দিনযাপন | ২৫০৭২০১৫ o

আজকে সন্ধ্যায় ছায়ানটে ‘রঙ্গপ্রবেশ’ বলে একটা ভরতনাট্যমের প্রোগ্রাম দেখতে গিয়েছিলাম। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অথবা নৃত্য কোনোটারই আমি খুব বোদ্ধা না, এমনকি অনেক বেসিক কিছুই জানি না … তারপরও শুনতে শুনতে শ্রোতা টাইপের একটা অবস্থা এখন আমার … আর সে কারণে যেটুকু শুনি বা দেখি, মনোযোগটা সম্পূর্ণই দেয়ার চেষ্টা করি, আর্ট অ্যাপ্রিশিয়েশনের বোধ-এর জায়গা থেকে যতটুকু পারি বোঝার চেষ্টাও করি … যাই হোক, ঘটনা সেখানে না …

ঘটনা হচ্ছে যে প্রোগ্রামটা দেখতে গিয়ে এখনকার সময়ে মানুষের কমনসেন্স-এর প্যাটার্ন কিভাবে চেঞ্জ হচ্ছে সেটা নিয়ে ব্যাপক ভাবনা-চিন্তা মাথায় আসলো … এইটা ছিলো ফ্রি পোগ্রাম, ওপেন ফর অল … তো গিয়ে দেখলাম অনেক মানুষ … সাতটা বাজবার আগেই অডিটোরিয়াম ভর্তি হয়ে গেছে … ধরে নিলাম যে লুবনা মরিয়মের নাচের স্কুলের প্রোগ্রাম, এখানে লোকজন আসবে না তো কোথায় আসবে … প্রোগ্রাম শুরু হবার পরবর্তী মোটামুটি আধাঘণ্টা লোকজন ঢুকতেই থাকলো … আর আমরাও বসেছি এমন জায়গায় যে ওখান দিয়েই মানুষজনের যাওয়া আর আসার পথ … তো, প্রোগ্রামের একঘণ্টার মতো যখন শেষ হলো তখন থেকে অডিটোরিয়ামের বিভিন্ন প্রান্ত একজন-দুইজন-তিনজন এরকম করে করে মানুষজন উঠে উঠে বের হতে শুরু করলো … একটু খেয়াল করে বুঝলাম যে এরা হচ্ছে ছায়ানটের গানের স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং তাদের গার্জিয়ান, ছায়ানটের স্টাফ ইত্যাদি ইত্যাদি… বোঝা গেলো যে ক্লাস শেষে কিংবা কাজ শেষে ‘ কি হয় দেখি তো’ টাইপের চিন্তা থেকে এখানে এসে বসেছে, রাত ৮টা বাজার পর মনে হয়েছে যে ‘যথেষ্ট দেখেছি, এখন বাড়ি যাই’ আর তারপর উঠে চলে যেতে শুরু করেছে … বারবার এদের জায়গা দিতে গিয়ে আমরা যারা পেছনের দিকে বসেছি তারা বিরক্তই হলাম … এরকম দর্শক থাকতেই পারে যে এমনি এমনিই ঘুরতে ফিরতে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য প্রোগ্রামটা দেখতে এসেছে … কিন্তু তারাই আবার সামনের দিকে গিয়ে বসেছে আর প্রোগ্রামের মাঝখানে উঠে গিয়ে সবার গায়ের ওপর দিয়ে গিয়ে গিয়ে বের হচ্ছে … এখানে যদি টিকিটের সিস্টেম থাকতো, তাহলে মনে হয় আজকের যত দর্শক ছিলো তার অর্ধেক থাকতো আর কেউ যদি ‘কি হচ্ছে দেখি তো’ টাইপ চিন্তা নিয়ে টিকিট কেটেও ঢুকতো সে টিকিটের টাকার মায়ায় হলেও পুরো প্রোগ্রাম দেখে রাত সাড়ে নয়টা সময়ই বের হতো …

এইসব যাবতীয় হাঙ্গামার মধ্যে একজনকে বাধ্য হয়ে বলেই ফেললাম যে ‘ বেরই যদি হয়ে যাবেন তাইলে এত সামনে গিয়ে বসছেন কেন?’ … নিজের মনের মধ্যে গজগজ করছিলাম যে মানুষগুলোর কমনসেন্স-এর এত অভাব কেন … তারপরেই মনে হলো যে আমিই আসলে উল্টো ভাবছি … আজকে এই ২০১৫ সালে এই অবস্থায় এসে আসলে ‘কমন সেন্স’গুলোই তো পাল্টে গেছে! এখন তো এটাই কমন সেন্স যে আমার ইচ্ছা হলো তো আমি এরকম একটা প্রোগ্রামে গিয়ে সামনের দিকে বসলাম আর মাঝখানে যখন ইচ্ছা হলো উঠে গিয়ে কেউ বিরক্ত হলো কি না হলো চিন্তা না করে তাদের গায়ের ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে বের হলাম … অডিটোরিয়ামের অর্ধেক দর্শকই যেহেতু নির্বিকারভাবে এটা করেছে তারমানে কমন সেন্সটা এখন আসলে এটাই … আর আমরা যারা ভাবছিলাম যে ‘এরকম করা তো ঠিক না, মানুষের তো ডিস্টার্ব হতে পারে’ আমাদের এই সেন্স-টাই তো এখন রেয়ার, সবার মধ্যে পাওয়া যায় না! তো যেই সেন্স-টা এখন কম সংখ্যক মানুষের মধ্যে পাওয়া যায় সেটা কি কোনোভাবে ‘কমন’ হবে সবার জন্য?

ফলে, আমরা যে কথায় কথায় বলি যে ‘কমনসেন্স ইজ ভেরি আনকমন নাও আ ডেজ’ এই কথাটা ঠিক না … কারণ কমনসেন্স তো সেটাই যেটা একটা জায়গার বেশিরভাগ মানুষ ভাবে … খালি আগে যেই সেন্স-গুলো কমন ছিলো এখন সেগুলোর জায়গায় নতুন সেন্স ‘কমন’ হয়েছে …

যাই হোক, এই হলো অবস্থা … শাস্ত্রীয় সঙ্গীত আর নৃত্য দেখতে এখন আর খালি হাইলি সোফিস্টিকেটেড মানুষজন যায় না যাদের পারফর্মেন্স-এর রস আস্বাদনের দিকেই এত মনোযোগ থাকে যে হলে একটু বাতাস বয়ে গেলেও তাদের ধ্যান ভঙ্গ হয়ে যায় বলে তারা বিরক্ত হয় … এখন মনে হয় এইধরণের প্রোগ্রামে অ্যাটেন্ড করাটাও অনেকের কাছেই একটা ‘লাইফস্টাইল’ … ‘হেই ফ্রাঙ্কস, হ্যাঙ্গিং আউট উইথ সাম ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক … সেইরকম পিনিক ম্যান!’ টাইপের ফেসবুক স্ট্যাটাস আর চেক-ইন সেলফি নভেম্বরে যে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের আসর হয় ওইখানে অনেক মানুষকেই দিতে দেখেছি … আজবই লাগে! … সবকিছু হাতের মুঠোয় আসতে আসতে এখন কত সহজলভ্য হয়ে গেছে …

তো … এই আর কি! …

আজকে সারাদিনেও ওই জিনিসপত্রই গুছিয়েছি … অবশ্য ঘুমিয়েছিই তো ভোরবেলা আর উঠেছি ১২টার দিকে … তারপর আর দিনের কতটুকুই বা বাকি থাকে? … এখনও দিনযাপন লেখা শেষ করে কিছু জিনিস নিয়ে বসবো … আগামীকালকে অবশ্য সকাল সকাল মালপত্র শিফটিং-এর জন্য গাড়ি আসবে … তখন আবার তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে মিরপুরে যেতে হবে …

ইন ফ্যাক্ট, আজকে আমার তাড়াতাড়ি ঘুমানোটা আরও জরুরি কারণ প্রচণ্ড রকমের বুক ফাঁপা টাইপ অ্যাসিডিটি হচ্ছে দুপুর থেকেই … দুপুরে রান্নাবান্নার ঝামেলা না করে মা স্টার থেকে চিকেন বিরিয়ানি নিয়ে আসছিলো … এমনিতেই দুপুরবেলা, তারমধ্যে এইসব তেলজাতীয় খাবার খেয়ে আমার ডাইরেক্ট অ্যাকশনের মতোই অ্যাসিডিটি হচ্ছে … একটু না ঘুমালে আরাম হবে না …

অতএব আপাতত ঘুমানোর পাঁয়তারা করি, সেটাই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s