দিনযাপন| ৩০০৭২০১৫

আজকের দিনযাপন লিখছি মিরপুরের বাড়িতে বসে … বাইরে প্রচুর বাতাস … ‘কোমেন’ -এর ছিটেফোঁটা ঢাকা শহরেও বুঝি আসলো … বাতাসের চোটে জানালার কাচসুদ্ধ কাঁপছে … আর বাতাস আসলেই পাশের বাথরুমটায় কেন জানি একটা সাইরেনের মতো আওয়াজ হয় … সম্ভবত পাইপের ভেতর থেকে আওয়াজ আসে … সারারাত এইরকম বাতাস হলে, আর দুনিয়াদারী এরকম কাঁপলে আর এরকম সাইরেন বাজলে  ঘুমাবো ক্যামনে কে জানে!

যাই হোক, জীবনযাপন, দিনযাপন সবকিছুই এখন অনেক নতুন … নতুন এলাকা, নতুন বাড়ি, নতুন বাথরুম, নতুন তোয়ালে, নতুন ফ্যান, নতুন লাইট … নতুন নতুন অভ্যাসও নিশ্চয়ই একটু একটু করে তৈরি হয়ে যাবে … এই যেমন আমি নিজেই আজকে কত বছর পর রাতে গোসল করলাম … তাও আবার নিজের বাথরুমে … এখনও পর্যন্ত আমার নিজের রুম নাই, কিন্তু একান্তই নিজের একটা বাথরুম আছে! তা-ই বা কম কি? … নতুন বাসায় এসে তাই সবচেয়ে আগে গুছিয়েছি আমার বাথরুম … দেখেই ভালো লাগছে … একেবারে চোখের আর মনের শান্তিতে একাকার অবস্থা …

বাথরুম নিয়েই কতগুলা কথা লিখে ফেললাম … ফুয়াদের মতো অবস্থা হয়ে গ্যালো দেখি আমার! ফুয়াদ যেমন কথায় কথায় খালি হাগু-মুতু এইসব বলে, আমিও দেখি এক বাথরুম নিয়েই বিশাল বয়ান দেয়া শুরু করেছি …

তারচেয়ে বরং আজকের সারাদিনের কিচ্ছা-কাহিনী বলি …

সকাল থেকে বেশ একটা বাড়ি বদল বাড়ি বদল ভাবসাব চলে আসলো সবার মধ্যে … ঘরের জিনিসপত্র একটা একটা করে খালি হয়ে যাচ্ছে, আর মনে হচ্ছে যে এই তো, চলেই যাচ্ছি … ১২টার দিকে এক লোক এসে যখন ঘরের সব ফ্যান খুলে দিয়ে গ্যালো, তখন অসহায় হয়ে গরম সহ্য করতে লাগলাম … এর মধ্যে দেখা গ্যালো যে ক্ষুধা লেগেছে কিন্তু ঘরে কোনো খাবার নাই … এমনকি বিস্কিটের টিনশুদ্ধা মিরপুর পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে … এনামুলকে ফোন করে চিপস, বিস্কিট, কোক এসব আনানো হলো … দুপুরে খাবো কি? … প্রাথমিকভাবে তো পরিকল্পনা ছিলো যে দুপুরের মধ্যেই সব মালামাল চলে যাবে, আর আমি টিয়ামের বাসায় গিয়ে নিজে খেয়ে মা আর আব্বুর জন্যও খাবার নিয়ে মিরপুরের বাসায় আসবো … কিন্তু মালামাল নিয়ে প্রথম ট্রিপের গাড়িই তো ফিরলো বেলা ৩টায় …নিতান্তই আলসেমি করে দিন কাটছে, তার মধ্যে গরম … বাইরে একটু বাতাস খাওয়ার উছিলায় খাবার কিনতে চলে গেলাম … তো, যাই হোক, বেলা সাড়ে চারটার একটু পরে অবশেষে আমাদের ফাইনাল জার্নির প্রক্রিয়া শুরু হলো … সেইসময় ক্যামন জানি লাগছিলো … ২৪ বছর থেকেছি যেই বাড়িতে, স্বেই বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছি টাইপ একটা বিষণ্ণতা কিছুক্ষণের জন্য ভর করলো … সেই বিষণ্ণতাকে ভর করে ৫টার দিকে আমরা রওনা হলাম … আব্বু এক পিক-আপের সাথে, মা আরেক পিক-আপের সাথে আর আমি ল্যাপটপের ব্যাগ, ভায়োলিন আর গিটার নিয়ে সিএনজি-তে … আব্বুরা সরাসরি আসলো মিরপুরের বাসায়, আর আমি টিয়ামের বাসায় গিয়ে খেয়ে-দেয়ে-গোসল করে-বিশ্রাম নিয়ে তারপর রাতে ৯টার দিকে আসলাম … একে রাত হয়ে গেছে, তারওপর আমার কাছে অনেকগুলা ব্যাগ, তাই সাথে আবার খালুও আসলো … আমাকে পৌঁছে দেয়াও হলো, বাসাটাও চিনে যাওয়া হলো …

সকাল থেকেই অলস সময় পার করতে করতে ভাবছিলাম যে মিরপুরে থাকার সুবিধা-অসুবিধাগুলো কি কি হতে পারে? … সবচেয়ে বড় আসুবিধা তো এটাই যে অনেক কিছু থেকেই আউটকাস্ট হয়ে যাবো … চাইলেই এখন প্রতিদিনের মতো হুদাই আড্ডা মারার জন্য হলেও গ্রুপে চলে যাওয়া হবে না … ইনফ্যাক্ট, শুধু গ্রুপ না, এতদিনের তৈরি হওয়া যাবতীয় ধানমন্ডিবেষ্টিত সার্কেল আর যাওয়া-আসার জায়গাগুলোর সাথে একটা বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়ে যাবে … আর এই অসুবিধার পেছনে যেই অসুবিধাটা মূল কারণ সেটা হচ্ছে ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম … একে তো ভালো বাস নাই, দ্বিতীয়ত এমন কুত্তামার্কা জ্যাম থাকে যে মনে হয় মিরপুর থেকে ধানমন্ডি না, ঢাকার বাইরে দূরে কোথাও যাচ্ছি …

তবে, তারপর ভেবে দেখলাম যে এইটুকু অসুবিধার চাইতে সুবিধার জায়গাই বেশি … মিরপুরে মোটামুটি জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই আছে …[ একটা-দুইটা জিনিস নাই … যেমন, বইয়ের দোকান, কিংবা কফি-শপ … বইয়ের দোকান যে একেবারে পাঠক সমাবেশের মতো হতে হবে তা না, জ্ঞানকোষের মতো হলেও হয় … আড় কফি শপটাও না হয় নর্থ এন্ড বা কফি ওয়ার্ল্ডের মতো না হোক, বারিস্তা কিংবা ব্রেড অ্যান্ড বিয়ন্ডের মতো হলো! … ] … আর কি সুবিধা? … মিরপুর এলাকায় প্রচুর আত্মীয়-স্বজন থাকে … আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট-এর দুইতলায় বিবি, সামনের একটা গলি পরে কেয়া ফুপি আর ১০ নম্বরে টিয়াম … বিবি আর ফুপিকে হয়তো মক্কার লোক হজ্ব পায়না ক্যাটাগরিতে যখন তখন পাশে পাওয়া যাবে না, কিন্তু টিয়ামের বাসা কাছে হওয়াটা এখন বিশাল একটা রিসোর্ট … আগে টিয়ামরা সেন্ট্রাল রোডে আমাদের পাশের গলিতে থাকতে যেই আরামটা ছিলো, এখন আবার সেইরকম ফিল হচ্ছে … এখন একটু দূরে, ৩০ টাকা রিকশাভাড়া লাগে … কিন্তু তারপরও মিরপুরের মতো এলাকায় টিয়ামের বাসা ওইটুকু কাছে মানেই আকাশের চাঁদ হাতে থাকা …

এই য্যামন আজকে … টিয়ামের বাসা এত কাছে হওয়াতেই তো রাতের খাওয়া-দাওয়া সংক্রান্ত একটা বিশাল ঝামেলা কমে গেলো … নইলে হয় মা’কে সব বাদ দিয়ে রাঁধতে বসতে হতো, নয়তো টাকা খরচ করে বাইরে থেকে কিছু একটা খাবার নিয়ে আসতে হতো …

আর, অনেককিছুর পরও আমার সবসময়ই ক্যামন জানি ইচ্ছা করে যে আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে একজায়গায় হইহই রইরই করে থাকবো … সবাই সেটা কতটুকু চায়, সেটাই বিষয় … যাই হোক … আজকে ভীষণ ক্লান্ত আমি … সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি একসাথে এসে চোখের পাতায় ভর করছে …

অতএব, এখন কর্তব্য হচ্ছে ঘুমিয়ে যাওয়া …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s