দিনযাপন | ০১০৮২০১৫

প্রতিদিন তো দিনযাপন লিখতে বসি রাত ১২টা কি ১টা সময় … তারপর অর্ধেক লিখেই এমন ক্লান্ত হয়ে যাই আর ঘুম আসতে থাকে যে কোনোরকমে লেখা শেষ করেই পোস্ট করে দেই … তাই ভাবছি যে এখন থেকে যেহেতু বাসাতেই থাকবো বেশিরভাগ সময়, তাই দিনযাপনটাও ১০টার দিকে লিখতে বসবো আর ১১টার দিকে শেষ করে পোস্ট করে তারপর অন্য কাজ ধরবো …

এই যেমন আজকে রাতে আমাকে বিবিসি’র একটা কাজ শেষ করতে হবে … এখন দিনযাপন লিখে তারপর রাতের খাবার খেয়ে কাজ নিয়ে বসবো …

আজকে আমাদের বাসার অনেকগুলা কাজ হয়েছে … আইপিএস এর কানেকশন লেগেছে, ডিশ-এর কানেকশন লেগেছে … ফ্যান দুইটা বাকি ছিলো সেগুলো লাগিয়ে দিয়ে গেছে, সোফা রেখেছি যেই জায়গাটায় সেখানে ড্রিল করে অমিতের দুইটা বাঁধাই করা ফটোগ্রাফ লাগানো হয়েছে … স্টিলের আলমারিগুলো রঙ করার জন্য লোক ঠিক হয়েছে, কাল এসে নিয়ে যাবে … ওগুলো রঙ হয়ে গেলে কাপড়চোপড়ের বস্তাগুলো অন্তত খালি করে ফেলা যাবে … তারপর থাকবে বই … গাদা গাদা বই … বইগুলো গোছানোর সাথে সাথেই মনে হয় ঘর একেবারে খালি হয়ে যাবে! … অর্ধেকের বেশি বস্তা আর কার্টনজুড়ে আমাদের কেবল বই আর বই … আমার বই … আব্বুর বই … মা’র বই … অমিতের বই … বইয়ের রাজ্যে আমাদের পৃথিবী গদ্যময় …

আজকেও সারাদিন ধরে বৃষ্টি … বিকালে টিয়ামের বাসায় যাবো বলে ঠিক করলাম … ভায়োলিন আনতে হবে … রাতের খাবারের জন্য এক-দুইটা তরকারি রেঁধেছে লালাম, সেগুলো আনতে হবে … বৃষ্টিই বন্ধ হয় না … শেষমেষ টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে দেখে বের হলাম … মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো, আর তারও মিনিট পাঁচেক পর টিয়ামের বাসায় যখন পৌঁছালাম, ততক্ষণে আমি প্রায় কাক-ভেজা … বৃষ্টির এমনই তেজ যে রিকশায় পর্দা নিয়ে বসেও আমি ভিজে গেলাম … বৃষ্টির ডিরেকশন যেদিকে তার উল্টোদিকে রিকশা যাচ্ছিলো বলেই আরো বেশি পানির ছিটা এসে পড়েছে গায়ে … টিয়ামের বাসায় গিয়ে কাপড়চোপড় পাল্টে তারপর শান্তি! …

এই ‘কোমেন’ যে কবে বাংলাদেশের বর্ডার পার করবে! … অস্থির হয়ে গেলাম …

আজকে আমার পুরানো ডাইরির কার্টনটা খালি করেছি … এখন দিনযাপন লিখতে বসে কি মনে হলো একটা ডাইরি নিয়ে বসলাম … স্কুলের সময়কার ডাইরি … টুকটাক পড়ালেখার নোটস, পরীক্ষার নাম্বারের হিসাবপত্র এইগুলাই মূলত লেখা … তবে, এসএসসি পরীক্ষার আগে আগে কিছুটা সময় আবার নিজের মতো করে কিছু কিছু জিনিস লিখেছিও… একটা-দুইটা গল্পও লেখার চেষ্টা করেছিলাম দেখলাম …

কি কি জানি ছাড়া ছাড়াভাবে লিখেছি … নিজের মনের কথা … গানের লিরিক্স … হাবিজাবি অনেক কিছু …

যেমন, ২০০২ এর ৭ এপ্রিল তারিখের সাইন দিয়ে লেখা আছে –

কি যে হচ্ছে পৃথিবীটার। একেবারে গোল্লায় যাচ্ছে। অবশ্য দোষটা পৃথিবীর নয়। পৃথিবীর এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির জন্য দায়ী ‘মানুষ’ নামক মৌলিকত্বহীন জীব!”

আবার যেমন, একবার একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু শেষ হয়নি … অল্প লিখেই ওভাবেই রেখে দিয়েছি … অসমাপ্ত গল্পটাই হুবহু তুলে দেই এখানে …

একবার পৃথিবীর মানুষ একটা বিরাট সমস্যার মুখোমুখি হলো। গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া আর সবাই চরম দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেলো। পৃথিবীর আনাচে-কানাচে দুর্নীতি স্থায়ী আবাস গড়লো। মিথ্যা আর অশান্তিতে দুর্বিসহ হয়ে উঠলো পৃথিবী। একসময় তা যখন চরম আকর ধারণ করলো, তখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েকজন মানুষ একত্র হয়ে এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলোচনায় বসলো । কিন্তু কোনো সমাধানের পথ খুঁজে পেলো না। শেষ পর্যন্ত তারা ভেবে দেখলো এখন একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই তাদের সাহায্য করতে পারে। তাই সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে বসলো। তাদের প্রার্থনায় সৃষ্টিকর্তা সন্তুষ্ট হলেন। একসময় আলোচনাসভায় অদ্ভুত দর্শন এক মানুষ এসে হাজির হলো। তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সে বললো, “আমাকে সবাই বাঁশিওয়ালা বলে ডাকে।” একজন বললো, ” হ্যামেলিন-এর বাঁশিওয়ালার মতো তুমিও কি বাঁশি বাজিয়ে দুর্নীতি দূর করতে চাও?” বাঁশিওয়ালা সহাস্যে উত্তর দিলো, ” ঠিক ধরেছো। তবে আমার কোনো শর্ত নেই। তোমাদের কোনো শর্ত থাকলে বলতে পারো। আমি বিবেচনা করে দেখবো।” তখন ওরা আলোচনা করলো ও সবাই মিলে একটি সিদ্ধান্ত নিলো। একজন বললো, ” তুমি তোমার কাজ শেষ করে এসো, আমরা ততক্ষণে আলোচনা করি আমাদের কোনো শর্ত আছে কি না । এই কথা শুনে বাঁশিওয়ালা পৃথিবী থেকে সমস্ত দুর্নীতি দূর করে দিয়ে এলো। তখন একজন বললো … ” 

ব্যাস! এই পর্যন্তই লেখা! আর লিখিনাই! … খুব সম্ভবত এইটাও ২০০২ সালেই লিখেছিলাম … তারা বাঁশিওয়ালার কাছে কি চেয়েছিলো ঠিক মনে নেই … তবে লেখার মাঝে মাঝে কিছু কাঁটাছেড়া দেখে মনে হচ্ছে যে তারা চাইছিলো যে দুর্নীতি করে যে যা সম্পত্তি করেছিলো, সেগুলো তারা বাঁশিওয়ালার কাছে চাইবে … তারপর কে কত বেশি নেবে সেটা নিয়ে আবার ওই কয়েকজনের মধ্যেই দুর্নীতি শুরু হবে এরকম কিছু একটা ভেবেছিলাম সম্ভবত … মানে, দুর্নীতি দূর হয়েছে, কিন্তু লোভ দূর হয়নাই, তাই চক্রাকারে আবারো দুর্নীতি শুরু হয়ে যায় এইরকম একটা মোরাল থাকতো গল্পটার …

তবে, অনেকদিন পর গল্পের ওইটুকু পড়েই আমার নিজের কাছেই বেশ ইন্টেরেস্টিং লাগলো … ভাবছি গল্পটা নিয়ে এখন আবার ভাবতে শুরু করবো …

যাই হোক, আজকে আর তেমন কিছু লেখার নেই … ক্ষুধা লেগেছে … খেয়ে নিয়ে তারপর কাজ করতে বসি …

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s