দিনযাপন | ২৬০৭২০১৫

মিরপুরের বাসায় চারতলার বাসিন্দা হবার সুফল ইতিমধ্যেই একটা পেয়েছি যে চারদিকে ফাঁকা … দুইপাশে রাস্তা, আর দুইপাশে দুইটা দুইতলা বাড়ি যেগুলো সহসা বহুতল বাড়ি হবার সম্ভাবনা একেবারেই নেই … আর এই চারদিক ফাঁকা থাকার সুবাদে আমাদের বাসায় দিনের বেলা আলো-বাতাসের অভাব নেই …

আহা! বাতাস! আজকে বিকালের দিকে ক্যামন ঝড়ো বাতাস বইছিলো … আর তখন মনে হচ্ছিলো যেন পুরো বাড়িটাই উড়িয়ে নিয়ে যাবে! … জানালার কাচ, বারান্দার দরজা সব উপচিয়ে বাতাস এসে ঢুকছিলো ঘরের ভেতর … দরজাগুলো যেভাবে কাঁপে বাতাসে, মনে হয় যেন কেউ ক্রমাগত দরজা ধাক্কিয়ে চলছে বারান্দায় দাঁড়িয়ে … জানালার কাঁচগুলো মনে হয় এই বুঝি ভেঙ্গে পড়লো … আর এতসবের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আমি কল্পনা করলাম, বারান্দা আর ঘরজুড়ে যদি বিভিন্ন সাউন্ড স্কেলের উইন্ড চাইম আর ঘণ্টা লাগানো যায়, তাহলে এরকম বাতাসে কি শব্দটাই না তৈরি হবে! … টুং-টাং-টুং-টাং-ঢং… আহা! আপনা- আপনিই শব্দগুলো মাথার ভেতর বাজছে …

আজকে শরীরটা খুব ভালো লাগছে না … কোমর-পিঠ ব্যথা করছে খুব … একে তো বৃষ্টি, তার মধ্যে আজকে আবার মিরপুরের বাসায় বুয়াকে দিয়ে ফ্লোর ঘষিয়ে ঘষিয়ে পরিষ্কার করাতে গিয়ে নিজেও উৎসাহের চোটে কিছু ঘষাঘষি করেছি … আর তাতে করেই অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে … এখন আবার বসেছি পেট-এ চাপ দিয়ে … ফলে মেরুদণ্ডও চাপ খাচ্ছে … বসে থাকতে পারছি না মোটেই … এইটুকু লিখতে লিখতেই দুইবার   লম্বা হয়ে শুয়ে রেস্ট নিয়েছি …

এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলে ৩০ তারিখ সেন্ট্রাল রোডের বাসা ছাড়বো আমরা … কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে ওই বাসায় জিনিসপত্র ডাম্প করতে করতে এখন এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে এক দফা কিছু জিনিস না গুছিয়ে আর বাকি জিনিস নিয়ে রাখা যাবে না … আজকে বড় ঘরটা পরিষ্কার করিয়ে ওখানকার যেসব ফার্নিচার থাকবে সেগুলো মোটামুটি জায়গামতো রেখে এসেছি … নেক্সট দিন, মানে পরশু যখন যাবো আরও কিছু মালামাল নিয়ে, তখন অন্তত বই আর কাপড়চোপড়-এর বস্তাগুলো যতটা সম্ভব খালি করে আসতে হবে … ঘরের ৭০ শতাংশ বস্তাতেই বই … সবচেয়ে বেশি আব্বুর, তারপর আমার, তারপর মা আর অমিতের … যাবতীয় বইপত্রের একটা ব্যবস্থা না করলে ওসব জায়গায় আর নতুন কিছুও রাখা যাবে না …

আর এই বাসাতেও যতই জিনিসপত্র নেয়া হচ্ছে, ততই যেন আরও জিনিস বাড়ছে! গুছিয়ে শেষই করতে পারছি না … আসলে সমস্যা হলো যে এখন খাট, সোফা আর দুইটা স্টিলের আলমারি বাদে আর বাকি সবই খুচরা জিনিস … কাগজপত্র, ইন্সট্রুমেন্ট, ব্যাগ এইসব আর কি! … তো এইসব খুচরা খুচরা জিনিসপত্র গোছাতে বসলেই মনে হচ্ছে যে এগুলো মনে হয় এই জীবনে গুছিয়ে শেষ করতে পারবো না! …

আজকে খুব খারাপ লাগছে … এখন আবার মাথা ব্যথাও শুরু হয়েছে … আজকের মতো লেখা শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ি, সে-ই ভালো …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s