দিনযাপন |২৭০৬২০১৫

সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত দুইদিন যাবৎ টানা বৃষ্টি হচ্ছে … বর্ষাকালের এই টানা বৃষ্টি হবার দিনগুলো খুব পেইনফুল … বিশেষ করে ঢাকা শহরে … গত দুইদিন যাবৎ যেখানেই বের হচ্ছি, আধাভেজা হয়ে গন্তব্যে পৌছাচ্ছি … তারপর সেই ভেজা কাপড় নিয়েই ঘুরছি-ফিরছি … বেশ যন্ত্রণা …

তার মধ্যে আরেক যন্ত্রণা হচ্ছে না পারি ফ্যান ছেড়ে রাখতে, না পারি বন্ধ রাখতে … ফ্যান ছেড়ে রাখলে কিছুক্ষণ পড় প্রচণ্ড গা শিরশির করে শীত লাগতে থাকে … আর বন্ধ করে দিলে ঘরের মধ্যে কেমন একটা ভ্যাপসা গরম তৈরি হয় …

যাই হোক, এই বৃষ্টি যতদিন চলবে ততদিন চলাফেরা, জীবনযাপন এরকমই পেইনফুল যাবে তাতে সন্দেহ নাই …

গতকালকে যেমন রেক-ইট র‍্যালফ নামের একটা মুভি দেখতে দেখতে রাত তিনটা বাজিয়ে ফেললাম, তারপর আর দিনযাপন লেখা হলো না, আজকেও তেমনি রাত ৩টা পর্যন্ত ‘ইনসাইড আউট’ মুভিটা দেখলাম … এই মুভিটা দেখবো বলে অধীর আগ্রহে ছিলাম গত ছয় মাস … যদিও ট্রেলার দেখে যতটা ইন্টেরেস্টিং হবে ভেবেছিলাম ততটা হয়নি … গতকাল গোপীও বলছিলো একই কথা … এই মুভিটার ট্রেলার দেখার পর মাঝে মাঝেই এই মুভিটা নিয়ে কথা হতো … আমি তো এইটা সিনেপ্লেক্স-এ দেখবো বলেও এক্সাইটেড ছিলাম … কালকে গোপী যখন বললো সিনেমাটা দেখে এক্সপেকটেশন অনুযায়ী ভালো লাগেনি, তখন সিনেপ্লেক্স-এ যাওয়ার উৎসাহে ভাটা পড়লো … আর আজকে বাসায় এসে কোনো দ্বিতীয় চিন্তা না করে সিনেমাটা দেখতে বসে গেলাম …

গতকালকে জুরাসিক ওয়ার্ল্ড মুভিটা দেখা হয়েছে … স্টার সিনেপ্লেক্স-এ … তিন্নি আপু আর ভাইয়ের দলবলের সাথে … এটা দেখে বেশ মজা পেলাম … দুর্দান্ত কিছু শট ছিলো, যেগুলো দেখে সত্যি সত্যিই রিঅ্যাক্ট করেছি দর্শকেরা … রিঅ্যাক্ট মানে একেবারে পা গুটিয়ে সিট-এর ওপরে বসে পরা টাইপের রিঅ্যাক্ট … অনেকদিন পর একটা থ্রিডি ইফেক্ট-এর মুভি দেখে মজা পেলাম … শেষবার ‘আয়রন ম্যান থ্রি’ দেখে এরকম দুর্দান্ত লেগেছিলো …

গতবছরেও এই ২৬ কি ২৭ তারিখেই দলবেঁধে ‘ট্রান্সফর্মার্স ঃ এজ অভ এক্সটিঙ্কশন’ দেখতে যাওয়া হয়েছিলো … মুগ্ধ এবং তার দল … সেই দলে আবার ‘সে’ও ছিলো … ‘তার’ দলের সাথে টিকিট পায়নি, পরে আমাদের সাথে টিকিট নিলো … টিকিট কাটতে গিয়েও কত কাহিনী … তার টিকিটের টাকা, তার কোন এক বন্ধুর টিকিটের টাকা সবই দিলাম … মুগ্ধ বিকাশে বাকিদের টিকিটের টাকা পাঠিয়েছিলো, সেটা তুলে আনবার জন্য আমাকে যেতে হলো, কারণ বিশাল লম্বা টিকিটের লাইনে কাউকে না কাউকে থাকতে হতো … তার যাওয়ার উপায় ছিলো না, ফলে মনে হয় একরকম বাধ্য হয়েই আমাকে পাঠিয়েছিলো … তাতে করে তাকে অবশ্য তার ফোনের লক কোডটা আমাকে বলে দিতে হয়েছিলো … এই বিষয়টা আমার জন্য একটু অবাক হবার মতোই ছিলো … আমি তো চাইলেই তার ফোন লগ আর মেসেজ লগ দেখে ফেলতে পারতাম … হয়তো সে বুঝেছিলো যে আমি মানুষটা ভোঁদাই কিসিমের বলেই তার ফোন হাতে পেয়েও স্টকিং করবো না! … বিকাশের মেসেজ বের করতে গিয়ে একটা- দুইটা মেসেজ-এর থাম্বনেইল চোখে পড়েছিলো, কোনো একজন মেয়ে লিখেছিলো ‘ ফ্রি হয়ে ফোন দিও’ , আবার কেউ লিখেছিল ‘ক্লাসে যাচ্ছি … ঘুম থেকে উঠে ফোন দিও’ … এইটুকুই! … সেই মেসেজগুলো খুলে দেখারও প্রয়োজন মনে করিনি … একাধারে একাধিক মেয়ের সাথে চ্যাট করে, কথা বলে এটা তো খালি নিশ্চিত হবার বিষয় ছিলো, নতুন করে ধারণা পাবার কিছু না! … ফলে, ওগুলো দেখেও এই ভোঁদাই আমি সেগুলো নিয়ে বিন্দুমাত্রে বদারড হইনি … হয়তো বদারড হয়ে সেগুলো নিয়ে ক্যাচাল করাটাই স্বাভাবিক আচরণ হতো! … কে জানে! …

যাই হোক, সে তার আরেক বন্ধুকে সাথে আনবে শুনে মুগ্ধ বলেছিলো নিশ্চয়ই বন্ধুটা স্ত্রীলিঙ্গের কেউই হবে … আমারও সেরকমই ধারণা ছিলো … কিন্তু সিনেমা দেখার দিন দেখা গেলো একজন পুরুষ বন্ধুই এসেছিলো সাথে … মুগ্ধরা দেরি করে রওনা দিয়েছিলো … মাঝপথে আবার হিমেলকে আনতে শেখেরটেক পর্যন্ত গিয়েছে … সেখান থেকে আসতে গিয়ে জ্যামে আটকা … এদিকে টিকিট ‘তার’ কাছে বাসায় … সেও মুগ্ধদের সাথেই গাড়িতে আসছিলো … মাঝরাস্তায় নেমে গেছে … সে টিকিট নিয়ে আসতে আসতে সিনেমা শুরুই হয়ে গেলো … মুগ্ধরা তখনো পৌঁছায়নি … প্রথম পনেরো -বিশ মিনিট মিস করলাম সবাই … এইসব কাহিনী করে সেদিন সেই সিনেমাটা দেখা হয়েছিলো …

সিনেমা দেখে আমার হাসান ভাইয়ের বিয়েতে যাওয়ার কথা … সেভাবে রেডি হয়েই বের হয়েছিলাম … কিন্তু মুভি দেখে বের হতে হতেই প্রায় পৌনে দশটা বেজে গেলো … তারপর আবার বসুন্ধরা সিটি থেকে ধানমণ্ডি ৮ নম্বর যেতে কতক্ষণ লাগে চিন্তা করে আর যাইনি … হাসান ভাই খুব স্পেশালি রিকোয়েস্ট করে বলেছিলেন যাবার জন্য … নিশ্চয়ই মাইন্ড করেছিলেন যাইনি বলে …

জুরাসিক ওয়ার্ল্ড মুভিটা সম্পর্কে আরো দুইএক লাইন লিখি … জুরাসিক পার্ক -এর সিক্যুয়ালগুলোর প্রতি আমার একটা আলাদা দূর্বলতা আছে … সেটার একটা কারণ বোধহয় এটা যে আমার হলে গিয়ে দেখা প্রথম ইংরেজি সিনেমা হচ্ছে জুরাসিক পার্ক … তারও আগে, আনন্দমেলা কিনতাম একসময় … প্রতি পাক্ষিকের প্রতিটা সংখ্যা কেনা হতো … প্রথম যে সংখ্যাটা দিয়ে আনন্দমেলার সাথে আমার পরিচয়, সেই ১৯৯৩ সালে, সেটার মূল বিষয় ছিলো জুরাসিক পার্ক-এর গল্প আর মেকিং … এভাবে, কেমন কেমন করে ডাইনোসর প্রাণীটার সাথে আমার একটা বিশেষ স্মৃতিকাতরতার সূত্র আছে … এমনকি আমি একসময় এরকমও স্বপ্ন দেখতাম যে জুরাসিক পার্ক-এর ডাইনোসরগুলো ঢাকা শহরের রাস্তায়, এমনকি আমার ঘরের জানালার পাশে ঘোরাফেরা করে আর গাছের পাতা খায়! … তারপর যখন মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘টি-রেক্সের সন্ধানে’ পড়ে টাইরানোসরাস রেক্স সম্পর্কে জেনেছিলাম, তখন এটাও স্বপ্ন দেখতাম যে সেই টি-রেক্স পর্যন্ত আমার জানালার পাশ দিয়ে যাচ্ছে! …

কিসের সূত্রে ডাইনোসরের সাথে আমার এতরকমের স্মৃতিসূত্রতা কে জানে! …

তবে, এখন এটুকু জানি যে মাত্রই কিছুক্ষণ আগে ফজরের আযান দিয়ে দিয়েছে, আর এখন আমার ঘুমাতে যাওয়া উচিৎ … কালকে সকাল সকাল উঠতে হবে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s