইলে দেখছিলাম সে প্যাসিফিক রিমের সাউন্ড ট্র্যাক শুনছে। আমিও সেটা দেখে আগ্রহী হয়ে সাউন্ডট্র্যাকগুলো শুনতে গিয়ে মনে হলো যে পুরো মুভিটাই আবার দেখা দরকার …

লেখা শুরু করেছিলাম রাত ১টার দিকে, আর এখন বাজে ৪টা … ফজরের আযানই দিয়ে দিলো … লেখার মাঝখানে মাঝখানে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলতে গিয়ে এতক্ষণ সময় পার করে ফেললাম … কখন ঘুমাবো আর সকাল সকাল কিভাবেই বা উঠবো জানি না … উঠতে অবশ্য পারবো, কিন্তু সারাদিন মাথা ব্যথাও সাথে সাথে ফ্রি পাবো! …

আর সময় নষ্ট না করে এখন মনে হয় শুয়ে পড়া উচিৎ …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s