দিনযাপন | ২৫০৬২০১৫

গতকালকে দিনযাপন লিখতে বসে কি খেয়াল হলো, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমাটা দেখতে শুরু করলাম … সিনেমা দেখতে দেখতে রাত সাড়ে তিনটা বাজিয়ে ফেললাম … তারপর ঘুম ঘুম ভাবের মধ্যে আর দিনযাপন লেখার ইচ্ছা রইলো না … ক্যান্ডি ক্রাশের নেশার রাজ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিয়ে ঘুমের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম …

এমন একটা চিন্তাধারা তৈরি হয়েছে মনে গত ক’দিন ধরে যে ‘টেবিল-চেয়ার ছাড়া আবার লেখালেখি হয় নাকি?’ … যেহেতু এখন এই মুহুর্তে কোনো টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থা নাই, বিছানায় বসেই কাজ করি, ফলে কাজকর্মের প্রতি … বলা যায় যে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় বসে কাজ করার প্রতি একটা অনীহা তৈরি হচ্ছে … খালি সিনেমা দেখা আর ক্যান্ডি ক্রাশ খেলবার জন্য বিছানায় ল্যাপটপ নিয়ে বসা যেতে পারে … কিন্তু কোনো জরুরি কাজ, বিশেষ করে লেখার কাজ এভাবে করার মানেই হয় না … কাজেও মনোযোগ আসে না, কোমরও ব্যথা হয়ে যায়, পেটেও চাপ পড়ে …

মিরপুরের বাসায় গিয়ে টেবিল -চেয়ারে বসে কাজ করার পুরনো অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনবো … এই ব্যাপারে আমার ডিটারমিনেশনের অভাব নেই …

মিরপুরের বাসার জন্য পর্দা আর সোফার কাভারের অর্ডার দেয়া হলো কালকে … সেটা অবশ্য একটা অংশের জন্য … যেই অংশটা আমার উরাধুরা ক্রিয়েটিভিটির জোয়ারে ভেসে যাওয়ার অবস্থা হচ্ছে সেই অংশের জন্য কি করবো এখনো ঠিক করিনি … বাঁশের চাটাই দিয়ে পর্দা বানাবো নাকি গ্লাস -পেইন্টিং করবো সেটা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি …

আমার খালি মনে হয় যে আমাকে যদি কেউ এখন লাখ খানেক টাকা দিয়ে বলতো যা খুশি তাই করে তোমার অ্যাটেলিয়েরটা সাজাও, তাহলে আমার আর চিন্তা করতে হতো না যে কোনটা আগে করবো, কোনটা করলে বেশি খরচ, কোনটা পরে আবার কখনো টাকা ম্যানেজ করতে পারলে করবো … মাথায় ওভারঅল যা প্ল্যান আছে সব একবারে ইমপ্লিমেন্ট করে ফেলতে পারতাম। তাতে করে অন্তত সবার কনফিউশনগুলো দূর করা যেতো … যেমন ধরা যাক, আমার স্টুডিও পার্ট আর ঘরের বাকি অংশের মাঝখানের একটা দেয়াল আমি বাদ দিয়ে দিয়েছি দেখে এখন ওই অংশটার কোনো প্রাইভেসি নাই … কিন্তু আমার মাথায় এই চিন্তা আছে যে আমি একটা টু-সাইডেড শেলফ বানাবো, যেটায় বই, শো পিস এরকম অনেককিছু রাখা যাবে, আবার ওটার মাঝখানের একটা পার্টিশন ব্যের করে সেটার ভেতর দিয়ে একটা স্লাইডিং ডোর-এরও জায়গা করে ফেলা যাবে … ব্যাপারটা অনেকটা শেলফ কাম স্লাইডিং ডোর টাইপের কিছু হবে … এখন, ওটার ডিজাইন আমার মাথায় আছে, কিন্তু সেটা এখনই করা সম্ভব না কারণ ওটার পেছনেই মোটামুটি পঞ্চাশ হাজার টাকা চোখ বন্ধ করে খরচ হয়ে যাবে … কিন্তু এটাও আমি আমার বাড়ির মানুষদের বোঝাতে পারি না যে এখন এখানে টেম্পোরারি কিছু করে ফেললে তখন আর এই প্ল্যানটা ইমপ্লিমেন্ট করা হবে না … তাদের একটাই কথা ‘ প্রাইভেসির কি হবে?’ … অথচ সেটা এমনকি আমার বেডরুম পর্যন্ত না … ওটা যদি খোলাও থাকে তাতেও কারো কোনো সমস্যা হবে না …

আমার মা যেমন মাঝে মাঝে ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করে যে ‘ তোরা দুই ভাই বোন যখন কয়েকদিন পর বৌ জামাই নিয়ে থাকবি, তখন তো তোদের নিজেদের মতো স্পেস লাগবে … ইত্যাদি ইত্যাদি … ‘ … কি বিরক্তিকর! ভাবটা এমন যে এই কয়েকদিনের মধ্যেই যেন আমাদের বিয়ে-টিয়ে হয়ে যাচ্ছে, নতুন বৌ আর নতুন জামাইকে ওঠানোর জন্যই যেন এই বাড়ি তৈরি হচ্ছে … এখনো গাছে কাঁঠালই ধরলো না, তাতেই এরা গোঁফে তেল মেখে প্রস্তুত! …

আমার মা এত পড়ালেখা করা মানুষ হওয়া সত্ত্বেও কোনোভাবেই সোশ্যাল স্টেরিওটাইপ থেকে বের হতে পারে না। তার চিন্তা হচ্ছে এটাই যে আমি যদি বিয়ে না করি তাহলে সমাজে টিকবো কিভাবে! আর আমি এই আজব চিন্তার কোনো উত্তর খুঁজে পাই না! … এমন তো না যে আমি বিয়ে করার জন্য খুব উদগ্রীব, আর আমার জন্য পাত্র মিলছে না, আর তাই নিয়ে আমি খুব হতাশ! হতাশ যদি কখনো হই তো সেটা এই নিয়েই হবো যে আমি একটা মেয়ে হিসেবে এই সমাজে এত সদর্পে স্বাবলম্বী হয়ে চলছি, এত পড়াশোনা, এত রকমের জানা-শোনা … অথচ তার সমান্তরালে মানানসই ছেলেই নাই! … যার পড়ালেখা অনেক বেশি, তার বাস্তববুদ্ধি কম … যার বাস্তববুদ্ধি বেশি, তার আচরণ ভালো না … যার আচরণ ভালো তার চেহারা অতিশয় খারাপ … যার চেহারা ভালো তার পড়ালেখা, বাস্তববুদ্ধি, আচরণ কোনটাই ভালো না … আর আমিও কখনোই স্টেরিওটিপিক্যালভাবে ভাবতে পারি না … সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন করা, যুক্তিখণ্ডন করার এমন অভ্যাস আমার যে নিজের যুক্তির সাথে সামঞ্জস্য না হওয়া পর্যন্ত আমি কোনোকিছুতেই সহজে কনভিন্সড হই না …

যাই হোক, বাসায় আমার মা-খালাদের সাথে এসব যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষণের প্রক্রিয়া চালাতে চালাতে আমি দিন দিন বিরক্তির মাত্রা অতিক্রম করতে চলেছি … এখন আর তাদের কথার পিঠে কোনো কথা বলার উৎসাহ পাই না … কারণ মুখ খুললেই বিপদ … মেজাজ গরম হয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী …

আজকে যেমন দুপুরবেলা টিয়ামের বাসায় গিয়েছি … কথায় কথায় প্রসঙ্গ উঠলো যে ঈদের সময় কলকাতা যাওয়া হতে পারে আবার … লালাম বল্যে উঠলো, ‘ একা একা এসব ঘোরাঘুরি বাদ দে … বিয়ে করে জামাই নিয়ে যেখানে খুশি, যত খুশি ঘুরতে যা!’ … আমি এই কথার উত্তরে কি বললে বিষয়টা তর্কাতর্কির দিকে যাবে না ভাবতে ভাবতে কোনো দিশা না পেয়ে ‘ভূতের বাচ্চা কটকটি’ নামের একটা বই পড়তে বেশ মনোযোগী হয়ে গেলাম …

আজকে ভীষণ ক্লান্ত লাগছে … সারাটা দিনই কেমন জানি গেলো … সকালে দেড় ঘণ্টা লাগিয়ে মহাখালী গেলাম … ইথারের অফিসে … একটা কাজের বিল আনতে … সেখান থেকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে আবার জ্যাম ঠেলে সেন্ট্রাল রোড ফিরতে ইচ্ছে করলো না … মিরপুরে টিয়ামের বাসায় চলে গেলাম … ভাবলাম ঠিক যখন ইফতারের সময় হবে তখন ওই বিশ-পঁচিশ মিনিট রাস্তা একটু ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে গ্রুপে চলে যাবো … একে তো বিকেলবেলা নামলো ঝুম বৃষ্টি, তারমধ্যে টিয়াম জানালো আমি যেন অপেক্ষা করি, কারণ সেও অফিস থেকে ফিরে ধানমণ্ডির দিকেই আসবে … আমি আর টিয়াম বের হলাম সোয়া সাতটার দিকে … ধানমণ্ডি সাত নাম্বার এসে যখন পৌঁছালাম, তখন বাজে ৯টা … গ্রুপে গেলাম যখন তখন অলরেডি প্রায় সাড়ে ৯টা … রাস্তায় পানি জমে গেছে জায়গায় জায়গায় … সে কারণে রাস্তায় ট্র্যাফিকের অবস্থা আরো খারাপ …

আজকে আর লেখার মতো কিছু পাচ্ছি না … মাথাও ব্যথা করছে খুব … প্রতিদিনের মতো ক্যান্ডি ক্রাশ খেলতে খেলতে ঘুমিয়ে পড়ি, সেটাই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s