দিনযাপন | ২১০৭২০১৫

দিনযাপন এখন ঘরে বসে জিনিসপত্র গোছানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ … কিন্তু, জিনিসপাতি যতই গুছাই ততই মনে হতে থাকে – ‘এত জিনিস কেন?’   … এত গুছাচ্ছি, তবু শেষই হচ্ছে না … অবশ্য ২৪ বছরের ডিপোজিট কি আর একদিনে খালি করা যায়! …

তবে, এখন আসলে অবস্থাটা দাঁড়িয়েছে এমন যে জিনিসপত্র তো একের পর এক গুছিয়ে গুছিয়ে বস্তাবন্দী করছি, কিন্তু সেই বস্তাগুলো যেহেতু ট্রান্সফার হচ্ছে না, বরং ঘরের এক কোণায় স্তূপ করা হচ্ছে, সেহেতু ঘরটা ফাঁকা হয়ে গেছে এরকম মনে করা যাচ্ছে না … আর সেই কারণে ঘরের বাকি জিনিসপত্র গোছানোর উদ্যমটাও পাচ্ছি না … শুক্রবার নাকি মালপত্র সব নেয়া হবে এক দফা … তখন অবশ্য এক ধাক্কায় ঘর খালি হয়ে যাবে … আর তখন একটা ‘চলেই যাচ্ছি’ টাইপ ফিলিং কাজ করলেও করতে পারে …

গতকালকে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম … তিন্নি আপু, নাবিল, নাভিদ আর অঙ্গন, আর আমি… প্রথমে শ্যামলী সিনেমা হলে অগ্নি-টু দেখলাম … তারপর বলাকায় ‘পদ্ম পাতার জল’ … নাভিদ আর অঙ্গন অবশ্য খালি অগ্নি ২ -ই দেখলো … পরে তিন্নি আপু, নাবিল, নাবিলের বান্ধবী পরী আর আমি -এই চারজন পদ্ম পাতার জল দেখলাম … বলাকায় গিয়ে আবার নন্দী আপু আর তার হাজবেন্ড-এর সাথে দেখা … উনারাও সিনেমা দেখবেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে … পরে একসাথেই আমাদের সবার টিকিট কাটা হলো …

অগ্নি’র প্রথম সিনেমাটা আমার দেখা হয়নি … ফলে প্রথমটার যে ভালো-খারাপ এইগুলা পার্থক্য বুঝলাম না … বাংলাদেশের অ্যাকশন সিনেমা যেরকম ‘লারজার দ্যান লাইফ’ হয়, সেরকমই … ওই অনন্ত জলিলের সামঞ্জস্যহীন মার কাট কাট অ্যাকশনের মতোই … যেমন, নায়কের গুলি লাগে কলার বোন-এর নিচে, আর তারপরের শটে দেখায় হাত দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে … এইরকম আর কি!

আর পদ্ম পাতার জল সিনেমাটা নিয়ে কথাবার্তা শুনছিলাম অনেকদিন যাবৎ-ই … ডিরেক্টর নিজে মিউজিশিয়ান, তার মধ্যে পড়ালেখার ব্যাকগ্রাউন্ড-ও ভালো … ধরেই নেয়া হয়েছিলো যে সে যাই বানাক না কেন, সেটা মানের দিক থেকে একটা লেভেল মেইন্টেন করবে … সে হিসেবে সিনেমা দেখে খুবই হতাশ হলাম … বেশ কিছু ছোটোখাটো ডিটেইল এমনভাবে ইগনোর করা হয়েছে যে সেগুলাই আবার পুরো দৃশ্যকে বা কাহিনীকে হাল্কা করে ফেলেছে … বিশেষ করে কস্টিউম ডিজাইন আর আর্ট ডিরেকশন-এর জায়গাটা এতটাই গোলমেলে মনে হয়েছে যে সিনেমা দেখার সময় কাহিনীর চাইতে ওইসব দিকের খুঁতের দিকেই নজর গেছে বেশি … যেমন, এইটা হচ্ছে জমিদারী আমলের সিনেমা, যখন পর্যন্ত বৃটিশরাও টি-শার্ট কি জিনিস সেটা জানে না, সেই সময়ে নায়ক একটা ফ্রিল দেয়া আধুনিক স্ক্রিন প্রিন্টের নকশা করা টি-শার্ট পরে একটা দৃশ্যে ঘুরলো, আর নায়িকাও আরেক দৃশ্যে আধুনিক ডিজাইনের এক নাইট গাউন পরে অভিনয় করলো! …

যাই হোক, এই ঈদের ছুটিতে কালকেই যা একটু ঘোরাঘুরি হলো আর কি! … আজকে যেমন সকাল সকাল মিরপুর যাওয়ার কথা, কিন্তু ওইখানে যেই বুয়া আসার কথা ছিলো সে নাই দেখে আর যাওয়া হলো না … ফলে ঘরে বসে বসেই জিনিসপত্র গুছালাম … বিকালে সাড়ে পাঁচটার দিকে ক্লান্ত হয়ে ঘুম দিলাম … পৌনে নয়টার দিকে মেবিনের ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙলো … ও শাহবাগের দিকে যাচ্ছিলো, যাবো নাকি জিজ্ঞেস করলো … রাত নয়টা সময় বের হয়ে তাও আবার শাহবাগে কাদামাটির মধ্যে আড্ডা দিতে হবে … তারমধ্যে হঠাৎ করে যদি বৃষ্টি নামে তাইলে কোথাও আশ্রয় নেয়ারও জায়গা নাই … এইসব চিন্তা করে না বলে দিলাম …

আগেই যেমন বললাম যে দিনযাপন এখন ঘরের জিনিসপত্র গোছানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই লিখবার মতোও আসলে তেমন কিছু পাওয়া যায় না … আজকে যেমন কয়েকটা পুরানো ডাইরি খুঁজে পেয়েছি … প্রতিদিন যা যা স্বপ্ন দেখতাম, তা লিখে রাখতাম একটা ডাইরিতে … সেই ডাইরিটাও আজকে খুঁজে পেয়েছি … দেখলাম যে ২০০৪ সালের ২১ জুলাইতেও কোনো একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম … সেই স্বপ্নটা সবার সাথে শেয়ার করা যেতে পারে …

” রাতে যেই স্বপ্নটা দেখেছিলাম ওটা মনে নেই তেমন। স্কুল নিয়েই দেখেছি এটা বেশ মনে আছে। একবার সিস্টার রাণীর কাছেও গেলাম। উনাকে আবার জিজ্ঞেস করলাম HW কি CW খাতায় করে জমা দেবো নাকি । উনি কিছু না বলে বসেই রইলেন। আমিও বিরক্ত হয়ে বের হয়ে গেলাম।

ভোরবেলা দেখলাম বিজ্ঞান ক্লাস হচ্ছে। টিনাও এসে বসে আছে ক্লাসে [ টিনা যেহেতু সায়েন্স-এর স্টুডেন্ট ছিলো, আমাদের সেকশনে এসে ওর জেনারেল সায়েন্স-এর ক্লাস করার কথা না] । মিস আমার CW দেখতে দেখতে একটা অনুষ্ঠানে ইংরেজি গান গাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বললেন। আমি সাথে সাথে বললাম, ‘ মিস, আমাকে ওসব দায়িত্ব দিয়ে লাভ নেই। আপনি বরং টিনা, সারওয়াত ওদের দেন’ [স্কুলের একটা প্রোগ্রামে কি গান হবে সেটা নিয়ে টিনাদের সাথে আমার একবার ঝামেলা হয়েছিলো … সেই ঘটনা প্রেক্ষিতেই নিশ্চয়ই সারা মিসকে এরকম একটা কথা বলেছিলাম স্বপ্নে …] । বলতে বলতে সারা মিসের বদলে ওখানে জুলিয়েট মিস চলে এলেন এবং দেখলাম উনি কম্পিউটার ক্লাস নিচ্ছেন। তারপর মনে হয় আর কিছু দেখিনি … “

আজকেও বিকেলে যখন ঘুমিয়েছি তখন কি জানি স্বপ্ন দেখছিলাম … এইটুকু মনে আছে যে স্বপ্নটা দেখার সময়ই মনে হচ্ছিলো যে মনে রাখতে হবে স্বপ্নটা … কিন্তু জেগে উঠে দেখলাম যে আসলে মনে রাখি নাই …

আর কি লিখবো আজকে? … কিছুই পাচ্ছি না লেখার মতো … ‘হবিট’ মুভিটা দেখছিলাম, আপাতত সেটা দেখা শেষ করে ঘুমাই … সারাদিন ধুলাবালি ঘেঁটে কেমন নাক খুসখুস করছে …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s