দিনযাপন | ০৮০৭২০১৫

গতকালকে বাসায় ফিরে এমনই কাহিল হয়ে ছিলাম আর জ্বর জ্বর লাগছিলো যে ঘুমিয়েই গেছি। অথচ কালকে যদি দিনযাপন লিখতাম, তাহলে কি এক্সাইটমেন্ট নিয়েই না লিখতাম!

এত আনন্দ নিয়ে বাসায় ফিরেছি কালকে! ভাবছিলাম যে দিনযাপনে কিভাবে প্রকাশ করবো সেই আনন্দ! ক্যামন একটা কি লিখবো ! কি লিখবো! টাইপ ভাব ছিলো মনে! …

গতকালকে ইনস্ট্যান্ট এক্সাইটমেন্ট-টা আজকে নাই … ভালো লাগাড় অনুভূতিতে সেটা থিতু হয়েছে, আর দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতির ভাণ্ডারে জমা হয়েছে জ্বলজ্বল করতে করতে … ইনসাইড আউট -সিনেমা’র মতো, ‘কোর মেমোরি’ হিসেবেও জমা হয়ে যেতে পারে! …

গতকালকে যে গুপী গাইন বাঘা বাইন নাটকের শো ছিলো, তাতে তো অমিত-ও অভিনয় করেছে। প্রাচ্যনাটের স্কুলে ও কোর্স করছে, সেটা আগেই এক-দুইবার মনে হয় দিনযাপনে লিখেছিলাম প্রসঙ্গক্রমে … তো কালকের নাটকে সে ‘হাল্লার রাজা’র অভিনয় করলো … আমিও এই নাটকে কস্টিউম করেছি … ফলে এমনিতেই আমার মধ্যে একটা এক্সাইটমেন্ট ছিলো যে কতদিন পর দুই ভাই-বোন একসাথে একটা কাজে আছি! …

[থিয়েটার -এর কাজের কথা যদি বলি, তাহলে তো সেই বহু বছর আগে, ১৯৯৬ সালের দিকে আমরা যখন থিয়েটার সেন্টারের একটা প্রোগ্রামে ‘স্বপ্নলোকের চাবি’ নামের একটা নাটকে অভিনয় করেছিলাম, সেটার কথা বলা যায় । ডেনমার্ক থেকেই মনে হয় কারা যেন এসেছিলো, তাদের জন্য একটা প্রোগ্রাম হয়েছিলো … শহিদুল আলম সাচ্চুকেই তখন কেবল চিনতাম টিভি নাটকের কল্যাণে আর উনিই ছিলেন এই নাটকটার ডিরেক্টর। সেইটাই একটা এক্সাইটিং বিষয় ছিলো যে একজন জনপ্রিয় লোকের সাথে কাজ করছি। অনেক বছর পরে প্রাচ্যনাটে জয়েন করার পর আবিষ্কার করেছি যে ওই সময়কার অনেকেই এখন আশপাশে পরিচিতজন ! লুসি আপুর সাথে মায়ের মুখের সুবাদে কাজ হলো।  রঞ্জনা আন্টির বন্ধু হিসেবে ক্যামেলিয়া আন্টি’র সাথে নতুন করে পরিচয় হলো, পরে একসময় আবিষ্কার করলাম যে উনিই সম্ভবত ওইসময় থিয়েটার সেন্টারে ছিলেন। যদিও উনাকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি! … শতাব্দী দা তো প্রাচ্যনাটেরই সিনিয়র, তবে ওই স্বপ্নলোকের চাবি প্রডাকশনের সময় উনি থিয়েটার সেন্টারে ছিলেন কি না, সেটাও জিজ্ঞেস করা হয়নি কখনো!] …

তো, যাই হোক, ওই এক্সাইটমেন্ট-টাই তো আমার জন্য অনেক বেশি ছিলো । যখন ওদের সার্টিফিকেট দিয়ে প্রথম স্থান অধিকারী হিসেবে অমিতের নাম বললো, তখনকার অনুভূতিটা প্রকাশ করা কঠিন! একেবারেই অপ্রস্তুত একটা আনন্দের অনুভূতি! আমার আসলে কি করা উচিত, কি বলা উচিত আমি বুঝতে পারছিলাম না! ক্যামন জানি কান্না কান্না পেয়ে গেলো! গলায় ঠেকিয়ে রাখলাম, ঢোক গিলে গিলে কান্নাটাকে আটকালাম। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো এইটা যেন একটা সিনেমার দৃশ্য! সিনেমাতেই তো এরকম হয় ! কাহিনীটা যদি এভাবে লেখা হয় যে নায়িকার ভাই তারই নাটকের দলে স্কুলিং করেছে, সেখানে এটা-সেটা ঘটেছে, তারপর সিনেমার শেষে প্রটাগনিস্ট-এরই জয় হবার ফর্মুলায় নায়কের ভাই প্রথম পুরস্কার পেয়ে গেছে! সিনেমার শুভ সমাপ্তির জন্য তো স্ক্রিপ্ট এভাবেই লেখা হয়! … তাই বলে বাস্তবটা যে সিনেমার চেয়েও সিনেমাটিক হয়ে যাবে আর অমিতই প্রাচ্যনাটে স্কুলিং করতে এসে ফার্স্ট হয়ে যাবে এটা সত্যিই আনেক্সপক্টেড ছিলো! … ভাবতেই ক্যামন লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছিলো শরীরের! … আগের দিনও রাতে একসাথে বসে ভাত খেতে খেতে আমরা আলোচনা করছিলাম কে ফার্স্ট হতে পারে ওদের ব্যাচে … ওর নিজের কথা তো ওর মাথায় আসেই নাই, আমার মাথায়ও আসে নাই … আমরা ভাবছিলাম মাহফুজের কথা … আর দুই-একজনের নামও আসলো … অথচ, প্রথম স্থানের নামটা আমার ভাইয়েরই আসলো! …

এর আগে একবার অমিত প্রাচ্যনাটের ফর্ম নিয়েও ভর্তি হয় নাই … ২৪ কি ২৫ তম ব্যাচে মনে হয়! … তারপর এইবার ২৮তম ব্যাচে ভর্তি হলো … ফর্ম নেয়া থেকে শুরু করে ভাইভা দেয়া, ভর্তি হওয়া সব নিজেই করলো … আমার মনে হয়েছিলো ও কন্টিনিউ করবে না … ফলে এইটা আমার জন্য একটা অবাক হওয়ার বিষয় ছিলো যে ও আসলে অনেক মজা পেয়েছে, আর পুরো কোর্সটা কমপ্লিট-ও করেছে … এমনকি ফাইনাল প্রডাকশনের রিহার্সাল শুরু হবারও বেশ কিছুদিন আগে নিজে থেকেই বলেছে গ্রুপে জয়েন করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার! … কালকে তো বুঝলাম যে শুধু আগ্রহ না, হি ইজ অলরেডি ইনটু থিয়েটার! …

কি আর বলবো! আমার আসলে এখন বেশ খুশিতে ডগমগ অবস্থা! …

সবসময়ই আমার একটা দুঃখের জায়গা ছিলো যে কত কত ভাই-বোনেরা একসাথে গান-বাজনা করে, সিনেমা করে, এটা করে, ওটা করে, সিনেমা দেখে, খাইতে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি আর আমরা দুই ভাই-বোন দেখা হলে ‘হাই’ আর ‘বাই’ ছাড়া তেমন কথা বলি না … আর ফেসবুকে একজন আরেকজনের খবরাখবর পাই! … গত ক’দিনেই আমার এই দুঃখ অনেক কমে গেছে … সারাজীবন খুশি হয়ে থাকার মতো ভালো ভালো কয়েকটা স্মৃতি জমা হয়ে গেছে আমার … আর কি লাগে!

আজকে সারাদিনের কথা একটু লিখি … এমনিতেই গত কয়েকদিনের পরিশ্রমের ধাক্কা শেষ হবার সাথে সাথেই শরীর ছেড়ে দিয়েছে, তার মধ্যে আজকে সকাল ৮টা সময় উঠে ফ্রেশ-টেশ হয়ে আমি আর মা মিরপুর গেলাম। কাঠমিস্ত্রি আজকে ওখানে কাজ করবে, সেজন্য। আমরা সিএনজি দিয়ে চলে গেলাম ১০টার মধ্যে … আর কাঠমিস্ত্রি মিরপুরের এই গলি ওই গলি ঘুরে ঘুরে জ্যাম পার করে পৌছালো যখন তখন অলরেডি ১টা বাজে! … ওই তিন ঘণ্টা বেহুদাই বসে থাকতে থাকতে পুরাই বিরক্ত আর ক্লান্ত হয়ে গেলাম … কাঠমিস্ত্রি যখন কাজ করলো, তখনো তো করার কিছু নাই … ওই বিরক্ত হয়ে বসেই রইলাম … বাসায় একটা টুল ছিলো, সেটা নিয়ে যাওয়া হয়েছে মিরপুর। ওটাতে সোফার গদি দিয়ে বিছানা বানায় কতক্ষণ শুয়ে ঘুমালাম। একবার ক্ষিদা লাগলো বলে দুইতলায় বিবির কাছে গিয়ে অল্প ফিরনি আর চানাচুর খেয়ে আসলাম … পরে আবার মা বের হয়ে চিপস, বিস্কিট এগুলা নিয়ে আসছিলো, ওগুলা খাওয়া হলো অল্পস্বল্প … এইসব যাবতীয় কাহিনীর মধ্যে থাকতে থাকতে পুরাই ক্লান্ত হয়ে গেলাম। সন্ধ্যায় মিস্ত্রিরা আজকের মতো কাজ শেষ করে চলে গেলো, আমি আর মা টিয়ামের বাসায় রওনা দিলাম ইফতার করবো বলে। পৌঁছতে পৌঁছতেই মাগরিবের আযান দিয়ে দিলো, মা রোযা ছিলো, সে আবার রাস্তাতেই দুই ঢোক পানি খেয়ে রোযা ভাঙ্গলো … পুরাই বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা আজকে! … আমার প্ল্যান ছিলো যে সন্ধ্যার আগে আগে কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়ে গ্রুপের দিকে রওনা দিয়ে দিবো, কারণ কস্টিউমগুলো গুছাতে হবে, কালকের নাটকের জন্য পাশের দোকান থেকে একটা শেরওয়ানি ভাড়া এনেছিলাম, সেটা ফেরত দিতে হবে। কিন্তু ৮টা সময় মিরপুর থই রওনা দিলে গ্রুপে যেতে যেতে প্রায় সাড়ে ৯টা বাজবে। তখন আর গিয়েই লাভ কি হবে! এমনিতেই আজকে নিশ্চয়ই খুব বেশি মানুষজন আসে নাই! সাড়ে সাতটার একটু পর রানার সাথে একটা কাজে কথা হচ্ছিলো, ও বললো তখন মাত্র গোপী, রানা আর রনি আছে গ্রুপে! … এদিকে আমার আবার দশটার মধ্যে রুবেল ভাইয়ের একটা কাজ করে দেবার কথা। সবমিলিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলাম …

তাতে একটা ভালো হলো … আজকে অন্য দিনের তুলনায় রাতের ক্লান্তিটা কম! … দশটার ভেতরে বাসায় চলে আসলে কেন জানি ক্লান্ত লাগে না … অথচ ১১টা বেজে গেলেই মনে হয় যে অনেক রাত করে ফেললাম, আর প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগতে থাকে!

যথেষ্ট লিখেছি আজকে … আর কিছু লেখার ইচ্ছা করছে না এই মুহুর্তে … ঘুম ঘুমও লাগছে … সকাল সকাল উঠে বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে, বিবিসি’র অফিসে যেতে হবে, ব্যাংকে যেতে হবে … অনেক কাজ … গুলশান যাবো, ধানমণ্ডি ২৭ নাম্বার যাবো … সন্ধ্যায় আবার গ্রুপে যেতে হবে … কালকে সারাদিনে বৃষ্টি না হলেই হয় …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s