দিনযাপন | ০৪০৭২০১৫

আজকে সকাল থেকে রাত অবধি মেজাজ খারাপ করা ঘটনাই ঘটলো একটার পর একটা …

সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে বিবিসি’র কাজ নিয়ে বসলাম … মোটামুটি ১০টার মতো বাজে তখন … একটু পরেই একজন কি দুইজন করে লোক আসতে শুরু করলো বাসা দেখবে বলে … আসে ভালো কথা, কিন্তু বলা নাই কওয়া নাই পর্দা সরিয়ে ঘরে ঢুকে যায় ঘর দেখবে বলে … আমি বিছানায় শুয়ে-বসে, হাত-পা ছড়ায় ছিটায় কাজ করি … এর মধ্যে হুট করে কেউ ঢুকলে বিষয়টা তো আরো বিরক্তিকর … সকাল ১০টা থেকে ১২টার মধ্যেই ৩/৪ বার লোকজন এসে বাসা দেখে গেলো … পরে আমি বিরক্ত হয়ে আগে আগেই বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম …

গ্রুপে যেতে না যেতেই আরেক মেজাজ খারাপ করা ঘটনা … ৭ তারিখের শো-এর ব্রশিয়ার ছাপা হবে … গতকালকে রাতে সেটার টেক্সটগুলোর একটা কারেকশন করে দিয়েছি … তো সেটা আবার ঠিকঠাকমতো হলো কি না, সেটা তো দেখতে হবে ফাইনাল প্রিন্টে যাবার আগে … ফুয়াদের  এমনিতেই কমনসেন্স কম, তারমধ্যে এইসব জিনিস নিয়ে তার ব্রেইন মাল্টিপল অ্যাঙ্গেল থেকে চিন্তা করবে সেটা তো খুবই অস্বাভাবিক … যথারীতিই সে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলো যে এইটা ফাইনাল প্রিন্টে চলে যাবে … আমি এদিকে নিশ্চিত যে যেখানে এটা ছাপাতে দেয়া হচ্ছে, সেখানে কখনোই ভুল ছাড়া কোনো একটা কাজ হতে পারে না, সুতরাং যেসব কারেকশন দেয়া হয়েছে তার অনেকগুলাই ঠিকমতো হবে না … সে কারণেই ব্রশিয়ারের ফরম্যাটে লেখাগুলো বসানোর পর এটা আরেকবার চেক করে নিতেই হবে … সেটা বললাম যে প্রিন্টে যাবার আগে যেন আমাকে এইটা চেক করার জন্য ডামি প্রিন্ট দেয় … গ্রুপের কম্পিউটার নাকি সকাল থেকে চলে না, তাই এটা করা যাবে না বললো । তো কম্পিউটার নষ্ট হলে নিশ্চয়ই অন্য উপায় আছে … কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে নেট থাকে, ওখানে মেইল থেকেও প্রিন্ট দেয়া যায় … সুতরাং কেউ যদি একটা প্রিন্ট এনে দেয়, তাহলে সেটা চেক করে দিতে পারি … তারপর না হয় রাতের বেলা কেউ একজন তার বাসার কম্পিউটারেই সফট কপিটা ঠিক করে পাঠিয়ে দিলো … ফুয়াদ কি বুঝলো কে জানে! বললো যে আপনি তো চেক করেই দিসেন … ওইটা ফরহাদ ভাই দেখে পাঠায় দেবে প্রিন্ট-এর জন্য … আমি ফুয়াদকে বুঝাতে চাইলাম যে কারেকশন যেহেতু আমি করেছি, আমি ছাড়া তো কেউ বুঝবে না যে কোথায় হাইফেনটা বসার কথা ছিলো কিন্তু বসে নাই … কোথায় দুইটা শব্দকে জোড়া লাগানো হয়েছে, কিন্তু হয় নাই … আমি যদি কারেকশন করে থাকি, তাহলে প্রুফ রিডিং তো আমাকেই করতে হবে … ফরহাদ ভাই তো পুরা সিনের মধ্যেই নাই! উনি কিভাবে জানবে যে কোনটা কেন কি কারেকশন করা হয়েছিলো ? … তো, ওকে এইটা বোঝাতে গিয়ে আমার শুনতে হলো যে ‘ তাইলে আপনি দোকানে গিয়ে প্রিন্ট নিয়ে চেক করে আসেন … আপনার জন্য কি এখন কম্পিউটার ঠিক করে আনবো নাকি?’ … এই কথা শুনে আমি বিরক্ত যেমন হলাম, মেজাজও তেমনি খারাপ হলো …একদম গলা উঁচিয়েই বললাম যে সবসময় এভাবেই কাজ হয় যে ফাইনাল প্রিন্টের আগে যে কারেকশন করে, সে-ই চেক করে সব ঠিকঠাকভাবে কারেকশন হয়েছে কি না … এবারও সেভাবেই হবে … সেটা যে উপায়েই হোক … ফুয়াদ তখন রেগেমেগে ফোন করে প্রিন্ট ক্যান্সেল  করে দিলো আজকের জন্য …

সন্ধ্যায় জানা গেলো যে সকাল থেকে কম্পিউটার চলেনি কারণ কেউ মাল্টিপ্লাগ বন্ধ করে রেখেছিলো!…

তারপর সেই ব্রশিয়ারের ডামি-তে ঠিকই কয়েকগাদা ভুল পাওয়া গেলো! … একে তো ফন্ট ভেঙ্গে গেছে সব, তারপর আবার গতকালকে যেসব কারেকশন দিয়েছি তার অনেকগুলাই ওখানে ঠিকই করা হয় নাই … নিজেই মনে মনে হাসলাম … যার যেটা কাজ না, সেটাই যখন কেউ বেশি বুঝতে যায়, তখন তো এরকম হওয়াটাই স্বাভাবিক … এই জিনিস যদি চেক করা না হতো, তখন সবকিছু ভুল-ভাল ছাপা হতো, আর তখন তো আজকের ঘটনা বললে অতিরিক্ত বেশি বুঝার জন্য গালিটা ফুয়াদই খেতো !

এদিকে রিহার্সালেও গত এক সপ্তাহ ধরে যা যা জিনিস কস্টিউমের কারণে সমস্যা হবে বলে গলা ফাটিয়েছি, আর পারু কেবলই বলে গেছে ‘ ডিরেক্টর এভাবেই বলসে’, ঠিক সেই সেই জিনিসই এখন ডিরেক্টর নিজেই শেষ সময়ে এসে খেয়াল করতেসে যে আসলেই তো সমস্যা … এখন পারুই বকা খাচ্ছে যে সে কেন এগুলা নোট রেখে ডিরেক্টরকে পরে জানায় নাই …

মেজাজ খারাপের আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে গ্লোব থিয়েটারের যে শো হবে ১৫ জুলাই, হ্যামলেট, সেটার টিকিট … অনলাইনে অর্ডার করেছিলাম ২০টার মতো টিকিট … ৫টা আমার নিজের … আর বাকী ১৫টা গ্রুপের জন্য … একবারে না অবশ্য … তিনবারে ভেঙ্গে ভেঙ্গে … তো তিনটা অর্ডারই ওরা ফোন দিয়ে কনফার্ম করলো, আর ডেলিভারি দিলো দুইটা অর্ডার! … গ্রুপের ১০টা আর আমার ৫টা … বাকি একটা অর্ডার কি হলো সেটা জানতে ফোন দিলাম … তারা অনেক সাত-সতেরো বোঝাতে লাগলো যে ওদের এরকম হবারই কথা না, এরকম কোনো ফোনই ওরা করেনাই … একজনকে নাকি ১০টার বেশি টিকিট ওরা দ্যায় না, আমি কিভাবে ১৫টা টিকিট পেলাম সেটা তারা কিছুতেই বুঝতে পারছে না ইত্যাদি ইত্যাদি … মোটামুটি আধাঘণ্টা কি ৪৫ মিনিটের মতো একই কথা বলে বলে ওদের বোঝানোর চেষ্টা করে গেলাম, আর ওরাও একই কথা বলতে থাকলো … একপর্যায়ে বললো, কি করবো বলেন? ‘ কি আর করবেন, বসে বসে বাল ছেঁড়েন’ বলে ফোন রেখে দিলাম! …

তো আজকে বেশ একটা ‘মেজাজ খারাপময়’ দিবস পার করলাম … বাসায় ফিরে মেজাজ ফুরফুরে করার টোটকা হিসেবে ‘কুংফু পান্ডা’ দেখলাম … তাতে যে খুব একটা লাভ হয়েছে তাও না … আগামীকালকের দিনটার কথা মাথায় আসলেই আবার মেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছে … ঠিক একবছর আগেই ৫ জুলাই দিনটা একটা মেজাজ খারাপ করা দিন ছিলো … আগামীকালকের দিনযাপনে নিশ্চয়ই সেটা নিয়ে লিখবো … অ্যাজ বিস্তারিত অ্যাজ পসিবল …

ক্যামন জানি একটা ভ্যাপসা গরম … দুইদিন ধরে একটু বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব হচ্ছে না … বৃষ্টি হবার দরকার নেই … খালি আকাশ কালো করে মেঘ করে, বাতাস বয়ে পিচগলা গরমটাকে একটু কমালেই তো হয়! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s