দিনযাপন | ১৫০৭২০১৫

প্রায় কুফা একটা দিন কাটিয়ে বাসায় ফিরে এখন অপেক্ষা করছি যে জ্বরটা বুঝি এসেই যাবে … মাথা অলরেডি ভার হয়ে গেছে … চোখ জ্বলছে … জ্বর আসি আসি ভাব …

দুইদিন কাঠফাটা রোদ আর অসহ্য গরমের পড় গতকাল সন্ধ্যায় যখন বৃষ্টি নামলো, তখন ভালোই লাগলো যে ‘যাক! দুনিয়া ঠাণ্ডা!’ … কিন্তু সেই বৃষ্টি যখন আজকে সারাদিনের জন্য শিডিউল করে নিলো, তখন আর ভালো লাগলো না … সকালে ১১ঃ৩০-এ ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের ধানমণ্ডি অফিসে ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের শিডিউল , আর সকাল থেকে ঝুম বৃষ্টি … এই বৃষ্টির মধ্যেই বের হয়ে ধানমণ্ডি ৪ নম্বর গিয়ে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ফটোকপি করালাম, তারপর হাই কমিশনের অফিসে গিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইলাম বাইরে … হাতে ছাতা, কিন্তু বৃষ্টির ছটায় ছাতা থেকেও কোনো লাভ হচ্ছিলো না … ব্যাগ বাঁচাতে গেলে নিজে ভিজে যাই, নিজেকে বাঁচাতে গেলে ব্যাগ ভিজে যায় … বিশ্রী অবস্থা … এর মধ্যেই অর্ধেক ভেজা হয়ে ভেতরে ঢুকলাম, সেখানে আবার টোকেন নিয়ে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো … এর মধ্যেই আবিষ্কার করলাম যে ব্যাংক স্টেটমেন্ট-এর কাগজ নেই নাই … কেন জানি এটা মাথাতেই কাজ করে নাই আজকে সকাল পর্যন্ত … এতবার মনে করার চেষ্টা করলাম গতকালকে সারাদিনে যে কি কি কাগজ লাগে, ব্যাংক স্টেটমেন্ট-এর কাগজটার কথা কোনোভাবেই মাথায় আসলো না … গতকালকে ব্যাংকেও গেছি টাকা তুলতে! কাগজটা নিয়েই নিতে পারতাম! … মনেই হলো যে ভিসার অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট করে দেবে … ভাবলাম যে ৬০০ টাকা ভিসা ফি দিয়ে আর কি করবো, তারচেয়ে চলে যাই … আবার মনে হলো যে ৩০০০টাকা ই-টোকেন-এর ডেট পাওয়ার জন্য এজেন্ট-কে দিয়েছি, শেষ পর্যন্ত গিয়ে দেখি কি হয়, নইলে তো শুধু শুধু এতগুলা টাকা খরচ করেছি এরকম আফসোস থেকে যাবে … তো শেষ পর্যন্ত অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট করলোই … কারণ না আছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, না ডলার এন্ডোর্সমেন্ট … কি আর করবো! আক্কেল সেলামি তো দিতেই হবে! … ওইদিন তিন্নি আপুর ভিসা রিজেক্টেড হয়েছে, তাই বের হয়ে মন হাল্কা করার জন্য তিন্নি আপুর সাথেই কতক্ষণ কথাবার্তা বললাম যে দ্যাখো, তোমার কুফা আমার গায়েও লাগসে, আমাকেও ভিসা অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট করে দিসে … চলো, এইটার একটা ‘কি আছে জীবনে’ টাইপ সেলিব্রেট করি …

যাই হোক, ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের ওখানে দুই – তিনবার এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে যাওয়া-আসা করতে হয়েছে বৃষ্টির মধ্যে … তাতে ভিজেছি … সেই ভেজা শরীর নিয়ে আবার অনেকক্ষণ বসে থেকেছি … এইসব করতে করতে এমনিতেই কেমন গা ম্যাজম্যাজ ভাব শুরু হলো দুপুরে বাসায় ফেরার পর …

বিকালে বৃষ্টি থামলো, শিল্পকলায় গেলাম গ্লোব থিয়েটারের ‘হ্যামলেট’ নাটকের শো দেখবো বলে … সেখানে একে তো সবার টিকিট আমার কাছে, সেটা আবার লাইনে ঢোকার সময় কিভাবে চেক করবে সেটাও জানিনা, তাই সব টিকিট নিয়ে বসেই রইলাম … বিকালে কিছু খাওয়াও হলো না   কারণ ভাবলাম যে এখন কোথাও খেতে যাবো, আর সাথে সাথেই হয়তো সবাইকে ভেতরে ঢোকাতে শুরু করবে … তারওপর যখন নাটক দেখবো বলে হলে ঢুকে বসলাম, তখন এসি’র বাতাসে মনে হলো যে লন্ডনে বসে লন্ডনের নাটক দেখবো সেরকম ব্যবস্থা করেছে বোধহয়! শিল্পকলার এসি নষ্ট ছিলো বলে জানতাম, হয়তো এই শো-এর জন্য ঠিক করেছে … কিন্তু তাই বলে এত ঠাণ্ডা বাতাস যে হাড়শুদ্ধ কাঁপিয়ে দেবে! … ওড়নাকে চাদরের মতো মুড়িয়ে বসে বসে নাটক দেখতে হলো কিছুক্ষণ পর … তাতে যে খুব একটা লাভ হলো তা-ও না … মাথা ব্যথায় মনে হচ্ছিলো যে আর বসে থাকতে পারবো না … হল থেকে বের হতে হতেই নাক খুসখুস আর চোখ জ্বলা শুরু করেছে …

যাই হোক, টিকিট নিয়ে খুব বিরক্তিকর একটা অভিজ্ঞতা হলো … অনলাইনে এই নাটকের টিকিট পাওয়া যাচ্ছিলো … আমি একদিন নিজের জন্য টিকিট কাটতে বসে কি মনে করে গ্রুপের জন্যও ১০টার মতো টিকিট অর্ডার দিয়ে রেখেছিলাম। সেই সময় কেউই টিকিটের ব্যাপারে, এমনকি এই নাটকের ব্যাপারেই কোনো গরজই করে নাই, এমনকি বেশিরভাগ মানুষ জানতোই না যে এই নাটক হচ্ছে … আমি এই চিন্তা করে ওই টিকিটগুলা অর্ডার করেছিলাম যে রানা, ফুয়াদ, গোপী, নোবেল ভাই, নায়িমী এরকম আমরা যারা যারা একসাথে চা খাই, আড্ডা দেই আমরা আমরা তাইলে নাটক দেখতে পারবো … এদিকে প্রেস কনফারেন্স হলো, পেপারে এলো যে অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে, তখন সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়লো নাটক দেখবে বলে … সেদিনও আরো ১০টার মতো টিকিট আমি অর্ডার করে রাখলাম … শেষমেষ একদিনেই তো নাকি সব টিকিট শেষ হয়ে গেলো … তাই আর অর্ডারও করা গেলো না … আর এতগুলা টিকিটের মধ্যে ওরা ডেলিভারি দিলো ১৫টা টিকিট … ৫টা আমার, ১০টা গ্রুপের জন্য অর্ডার করা … শেষমেষ যেটা হলো যে যেহেতু আগেই ইমন ভাই, ফরহাদ ভাইরা বলে ফেলেছে যে টিকিট অর্ডার দেয়ার জন্য তাদের হিসেব করে, ওই ১০টা টিকিট আর রানা, ফুয়াদ এদের জন্য রাখা গেলো না, ওখান থেকেই ইমন ভাইদের দিয়ে দিলাম, আর নিজের থেকে আরো তিনটা … এদিকে গ্রুপে মোটামুটি এর তার মুখে মুখে রটলো যে আমার কাছে নাকি অনেক টিকিট আছে, কারো লাগলে দিতে পারবো! … যে কোনোদিন ফোন করে ভালো আছি কি না সেটাও জিজ্ঞেস করে না, সে পর্যন্ত ফোন করে বলে ‘ প্রজ্ঞা, তোমার কাছে নাকি হ্যামলেট-এর টিকিট আছে? আমাকে একটা দেয়া যাবে?’ … আবার কেউ হয়তো বলসিলো টিকিট রাখার জন্য, কিন্তু অর্ধেক টিকিটই যেহেতু হাতে পাইনাই, তাই দিতেও পারি নাই , তারা আবার দেখলেই বলে ‘ প্রজ্ঞা, টিকিট দিলা না তুমি!’ … এমনকি সন্ধ্যায় যখন লাইনে দাঁড়িয়ে হোলে ঢুকছি, তখন পর্যন্ত একজন ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে টিকিট হবে কি না! … পুরাই বিরক্ত হয়ে গেলাম একেকজনের আচরণে … এমন একটা ভাব যে আমি এইটার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট-এ আছি, টিকিট-ও আমারই দায়িত্বে বিক্রি হচ্ছে! …আমি যদি নিজে গরজ করে ১০টা টিকিট অর্ডার করে না রাখতাম, তাহলে তো ওগুলাও পাওয়া যেতো না আর তখন টিকিটের জন্য মাথা কুটে মরতে হতো … এমনকি একেকজন সারাদিনই ফেসবুকে অ্যাক্টিভ থাকে, অথচ ফেসবুকে গ্লোব থিয়েটারের নাটকের একটা ইভেন্ট একমাস ধরে চালু আছে সেটা নাকি কারো চোখেই পড়েনাই!

যাই হোক, এটা অবশ্য পুরানো কিছু না ! সবসময়ই এটা হয় যে একজন সবার উপকারও করবে, আবার কথাও শুনবে … আমাকে এই বিষয়টার মধ্য দিয়ে অনেক বেশিই যেতে হয় কেন জানি! … নিজের লাভ- লোকসান এইসব নিয়েও যে ভাবা যায়, সেইটা মাথায় আসার আগেই কারো কোনো একটা কাজে একেবারে নিজের উৎসাহেই ঝাঁপায় পড়ি বলেই হয়তো …

আর কিছু লেখার পাচ্ছি না … আপাতত ঘুমাই … অনেক মাথাব্যথা …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s