দিনযাপন | ২৯০৭২০১৫

IMG_20150730_011831সেন্ট্রাল রোডের ৬৭/বি, তালুকদার ভবন-এর যে বাসায় আমরা থাকি, ১৯৯২ এর ডিসেম্বর মাসে এখানে আমরা এসেছিলাম … আর আগামীকাল ৩০ জুলাই ২০১৫ তারিখে প্রায় ২৪ বছর পার করে আমরা এই বাসা ছাড়তে যাচ্ছি … অবশেষে …

অবশেষেই বলবো … কারণ এই বাসা ছাড়বো এমন একটা প্রস্তুতি আমাদের মানসিকভাবে শুরু হয়েছিলো আরও ৬ বছর আগেই … তখন মাত্রই সিদ্ধান্ত হলো যে দাদু’র মালিকানার দুইতলা বাড়ি ভেঙ্গে তার উইল অনুযায়ী অ্যাপার্টমেন্ট হবে … তারপর বাড়ির কাজ শুরুও হলো … আর তারপর গত আড়াই/ তিন বছর কাটলো করে বাড়ির কাজ শেষ হবে সেই অপেক্ষায় … এই বছরের মে মাসের শেষে এসে যখন একটা-দুইটা করে জিনিসপত্রের শিফটিং শুরু হলো, তখন আসলে সত্যিকার অর্থে মনে হলো যে বাড়ি ছাড়ছি … তাই বললাম অবশেষে …

এই বাড়ির প্রতিটা দেয়ালে দেয়ালে, কোণায় কোণায় স্মৃতি জমে টইটম্বুর হয়ে আছে … ভালো স্মৃতি, খারাপ স্মৃতি, সুখের স্মৃতি, আনন্দের স্মৃতি, রঙ্গিন স্মৃতি, সাদা-কালো স্মৃতি … কতরকমের স্মৃতিকে পেছনে রেখে যাচ্ছি …

চলে যাচ্ছি বলে কোনো আহামরি খারাপ লাগা আসলে কাজ করছে না এই মুহুর্তে … জানি, কাল যখন সকালবেলা শেষবারের মতো বের হবো, তখন একধরণের খারাপ লাগা কাজ করবে … অভ্যাসবশত আমি ঘরের সব কোণার ছবি তুলবো … সেগুলো থেকে একটা কি দুইটা ইন্সটাগ্রাম করবো, ফেসবুকে দেবো … তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শেষবারের মতো ঘরের দিকে তাকিয়ে তালা মেরে বের হয়ে যাবো …

এই বিল্ডিং-এ যে আমার আর আসা হবে না, সেটা অবশ্য না … ভায়োলিনের ক্লাস করতে তো প্রতি মঙ্গলবার পাঁচতলায় আসাই হবে … কোনো একদিন হয়তো ইচ্ছা করে চারতলার এই বাসায় ঢুকে দেখে যাবো নতুন ভাড়াটিয়ারা কিভাবে থাকে … জানালার কাঁচে যে স্প্রে পেইন্ট দিয়ে বড় করে ‘আই ওয়াজ হেয়ার’ লিখে রেখে যাচ্ছি, সেটাকে তারা কি করেছে … ঘরের রঙটা এখন ক্যামন … বাথরুমগুলো আর রান্নাঘর কি পুরানো, ময়লা, ভঙ্গুর মোজাইকেরই আছে নাকি কিছু ঠিকঠাক করা হয়েছে … ইত্যাদি ইত্যাদি …

ঘরের টুকটাক কাগজপত্র, এটা-সেটা কিছু জিনিস এখনো গোছানো বাকি … সকালে উঠে ওগুলো গোছানো শেষ করতে হবে …

আর, মিরপুরের বাসায় যে এইসব জিনিস গোছাতে আদৌ কত হাজার বছর লাগবে সেটা খোদাই মালুম … আমার বই আর কাপড়চোপড় গোছাতেই তো এক মাস লেগে যাবে মনে হচ্ছে …

কালকে গিয়ে কোথায় বসবো, কোথায় শোবো তারই এখনো ঠিক নাই … আলমারি, সোফা এইগুলা নাকি সব বার্ণিশ করবে, রঙ করবে তারপর গোছাবে … বড় বড় জিনিস তো কতগুলা এখনো বাড়ির গ্যারেজেই রেখে দিয়েছে … কবে মিস্ত্রি আসবে, কবে এগুলার রঙ-বার্ণিশ হবে, তারপর তুলবে … খাট লাগানোর জন্যও সময় লাগবে, নতুন ম্যাট্রেস কিনতেও অন্তত দেড়/দুই সপ্তাহ … বেশি বেগতিক দেখলে আমার তবু টিয়ামের বাসায় গিয়ে রাতে ঘুমানোর অপশন আছে … অমিত না হয় পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত হলেই থাকবে … মা আর আব্বু ক্যামনে কি করবে কে জানে! …

মিরপুর চলে যাচ্ছি, তাও আবার ধানমণ্ডির মতো একটা সেন্ট্রাল জোন ছেড়ে, এইটা শুনলেই সবাই আৎকে উঠে – ‘ মিরপুর! এতদূর! ক্যামনে কি!’ … আমিও যখন ভাবি যে মিরপুর চলে যাচ্ছি, তাও আবার ধানমণ্ডির মতো সেন্ট্রাল জোন ছেড়ে, আমিও আৎকে উঠি – ‘ মিরপুর! এতদূর! ক্যামনে কি!’ … আমি যেহেতু লোকাল বাসে চড়ি না, সেহেতু মিরপুর থেকে প্রতিদিন এদিকে আসাটা সময়ের চাইতে আর্থিক খাতের সাপেক্ষেই প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে … প্রতিদিন তো আর ৪০০ টাকা খরচ করে মিরপুর থেকে কাঁটাবন যাওয়া আসা সম্ভব না ! …

তবে, যেটাই যেভাবে হোক না কেন … আপাতত ঘুমানোটাই কর্তব্য … সকাল সাতটার মধ্যে উঠে আবার বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়া শুরু করতে হবে …

এই বাড়িতে শেষবারের মতো একটু ঘুমিয়ে নেই … আর কি! …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s